২০২৬ সালের ঈদুল আজহার আগের দিন, ২৭ মে বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকার ধোলাইখাল অস্থায়ী পশুর হাটে অনেক ক্রেতা ৩৫ থেকে ৫০ হাজার টাকায় কোরবানির গরু কিনে বাড়ি ফেরেন। জাগো নিউজ ২৪ জানায়, হাটজুড়ে সারি সারি গরু থাকলেও ক্রেতা ছিলেন তুলনামূলক কম, ফলে শেষ মুহূর্তেও কাঙ্ক্ষিত ক্রেতা না পেয়ে বিক্রি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন অনেক ব্যাপারী। জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশে ঈদুল আজহা পালিত হয় ২৮ মে।
ধোলাইখালের হাটটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের এলাকায়, সাদেক হোসেন খোকা মাঠের পাশে বসে। ঢাকা ট্রিবিউন ২৬ মে জানায়, রায়সাহেব বাজার মোড় থেকে ধোলাইখাল সড়ক ধরে সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত জায়গা ছাড়িয়েও গরু বাঁধা হয়েছিল, আর সেদিনও ক্রেতা ও বিক্রেতারা দামে একমত হতে পারছিলেন না।
কম দামে গরু কিনে খুশি ক্রেতারা
২৭ মে সন্ধ্যার পর হাটে দেখা যায়, ব্যাপারীরা গরুর দড়ি হাতে ক্রেতার অপেক্ষায় বসে আছেন। কেউ গরু নিয়ে হাটের এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে ঘুরছেন, কেউ দাম কমিয়েও ক্রেতা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করছেন। কেউ কেউ গরু নিয়ে হাট থেকে বেরিয়ে যেতে চাইলেও ইজারাদাররা গরু বের হতে দিচ্ছিলেন না।
মো. জুয়েল নামের এক ক্রেতা একটি ছোট গরু কেনেন ৩৫ হাজার টাকায়। জাগো নিউজকে তিনি বলেন, ঠকেছেন নাকি জিতেছেন, সেটা বড় কথা নয়; তবে সেদিন বাজারে গরুর দাম বেশ কম মনে হয়েছে। ফিরোজ নামের আরেক ক্রেতা ৪০ হাজার টাকায় এবং হাছান নামের একজন ৪৯ হাজার টাকায় গরু কেনেন; দুজনই বলেন, সেদিন দাম কম ছিল এবং এই দামে কিনতে পেরে তাঁরা খুশি।
৮০ হাজার টাকায় মাঝারি আকারের একটি গরু কেনা এক ক্রেতা বলেন, হঠাৎ করেই হাটে দাম অনেক পড়ে গেছে। আগের দিন ওই গরুর দাম এক লাখ ৪০ হাজার টাকার বেশি চাওয়া হচ্ছিল।

লোকসানের শঙ্কায় ব্যাপারীরা
কুষ্টিয়া থেকে ছয়টি গরু নিয়ে আসা ব্যাপারী বাতেন শেখ জানান, দুই দিন ধরে হাটে থেকে খাবার, শ্রমিক ও পরিবহনের খরচ বাড়ছে, কিন্তু ক্রেতা তেমন নেই; মানুষ দেখে, দাম জিজ্ঞেস করে চলে যায়। তাঁর কথায়, দেড় লাখ টাকায় কেনা গরুর দাম ক্রেতারা এক লাখ টাকার মতো বলছেন, এত লোকসানে বিক্রি সম্ভব নয়; বিক্রি না হলে গরু বাড়ি ফিরিয়ে নেবেন।
মানিকগঞ্জের এক ব্যাপারী বলেন, যে গরুর দাম ৮০ থেকে ৯০ হাজার টাকা, তা কেউ কেউ ৫০ থেকে ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করে দিচ্ছেন এবং এবার অধিকাংশ ব্যাপারী লোকসানে পড়েছেন। তাঁর আশঙ্কা, এভাবে লোকসান চললে অনেকে ব্যবসা ছেড়ে দেবেন।
কেরানীগঞ্জ থেকে ছাগল নিয়ে আসা এক নারী জানান, ক্রেতারা খুব কম দাম বলছেন, তাই তিনি ছাগল নিয়ে চলে যেতে চাইছিলেন; কিন্তু হাটের দায়িত্বে থাকা লোকজন তখনই ছাগল বের করতে দিচ্ছিলেন না।

শেষ দিনে রাজধানীর অন্য হাটেও দাম পড়ে
দাম পড়ার চিত্র শুধু ধোলাইখালে ছিল না। ঢাকা ট্রিবিউনে ২৭ মে প্রকাশিত বার্তা সংস্থা ইউএনবির খবরে বলা হয়, ঈদের আগের শেষ সময়ে ঢাকার কয়েকটি অস্থায়ী হাটে কোরবানির পশুর দাম ৫০ শতাংশের বেশি কমে যায়। যেমন মেরাদিয়া হাটে যে পশু দেড় লাখ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল, তার দাম উঠছিল ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা। টানা বৃষ্টিতে হাটে পানি জমা, বাড়তি পরিবহন খরচ, গোখাদ্যের দাম এবং কেনা দামের ওপর ৫ শতাংশ হাসিলকে চাপের কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। নিউ এজ ২৬ মে জানায়, রবি ও সোমবারের ভারী বৃষ্টিতে রাজধানীর হাটগুলোতে বেচাকেনা ব্যাহত হয়েছিল।
সরবরাহও ছিল যথেষ্ট। বাসস জানায়, মৎস্য, প্রাণিসম্পদ ও কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ ৩ মে বলেন, এবারের ঈদুল আজহায় কোরবানির জন্য ১ কোটি ২৪ লাখের বেশি পশু প্রস্তুত, বিদেশ থেকে কোনো পশু আমদানি হবে না এবং সারা দেশে ৩ হাজার ৬০০টির বেশি পশুর হাট বসবে। নিউ এজের হিসাবে এর মধ্যে ৫৬ লাখ ৯০ হাজার গরু-মহিষ এবং ৬৬ লাখ ৩০ হাজার ছাগল-ভেড়া। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তথ্যে, ২০২৫ সালের ঈদুল আজহায় দেশে ৯১ লাখ ৩৬ হাজার ৭৩৪টি পশু কোরবানি হয়েছিল।


ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, ঢাকা ট্রিবিউন, ইউএনবি, বাসস, নিউ এজ, দ্য ডেইলি স্টার



মন্তব্য
(০)