চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার পাহাড়ে প্রায় ৫০ একর জুড়ে দেশি-বিদেশি ফলের একটি বাগান গড়ে তুলেছেন তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা মো. ওমর শরীফ। ২০০৩ সালে শখের বশে কয়েকটি চারা লাগিয়ে যে কাজ শুরু হয়েছিল, ২০২৬ সালের জুনে সেই বাগানে প্রায় অর্ধশত জাতের ফলের গাছ ছিল। মায়ের নামে তিনি এর নাম রেখেছেন জোহরা এগ্রো ফার্মস অ্যান্ড নার্সারি। জাগো নিউজ ২০২৬ সালের ২৮ জুন এ খবর প্রকাশ করে।
উঁচু-নিচু পাহাড়ের ঢালে কোনো গাছে তখন ফল ঝুলছিল, কোনো গাছে ফুল আসছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, বছরের বারো মাসই এই বাগানে কোনো না কোনো ফল থাকে।
ফল মেলায় ৪০ জাতের ফল
২০২৬ সালের ২০ জুন মিরসরাই উপজেলা কৃষি অফিসের উদ্যোগে মৌসুমি ফল মেলা হয়। সেখানে ওমর শরীফ নিজের বাগানে উৎপাদিত প্রায় ৪০ জাতের ফল প্রদর্শন করে পুরস্কার পান। এক বাগান থেকে এত রকম ফল দেখে মেলায় আসা দর্শনার্থীরা অবাক হন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়।
মিরসরাই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রতাপ চন্দ্র রায় জাগো নিউজকে বলেন, 'কৃষি উদ্যোক্তা ওমর শরীফের বাগানে দেশী-বিদেশী অনেক ফল উৎপাদিত হচ্ছে। তার ধ্যান, জ্ঞান সব নার্সারি ও বাগান নিয়ে। তিনি প্রায় দুই দশক ধরে এই বাগান গড়ে তুলেছেন। এবার ফল মেলায় তিনি অনেক জাতের ফল প্রদর্শনী করেছেন। এই বাগানে অনেক দুর্লভ ফলের গাছ রয়েছে।' তার দেখাদেখি অনেকে বাগান গড়ে তুলছেন বলেও জানান তিনি।

পাঁচ কিলোমিটার হেঁটে শুরু
শুরুটা সহজ ছিল না। সমতল থেকে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার হেঁটে বাগানে যেতে হতো। ওমর শরীফ বলেন, '২০০৩ সালে শখের বশে পাহাড়ে কয়েকটি জাতের গাছের চারা রোপণ করে বাগান শুরু করেছি। ওই এলাকায় কারো যাতায়াত ছিল না। ধীরে ধীরে বাগানে বিভিন্ন জাতের ফলদ, মসলা ও ঔষধি গাছের বাগান গড়ে তুলেছি।'
তিনি আরও বলেন, 'চারা এনে লাগিয়ে দিলেই হয়ে যায় না, এর চাষের ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিও রয়েছে। তা বুঝতে সময় লেগেছে। রয়েছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তারপরও হাল ছাড়িনি। চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে খোঁজ খবর নিয়ে পড়াশুনা করে তার প্রয়োগ ঘটিয়ে তবেই সফলতা এসেছে।'
চারা সংগ্রহে তিনি থাইল্যান্ড, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, চীন, নেদারল্যান্ডস, জার্মানি, ইতালি, ডেনমার্ক, ফ্রান্স, সুইজারল্যান্ড, বেলজিয়াম, তুরস্ক, মালয়েশিয়া, দুবাই, সৌদি আরব ও ভারতে গেছেন। তার ভাষায়, 'বিশ্বের নতুন নতুন উদ্ভাবিত ফল ও ফলের চারা সংগ্রহ করা নেশায় পরিণত হয়েছে। এরপর সেগুলো থেকে চারা গজিয়ে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে সরবরাহ করি।' প্রতিবেদন অনুযায়ী, তার উৎসাহ ও সহযোগিতায় এলাকার অনেক বেকার যুবকও বাগান গড়েছেন।
বাগানে কী কী আছে
জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বাগানের গাছের এই তালিকা দেওয়া হয়:
- আম: চাকাপাত, কিউজাই, ব্যানানা, রামগই, বারি-৪, গৌড়মতি, আম্রপালি, কাটিমন, ব্রুনাই কিং, চিয়াংমাই, মরিয়ম, কোকোনাট, মিয়াজাকি, অম্বিকা ও জেসি জাত
- বিদেশি ফল: অ্যাভোকাডো, রাম্বুটান, লংগান, ডুরিয়ান, পুলসান, আবিও, ড্রাগন ফল, পিচ ফল, থাই সফেদা, থাই জাম্বুরা, থাই মিষ্টি লেবু ও থাই আমলকী
- লেবুজাতীয় ফল: বারোমাসি মাল্টা, চাইনিজ কমলা ও দার্জিলিং কমলা
- নারিকেল ও আনারস: ভিয়েতনাম নারিকেল, সিয়াম গ্রিন নারিকেল ও এমবি-২ আনারস
- দেশি ফল: চায়না-৩ লিচু, কাঁঠাল, লটকন, গাব, আমলকী, তেঁতুল ও কাজুবাদাম
- মসলা: এলাচ, দারচিনি, আদা ও লবঙ্গ

মিরসরাই, অ্যাভোকাডো ও এলাচ
বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, মিরসরাই চট্টগ্রাম জেলার একটি উপজেলা, আয়তন ৪৮২.৮৮ বর্গকিলোমিটার। এর উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। প্রধান নদী ফেনী। উপজেলার প্রধান ফলের মধ্যে আম, কাঁঠাল, লিচু, কলা, পেঁপে ও আনারসের নাম আছে। মহামায়া লেক ও খৈয়াছড়া ঝরনা এ উপজেলার পরিচিত দর্শনীয় স্থান।
অ্যাভোকাডো লরেল পরিবারের চিরসবুজ গাছ, আদি নিবাস আমেরিকা মহাদেশে। ভালো জাতের অ্যাভোকাডো সাধারণত কলম করে বংশবিস্তার করা হয়। বাংলাদেশে অ্যাভোকাডো চাষ নতুন হলেও একমাত্র মিরসরাইয়েই নয়: পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালের জুলাইয়ে নওগাঁর সাপাহারে কৃষকদের ৮০টি অ্যাভোকাডো চারা দেওয়া হয়েছিল। এলাচ আদা পরিবারের বহুবর্ষজীবী গাছ, আদি নিবাস দক্ষিণ ভারত; এর শুঁটির ভেতরের বীজ মসলা হিসেবে ব্যবহার হয়।

বিদেশি ফলের চাষ পদ্ধতি, চারা বা কলমের বিষয়ে পরামর্শের জন্য স্থানীয় উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করা যায়।
ছবি: B.navez / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া, পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)





মন্তব্য
(০)