যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিটি ভোক্তার জন্য লাল মাংস, পোলট্রি ও ডিমের প্রাপ্যতা ২০২৬ সালে বাড়বে এবং ২০২৭ সালে আরও বাড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছিল মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) গবেষণা শাখা ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (ইআরএস)। ২০২৬ সালের ৪ জুন প্রকাশিত সংস্থাটির এক "চার্ট অব নোট"-এ এ হিসাব দেওয়া হয়। চার্টটি তৈরি করেন ইআরএসের অর্থনীতিবিদ গ্রেস গ্রসেন, আর এর তথ্য নেওয়া হয় ২০২৬ সালের ১৮ মে প্রকাশিত ইআরএসের মাসিক প্রতিবেদন "লাইভস্টক, ডেইরি অ্যান্ড পোলট্রি আউটলুক" থেকে।
ইউএসডিএর তখনকার সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে প্রতি মার্কিন ভোক্তার জন্য গরু, শূকর, ব্রয়লার মুরগি ও টার্কি মিলিয়ে ২২৮.৮ পাউন্ড মাংস এবং ২২.৫ ডজন ডিম পাওয়া যাবে। ২০২৭ সালে এই চার ধরনের মাংসে মাথাপিছু প্রাপ্যতা ২২৯.৪ পাউন্ড এবং ডিমে ২২.৯ ডজনে পৌঁছাবে বলে পূর্বাভাসে বলা হয়।
মাথাপিছু প্রাপ্যতা বলতে কী বোঝায়
এই হিসাব দেশের ভেতরের বাজারে ব্যবহারের জন্য থাকা জোগানের মাথাপিছু পূর্বাভাস। ইআরএস জানায়, প্রাপ্যতাকে ভোগের সূচক হিসেবে ধরা হয়; এতে মুদি দোকানে বিক্রি হওয়া ও রেস্তোরাঁয় ব্যবহৃত তাজা ও প্রক্রিয়াজাত মাংস এবং ডিম অন্তর্ভুক্ত। আউটলুক প্রতিবেদনের ব্যাখ্যায়, উৎপাদনের সঙ্গে আমদানি-রপ্তানির হিসাব ও হিমাগারের মজুতের পরিবর্তন মিলিয়ে যা দেশের ভেতরে ব্যবহারের জন্য থাকে, সেটিই এই হিসাবের ভিত্তি। জনসংখ্যা হিসেবে ধরা হয় দেশে বসবাসকারী মানুষ এবং বিদেশে থাকা মার্কিন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের।
ইআরএসের খাদ্য প্রাপ্যতা (মাথাপিছু) ডেটা সিস্টেম মনে করিয়ে দেয়, এই সংখ্যা জাতীয় পর্যায়ে প্রকৃত ভোগের একটি বিকল্প সূচক মাত্র; নষ্ট হওয়া খাবার বা পাতে ফেলে দেওয়া অংশ এতে বাদ দেওয়া হয় না। মাংসের হিসাব খুচরা ওজনে, আর এক পাউন্ড সমান ০.৪৫৩৫৯২৩৭ কিলোগ্রাম।
ব্রয়লার এগিয়ে, টার্কি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে
ব্রয়লার মুরগি যুক্তরাষ্ট্রে সবচেয়ে বেশি খাওয়া প্রাণিজ পণ্য, আর এর মাথাপিছু প্রাপ্যতা বহু বছর ধরে বাড়ছে। ২০২৬ সালে তা ১০৫.৬ পাউন্ড ও ২০২৭ সালে ১০৬.৫ পাউন্ডে পৌঁছাবে বলে অনুমান করা হয়। মে মাসের আউটলুকে ২০২৬ সালের ব্রয়লার উৎপাদন ধরা হয় ৪৯ হাজার ১৪৬ মিলিয়ন পাউন্ড, যা ২০২৫ সালের চেয়ে ২.৪ শতাংশ বেশি; ২০২৭ সালে উৎপাদন আরও ১ শতাংশ বাড়বে বলে পূর্বাভাস ছিল।
টার্কির প্রাপ্যতা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কমছিল, তবে ২০২৬ সালে মাথাপিছু ১৩.৬ পাউন্ড ও ২০২৭ সালে ১৩.৮ পাউন্ডে বাড়বে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়। আউটলুক অনুযায়ী, ২০২৬ সালে টার্কি উৎপাদন ৫ হাজার ৫৫ মিলিয়ন পাউন্ড হতে পারে, যা ২০২৫ সালের চেয়ে ৪.৩ শতাংশ বেশি হলেও ২০২২ সালের আগের স্তরের নিচে। অত্যন্ত রোগজনক বার্ড ফ্লুতে (এইচপিএআই) ২০২৬ সালের প্রথম চার মাসে ১২ লাখ মাংসের টার্কি মারা যায় বা নিধন করতে হয়; ২০২৫ সালের একই সময়ে এ সংখ্যা ছিল ১৬ লাখ।

বার্ড ফ্লুর ধাক্কা সামলে বাড়ছে ডিম
টেবিল ডিমের মাথাপিছু প্রাপ্যতা ২০২৬ সালে ২২.৫ ডজন ও ২০২৭ সালে ২২.৯ ডজন ধরা হয়। আউটলুক জানায়, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত বার্ড ফ্লুতে ১৫ কোটি ১২ লাখ ডিমপাড়া মুরগি হারানোর পর দেশটির ডিমপাড়া মুরগির ঝাঁক আবার বড় হচ্ছিল। ২০২৬ সালে টেবিল ডিম উৎপাদন ৭ হাজার ৮২৭ মিলিয়ন ডজন হতে পারে, যা ২০২৫ সালের চেয়ে ৪.৪ শতাংশ বেশি, আর ২০২৭ সালে তা ৮ হাজার ২০ মিলিয়ন ডজনে উঠতে পারে। তবে ১ এপ্রিলের খামারের তথ্যে ঝাঁক বাড়ার গতি কমার ইঙ্গিত থাকায় মে মাসে ২০২৬ সালের উৎপাদনের পূর্বাভাস কিছুটা কমানো হয়।

গরুর মাংস কমবে, শূকরের মাংস সামান্য বাড়বে
২০২৬ সালে গরুর মাংসের মাথাপিছু প্রাপ্যতা ৬০.০ পাউন্ড ধরা হয়, যা ২০২৫ সালের চেয়ে সামান্য বেশি; তবে ২০২৭ সালে তা কমে ৫৯.২ পাউন্ডে নামবে বলে পূর্বাভাস। আউটলুকের ব্যাখ্যায়, ২০২০ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত টানা সাত বছর মাংসের জন্য পালিত গাভির সংখ্যা কমায় প্রতিবছর বাছুরও কম জন্মাচ্ছে, তাই ২০২৭ সালে জবাইয়ের জন্য গবাদিপশু কম থাকবে। সে বছর গরুর মাংসের উৎপাদন ০.৯ শতাংশ কমে ২৫ হাজার ৩১০ মিলিয়ন পাউন্ডে নামতে পারে, যা ২০১৬ সালের পর সবচেয়ে কম। তবু ২০২৭ সালের মাথাপিছু পরিমাণ গত ১০ ও ২০ বছরের গড়ের ওপরে থাকবে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

শূকরের মাংসের মাথাপিছু প্রাপ্যতা ২০২৬ সালে ৪৯.৬ পাউন্ড ও ২০২৭ সালে ৪৯.৯ পাউন্ড ধরা হয়, যা ২০২৫ সালের ৪৯.৩ পাউন্ডের চেয়ে সামান্য বেশি। আউটলুক অনুযায়ী, ২০২৭ সালে বাণিজ্যিক শূকরের মাংস উৎপাদন ২৮ হাজার ২৫৫ মিলিয়ন পাউন্ড হতে পারে, যা ২০২৬ সালের চেয়ে ১ শতাংশ বেশি, আর উৎপাদনের ২৫.৯ শতাংশ রপ্তানি হবে বলে ধরা হয়।

ছবি: Bob Nichols, USDA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ইউএসডিএ ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (চার্ট অব নোট, ৪ জুন ২০২৬), ইআরএস লাইভস্টক, ডেইরি অ্যান্ড পোলট্রি আউটলুক (মে ২০২৬), ইআরএস খাদ্য প্রাপ্যতা (মাথাপিছু) ডেটা সিস্টেম, উইকিপিডিয়া




মন্তব্য
(০)