রাজধানী ব্যাংকক ও শিল্পাঞ্চল রক্ষায় তৈরি বন্যা নিয়ন্ত্রণ অবকাঠামোর কারণে থাইল্যান্ডের আয়ুথায়া প্রদেশের নদীতীরের গ্রামগুলো প্রতিবছর মাসের পর মাস পানিতে ডুবে থাকছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এ প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউরোনিউজ। অফিসকর্মী কামোনচানোকের (Kamonchanok) গ্রাম টানা ছয় বছর বন্যায় ডুবেছে। ঘরের পানি ঠেলে হাঁটতে হাঁটতে ৩৪ বছর বয়সী এই নারী বললেন, তাঁদের এলাকা আর এত পানি সামলাতে পারছে না।
২০১১ সালের ভয়াবহ বন্যার পর সরকার চাও ফ্রায়া নদীর তীরে বাঁধ, জলকপাটসহ নানা অবকাঠামো বাড়ায়, যাতে ব্যাংকক, ঐতিহাসিক আয়ুথায়া শহর ও শিল্পাঞ্চল থেকে পানি সরে যায়। বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো মোটামুটি শুকনো থাকলেও পানি ধরে রাখার এলাকা হিসেবে ব্যবহৃত নিচু জেলাগুলোতেই এখন পানি জমে। বাসিন্দারা বলছেন, আগে যে বন্যায় হাঁটুপানি হতো, এখন কোথাও কোথাও তা মাথা ছাড়িয়ে যায় এবং নামতে কয়েক মাস লাগে। এ অক্টোবরে গ্রামের পর গ্রাম ডুবে ছিল, কিছু বাড়ি ছাদ পর্যন্ত।
রাজকীয় সেচ বিভাগের মুখপাত্র থানেত সমবুন (Thanet Somboon) বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, নিচু ভূমি এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বদলে দেওয়া নতুন বাঁধের কারণে ভাটির বন্যা তীব্র হয়েছে। তাঁর কথায়, চাও ফ্রায়া বাঁধ থেকে আগের হারে পানি ছাড়লেও এখন প্রভাব আগের চেয়ে বেশি; অবকাঠামো পর্যালোচনার প্রয়োজন থাকতে পারে বলেও স্বীকার করেন তিনি। পরিবেশ সংরক্ষণকর্মী সাসিন চালেরমলার্প (Sasin Chalermlarp) বলেন, যে বন্যার পানি একসময় প্রদেশের বড় অংশে ছড়িয়ে পড়ত, তা এখন মাত্র ৫ থেকে ১০ শতাংশ এলাকায় জমে; সরকারের বন্যা ব্যবস্থাপনা সফল হলেও যাঁরা এর বোঝা বইছেন, তাঁদের প্রতি তা নিষ্ঠুর।
যাঁরা থেকে গেছেন, তাঁরা খুঁটির ওপর বানানো ঘর আরও উঁচু করছেন। এতে খরচ ১ লাখ থেকে ১০ লাখ বাত (প্রায় ২ হাজার ৭০০ থেকে ২৭ হাজার ইউরো); কেউ কেউ কয়েক বছরে দুবার ঘর তুলেছেন সঞ্চয় ভেঙে ও ঋণ করে। ৮৭ বছরের সাওং রাকস্রি (Sawong Raksri) ১০ লাখ বাতের বেশি খরচ করেও প্রতিবছর ডুবছেন। বাঁধের সুরক্ষা পাওয়া এলাকার মানুষের ওপর ‘বন্যামুক্ত কর’ বসিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন সাসিন।
বাংলাদেশও বড় পরিসরে একই প্রশ্নের মুখোমুখি: এক এলাকা রক্ষার বাঁধ পানি আর বন্যার খরচ ঠেলে দিতে পারে পাশের এলাকায়।
ছবি: NASA Earth Observatory (Jesse Allen and Robert Simmon) / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ইউরোনিউজ





মন্তব্য
(০)