২০২৬ সালের জুন মাসে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) উৎপাদন তথ্যভান্ডার ফাওস্ট্যাটের (FAOSTAT) হিসাবে বিশ্বে পরিমাণের দিক থেকে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত ফল ছিল কলা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত সর্বশেষ হালনাগাদে, যেখানে ২০২৪ সালের ফসল পর্যন্ত তথ্য আছে, ফাওস্ট্যাট দেখিয়েছে ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ১৩ কোটি ৯৪ লাখ টন কলা উৎপাদিত হয়েছে। দ্বিতীয় স্থানে তরমুজ, প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ টন; তৃতীয় আপেল, প্রায় ৯ কোটি ৭৯ লাখ টন। তালিকার বাকি অংশে রয়েছে আঙুর, কমলা, আমজাতীয় ফল, ম্যান্ডারিন, আনারস, বাঙ্গিজাতীয় ফল ও পিচ।
এই তালিকা নিয়ে ২০২৬ সালের ২৭ জুন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে জাগো নিউজ ২৪। এফএও ও স্ট্যাটিস্টার তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত ১০টি ফলের কথা বলা হয়েছিল। এই প্রতিবেদনে সেই তালিকা মিলিয়ে দেখা হয়েছে ওই তারিখে প্রকাশিত ফাওস্ট্যাটের তথ্যের সঙ্গে। প্রথম আটটি ফলের ক্রম একই আছে। তবে মূল প্রতিবেদনে যেসব সংখ্যা ২০২৩ সালের বলে উল্লেখ করা হয়েছিল, তার কয়েকটি আসলে ফাওস্ট্যাটের ২০২৪ সালের সংখ্যা, আর দশটির মধ্যে দুটি ফলের নামই দেওয়া হয়নি। দুটি বিষয়ই নিচে সংশোধন করা হয়েছে, আর প্রতিটি সংখ্যার সঙ্গে তার তথ্যবর্ষ উল্লেখ করা হয়েছে।
ফলের গুরুত্ব শুধু কৃষকের আয়ে সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০২৬ সালের ২৬ জানুয়ারি তারিখের স্বাস্থ্যকর খাদ্যবিষয়ক তথ্যপত্রে বলেছে, ১০ বছরের বেশি বয়সী প্রত্যেকের দিনে অন্তত ৪০০ গ্রাম ফল ও শাকসবজি খাওয়ার লক্ষ্য রাখা উচিত। তাই বিশ্ব কতটা ফল উৎপাদন করে এবং কোথায় করে, সেটি বাণিজ্যের পাশাপাশি খাদ্য সরবরাহেরও প্রশ্ন। খাদ্যাভ্যাস নিয়ে ব্যক্তিগত পরামর্শের জন্য চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলা উচিত।
সংখ্যায় বিশ্বের ফল উৎপাদন
ফাওস্ট্যাট প্রধান ফলগুলোকে "ফ্রুট প্রাইমারি" নামে একটি গোষ্ঠীতে যোগ করে হিসাব দেয়। সেই হিসাবে ২০২৪ সালে বিশ্বে মোট ফল উৎপাদন ছিল প্রায় ৯৫ কোটি ৩৮ লাখ টন, আর ২০২৩ সালে প্রায় ৯৪ কোটি ৬২ লাখ টন। আগের বছরগুলোর সংখ্যা দেখায় মোট উৎপাদন কীভাবে বেড়েছে: তথ্যভান্ডারের প্রথম বছর ১৯৬১ সালে প্রায় ১৯ কোটি ৯৮ লাখ টন, ১৯৯০ সালে প্রায় ৪০ কোটি ২৪ লাখ টন, ২০০০ সালে প্রায় ৫৭ কোটি ১৮ লাখ টন, ২০১০ সালে প্রায় ৭৩ কোটি ৭০ লাখ টন এবং ২০২০ সালে প্রায় ৮৯ কোটি ৮৮ লাখ টন।
ফল চাষের জমিও বেড়েছে। ফাওস্ট্যাটের হিসাবে ১৯৬১ সালে প্রায় ২ কোটি ৭২ লাখ হেক্টর জমি থেকে ফল সংগ্রহ হয়েছিল, আর ২০২৪ সালে প্রায় ৬ কোটি ৮৪ লাখ হেক্টর থেকে। ২০২৪ সালে বিশ্বে গড় ফলন ছিল হেক্টরপ্রতি ১৩ হাজার ৯৩৭ কেজি, যেখানে ১৯৬১ সালে ছিল ৭ হাজার ৩৪৪ কেজি।
মোট উৎপাদনের বড় অংশই এশিয়ার। ফাওস্ট্যাটের হিসাবে ২০২৪ সালে এশিয়ায় ফল উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৫৬ কোটি ৬ লাখ টন, আমেরিকা মহাদেশে প্রায় ১৬ কোটি ৮৯ লাখ টন, আফ্রিকায় প্রায় ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টন এবং ইউরোপে প্রায় ৭ কোটি ৭৭ লাখ টন। বাংলাদেশ ও ভারতসহ দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে উৎপাদন ছিল প্রায় ১৫ কোটি ১১ লাখ টন। এসব অঞ্চলের মধ্যে কেবল ইউরোপেই ২০২৪ সালের ফল উৎপাদন ১৯৯০ সালের চেয়ে কম; ১৯৯০ সালে সেখানে উৎপাদন ছিল প্রায় ৯ কোটি ৪৫ লাখ টন।
ফাওস্ট্যাট কীভাবে হিসাব রাখে
ফাওস্ট্যাট হলো এফএওর উন্মুক্ত পরিসংখ্যান তথ্যভান্ডার। এর ফসলের সারণির প্রতিটি সংখ্যার সঙ্গে একটি চিহ্ন (ফ্ল্যাগ) থাকে, যা বলে দেয় সংখ্যাটি কোন ধরনের: সরকারি সংখ্যা, প্রাক্কলিত সংখ্যা, গ্রহীতা সংস্থার আরোপিত (ইমপিউটেড) সংখ্যা, নাকি বাইরের কোনো সংস্থার সংখ্যা। যেমন ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের হালনাগাদে ভারতের কলা ও চীনের আপেলের সংখ্যা সরকারি হিসেবে চিহ্নিত, কিন্তু সবচেয়ে বড় উৎপাদক মূল ভূখণ্ডের চীনের তরমুজের সংখ্যাটি এফএওর আরোপিত সংখ্যা হিসেবে চিহ্নিত।
প্রতিটি হালনাগাদে তথ্যভান্ডার সংশোধিত হয়। কোনো দেশ তার সংখ্যা সংশোধন করলে আগের বছরগুলোর সংখ্যাও বদলে যায়। এ কারণেই ভিন্ন ভিন্ন সময়ে উদ্ধৃত ২০২৩ সালের মোট সংখ্যা সব সময় মেলে না। সে জন্য এই প্রতিবেদনের সব সংখ্যা নেওয়া হয়েছে ২০২৬ সালের জুনে প্রকাশিত অবস্থায় থাকা ফাওস্ট্যাটের একটি হালনাগাদ থেকে, অর্থাৎ ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের হালনাগাদ থেকে।
ফাওস্ট্যাট প্রতিটি ফলকে তার কাছাকাছি জাতের ফল থেকে আলাদা করেও গোনে। কলা এবং "প্ল্যান্টেইন ও রান্নার কলা" দুটি আলাদা পদ; কমলা আলাদা, আর "ট্যানজারিন, ম্যান্ডারিন ও ক্লেমেন্টাইন" আলাদা; আর আম, পেয়ারা ও ম্যাঙ্গোস্টিন মিলে একটি পদ। তাই কোন পদগুলো গোনা হচ্ছে তার ওপর শীর্ষ দশের তালিকা নির্ভর করে। ফাওস্ট্যাটে উৎপাদন মানে সংগৃহীত ফসলের ওজন, আয়তন মানে বছরে প্রকৃতপক্ষে যে জমি থেকে ফসল তোলা হয়েছে, আর ফলন মানে হেক্টরপ্রতি উৎপাদন।
ফাওস্ট্যাটের হিসাবে শীর্ষ দশ ফল
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রকাশিত ফাওস্ট্যাটের তথ্যে ২০২৪ সালের বিশ্ব উৎপাদন অনুযায়ী শীর্ষ ফলগুলো নিচে দেওয়া হলো; বন্ধনীতে একই হালনাগাদের ২০২৩ সালের সংখ্যা:
- কলা: প্রায় ১৩ কোটি ৯৪ লাখ টন (২০২৩: প্রায় ১৩ কোটি ৬৭ লাখ টন)
- তরমুজ: প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ টন (২০২৩: প্রায় ১০ কোটি ৪৪ লাখ টন)
- আপেল: প্রায় ৯ কোটি ৭৯ লাখ টন (২০২৩: প্রায় ৯ কোটি ৭৪ লাখ টন)
- আঙুর: প্রায় ৭ কোটি ৫৯ লাখ টন (২০২৩: প্রায় ৭ কোটি ৫৪ লাখ টন)
- কমলা: প্রায় ৬ কোটি ৭২ লাখ টন (২০২৩: প্রায় ৬ কোটি ৯৩ লাখ টন)
- আম, পেয়ারা ও ম্যাঙ্গোস্টিন: প্রায় ৬ কোটি ২২ লাখ টন (২০২৩: প্রায় ৬ কোটি ৬ লাখ টন)
- ট্যানজারিন, ম্যান্ডারিন ও ক্লেমেন্টাইন: প্রায় ৫ কোটি ১৯ লাখ টন (২০২৩: প্রায় ৫ কোটি ২৮ লাখ টন)
- আনারস: প্রায় ২ কোটি ৯৪ লাখ টন (২০২৩: প্রায় ২ কোটি ৯৮ লাখ টন)
- ক্যান্টালুপ ও অন্যান্য বাঙ্গিজাতীয় ফল: প্রায় ২ কোটি ৮২ লাখ টন (২০২৩: প্রায় ২ কোটি ৮৩ লাখ টন)
- পিচ ও নেক্টারিন: প্রায় ২ কোটি ৭৯ লাখ টন (২০২৩: প্রায় ২ কোটি ৭২ লাখ টন)
এর ঠিক পরেই রয়েছে নাশপাতি, ২০২৪ সালে প্রায় ২ কোটি ৭৬ লাখ টন। এই তালিকায় প্ল্যান্টেইন ও রান্নার কলা নেই, কারণ ফাওস্ট্যাট এগুলোকে আলাদা পদ হিসেবে দেখায়: ২০২৪ সালে প্রায় ৪ কোটি ৪৬ লাখ টন। এতে শীর্ষে উগান্ডা, প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টন; এরপর কঙ্গো গণপ্রজাতন্ত্র প্রায় ৪৯ লাখ টন এবং ক্যামেরুন প্রায় ৪৭ লাখ টন। আলাদা ফল হিসেবে গুনলে প্ল্যান্টেইনের অবস্থান হতো ম্যান্ডারিন ও আনারসের মাঝখানে।
এই সংখ্যাগুলো থেকে দুটি সংশোধন আসে। জাগো নিউজের প্রতিবেদনে ১৩ কোটি ৯০ লাখ টন কলা, ১০ কোটি ৫০ লাখ টন তরমুজ ও ৯ কোটি ৭০ লাখ টন আপেলকে ২০২৩ সালের উৎপাদন বলা হয়েছিল; ফাওস্ট্যাটের হালনাগাদে এগুলো ২০২৪ সালের সংখ্যা। প্রতিবেদনের নবম ও দশম ফলের নাম ছিল না, শুধু প্রায় ২ কোটি ৮২ লাখ ও ২ কোটি ৭৯ লাখ টন উৎপাদনের কথা ছিল; ফাওস্ট্যাটের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায় এগুলো যথাক্রমে ক্যান্টালুপ ও অন্যান্য বাঙ্গিজাতীয় ফল এবং পিচ ও নেক্টারিন। প্রতিবেদনে দশম ফলের প্রধান উৎপাদক হিসেবে চীন ও ইতালির নাম ছিল; ফাওস্ট্যাট দেখায়, ২০২৪ সালে পিচ ও নেক্টারিন উৎপাদনে শীর্ষে মূল ভূখণ্ডের চীন, প্রায় ১ কোটি ৭৬ লাখ টন, এরপর স্পেন প্রায় ১৩ লাখ ৭৭ হাজার টন, তুরস্ক প্রায় ১১ লাখ ৭৯ হাজার টন এবং ইতালি প্রায় ১০ লাখ ৯২ হাজার টন।
কলা: সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত ফল
ফাওস্ট্যাটের ধারাবাহিক তথ্যে কলার উত্থান স্পষ্ট। বিশ্বে কলা উৎপাদন ১৯৬১ সালে ছিল প্রায় ২ কোটি ২৪ লাখ টন, ১৯৯০ সালে প্রায় ৪ কোটি ৯৯ লাখ টন, ২০০০ সালে প্রায় ৬ কোটি ৮২ লাখ টন, ২০১০ সালে প্রায় ১১ কোটি ৩০ লাখ টন, ২০২০ সালে প্রায় ১২ কোটি ৬৫ লাখ টন, ২০২৩ সালে প্রায় ১৩ কোটি ৬৭ লাখ টন এবং ২০২৪ সালে প্রায় ১৩ কোটি ৯৪ লাখ টন। ২০২৪ সালে কলা সংগ্রহ হয়েছে প্রায় ৫৮ লাখ ৮২ হাজার হেক্টর জমি থেকে, আর বিশ্বে গড় ফলন ছিল হেক্টরপ্রতি ২৩ হাজার ৭০২ কেজি।
কলা উৎপাদনে ভারত অনেক এগিয়ে, ২০২৪ সালে প্রায় ৩ কোটি ৭৬ লাখ টন। এরপর মূল ভূখণ্ডের চীন প্রায় ১ কোটি ১৮ লাখ টন, ইন্দোনেশিয়া প্রায় ৯৩ লাখ টন, ইকুয়েডর প্রায় ৭৬ লাখ টন, ব্রাজিল প্রায় ৭০ লাখ টন এবং নাইজেরিয়া প্রায় ৬৯ লাখ টন। অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে ২০২৪ সালে এশিয়ায় কলা উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৩১ লাখ টন, আমেরিকা মহাদেশে প্রায় ৩ কোটি ২৭ লাখ টন, আফ্রিকায় প্রায় ৩ কোটি ১৩ লাখ টন এবং ইউরোপে প্রায় ৬ লাখ ৬৪ হাজার টন।
কলাগাছ পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বীরুৎজাতীয় (হার্বেসিয়াস) সপুষ্পক উদ্ভিদ। যেটিকে কাণ্ড মনে হয়, সেটি আসলে পাতার খোল শক্তভাবে জড়িয়ে তৈরি ছদ্মকাণ্ড, আর মাটির ওপরের সব অংশ গজায় মাটির নিচের কন্দ (কর্ম) থেকে। প্রতিটি ছদ্মকাণ্ডে সাধারণত একটি পুষ্পমঞ্জরি বা মোচা হয়, যা থেকে ঝুলন্ত কাঁদি তৈরি হয়। একটি কাঁদিতে সাধারণত প্রায় নয়টি স্তর বা ছড়া থাকে, প্রতিটি ছড়ায় ২০টি পর্যন্ত কলা। ফল দেওয়ার পর ছদ্মকাণ্ডটি মরে যায়, কিন্তু গোড়া থেকে তেউড় বা চারা গজিয়ে গাছটি বহুবর্ষজীবী হিসেবে টিকে থাকে।
খাওয়ার উপযোগী প্রায় সব কলাই বীজহীন এবং এসেছে দুটি বুনো প্রজাতি, মুসা অ্যাকুমিনাটা ও মুসা বালবিসিয়ানা, অথবা এদের সংকর থেকে। মুসা গণের প্রজাতিগুলোর আদিনিবাস ক্রান্তীয় ইন্দোমালয় অঞ্চল ও অস্ট্রেলিয়া। কলা সম্ভবত প্রথম গৃহপালিত হয় নিউগিনিতে; সেখানকার কুক সোয়াম্প প্রত্নস্থানে পাওয়া কলার নিদর্শনের বয়স প্রায় ১০ হাজার থেকে সাড়ে ৬ হাজার বছর আগের বলে নির্ধারিত হয়েছে। বিশ্বের ১৩৫টি দেশে কলা চাষ হয়। ইউরোপ ও আমেরিকায় মিষ্টি পাকা কলা আর শ্বেতসারপ্রধান রান্নার প্ল্যান্টেইনকে আলাদা করা হয়, কিন্তু কলার বৈচিত্র্যের কেন্দ্র দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ভাষাগুলোতে এমন কোনো ভাগ নেই।

কলার বাণিজ্য, ক্যাভেন্ডিশ ও পানামা রোগ
বিশ্বের কলার সামান্য অংশই দেশের সীমানা পেরোয়। ২০২৬ সালের ২৮ জানুয়ারি প্রকাশিত "ব্যানানা মার্কেট রিভিউ: প্রিলিমিনারি রেজাল্টস ২০২৫" প্রতিবেদনে এফএও প্রাক্কলন করেছে, ২০২৫ সালে প্ল্যান্টেইন বাদে বিশ্বে কলা রপ্তানি হবে প্রায় ২ কোটি ৮ লাখ টন, যা ২০২৪ সালের চেয়ে প্রায় ৬ শতাংশ বেশি; এফএওর সারণিতে ২০২৪ সালের রপ্তানি প্রায় ১ কোটি ৯৬ লাখ টন। সবচেয়ে বড় রপ্তানিকারক ইকুয়েডরের রপ্তানি প্রায় ৬৪ লাখ টন হবে বলে প্রত্যাশা ছিল; কলম্বিয়ার প্রায় ২৫ লাখ টন, যা এফএওর ভাষায় দেশটির রেকর্ড; আর এশিয়ার প্রধান রপ্তানিকারক ফিলিপাইনের প্রায় ২৯ লাখ টন।
সবচেয়ে বড় উৎপাদক ভারত রপ্তানিতে ছোট হলেও দ্রুত বাড়ছে: একই প্রতিবেদনের প্রাক্কলন অনুযায়ী ২০২৫ সালে ভারতের কলা রপ্তানি প্রায় ৯ লাখ ৫৫ হাজার টন, যেখানে ২০২৪ সালে ছিল প্রায় ৭ লাখ ৬৪ হাজার টন। আমদানির দিকে এফএওর প্রাক্কলনে ২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের আমদানি প্রায় ৫৪ লাখ ৬০ হাজার টন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় ৪০ লাখ টন, চীনের প্রায় ২০ লাখ টন এবং রাশিয়ার প্রায় ১৩ লাখ ৭০ হাজার টন। এফএও জানিয়েছে, চীনের নিজস্ব কলা উৎপাদনে ঘাটতির কারণে দেশটির আমদানি বেড়েছে।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের বেশির ভাগ কলা ক্যাভেন্ডিশ গোষ্ঠীর। এগুলো মুসা অ্যাকুমিনাটার ত্রিপ্লয়েড জাত, যা ১৯৫০-এর দশকে পানামা রোগে বিধ্বস্ত আগের রপ্তানি জাত গ্রস মিশেলের জায়গা নেয়। ক্যাভেন্ডিশ গাছ ক্লোন হিসেবে বংশবিস্তার করে বলে এর জিনগত বৈচিত্র্য খুবই কম। পানামা রোগের কারণ ফিউজেরিয়াম নামের মাটিবাহিত ছত্রাক, যা শিকড় দিয়ে ঢুকে গাছের ভেতরে পানির প্রবাহ বন্ধ করে দেয়। এর একটি মারাত্মক ধরন, ফিউজেরিয়াম উইল্ট ট্রপিক্যাল রেস ৪ (টিআর৪), ১৯৯৩ সালে শনাক্ত হয় এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও আমেরিকা মহাদেশে ছড়িয়েছে; ২০১৯ সালে কলম্বিয়ার ক্যারিবীয় উপকূলের খামারে এটি পাওয়া যায়। ২০২৬ সালের জানুয়ারির প্রতিবেদনে এফএও পেরু ও ভেনেজুয়েলায় টিআর৪-এর উপস্থিতিকে উদ্বেগজনক বলেছে এবং জানিয়েছে, এটি উৎপাদনে ক্ষতি ও রোগ প্রতিরোধে বড় খরচের কারণ হয়ে চলেছে।
তরমুজ: কম জমিতে দ্বিতীয় স্থান
ফাওস্ট্যাটের হিসাবে ২০২৪ সালে বিশ্বে তরমুজ উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ১০ কোটি ৫০ লাখ টন, আর ২০২৩ সালে প্রায় ১০ কোটি ৪৪ লাখ টন। ধারাবাহিক তথ্যে ১৯৬১ সালে প্রায় ১ কোটি ৭৮ লাখ টন, ১৯৯০ সালে প্রায় ৩ কোটি ৪৯ লাখ টন, ২০০০ সালে প্রায় ৭ কোটি ৭২ লাখ টন এবং ২০১০ সালে প্রায় ৯ কোটি ৪৬ লাখ টন। ২০০০ সালের সংখ্যায় তরমুজের উৎপাদন কলার চেয়েও বেশি ছিল; ফাওস্ট্যাট সে বছর কলার উৎপাদন দেখিয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৮২ লাখ টন।
২০২৪ সালে তরমুজ সংগ্রহ হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ ৫৩ হাজার হেক্টর জমি থেকে, যা কলা বা আপেলের জমির চেয়ে কম। কারণ তিনটির মধ্যে তরমুজের ফলনই সবচেয়ে বেশি: ফাওস্ট্যাটের হিসাবে বিশ্বে গড়ে হেক্টরপ্রতি ৩৪ হাজার ৩৭৭ কেজি। ২০২৪ সালে মূল ভূখণ্ডের চীনে তরমুজ উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৩৫ লাখ টন, যা এফএওর আরোপিত সংখ্যা। এরপর ভারত প্রায় ৩৭ লাখ টন, তুরস্ক প্রায় ৩২ লাখ টন, আলজেরিয়া প্রায় ২৫ লাখ টন, ব্রাজিল প্রায় ২০ লাখ টন এবং রাশিয়া প্রায় ১৯ লাখ টন। সব মিলিয়ে এশিয়ায় উৎপাদন ছিল প্রায় ৮ কোটি ৩৬ লাখ টন।
তরমুজের বৈজ্ঞানিক নাম সিট্রুলাস ল্যানাটাস; এটি লাউ-কুমড়ার পরিবার কিউকারবিটেসির সদস্য। এটি মাটিতে লতিয়ে চলা একবর্ষজীবী লতা, আর এর ফল শক্ত খোসাযুক্ত এক ধরনের বেরি, উদ্ভিদবিজ্ঞানে যাকে পেপো বলে। তরমুজের এক হাজারের বেশি জাত আছে, আর অনেক জাতে বীজ বোনার ১০০ দিনের মধ্যে পাকা ফল পাওয়া যায়। তরমুজের উৎপত্তি আফ্রিকায়; খ্রিস্টপূর্ব ২০০০ সালের মধ্যে মিসরে, সপ্তম শতকে ভারতে এবং দশম শতকের মধ্যে চীনে এর চাষ হতো। প্রথম দিকের তরমুজ ছিল তেতো; বাছাই প্রজননের মাধ্যমে আজকের মিষ্টি তরমুজ এসেছে। জাপানি বিজ্ঞানীরা ১৯৩৯ সালে প্রথম বীজহীন ত্রিপ্লয়েড তরমুজ উদ্ভাবন করেন।
তরমুজ চাষে উষ্ণতা লাগে, আর এটি সবচেয়ে ভালো হয় পানি নিষ্কাশনের সুবিধাযুক্ত বেলে দোআঁশ মাটিতে, যার পিএইচ ৫.৭ থেকে ৭.২। এর প্রধান শত্রুপোকার মধ্যে আছে জাবপোকা, ফলের মাছি ও শিকড়ে গিঁট সৃষ্টিকারী কৃমি (রুট-নট নেমাটোড); আর্দ্র আবহাওয়ায় পাউডারি মিলডিউ ও মোজাইক ভাইরাসের আক্রমণ হয়। জাপান ও দূরপ্রাচ্যের কিছু জাত ফিউজেরিয়াম উইল্টে সংবেদনশীল; চাষিরা এগুলোকে রোগ প্রতিরোধী আদিজোড়ে (রুটস্টক) জোড় কলম করে রক্ষা করেন।

আপেল: চীনের একচ্ছত্র ফসল
তৃতীয় স্থানে আপেল: ২০২৪ সালে প্রায় ৯ কোটি ৭৯ লাখ টন এবং ২০২৩ সালে প্রায় ৯ কোটি ৭৪ লাখ টন। ফাওস্ট্যাটের ধারাবাহিক তথ্যে ১৯৬১ সালে প্রায় ১ কোটি ৭১ লাখ টন, ১৯৯০ সালে প্রায় ৪ কোটি ৯ লাখ টন, ২০০০ সালে প্রায় ৫ কোটি ৯১ লাখ টন এবং ২০১০ সালে প্রায় ৭ কোটি ১২ লাখ টন। ২০২৪ সালে প্রায় ৪৬ লাখ ৮৫ হাজার হেক্টর জমি থেকে আপেল সংগ্রহ হয়েছে, গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ২০ হাজার ৮৯০ কেজি।
২০২৪ সালে মূল ভূখণ্ডের চীনে আপেল উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৫ কোটি ১৩ লাখ টন, যা সরকারি সংখ্যা। অনেক পেছনে যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৪৯ লাখ টন, তুরস্ক প্রায় ৪৪ লাখ টন, পোল্যান্ড প্রায় ৩৪ লাখ টন, ভারত প্রায় ২৬ লাখ টন এবং ইতালি প্রায় ২৪ লাখ টন। অঞ্চলভিত্তিক হিসাবে এশিয়ায় প্রায় ৬ কোটি ৭১ লাখ টন, ইউরোপে প্রায় ১ কোটি ৬৯ লাখ টন, আমেরিকা মহাদেশে প্রায় ৯১ লাখ টন এবং আফ্রিকায় প্রায় ৩৯ লাখ টন। ইউরোপে আপেল উৎপাদন ১৯৯০ সালে, প্রায় ১ কোটি ৯৫ লাখ টন, ২০২৪ সালের চেয়ে বেশি ছিল।
আপেলগাছ (মালুস ডোমেস্টিকা) পর্ণমোচী বৃক্ষ; এর উৎপত্তি মধ্য এশিয়ায়, যেখানে এর বুনো পূর্বপুরুষ মালুস সিভারসি এখনো জন্মায়। বীজ থেকে জন্মানো গাছ মাতৃগাছের মতো হয় না, তাই বাণিজ্যিক জাতগুলোর বংশবিস্তার হয় আদিজোড়ে জোড় কলমের মাধ্যমে; আদিজোড় গাছের আকারও নিয়ন্ত্রণ করে। আপেলের সাড়ে সাত হাজারের বেশি জাত আছে। ফোটা ফুল সামান্য সময়ের তুষারপাতেও ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে সুপ্ত ডাল ও কুঁড়ি কঠিন শীত সহ্য করে। ২০১০ সালে গোল্ডেন ডেলিশাস জাত থেকে প্রথম আপেলের জিনোম বিন্যাস উন্মোচন করা হয়।
আপেল কয়েক মাস সংরক্ষণ করা যায়। নিয়ন্ত্রিত বায়ুমণ্ডলের হিমাগার, যেখানে উচ্চ আর্দ্রতা, কম অক্সিজেন ও নিয়ন্ত্রিত কার্বন ডাই-অক্সাইডে ফল রাখা হয়, নিয়ে প্রথম গবেষণা হয় ১৯২০-এর দশকে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে, আর যুক্তরাষ্ট্রে এর ব্যবহার শুরু হয় ১৯৫০-এর দশকে। কাঁচা আপেলের ৮৬ শতাংশ পানি ও ১৪ শতাংশ শর্করা।

আঙুর, কমলা ও তালিকার বাকি ফল
চতুর্থ স্থানের আঙুর ২০২৪ সালে উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৭ কোটি ৫৯ লাখ টন। শীর্ষ পাঁচ ফলের মধ্যে কেবল আঙুরের চাষের জমিই ১৯৬১ সালের পর কমেছে: ফাওস্ট্যাটের হিসাবে ১৯৬১ সালে প্রায় ৯৩ লাখ ৩৩ হাজার হেক্টর, ২০২৪ সালে প্রায় ৬৭ লাখ ২৬ হাজার হেক্টর; একই সময়ে ফলন হেক্টরপ্রতি ৪ হাজার ৬০৫ কেজি থেকে বেড়ে ১১ হাজার ২৮৫ কেজি হয়েছে। উৎপাদনে শীর্ষে মূল ভূখণ্ডের চীন, প্রায় ১ কোটি ৬৮ লাখ টন; এরপর ইতালি প্রায় ৭৬ লাখ টন, স্পেন প্রায় ৫৪ লাখ টন, যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৪৯ লাখ টন এবং ফ্রান্স প্রায় ৪৭ লাখ টন। ইউরোপে আঙুর উৎপাদন, যার বড় অংশ মদ তৈরির জন্য, ২০২৪ সালে ছিল প্রায় ২ কোটি ৪৫ লাখ টন।
পঞ্চম স্থানের কমলা ২০২৪ সালে উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৬ কোটি ৭২ লাখ টন, ২০২৩ সালের প্রায় ৬ কোটি ৯৩ লাখ টনের চেয়ে কম। সবচেয়ে বড় উৎপাদক ব্রাজিল, প্রায় ১ কোটি ৫৭ লাখ টন; এরপর মূল ভূখণ্ডের চীন প্রায় ৭৬ লাখ টন, মেক্সিকো প্রায় ৪৮ লাখ টন, মিসর প্রায় ৪২ লাখ টন এবং ভারত প্রায় ৩৯ লাখ টন। আমেরিকা মহাদেশে কমলা উৎপাদন ২০০০ সালের প্রায় ৪ কোটি ১৩ লাখ টন থেকে কমে ২০২৪ সালে প্রায় ২ কোটি ৭৭ লাখ টনে নেমেছে।
আমজাতীয় ফলে ভারত অনেক এগিয়ে: ২০২৪ সালে আম, পেয়ারা ও ম্যাঙ্গোস্টিন মিলে প্রায় ২ কোটি ৭৮ লাখ টন; এরপর ইন্দোনেশিয়া ও মূল ভূখণ্ডের চীন, প্রত্যেকে প্রায় ৪১ লাখ টন। ট্যানজারিন, ম্যান্ডারিন ও ক্লেমেন্টাইনে মূল ভূখণ্ডের চীনের উৎপাদন প্রায় ২ কোটি ৭০ লাখ টন, দ্বিতীয় ভারত প্রায় ৬১ লাখ টন। আনারসে শীর্ষে কোস্টারিকা প্রায় ৩১ লাখ টন, এরপর ফিলিপাইন প্রায় ২৯ লাখ টন ও ইন্দোনেশিয়া প্রায় ২৭ লাখ টন। বাঙ্গিজাতীয় ফলেও সবচেয়ে বড় উৎপাদক মূল ভূখণ্ডের চীন, প্রায় ১ কোটি ৩২ লাখ টন, আর নাশপাতিতেও, প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ টন।
বাংলাদেশের অবস্থান
ফাওস্ট্যাটের হিসাবে ২০২৪ সালে বাংলাদেশে ফল উৎপাদন হয়েছে প্রায় ৬২ লাখ ৪৯ হাজার টন, ২০২৩ সালে যা ছিল প্রায় ৫৭ লাখ ৭৮ হাজার টন; দুটিই সরকারি সংখ্যা। ২০২৪ সালে প্রায় ৪৯ হাজার ৭২০ হেক্টর জমি থেকে কলা উৎপাদিত হয়েছে প্রায় ৮ লাখ ১৩ হাজার ৫৬০ টন, যেখানে ২০২৩ সালে ছিল প্রায় ৮ লাখ ৪০ হাজার ৩৬২ টন। আম, পেয়ারা ও ম্যাঙ্গোস্টিন মিলে উৎপাদন ছিল প্রায় ২১ লাখ টন, প্রায় ১ লাখ ৭৬ হাজার ৮৬৫ হেক্টর জমি থেকে; ২০২৩ সালে ছিল প্রায় ১৫ লাখ ৯ হাজার টন। ফাওস্ট্যাট ২০২৪ সালে বাংলাদেশের জন্য প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার ৮২৭ টন আনারস, প্রায় ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫১৫ টন প্ল্যান্টেইন ও রান্নার কলা (কাঁচকলা) এবং প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার ১৫৭ টন পেঁপের হিসাবও দেখিয়েছে।
বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, দেশের প্রায় সব জায়গায় সারা বছর কলা জন্মে। প্রধান কলা উৎপাদনকারী এলাকা রাঙামাটি, বরিশাল, রংপুর, দিনাজপুর, নোয়াখালী, ফরিদপুর ও খুলনা, আর জনপ্রিয় স্থানীয় জাতের মধ্যে আছে সাগর, সবরি, চাঁপা, সিঙ্গাপুরি ও মেহেরসাগর। বাংলাপিডিয়ায় ২০০৫-০৬ সালে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৩৬০ একর জমিতে ৯ লাখ ৯ হাজার ৬০ টন কলা উৎপাদনের তথ্য আছে।
একই ভুক্তিতে দেশের কলাচাষিদের প্রধান রোগবালাইয়ের তালিকাও আছে। ফিউজেরিয়াম অক্সিস্পোরাম কিউবেন্স নামের মাটিবাহিত ছত্রাকের কারণে হওয়া পানামা রোগকে বাংলাদেশসহ কলা উৎপাদনকারী অন্যান্য দেশে ব্যাপক ও ধ্বংসাত্মক বলা হয়েছে; ছত্রাকটি শিকড় দিয়ে ঢুকে গাছের পরিবহনতন্ত্র বন্ধ করে দেয়। গুচ্ছমাথা বা বাঞ্চি টপ একটি ভাইরাসজনিত রোগ, যা ছড়ায় কলার জাবপোকার মাধ্যমে। ব্যাকটেরিয়াজনিত ঢলে পড়া, পাতায় দাগ পড়া এবং ফলের অ্যানথ্রাকনোজও সাধারণ, আর প্রধান ক্ষতিকর পোকা কলার কাণ্ডের উইভিল এবং পাতা ও ফলের বিটল। বাগানে এমন লক্ষণ দেখলে কৃষকেরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে পারেন।
ছবি: David Stanley / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, ফাওস্ট্যাট (এফএওর উৎপাদন তথ্যভান্ডার, ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের হালনাগাদ), এফএও ব্যানানা মার্কেট রিভিউ: প্রিলিমিনারি রেজাল্টস ২০২৫, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)