সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°আংশিক মেঘলাআর্দ্রতা ৬৪%বাতাস ৪ কিমি/ঘ

বরিশালের বাজার ইলিশে সয়লাব

বরিশালে ইলিশের সবচেয়ে বড় বাজার (মোকাম) নগরের পোর্ট রোড। সেই বাজারের চিরচেনা রূপ বদলে গেছে। প্রতিবছর শীতের এ সময়ে এই মোকামে সামুদ্রিক মাছের দাপট থাকত, সেখানে পুরো বাজার দখল করে আ

বরিশালে ইলিশের সবচেয়ে বড় বাজার (মোকাম) নগরের পোর্ট রোড। সেই বাজারের চিরচেনা রূপ বদলে গেছে। প্রতিবছর শীতের এ সময়ে এই মোকামে সামুদ্রিক মাছের দাপট থাকত, সেখানে পুরো বাজার দখল করে আছে তাজা ইলিশ। শ্রমিকদের ব্যস্ততা, ক্রেতাদের ভিড়, মহাজনদের হাসিমুখ। ঘাটে নোঙর করা ট্রলারগুলোর খোল ভরে আছে রুপালি ইলিশে।

শীতে বরিশালের বাজার ইলিশে ঠাসা। গড়নে উজ্জ্বল এই রুপালি ইলিশ ওজন-আকৃতিতেও বড়। দামও ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে। এক সপ্তাহ ধরে দক্ষিণাঞ্চলের নদ-নদীতে ইলিশের এমন প্রাচুর্য অবাক করেছে ব্যবসায়ী, জেলে, ক্রেতাসহ সবাইকে। কারণ, বিগত দিনে এই মৌসুমে এমন ঘটনা আর ঘটেনি।

দেশের ইলিশ বিশেষজ্ঞরা শীত মৌসুমে ইলিশের এমন প্রাচুর্যকে অস্বাভাবিক মনে না করে বরং ইতিবাচক ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এম নিয়ামুল নাসের প্রথম আলোকে বলেন, এ সময়ে ইলিশের প্রজনন পর্বের দ্বিতীয় অধ্যায়। শীতের শেষ দিকটায় এমনটা হয়। সংরক্ষণ ভালো হওয়ায় এবার ইলিশের পরিমাণ বেড়েছে এবং আকার বড় হয়েছে।

বরিশালের পোর্ট রোডের ব্যবসায়ী জহির উদ্দীন বললেন, ‘কোনো দিন শীতে এত বড় আর এত ইলিশের আমদানি দেখিনি। আগের বছরগুলোতে এই সময়ে ছিটেফোঁটা ইলিশ আসত। তা-ও আকারে ছোট, সেসব ইলিশ তেমন পরিপুষ্ট ছিল না; কিন্তু এবার আমদানি যেমন ব্যাপক, তেমনি ইলিশের আকার বড় এবং পরিপুষ্ট। মনে হয় আমাদের সুদিন ফিরবে ইলিশে।’

ব্যবসায়ীরা বললেন, গত শনিবার এই মোকামে ৫৫০ মণ ইলিশ এসেছে। রোববারও একই পরিমাণ ইলিশ এসেছে। আজ সোমবার কিছুটা কমে গেলেও ৪৫০ মণের মতো এসেছে। এই সময়ে এটা অবিশ্বাস্য।

পোর্ট রোডের মৎস্য আড়দার সমিতির সভাপতি আশরাফ আলী প্রথম আলোকে বলেন, ‘মৌসুমে এবার ইলিশ তেমন মেলেনি। এ জন্য জেলে-ব্যবসায়ীরা লাভের মুখ দেখেননি। কিন্তু শীত মৌসুমে অসময়ে ইলিশের আমদানি আমাদের সব কষ্ট ধুয়ে দিয়েছে। দামও কম। ৭০০ থেকে ৯০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ বিক্রি হচ্ছে মণপ্রতি ২৫ হাজার টাকা। আর এক কেজির ওপরে ওজনের ইলিশ মণপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ৩০ হাজার টাকায়। আর ৪৫০ থেকে ৭০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ মণপ্রতি ১২ হাজার থেকে ২০ হাজারের মধ্যে বিক্রি হচ্ছে পাইকারি বাজারে।’

ইলিশের আকার-আকৃতি ও ওজন বাড়ছে ইলিশের আকার-আকৃতি, ওজন, প্রজনন ও দাম নিয়ে নিয়মিত জরিপ করে মৎস্য অধিদপ্তর ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ফিশের ইকো ফিশ প্রকল্প। তাদের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত তিন বছরে দেশের ইলিশের গড় আকৃতি ও ওজন বেড়েছে। ২০১৪ সালে ধরা পড়া ইলিশের গড় ওজন ছিল ৫১০ গ্রাম। ২০১৮ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৮৮০ গ্রাম। একই সময়ে ধরা পড়া মাঝারি আকৃতির (আধা কেজি থেকে ১ কেজি) ইলিশ ৪০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৭৭ শতাংশ হয়েছে। আর জাটকা ধরার পরিমাণ ৬০ শতাংশ থেকে কমে ১৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এতে ইলিশের গড় দামও গত এক বছরে ২০ শতাংশ কমেছে। অসময়ে আকারে বড় ইলিশ ধরা পড়ার বিষয়টি বিশেষজ্ঞদের সেই ধারণার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

উৎপাদন বাড়ছে, বড় অবদান বরিশালেরইলিশ আহরণে বরিশাল বিভাগের ঐশ্বর্য ক্রমেই বাড়ছে। গত ১০ বছরে এই বিভাগে ইলিশ আহরণের পরিমাণ দ্বিগুণের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি কয়েক বছর ধরেই দেশের মোট ইলিশের ৬৬ ভাগের বেশি আহরিত হচ্ছে এই বিভাগ থেকে। চলতি অর্থবছরেও তা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন মৎস্য বিশেষজ্ঞরা। পরিসংখ্যান বলছে, গত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশে ইলিশ আহরণের পরিমাণ আগের বছরের চেয়ে ৪ দশমিক ১৯ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। সে অনুযায়ী বরিশালেও তা প্রায় ৮ হাজার মেট্রিক টন বৃদ্ধি পায়। মৎস্য বিভাগের হিসাব অনুযায়ী, দেশে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মোট ইলিশ আহরিত হয় ৫ লাখ ১৭ হাজার ১৮৮ মেট্রিক টন। এর মধ্যে বরিশাল বিভাগ থেকেই আহরিত হয়েছিল ৩ লাখ ৩২ হাজার ২৫ মেট্রিক টন। এর আগের অর্থবছরে দেশে আহরিত মোট ইলিশের পরিমাণ ছিল ৪ লাখ ৯৬ হাজার ৪১৭ মেট্রিক টন। এর মধ্যে বরিশাল থেকে আহরিত হয়েছিল ৩ লাখ ২৪ হাজার ২৯৭ মেট্রিক টন, যা দেশে মোট উৎপাদনের প্রায় ৬৬ শতাংশ।

বরিশাল বিভাগীয় মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায়, বরিশাল বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ইলিশের জোগান দেয় ভোলা ও বরগুনা। ভোলায় গত অর্থবছরে ইলিশ আহরিত হয় ১ লাখ ৬১ হাজার ৮৩২ মেট্রিক টন ও বরগুনায় আহরিত হয় ৭০ হাজার ২৩৭ মেট্রিক টন।

প্রথম আলোসূত্র

মৎস্য

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

চিংড়ি রপ্তানি বাড়াতে ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটির তাগিদ বাণিজ্যমন্ত্রীর

ভারতের চেয়ে প্রায় ৪২ শতাংশ বেশি চিংড়ি চাষের জমি থাকলেও রপ্তানিতে পিছিয়ে বাংলাদেশ; উৎপাদন থেকে রপ্তানি পর্যন্ত ডিজিটাল ট্রেসেবিলিটি ও শ্রম অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর।

বাংলা নিউজ ২৪১৭ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
মৎস্য

নেত্রকোনার হাওরে দেশি মাছ কমছে, ২৯ প্রজাতি হারিয়ে গেছে

বারসিকের তথ্যে, নেত্রকোনার হাওরে ছয় দশক আগে অন্তত ১১৫ প্রজাতির দেশি মাছ ছিল; এখন দেখা মেলে ৬১ প্রজাতির, ২৯টি পুরোপুরি হারিয়ে গেছে।

কৃষি সময়১৭ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
মৎস্য

কম্বোডিয়ার টনলে সাপে মাছের অভয়াশ্রম রক্ষায় স্থানীয় নেতৃত্বের প্রশিক্ষণ

কম্পং থম প্রদেশের বোয়েং রিম কমিউনিটি মাছের অভয়াশ্রমের ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জেলা ও কমিউন কর্মকর্তা, গ্রামপ্রধান ও কমিউনিটি সংগঠনের ২৩ জনকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে ওয়ার্ল্ডফিশ ও আইডব্লিউএমআই।

WorldFish১৭ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)