পারমাণবিক বিজ্ঞানের কৌশল কাজে লাগিয়ে ধানের আটটি নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসো। জাতগুলো হেক্টরপ্রতি ৯ থেকে ১১ টন ধান দিতে পারে, পাকে মাত্র ৯৫ থেকে ১০৬ দিনে। দেশটির জাতীয় তালিকার প্রচলিত জাতগুলোর ফলন হেক্টরে ৪ থেকে ৬ টন, আর সেগুলো পাকতে সময়ও বেশি নেয়।
যে সমস্যার সমাধানে এই কাজ: গত এক দশকে বুরকিনা ফাসোতে চালের ব্যবহার দ্বিগুণ হয়েছে, অথচ মোট চালের প্রায় অর্ধেকই আমদানি করতে হয়। তাই দেশে উৎপাদন বাড়ানো জাতীয় অগ্রাধিকার।
বিজ্ঞানীরা ব্যবহার করেছেন মিউটেশন প্রজনন। এ পদ্ধতিতে বিকিরণ দিয়ে জিনগত বৈচিত্র্যের স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে দ্রুততর করা হয়, তারপর কাঙ্ক্ষিত বৈশিষ্ট্যের গাছ বেছে নিয়ে নতুন জাত তৈরি হয়। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) ও খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) যৌথ উদ্যোগ ‘অ্যাটমস৪ফুড’ এবং আইএইএর কারিগরি সহযোগিতা কর্মসূচি প্রশিক্ষণ, বিশেষজ্ঞ সহায়তা ও মাঠ পরীক্ষায় সাহায্য করেছে। জাতগুলো অবমুক্ত হয় ২০২৫ সালে।
শুধু ফলন নয়, ভোক্তার পছন্দও মাথায় রাখা হয়েছে। দুটি জাতের দানা বড়, দুটিতে প্রতিরোধী শ্বেতসার বেশি, আর একটি জাত আঠালো চাল দেয়।
জোসেফ কিয়ি-জেরবো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমায়েল অরি নেস্তর বাসোলে বলেন, অর্জনটা আটটি জাতে সীমাবদ্ধ নয়; দেশের বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা বেড়েছে, ফলে বদলে যাওয়া চাষের পরিবেশ ও কৃষক-ভোক্তার চাহিদা মেনে নতুন ফসল উদ্ভাবন চালিয়ে যাওয়া যাবে। এফএও-আইএইএ যৌথ কেন্দ্রের পরিচালক দংজিন ফেং বলেন, খাদ্যনিরাপত্তা ও জাতীয় গবেষণা সক্ষমতা জোরদারে পারমাণবিক বিজ্ঞান কীভাবে কাজে লাগে, বুরকিনা ফাসো তা দেখিয়েছে।
অনুমোদনের পর এখন বীজ উৎপাদন বাড়িয়ে আরও কৃষকের কাছে জাতগুলো পৌঁছানোর কাজ চলছে, প্রদর্শনী ক্ষেতে স্থানীয় পরিবেশে এগুলোর কার্যকারিতা যাচাই হচ্ছে।
প্রতিবেদনের তথ্য: বাংলা ট্রিবিউন আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ছবি: Africa Rice Center / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: বাংলা ট্রিবিউন





মন্তব্য
(০)