Skip to content
দা এগ্রো নিউজদা এগ্রো নিউজকৃষি ও কৃষকের সংবাদ
সাবস্ক্রাইব

কফির অস্থিতিশীল বাজারে উত্তাপ বাড়াচ্ছে কলম্বিয়া

কফি উৎপাদনে শীর্ষ দেশ ব্রাজিলে তীব্র সংকট আন্তর্জাতিক বাজারকে দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিতিশীল করে রেখেছে। সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় জনপ্রিয় পানীয় পণ্যটির দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর মধ্যেই বা

বণিক বার্তা২৪ অক্টোবর ২০২১ · ২ মিনিটের পড়া

কফি উৎপাদনে শীর্ষ দেশ ব্রাজিলে তীব্র সংকট আন্তর্জাতিক বাজারকে দীর্ঘদিন ধরেই অস্থিতিশীল করে রেখেছে। সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় জনপ্রিয় পানীয় পণ্যটির দাম দিন দিন বেড়েই চলেছে। এর মধ্যেই বাজারকে আরো উত্তপ্ত করে তুলেছে কলম্বিয়া। চাহিদা ও সরবরাহে ভারসাম্যহীনতার সুযোগ নিচ্ছেন দেশটির কৃষকরা। বেশি দাম পাওয়ার আশায় তারা রফতানিকারক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে করা চুক্তি অনুযায়ী কফি সরবরাহ করেননি। ফলে শীর্ষ ক্রেতাদের পড়তে হয়েছে বড় ধরনের লোকসানে। আন্তর্জাতিক বাজারে আরো এক ধাপ দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ কফি উৎপাদক কলম্বিয়া। অ্যারাবিকা উৎপাদনে দেশটির অবস্থান দ্বিতীয়। প্রায় ৫ লাখ ৫০ হাজার পরিবারের জীবিকা কফির ওপর নির্ভরশীল। দেশটির কৃষকরা চলতি বছর স্থানীয় উৎপাদনের প্রায় ১০ শতাংশ বা ১০ লাখ ব্যাগ (প্রতি ব্যাগে ৬০ কেজি) কফি সরবরাহ করতে ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন রফতানিকারক, ব্যবসায়ী ও রোস্টাররা। কফি শিল্পসংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে।

এ বছর আন্তর্জাতিক বাজারে কফির মূল্য ৫৫ শতাংশ বেড়েছে। প্রধানত শীর্ষ উৎপাদক দেশ ব্রাজিলে বৈরী আবহাওয়ার কারণে উৎপাদনে ধস নামে। দেখা দেয় সরবরাহ সংকট। দেশটিতে সৃষ্ট সংকটের সুযোগ নিয়েছেন কলম্বিয়ার কৃষকরা। তারা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে যখন সরবরাহ চুক্তি করেছেন তখন দাম ছিল অনেক কম। কিন্তু বর্তমান বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় কৃষকরা সরবরাহ আটকে দিয়েছেন। উদ্দেশ্য বেশি দামে পুনরায় বিক্রি করা।

গ্লোবাল এগ্রিকালচারাল কমোডিটিস ট্রেড হাউজের এক ডিলার জানান, ব্যবসায়ীরা চুক্তি অনুযায়ী সরবরাহ পাননি। বিষয়টি বাজারকে বিশৃঙ্খল করে তুলেছে। যদি ব্রাজিলে খরা অব্যাহত থাকে, তাহলে প্রতি পাউন্ড কফির দাম ৩০০ সেন্টের গণ্ডি ছাড়াতে পারে। বর্তমানে বাজার চরম অস্থিতিশীলতার দিকে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় কফি রোস্টাররা ‘সিঙ্গেল অরিজিন কলম্বিয়া’ শীর্ষক প্রচারণায় পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করছেন। মূলত সরবরাহ উৎসসংক্রান্ত জটিলতার কারণেই এমন চিন্তাভাবনা করছেন তারা।

কলম্বিয়ার মতো শীর্ষস্থানীয় উৎপাদক দেশের সরবরাহ চুক্তি বাস্তবায়নে ব্যর্থতা বিশ্ববাজারে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে জানান বাজার বিশ্লেষকরা। বিষয়টি কফির ঊর্ধ্বমুখী দামকে আরো উত্তেজিত করে তুলতে পারে। যদিও এ প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছেন তারা।

কলম্বিয়ান কৃষকরা জানান, তারা এ বছরের শেষ দিকে অথবা আগামী বছর কফি সরবরাহ করবেন। কিন্তু ক্রেতারা এতে সন্তুষ্ট নয়। অন্য একটি গ্লোবাল ট্রেড হাউজের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী জানান, অনেক ক্রেতাই লোকসানের সম্মুখীন হয়েছেন। তারা বিকল্প সরবরাহ উৎস খুঁজছেন। যদি কৃষকরা আগামী বছরও সরবরাহ না করেন এবং দাম বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকে, তাহলে ঝুঁকি আরো বড় আকার ধারণ করতে পারে।

তিনি বলেন, সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বেশ কয়েকটি গ্লোবাল ট্রেড হাউজের প্রত্যেকটি ৮০ থেকে ১ কোটি ডলার লোকসানের সম্মুখীন হয়েছে। এর মধ্যে কলম্বিয়ার কফি উৎপাদন ফেডারেশন এফএনসি সবচেয়ে বড় লোকসানে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটি কলম্বিয়ান কৃষকদের প্রতিনিধিত্ব করে। দেশীয় রফতানির ২০ শতাংশই আসে এফএনসি থেকে।

এফএনসির প্রধান রবার্টো ভ্যালেজ বলেন, কলম্বিয়ার খুব কম রফতানিকারকই ভোগান্তি থেকে রক্ষা পেয়েছেন। শীর্ষ রফতানিকারক এফএনসিসহ সব শীর্ষ ট্রেড হাউজই লোকসানে রয়েছে। যদি একজন চাষীও সরবরাহ থেকে বিরত থাকে, তবে পুরো চক্রকেই আর্থিক ক্ষতির মধ্যে পড়তে হয়।

ট্যাগ#কলম্বিয়া#কফি
বণিক বার্তাদা এগ্রো নিউজ

সম্পর্কিত খবর

মন্তব্য

()