যুক্তরাষ্ট্রের ভুট্টা, সয়াবিন ও তুলা চাষিরা গত দুই দশকে দ্বৈত ফসল ও আচ্ছাদন ফসলের ব্যবহার উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছেন, আর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে তুলার জমিতে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) অর্থনৈতিক গবেষণা শাখা ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (ERS) ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল প্রকাশিত এক "চার্ট অব নোট"-এ এ তথ্য জানায়। চার্টটি তৈরি করেন ERS-এর অর্থনীতিবিদ অ্যান্ড্রু বি. রোজেনবার্গ।
দ্বৈত ফসল আর আচ্ছাদন ফসল কী
ERS-এর ব্যাখ্যায়, দ্বৈত ফসল বা ডাবল ক্রপিং হলো দুই গ্রীষ্মকালীন ফসলের মাঝে শরতে আরেকটি ফসল লাগানো, যাতে একই জমি থেকে বেশি উৎপাদনমূল্য পাওয়া যায়। যেমন ভুট্টা কাটার পর শীতকালীন গম বোনা, কিংবা শীতকালীন গম কাটার পর সয়াবিন লাগানো।
আচ্ছাদন ফসল হলো শীতকালীন এমন ফসল, যা কাটা হয় না; মূলত মাটির স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত সুবিধার জন্য এটি চাষ করা হয়। ইউএসডিএর অর্থায়নে পরিচালিত কর্মসূচি সাসটেইনেবল অ্যাগ্রিকালচার রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন (SARE) জানায়, আচ্ছাদন ফসল মাটির ক্ষয় কমায়, মাটির স্বাস্থ্য ভালো করে, পানির প্রাপ্যতা বাড়ায়, আগাছা দমায়, রোগ ও পোকা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং মাটিতে জৈব পদার্থ যোগ করে। শিমজাতীয় আচ্ছাদন ফসল বাতাসের নাইট্রোজেন মাটিতে যোগ করতে পারে; রাই, ওট, ক্লোভার, ভেচ ও মুলা এ কাজে প্রচলিত ফসল।
আচ্ছাদন ফসল দুই ধরনের চাষব্যবস্থাতেই যুক্ত করা যায়। একটি গ্রীষ্মকালীন আবর্তন, যেখানে একটি জমির গ্রীষ্মকালীন ফসল বছর বছর বদলায়, যেমন ভুট্টা-সয়াবিন আবর্তন; অন্যটি একটানা চাষ, যেখানে উষ্ণ মৌসুমের প্রধান ফসল কয়েক বছর ধরে একই থাকে।

তুলায় সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি
ERS জানায়, এই পদ্ধতিগুলোর সবচেয়ে বড় বিস্তার ঘটেছে তুলার জমিতে। দ্বৈত ফসল বা আচ্ছাদন ফসলের আওতায় থাকা তুলার জমি ২০০৩ সালে ছিল মোট তুলার জমির ১৫ শতাংশ, ২০১৯ সালে তা দাঁড়ায় ৩২ শতাংশে। চার্টে ভুট্টা, সয়াবিন ও তুলার রোপণ করা জমিকে আবর্তনের ধরন অনুযায়ী ভাগ করে দেখানো হয়েছে।
ERS-এর মতে, তথ্য ইঙ্গিত দেয় যে একক ফসল, অর্থাৎ জমিতে একটি ফসল তোলার পর বাকি সময় তা খালি পড়ে থাকা, কমে আসার পেছনে মূলত আচ্ছাদন ফসলের সম্প্রসারিত ব্যবহারই কাজ করছে, দ্বৈত ফসল নয়। এর অর্থ, যে জমিতে একসময় বছরে একটি নগদ ফসলের পর মাটি খালি থাকত, তার বড় অংশ এখন মাটির স্বার্থে শীতজুড়ে ঢাকা রাখা হচ্ছে।

বৃহত্তর প্রবণতা ও সরকারি সহায়তা
তুলার এই চিত্র যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক প্রবণতার সঙ্গে মেলে। ERS-এর ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত প্রতিবেদন "কভার ক্রপ ট্রেন্ডস, প্রোগ্রামস, অ্যান্ড প্র্যাকটিসেস ইন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস" অনুযায়ী, ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে দেশটির ফসলি জমিতে আচ্ছাদন ফসলের ব্যবহার ৫০ শতাংশ বেড়েছে। SARE-এর তথ্যে, ২০১৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রে ১ কোটি ৫৪ লাখ একর জমিতে আচ্ছাদন ফসল লাগানো হয়, আর ২০১২ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে আচ্ছাদন ফসল চাষ করা খামারের সংখ্যা বাড়ে ১৫.২ শতাংশ।
ERS-এর প্রতিবেদন বলছে, কেন্দ্রীয় ও অঙ্গরাজ্য সরকারের সংরক্ষণ কর্মসূচিগুলো আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার মাধ্যমে আচ্ছাদন ফসল জনপ্রিয় করার চেষ্টা বাড়িয়েছে। ২০২৫ সালের ১৭ ডিসেম্বর হালনাগাদ করা ERS-এর মাটি চাষ ও শস্য আবর্তন বিষয়ক পাতায় বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংরক্ষণ খাতের ব্যয়ের একটি বড় লক্ষ্য হয়ে উঠেছে আচ্ছাদন ফসল। একই পাতায় জানানো হয়, গম, ভুট্টা, সয়াবিন ও তুলার জমিতে কোনো না কোনো ধরনের সংরক্ষণমূলক চাষের অংশও বেড়েছে।
ছবি: U.S. Department of Agriculture / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ইউএসডিএ ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (চার্ট অব নোট, ১৬ এপ্রিল ২০২৬; সয়েল টিলেজ অ্যান্ড ক্রপ রোটেশন, ২০২৫; কভার ক্রপ ট্রেন্ডস, প্রোগ্রামস, অ্যান্ড প্র্যাকটিসেস ইন দ্য ইউনাইটেড স্টেটস, ২০২১), সাসটেইনেবল অ্যাগ্রিকালচার রিসার্চ অ্যান্ড এডুকেশন (SARE), উইকিপিডিয়া




মন্তব্য
(০)