তুলা কোন খেত থেকে এসেছে, সরবরাহ শৃঙ্খলে সেই খোঁজ যত কৃষকের দিকে যায়, তত কঠিন হয়ে ওঠে। গবেষণা সংগঠন কটন ডায়েরিজ (Cotton Diaries) এ মাসে প্রকাশিত এক সমীক্ষায় এ কথা বলেছে। লেখকদের মতে, পরিবেশ ও সমাজের প্রতি দায় মেটাতে চাইলে ব্র্যান্ডগুলোকে এই ফাঁক শুধু নথিভুক্ত করলে চলবে না, ভরাতেও হবে।
সমীক্ষাটি হুমেডমাইকটন (WhoMadeMyCotton) গবেষণার চতুর্থ পর্ব। ডেনিমের সরবরাহ শৃঙ্খল নিয়ে পাঁচ বছরের এই গবেষণা চালাচ্ছেন বস্ত্রশিল্পের দুই অভিজ্ঞ কর্মী, অ্যানি ওয়েলস (Ani Wells) ও অ্যান উদার (Anne Oudard)।
অ্যান উদার বলেন, একটি জিনসের প্যান্টকে একজন নির্দিষ্ট কৃষক পর্যন্ত খুঁজে পাওয়া প্রায় অসম্ভব, কারণ পৃথিবীর বেশির ভাগ জায়গায় তুলা চাষ হয় সমষ্টিগতভাবে। চাষি আর কাপড়ের মাঝে থাকে সমবায়, উপকরণ সরবরাহকারী, ব্যবসায়ী, ঋণদাতা ও স্থানীয় সংগঠন। এজিফান্ডনিউজকে তিনি বলেন, পাঁচ বছর আগেও তুলা কোথা থেকে এল, এ প্রশ্ন করাটাই ছিল অস্বাভাবিক।
উদারের মতে, উৎস খোঁজা কেবল নিয়ম মানার কাজ বা টেকসই প্রতিবেদনে কৃষকের ছবি ছাপানো নয়। মাঠের খবর ক্রেতাকে বিপদ আসার আগেই সতর্ক করে। তিনি তুরস্কের উদাহরণ দেন: কিছু হিসাবে সেখানে তুলার উৎপাদন ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমেছে, আর কিছু কৃষক তুলা না বোনার কথা ভাবছেন, যার প্রভাব পড়তে পারে বিশ্বের সরবরাহ ও দামে। দ্বিধায় থাকা এমন একজন চাষি পুনরুৎপাদনশীল তুলা চাষের পথিকৃৎ; তাঁর তুলা পোশাকে রাখতে পরের মৌসুমে তাঁর হাতে টাকা আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হয়েছিল বলে জানান উদার।
প্রতিবেদন বলছে, সবচেয়ে বড় সুযোগ জিনিং কারখানায়, যেখানে বীজতুলা থেকে আঁশ আলাদা করে সুতা কাটার উপযোগী করা হয়। জিনিং কারখানা তুলা কেনে, প্রক্রিয়া করে ও বিক্রি করে; কৃষি আর বস্ত্রশিল্পের মাঝখানে এর অবস্থান। অথচ ফ্যাশন জগতের অনেকে এই ধাপের কথা জানেনই না, বলেন উদার। অঞ্চলভেদে জিনিং কারখানার খাতায় থাকতে পারে কে তুলা দিল, কৃষকের পরিচয়, কোথায় চাষ হলো, পরিমাণ, মান ও লেনদেনের হিসাব। আঁশের সঙ্গে এই তথ্য এগিয়ে গেলে আজকের খণ্ডিত ও ব্যয়বহুল খোঁজাখুঁজি অনেকটাই কমবে, যাচাইও জোরদার হবে, বলছে প্রতিবেদন।
তবে তথ্য সংগ্রহই শেষ কথা নয়, যোগ করেছেন লেখকেরা। এর সঙ্গে চাই কৃষক, সমবায়, জিনিং মালিক ও স্থানীয় অংশীদারদের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি সম্পর্ক; উদার একে বলছেন সম্পর্কভিত্তিক উৎস-অনুসন্ধান। তাঁর মতে, লেনদেনভিত্তিক ব্যবস্থা কেবল দেখায় তুলা কোথা থেকে কোথায় গেল; এর পেছনের মানুষ ও পরিস্থিতি জানলেই টেকসই সরবরাহ শৃঙ্খল গড়ে ওঠে। কৃষকের নামকে শুধু বিপণনের উপকরণ বানানো নিয়েও তিনি সতর্ক করেছেন।
ছবি: Michael Rivera / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
প্রতিবেদন: জেনিফার মারস্টন, এজিফান্ডনিউজ।
সূত্র: এজিফান্ডনিউজ





মন্তব্য
(০)