পশ্চিম অ্যান্টার্কটিকার থোয়াইটস হিমবাহ (Thwaites Glacier), যাকে বলা হয় ‘ডুমসডে’ বা প্রলয়ের হিমবাহ, সমুদ্র কল্পনাতীতভাবে ঠান্ডা হয়ে গেলেও অন্তত আগামী ১৫০ বছর বরফ হারাতে থাকবে। ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিক সার্ভের (বিএএস) নেতৃত্বে করা এক গবেষণার বরাতে এ খবর দিয়েছে ইউরোনিউজ। হিমবাহটি পুরোপুরি ধসে পড়লে বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা আনুমানিক ৬৫ সেন্টিমিটার বাড়বে। প্রতি সেন্টিমিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে আরও প্রায় ৬০ লাখ মানুষ উপকূলীয় বন্যার ঝুঁকিতে পড়েন।
গবেষকেরা তিনটি আলাদা কম্পিউটার মডেলে থোয়াইটস ও পাশের পাইন আইল্যান্ড হিমবাহের নিচে সমুদ্রের পানিতে গলন পুরোপুরি বন্ধ করে দেখেছেন। পাইন আইল্যান্ড প্রত্যাশামতোই আচরণ করেছে: গলা থেমেছে, বরফ পুরু হয়েছে, আর হিমবাহটি বিংশ শতকের শুরুর অবস্থানের দিকে এগিয়েছে। কিন্তু সমুদ্রের গলন ছাড়াও থোয়াইটস বরফ হারাতে থাকে, যদিও পাতলা হতে হতে গতি কমে আসে। গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্সে।
বিএএসের হিমবাহবিদ ও প্রধান লেখক ড. রোজি উইলিয়ামস বলেন, অতীতে সমুদ্রের তাপে যে গলন হয়েছে, তার ফলে থোয়াইটস থেকে ভবিষ্যতে বরফ হারানো এখন অনিবার্য। শুধু সমুদ্র ঠান্ডা করে এই ক্ষতি ফেরানো বা ঠেকানো যাবে না।
সহ-লেখক অধ্যাপক পল হল্যান্ড জানান, থোয়াইটস পিছু হটতে শুরু করে ১৯৪০-এর দশকে, আর এর বড় কারণ সমুদ্রের উষ্ণতা। গ্রিনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ না কমালে ক্ষতি আরও বাড়বে। অ্যান্টার্কটিকার অন্য বড় হিমবাহগুলোও একই অনিবার্য পরিবর্তনের দিকে যাচ্ছে কি না, তা এখনও জানা নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ বছরের গ্রীষ্মে বিশ্বের সমুদ্রের তাপমাত্রা রেকর্ড ছুঁয়েছে, ২২ আগস্ট মেরু অঞ্চলের বাইরে সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ছিল ২১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। প্রতিবেদনটি লিখেছেন লিয়াম গিলিভার।
ছবি: NASA / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ইউরোনিউজ


মন্তব্য
(০)