২০২৬ সালের ৩০ জুলাই অনলাইন সংবাদমাধ্যম জাগো নিউজ ২৪-এর লাইফস্টাইল ডেস্ক ড্রাগন ফলের মিল্কশেক তৈরির একটি সহজ রেসিপি প্রকাশ করে। মূল উপকরণ চারটি: পাকা ড্রাগন ফল, ঠান্ডা তরল দুধ, চিনি বা মধু এবং বরফ কুচি; সাজানোর জন্য লাগে বাদাম কুচি। প্রতিবেদনে বলা হয়, ড্রাগন ফল এখন আর শুধু বিদেশি ফল নয়, বরং সহজলভ্য ও তুলনামূলক কম দামের একটি ফল, আর রঙিন এই পানীয় সকাল বা বিকেলের নাশতায় এবং গরমের দিনে খাওয়া যায়।
মিল্কশেকের উপকরণ
জাগো নিউজ ২৪-এর রেসিপিতে উপকরণের পরিমাণ ছিল এরকম:
- পাকা ড্রাগন ফল ১টি
- ঠান্ডা তরল দুধ ১ কাপ
- চিনি বা মধু ১ থেকে ২ চা চামচ
- বরফ কুচি প্রয়োজনমতো
- কাজুবাদাম বা কাঠবাদাম কুচি ১ টেবিল চামচ (সাজানোর জন্য)
যেভাবে তৈরি করবেন
- ড্রাগন ফলের খোসা ছাড়িয়ে ভেতরের শাঁস ছোট ছোট টুকরো করে কেটে নিন।
- ব্লেন্ডারে ড্রাগন ফলের টুকরো, ঠান্ডা দুধ, চিনি বা মধু এবং বরফ কুচি একসঙ্গে দিন।
- মিশ্রণটি মসৃণ ও ক্রিমি না হওয়া পর্যন্ত ১ থেকে ২ মিনিট ব্লেন্ড করুন।
- পরিবেশন গ্লাসে ঢেলে ওপরে বাদাম কুচি ও কয়েক টুকরো ড্রাগন ফল ছড়িয়ে দিন।
- ঠান্ডা অবস্থায় পরিবেশন করুন।
প্রতিবেদনটিতে দাবি করা হয়, দুধ আর ড্রাগন ফল মিলিয়ে তৈরি এই পানীয় দ্রুত শক্তি জোগায় ও হজমে সাহায্য করে, এবং রঙিন হওয়ায় শিশুরাও এটি পছন্দ করে।

ড্রাগন ফল কোন গাছের ফল
ড্রাগন ফল বা পিতায়া কয়েকটি ক্যাকটাস প্রজাতির ফল। উইকিপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী ফলটি ডিম্বাকার, প্রায় ১০ সেন্টিমিটার লম্বা ও ৬ সেন্টিমিটার চওড়া, আর এর শাঁসে ছড়িয়ে থাকে ছোট ছোট কালো বীজ। গাছের ফুল ফোটে রাতে, আর পরদিন সন্ধ্যার মধ্যেই সাধারণত শুকিয়ে যায়।
ফলটির আদি নিবাস দক্ষিণ মেক্সিকো এবং গুয়াতেমালা, কোস্টারিকা ও এল সালভাদরের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল। প্রধান তিনটি প্রজাতির মধ্যে Selenicereus undatus-এর খোসা গোলাপি ও শাঁস সাদা, S. costaricensis-এর খোসা ও শাঁস দুটোই লাল, আর S. megalanthus-এর খোসা হলুদ ও শাঁস সাদা। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা ড্রাগন ফলে প্রায় ৫৭ কিলোক্যালরি শক্তি, ৮৪ গ্রাম পানি, ১৫.২ গ্রাম শর্করা এবং ৩.১ গ্রাম আঁশ থাকে।

বাংলাদেশে ড্রাগন ফলের চাষ
দ্য ডেইলি স্টারের ২০১৫ সালের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) হর্টিকালচার সেন্টার ২০১৩ সাল থেকে ২০১৪ সালের শুরুর দিকে দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও নীলফামারীর কৃষকদের মধ্যে ড্রাগন ফলের বাণিজ্যিক চাষ ছড়িয়ে দিতে কাজ শুরু করে।
এরপর চাষ দ্রুত বেড়েছে। দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসে উদ্ধৃত ডিএইর হর্টিকালচার উইংয়ের হিসাবে, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে দেশে ৩৮ হেক্টর জমিতে ২৭৭ মেট্রিক টন ড্রাগন ফল উৎপাদিত হয়েছিল; ২০২১-২২ অর্থবছরে জমি দাঁড়ায় ১ হাজার ১১৫ হেক্টরে আর উৎপাদন ১৩ হাজার ৮৭২ মেট্রিক টনে। ডেইলি স্টার ২০২২ সালের ডিসেম্বরে জানায়, দেশের ড্রাগন ফলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ উৎপাদিত হয় খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি ও বান্দরবানে, আর পাহাড়ি এলাকায় তখন প্রতি কেজি বিক্রি হতো ১৫০ থেকে ১৮০ টাকায়।
বরেন্দ্র অঞ্চলেও ফলটি জায়গা করে নিয়েছে। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২৬ সালের মার্চে জানায়, রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় সেই মৌসুমে প্রায় ১৯০ হেক্টর জমিতে ড্রাগন ফলের চাষ হয়েছিল। ডিএইর কর্মকর্তাদের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, এই ফসলে বিনিয়োগ তুলনামূলক কম লাগে, পোকামাকড়ের আক্রমণও কম, আর অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া চাষের উপযোগী।

ছবি: Berthgmn / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দ্য ডেইলি স্টার, দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)