সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

ঈশ্বরদীতে তীব্র খরা ও তাপদাহে ঝরছে লিচুর গুটি, ফলন নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা

২০২৬ সালের এপ্রিলে টানা তাপপ্রবাহ ও খরায় পাবনার ঈশ্বরদীতে রেকর্ড মুকুলের পর লিচুর গুটি ঝরে পড়ছিল; দেশি মোজাফ্ফরপুরী জাতে ঝরা ছিল বেশি। কৃষি বিভাগ বাগানে নিয়মিত সেচ ও পরিচর্যার পরামর্শ দেয়।

ঈশ্বরদীতে তীব্র খরা ও তাপদাহে ঝরছে লিচুর গুটি, ফলন নিয়ে শঙ্কায় চাষিরা
ফল

পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় ২০২৬ সালের এপ্রিলের শেষ দিকে প্রচণ্ড খরা ও তাপদাহে লিচুগাছ থেকে গুটি ঝরে পড়ছিল, আর এতে ফলন বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছিলেন চাষিরা। জাগো নিউজ ২৪ ২০২৬ সালের ২৬ এপ্রিল এ খবর প্রকাশ করে। দেশি লিচু হিসেবে পরিচিত মোজাফ্ফরপুরী জাতের গুটি ঝরছিল সবচেয়ে বেশি, পাশাপাশি বোম্বাই লিচুর গুটিও ঝরতে শুরু করেছিল।

রসালো ও সুস্বাদু লিচুর জন্য ঈশ্বরদীর খ্যাতি দেশজুড়ে। এখানে চৈত্রের শুরুতে গাছে মুকুল আসে, আর চৈত্রের শেষে মুকুল থেকে ছোট সবুজ গুটি দেখা দেয়। ২০২৬ সালে প্রতিটি গাছে রেকর্ড পরিমাণ মুকুল এসেছিল, গুটিও ভালো ধরেছিল; তাই চাষিরা ভালো ফলনের আশায় বুক বেঁধেছিলেন। কিন্তু প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রায় ১৫ দিনের প্রচণ্ড তাপদাহে গুটি ঝরে পড়া শুরু হয়, আর চাষিদের স্বপ্নভঙ্গের আশঙ্কা দেখা দেয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্যমতে, সে মৌসুমে ঈশ্বরদীতে ৩ হাজার ১০০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছিল। চৈত্রে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় প্রতিটি গাছে ভালো মুকুল আসে এবং মুকুল থেকে গুটিও ভালো হয়। কৃষি বিভাগ ও চাষি দুই পক্ষই ভালো ফলনের আশা করছিল।

উপজেলার লিচুগ্রাম হিসেবে পরিচিত মিরকামারী, মানিকনগর, বক্তারপুর, জগন্নাথপুর, বাঁশেরবাদা, জয়নগর, সাহাপুর, আওতাপাড়া ও চরসাহাপুরে ঢুকলেই চোখে পড়ছিল সারি সারি লিচুবাগান; পাতার ফাঁকে ঝুলছিল সবুজ গুটি। আগের কয়েক বছরের তুলনায় সেবার গুটি ছিল বেশি, প্রায় প্রতিটি গাছেই প্রচুর।

চাষি ও কর্মকর্তারা যা বলেছিলেন


বক্তারপুর গ্রামের লিচুচাষি আমজাদ হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, এবার গাছে রেকর্ড পরিমাণ মুকুল এসেছিল, কিন্তু কয়েক দিনের প্রচণ্ড খরতাপে গুটি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তখন তাপমাত্রা ছিল ৩৬ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস; তীব্র রোদ ও খরতাপে গুটি ঝরে পড়তে শুরু করেছে। তাঁর কথায়, এভাবে গুটি ঝরা চলতে থাকলে ভালো ফলনের স্বপ্ন ভেঙে যাবে।

মানিকনগর গ্রামের চাষি জহরুল ইসলাম বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার মুকুল ও গুটি দুটিই ভালো, কিন্তু কয়েক দিনের খরায় গুটি ঝরতে শুরু করেছে। তাপদাহে প্রতিবছরই কিছু গুটি ঝরে যায়। তাঁর হিসাবে, একটি গাছের শতকরা ১০ থেকে ২০ ভাগ গুটি ঝরা স্বাভাবিক, এর বেশি ঝরলে কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হন। গুটি ঝরা ঠেকাতে তিনি রাতে ও সকালে পানি এবং ওষুধ স্প্রে করছিলেন।

মানিকনগরের কীটনাশক ও সার ব্যবসায়ী মোস্তফা জামান নয়ন জানান, গুটি ঝরা রোধের পরামর্শ চাইতে চাষিরা তাঁর কাছে আসছেন, আর কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তিনি চাষিদের কীটনাশক দিচ্ছেন।

জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত লিচুচাষি আব্দুল জলিল (কিতাব মণ্ডল) জাগো নিউজকে বলেন, গুটি ঝরছে, তবে অস্বাভাবিক হারে নয়। গুটি ঝরা রোধে বাগানে সেচ দেওয়া হচ্ছে, আর আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে ঝরা অনেকটাই কমে যাবে বলে তিনি আশা করেন। প্রতিটি গাছে অন্যান্যবারের চেয়ে গুটি বেশি থাকায় চাষিরা তখনো ভালো ফলনের আশা করছিলেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন বলেন, এবার গাছে প্রচুর মুকুল এসেছিল এবং গুটিও ভালো হয়েছিল, কিন্তু কয়েক দিনের তীব্র তাপদাহে গুটি ঝরা শুরু হয়েছে। কৃষকদের বাগানে নিয়মিত স্প্রে ও সেচ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

যশোর থেকে প্রকাশিত গ্রামের কাগজ একই দিন সন্ধ্যায় একই গ্রামগুলো থেকে একই চিত্র তুলে ধরে। পত্রিকাটি জানায়, দুই সপ্তাহ ধরে ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বিরাজ করছিল। জয়নগর গ্রামের চাষি সুজন হোসেন বলেন, শুরুতে গাছে ভালো মুকুল এসেছিল, কিন্তু তীব্র খরায় আবারও গুটি ঝরে যাচ্ছে। পত্রিকার তথ্যমতে, কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে চাষিরা নিয়মিত স্প্রে ও সেচ দিচ্ছিলেন, তবে অনেকে অভিযোগ করেন, সময়মতো জ্বালানি তেল না পাওয়ায় সেচযন্ত্র চালাতে সমস্যা হচ্ছে। ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিস পত্রিকাটিকে জানায়, এপ্রিলের শুরু থেকেই তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বেশি এবং তা আরও বাড়তে পারে।

এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ থেকেই সতর্কবার্তা


গুটি ঝরা শুরু হয়েছিল কয়েক সপ্তাহ আগেই। ২০২৬ সালের ৯ এপ্রিল দৈনিক সমকাল ঈশ্বরদী থেকে জানায়, এক সপ্তাহের দাবদাহ ও খরায় মোজাফফরী (দেশি) ও বোম্বাই দুই জাতের লিচুর গুটিই প্রতিদিন ঝরে পড়ছে। কৃষি বিভাগ পত্রিকাটিকে বলেছিল, আরও এক সপ্তাহ টানা খরা ও তাপপ্রবাহ চললে ঈশ্বরদীতে লিচুর ফলন ৩০ ভাগ কমে যেতে পারে।

মিরকামারী গ্রামের চাষি আমিরুল সরদার সমকালকে বলেন, গাছ ভরা মুকুল দেখে তিনি ভালো আয়ের আশা করেছিলেন, কিন্তু খরায় গুটি ঝরে যেতে দেখে তাঁর বুক ভারী হয়ে আসছে। উপজেলার অন্যতম বড় লিচুচাষি কিতাব মণ্ডল বলেন, আবহাওয়ার কারণে ৩০ ভাগ গুটি ঝরে গেলেও তিনি নিজের বাগানগুলো থেকে ৫০ লাখ টাকার লিচু বিক্রির আশা করছেন। পুরস্কারপ্রাপ্ত আরেক কৃষক সিদ্দিকুর রহমান ময়েজ বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় গাছে গুটি অনেক বেশি, কিন্তু খরতাপে সেগুলো খুব ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের সহকারী আবহাওয়া পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন সমকালকে জানান, আবহাওয়া ক্রমেই উত্তপ্ত হচ্ছে; ১ থেকে ৮ এপ্রিল ঈশ্বরদীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা মোটামুটি ৩৫ থেকে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন জানান, ৩ হাজার ১০০ হেক্টরেরও বেশি জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে, আর চলমান তাপপ্রবাহের এই তাপমাত্রা লিচুর গুটি সহ্য করতে পারে না।

২০২৬ সালের এপ্রিলের তাপপ্রবাহ


ঈশ্বরদীর চাষিরা যে গরমের কথা বলছিলেন, তা ছিল দেশের পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে দীর্ঘ এক তাপপ্রবাহের অংশ। দৈনিক ইত্তেফাক ১৪ এপ্রিল, পহেলা বৈশাখের দিন জানায়, ঈশ্বরদীতে সেদিন ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে, যা মৌসুমের সর্বোচ্চ। পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন পত্রিকাটিকে বলেন, ৪ এপ্রিল মৌসুমের প্রথম তাপপ্রবাহে তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি; এরপর কিছুটা কমলেও ১২ এপ্রিল আবার মৃদু তাপপ্রবাহ শুরু হয়, সেদিন তাপমাত্রা ছিল ৩৭ দশমিক ২ ডিগ্রি, ১৩ এপ্রিল তা নেমে আসে ৩৬ দশমিক ২ ডিগ্রিতে, আর ১৪ এপ্রিল আবার ওঠে ৩৭ দশমিক ৫ ডিগ্রিতে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর তাপমাত্রা অনুযায়ী তাপপ্রবাহের মাত্রা ঠিক করে। অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মো. শাহীনুল ইসলাম দ্য ডেইলি স্টারকে ব্যাখ্যা করেন, ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস মৃদু তাপপ্রবাহ, ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি মাঝারি, ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি তীব্র, আর ৪২ ডিগ্রির বেশি হলে অতি তীব্র তাপপ্রবাহ।

২০২৬ সালের ২৩ এপ্রিল শাহীনুল ইসলাম রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসকে বলেন, এটিই ছিল সে বছরের দীর্ঘতম তাপপ্রবাহ। তাঁর পূর্বাভাস ছিল, এটি ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে, ২৬ এপ্রিলের পর কিছুটা কমতে পারে এবং ২৮ বা ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত থাকতে পারে; ২৬ এপ্রিলের পর বৃষ্টির প্রবণতা বাড়বে। রাজশাহীতে তখন তীব্র তাপপ্রবাহ চলছিল; ২২ এপ্রিল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে, ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ২৫ এপ্রিল সকালের বুলেটিনে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, খুলনা বিভাগ এবং পাবনাসহ কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে; আগের দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল রাজশাহীতে ৩৭ দশমিক ৮ ডিগ্রি।

একই আবহাওয়া বরেন্দ্র অঞ্চলের লিচুরও ক্ষতি করছিল। বাসস ২১ এপ্রিল জানায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের চার জেলা রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে ১ হাজার ৭০১ হেক্টর জমিতে লিচুবাগান আছে, গাছের সংখ্যা ২ লাখ ১৩ হাজার ২৮০। সেখানকার চাষিরা বলেন, গরম আর আর্দ্রতার ওঠানামায় পাকার আগেই লিচু ফেটে পচে যাচ্ছে, আর আমের গুটিও ঝরে পড়ছে।

চরম গরমের দীর্ঘ রেকর্ড আছে ঈশ্বরদীর নিজেরও। ১৯৪৭ সাল থেকে রাখা আবহাওয়া অধিদপ্তরের রেকর্ড উদ্ধৃত করে বিবিসি বাংলা ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল জানায়, দেশের ইতিহাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রাগুলো ঘুরেফিরে মাত্র কয়েকটি স্টেশনে রেকর্ড হয়েছে: রাজশাহী, চুয়াডাঙ্গা, যশোর, বগুড়া ও ঈশ্বরদী। ১৯৭০ সালের মে মাসে ঈশ্বরদীতে ৪৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছিল; আর দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রার রেকর্ড এখনো ১৯৭২ সালের ১৮ মে রাজশাহীতে মাপা ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি।

লোডশেডিং ও জ্বালানিসংকটে ব্যাহত সেচ


এই গরম এসেছিল বিদ্যুৎ ও জ্বালানিসংকটের মধ্যে, ফলে বাগানে পানি দেওয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে। দৈনিক সংবাদ সারাবেলা ২০২৬ সালের ২১ এপ্রিল জানায়, জ্বালানিসংকটে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ঈশ্বরদীতে দিনে প্রায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছিল; গ্রামে এবং রাতে পরিস্থিতি ছিল আরও খারাপ। কৃষক শাজাহান আলী পত্রিকাটিকে বলেন, তিনি খেতে বা লিচুবাগানে সেচ দিতে পারছেন না, ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সেচের মোটর পুড়ে যাচ্ছে, আর প্রচণ্ড রোদে লিচুর গুটি শুকিয়ে ঝরে পড়ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল মমিন পত্রিকাটিকে বলেন, লোডশেডিং ও জ্বালানি তেলের সংকটে মাঠের ফসল পুড়ে ও শুকিয়ে নষ্ট হচ্ছে। কৃষকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ডিজেল দিতে তেল পাম্পের মালিকদের চিঠি দেওয়া হয়েছে, পাশাপাশি কৃষি কার্ডের বিপরীতে রেশন পদ্ধতিতে কৃষকদের তেল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাবনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-১-এর দাশুড়িয়া শাখার একজন কর্মকর্তা জানান, ওই জোনের ১ লাখ ৫ হাজার ২৬১ জন গ্রাহকের জন্য দৈনিক ২৩ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ দরকার, কিন্তু পাওয়া যাচ্ছিল মাত্র ১২ মেগাওয়াটের মতো।

জাতীয় পর্যায়ে নিউ এজ ২৪ এপ্রিল জানায়, আগের দিন দেশে প্রায় ৩ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ঘাটতি ছিল; ১৭ হাজার মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সরবরাহ করতে পেরেছিল প্রায় ১৪ হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী সংসদে জানান, শহর ও গ্রামের বৈষম্য কমাতে এবং সেচ যেন ব্যাহত না হয়, সে জন্য রাজধানীতে পরীক্ষামূলক লোডশেডিং চালু করা হবে।

গরম ও খরায় কেন লিচুর গুটি ঝরে


লিচু শুষ্ক গরমে খুব সংবেদনশীল। বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া জানায়, লিচুগাছের বৃদ্ধির জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু দরকার, আর শুষ্ক গরম বাতাস ফলের জন্য ক্ষতিকর; গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না, তবে আর্দ্র মাটি পছন্দ করে।

জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) ২০০২ সালে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে লিচু উৎপাদন নিয়ে যে প্রতিবেদন প্রকাশ করে, তাতে এর কারণ ব্যাখ্যা করা আছে। বসন্ত ও গ্রীষ্মের শুরু যখন গরম ও শুষ্ক থাকে, যেমনটা উত্তর ভারতের লিচু এলাকায় হয়, তখন ফুল পানিশূন্য হয়ে বিকশিত হতে পারে না, আর ফল ঝরে পড়তে বা ফেটে যেতে পারে। কারণ লিচুগাছ শিকড় থেকে পাতায় পানি পরিবহনে দুর্বল; তাই শুধু মাটি ভেজা রাখলেই গাছের পানির চাপ ঠেকানো যায় না।

একই এফএও প্রতিবেদনে এস. বি. এম. আবু বকর সিদ্দিকীর লেখা বাংলাদেশ অধ্যায়ে স্থানীয় সমস্যাটি সরাসরি বলা হয়েছে। ফুল আসা, গুটি ধরা ও ফল বড় হওয়ার সময় সম্পূরক সেচ দরকার, কারণ এ সময় মাটির আর্দ্রতা ও বাতাসের জলীয়বাষ্প খুব কম থাকে; ফুল আসার সময় বেশির ভাগ অঞ্চলে তাপমাত্রা থাকে ২৭ থেকে ২৮ ডিগ্রির মতো, কিন্তু পরে তা বাড়ে এবং গাছের প্রস্বেদন অনেক বেড়ে যায়। ফলন্ত গাছে সাধারণত সেচ দেওয়া হয় না, ফলে দীর্ঘ খরায় পানির অভাবে ফল ঝরে ফলন কমে যায়। ফলের সময় খুব কম কৃষকই বাগানে সেচ দিতে পারেন, কারণ সেচের পানি আগে যায় বোরো ধানে, ভূপরিস্থ পানি কমই মেলে, আর ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নেমে গেলে অগভীর নলকূপ অচল হয়ে পড়ে। অধ্যায়টি জানায়, ভালোভাবে পরিচালিত সরকারি বাগানে দুবার সেচ দেওয়া হয়, ফুল আসার সময় ও গুটি ধরার পর, আর গুটি ধরার পর ১৫ দিন পরপর সম্পূরক সেচ দিলে ভালো ফলন হয়।

গরমে লিচু ফেটেও যায়। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী জেলার উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ২০২৬ সালের এপ্রিলে বাসস ও বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, দীর্ঘ সময় তীব্র গরমের পর হঠাৎ বৃষ্টি হলে লিচুর ভেতরের অংশ দ্রুত ফুলে ওঠে, কিন্তু খোসা সেই হারে বাড়তে না পেরে ফেটে যায়। এফএওর প্রতিবেদন বলছে, ভারতে চাষ হওয়া জাতগুলোর মধ্যে দেশি ও মুজাফফরপুর জাত ফেটে যাওয়ার প্রবণতা বেশি এমন জাতগুলোর অন্যতম।

কৃষি কর্মকর্তারা যে পরামর্শ দিয়েছিলেন


ঈশ্বরদীতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন বলেন, কৃষকদের নিয়মিত স্প্রে ও সেচ দেওয়ার এবং গাছের নিয়মিত পরিচর্যা চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। রাজশাহীতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন ২০২৬ সালের এপ্রিলে আরও বিস্তারিত বলেন: খরা চলাকালেও গাছের গোড়ায় নিয়মিত সেচ দিতে হবে, প্রয়োজনে গাছে পানি স্প্রে করা যেতে পারে, আর হরমোন, বোরন বা জিংক প্রয়োগে কিছুটা প্রতিকার মিলতে পারে। মাসের শুরুতে তিনি নিয়মিত হালকা সেচ দিয়ে মাটিতে পর্যাপ্ত আর্দ্রতা ধরে রাখার পরামর্শ দিয়েছিলেন।

আগের খারাপ মৌসুমেও পরামর্শ ছিল একই। ২০২৪ সালের এপ্রিলে দিনাজপুরে যখন তাপদাহে লিচুর মুকুল পুড়ছিল ও গুটি ঝরছিল, তখন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নুরুজ্জামান দৈনিক দেশ রূপান্তরকে বলেন, চাষিরা সঠিকভাবে সেচ ও ওষুধ প্রয়োগ করলে লিচুকে সংগ্রহ পর্যন্ত নিয়ে যাওয়া যাবে।

এসব প্রতিবেদনের কোনোটিতেই স্প্রে, হরমোন বা অণুপুষ্টির পণ্যের নাম বা মাত্রা দেওয়া হয়নি। এগুলোর কোনোটি ব্যবহার করতে চাইলে চাষিদের উচিত দোকান থেকে নয়, উপজেলা কৃষি অফিস বা এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তার কাছ থেকে মাত্রা ও সময় জেনে নেওয়া, যাঁরা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সুপারিশ মেনে পরামর্শ দেন।

লিচুর রাজধানী ঈশ্বরদী


বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, ঈশ্বরদী পাবনা জেলার একটি উপজেলা, আয়তন ২৫০ দশমিক ৮৯ বর্গকিলোমিটার। এর দক্ষিণ ও পশ্চিম প্রান্ত দিয়ে বয়ে গেছে পদ্মা (গঙ্গা), আর এখানেই ১৯১২ সালে নদীর ওপর নির্মিত হয় ৫ হাজার ৯৪০ ফুট দীর্ঘ হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। উপজেলায় রয়েছে একাধিক কৃষি গবেষণাকেন্দ্র, যার মধ্যে আছে আঞ্চলিক কৃষি গবেষণাকেন্দ্র, ডাল গবেষণাকেন্দ্র ও ইক্ষু গবেষণাকেন্দ্র। বাংলাপিডিয়া উপজেলার প্রধান ফলের তালিকায় আম, কাঁঠাল ও পেঁপের সঙ্গে লিচুর নাম রেখেছে।

দ্য বাংলাদেশ টুডে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে স্থানীয় চাষি ও কৃষি অফিসের বরাতে জানায়, আশির দশক থেকে ঈশ্বরদীতে লিচুর চাষ হয়ে আসছে, তবে ২০০০ সালের পর বাণিজ্যিক চাষের ব্যাপক প্রসার ঘটে। উপজেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ১১ হাজার ২৭০টি লিচুবাগান ছিল। প্রধান জাত মোজাফফর (দেশি), বোম্বাই ও চায়না-৩; এ ছাড়া কদমি, কাঁঠালি, বেদানা, চায়না-১ ও চায়না-২ জাতেরও চাষ হয়। স্বাদ ও বাজারচাহিদার কারণে চায়না-৩ জাতের আবাদ সবচেয়ে দ্রুত বাড়ছিল।

পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর ওপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
পাবনার ঈশ্বরদীতে পদ্মা নদীর ওপর হার্ডিঞ্জ ব্রিজ। ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষকের জন্যও উপজেলাটি পরিচিত। প্রথম আলো ২০২২ সালের নভেম্বরে জানায়, ঈশ্বরদীতে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত কৃষক ১৫ জন, যা কোনো একটি উপজেলায় সর্বোচ্চ বলে জানা যায়; লিচু চাষের জন্য 'লিচু কিতাব' নামে পরিচিত আব্দুল জলিল ওরফে কিতাব মণ্ডল বঙ্গবন্ধু জাতীয় কৃষি পুরস্কার পাওয়া কৃষকদের একজন। দ্য ডেইলি স্টার ২০২৬ সালের মার্চে ঈশ্বরদীকে দেশের সবচেয়ে বড় লিচু উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে উল্লেখ করে; একজন শীর্ষ লিচু ব্যবসায়ী পত্রিকাটিকে বলেন, গ্রীষ্মের দুই মাসে পাবনায় সাধারণত প্রায় ৫০০ কোটি টাকার লিচু বেচাকেনা হয়।

খারাপ ২০২৫-এর পর রেকর্ড মুকুল


২০২৬ সালের এই মুকুল এসেছিল একটি খারাপ বছরের পর। ২০২৫ সালের মার্চে দ্য বাংলাদেশ টুডে ঈশ্বরদী থেকে জানায়, শত শত বাগানে মুকুলের বদলে কচি পাতা গজিয়েছে; চাষিদের ভাষ্য, ১০০টি গাছের মধ্যে মাত্র ১০ থেকে ২০টিতে মুকুল এসেছে। ২০২৫ সালের মে মাসে সমকাল তৎকালীন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিতা সরকারের বরাতে জানায়, অর্ধেকেরও বেশি গাছে মুকুল আসেনি, আর যে গুটি ধরেছিল, তা-ও তাপপ্রবাহে ঝরে পড়ছিল।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার একজন কর্মকর্তা ২০২৬ সালের মার্চে দ্য ডেইলি স্টারকে জানান, ২০২৫ সালে জেলায় লিচুর ফলন ছিল এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম, ৩৪ হাজার ৮৯৮ টন; ২০২৪ সালে তা ছিল ৪৬ হাজার ৭৯০ টন। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালে পাবনায় ৪ হাজার ৬২০ হেক্টরে লিচুর আবাদ হয়েছে, যার ৩ হাজার হেক্টরের বেশি ঈশ্বরদীতে। ওই কর্মকর্তা বলেন, সাধারণত হেক্টরপ্রতি প্রায় ১০ টন ফলন হয়, সে বছর অন্তত ১১ টন আশা করা হচ্ছে, আর বড় কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে মোট উৎপাদন ৫০ হাজার টন ছাড়াতে পারে। এর পরদিন রূপালী বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার অতিরিক্ত উপপরিচালক রাফিউল ইসলামের বরাতে আবাদের পরিমাণ ৪ হাজার ৬২৪ হেক্টর এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩৪ হাজার ৯৯৮ মেট্রিক টন বলে জানায়।

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ঈশ্বরদীর কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল মমিন দ্য বাংলাদেশ টুডেকে প্রচুর মুকুলের কারণ ব্যাখ্যা করেন: আগের বছরের শেষ দিকে বর্ষা আগেভাগে বিদায় নেয়, আর রাতে শীত ও দিনে তুলনামূলক উষ্ণ আবহাওয়া লিচুর জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে। তখনো স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০ থেকে ২৫ শতাংশ গাছে মুকুল আসেনি।

২০২৪ সালেও গরমে লিচুর ক্ষতি হয়েছিল। ফ্রেশপ্লাজা ২০২৪ সালের এপ্রিলে জানায়, খরা ও তাপদাহে ঈশ্বরদীতে লিচু ও আমের গুটি ঝরে পড়ছে, অঞ্চলে তাপমাত্রা উঠেছে ৪০ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসে; কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর পাবনার উপপরিচালক ড. মো. জামাল উদ্দিন জানান, জেলায় ৪ হাজার ৭২১ হেক্টরে লিচুবাগান আছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৩৭ হাজার ৭৬৮ টন।

গাছে লিচুর ফুল; এই মুকুল থেকেই মৌসুমের ফল ধরে। ছবি: Leatherbrenn darby / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
গাছে লিচুর ফুল; এই মুকুল থেকেই মৌসুমের ফল ধরে। ছবি: Leatherbrenn darby / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বাংলাদেশে লিচু: ফসল ও তার জাত


বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, লিচু (Litchi chinensis, সাপিন্ডেসি গোত্র) চীনের ফল; সপ্তদশ শতকের শেষ নাগাদ এটি বার্মা ও ভারতে পৌঁছায়। বাংলাদেশের প্রতিটি জেলায় লিচু জন্মাতে পারে, আর দেশের বৃক্ষজাত ফলের মধ্যে উৎপাদনে আমের পরেই এর স্থান। গাছ ১২ থেকে ১৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়, আর ফলের ওজনের ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশই খাওয়ার উপযোগী সাদা শাঁস। বাংলাপিডিয়া জানায়, দেশের নানা স্থানীয় নির্বাচিত লিচু মূলত দুই ধরনের: দেশি ও বোম্বাই।

এফএওর বাংলাদেশ অধ্যায় বলছে, লিচু সম্ভবত উনিশ শতকের শুরুতে বার্মা থেকে বাংলাদেশে আসে, আর বিশ শতকের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গ থেকে মুজাফফরপুরী ও বোম্বাইয়ের মতো ভারতীয় জাত আনা হয়। বোম্বাইকে দেশের সবচেয়ে বেশি চাষ হওয়া ও ভালো ফলনের জাত বলা হয়েছে: আগাম জাত, সাধারণত মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পাকে; ফল বেশির ভাগ হৃৎপিণ্ডাকার, গাঢ় লাল, ওজন ১৮ থেকে ২০ গ্রাম। মূলত উত্তর-পশ্চিমের জেলাগুলোতে চাষ হওয়া মুজাফফরপুরীর ফল গোলাপি, ডিম্বাকার, ওজন প্রায় ২০ গ্রাম, এটিও পাকে মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে। চায়না-৩ নাবি জাত, পাকে জুনের শেষ সপ্তাহে। সাধারণত গুটি ধরার ৫৫ থেকে ৬০ দিন পর লিচু সংগ্রহ করা হয়, আর বছরে মাত্র প্রায় ৬০ দিন বাজারে তাজা লিচু মেলে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) নিজস্ব জাতও অবমুক্ত করেছে। এফএওর অধ্যায় জানায়, বারি লিচু-১, বারি লিচু-২ ও বারি লিচু-৩ অবমুক্ত হয়েছে, আর চায়না-৩-এর সঙ্গে অনেক মিল থাকা বারি লিচু-৩ ফলের আকার, শাঁস, রং ও ফলনে সবচেয়ে ভালো বিবেচিত।

দ্য ডেইলি স্টার ২০২৩ সালের মে মাসে জানায়, দেশে প্রায় ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে লিচুর চাষ হয় এবং বছরে গড়ে প্রায় ২ লাখ টন লিচু উৎপাদিত হয়। এতে ঈশ্বরদীর অংশ বড়: উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে জানান, ২০২২ সালে সেখানকার চাষিরা প্রায় ৫০০ কোটি টাকা মূল্যের ৩৪ হাজার ১০০ টন লিচু পেয়েছিলেন।

সিলেটের জৈন্তাপুরে লেবুজাতীয় ফসল গবেষণাকেন্দ্রে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অবমুক্ত জাত বারি লিচু-৩। ছবি: Abu Sayeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সিলেটের জৈন্তাপুরে লেবুজাতীয় ফসল গবেষণাকেন্দ্রে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের অবমুক্ত জাত বারি লিচু-৩। ছবি: Abu Sayeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ছবি: Asit K. Ghosh Thaumaturgist / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, সমকাল, গ্রামের কাগজ, দৈনিক ইত্তেফাক, সংবাদ সারাবেলা, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বাংলা ট্রিবিউন, দ্য ডেইলি স্টার, নিউ এজ, বিবিসি বাংলা, দ্য বাংলাদেশ টুডে, রূপালী বাংলাদেশ, প্রথম আলো, দেশ রূপান্তর, ফ্রেশপ্লাজা, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), বাংলাপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)