২০১৫/১৬ সালের ভয়াবহ খরার আগের তুলনায় দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষকেরা এবার এল নিনোর জন্য ভালো প্রস্তুতি নিয়ে ২০২৬/২৭ গ্রীষ্ম মৌসুমে ঢুকেছেন। তবে ভুল আর্থিক সিদ্ধান্তে কয়েক বছর ধরে ক্ষতি টানতে হতে পারে বলে ১২ অক্টোবর প্রিটোরিয়ায় এল নিনো প্রস্তুতি নিয়ে এক গোলটেবিল বৈঠকে সতর্ক করেছেন অর্থনীতিবিদেরা। খবরটি দিয়েছে ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা।
কৃষি ও ভূমিবিষয়ক প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত ওয়ান্দিলে সিহলোবোর (Wandile Sihlobo) ডাকা বৈঠকে বলা হয়, গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া স্বাভাবিকের চেয়ে আগে আসতে পারে এবং মৌসুমের শেষ দিকে বৃষ্টি কমবে। সবচেয়ে ঝুঁকিতে ফ্রি স্টেট, নর্থ ওয়েস্ট, এমপুমালাঙ্গা ও লিমপোপো প্রদেশ। ২০১৫/১৬ সালের তুলনায় এবার মাটির আর্দ্রতা ভালো, শস্যের মজুত সন্তোষজনক, বাঁধে পানি বেশি, প্রযুক্তিও উন্নত। তবে জাতীয় কৃষি বিপণন পরিষদের প্রধান নির্বাহী ড. সিম্ফিওয়ে এনকাঙ্গওয়েনি মনে করিয়ে দেন, বড় বাঁধগুলোতে প্রায় ৯০ শতাংশ পানি সেচনির্ভর খামারের যতটা কাজে লাগবে, বৃষ্টিনির্ভর কৃষকের ততটা নয়।
এফএনবির জ্যেষ্ঠ কৃষি অর্থনীতিবিদ পল মাকুবে (Paul Makube) বলেন, এল নিনোকে নিশ্চিত দুর্যোগ না ভেবে আর্থিক ঝুঁকি হিসেবে দেখা উচিত। আগেভাগে ঘাটতি ধরতে তিনি তিনটি পরিস্থিতির জন্য নগদ প্রবাহের বাজেট করার পরামর্শ দেন: স্বাভাবিক মৌসুম, দুর্বল মৌসুম ও তীব্র খরা। তাঁর কথায়, প্রতিটি হেক্টর চাষে নগদ টাকা আটকে যায়, আর চারণভূমি যে পশুকে খাওয়াতে পারে না, সে পশু খাদ্যের বিল হয়ে দাঁড়ায়। তাই সব জমি চাষ বা সব পশু পালনের বদলে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় জমি ও পশুতে উপকরণ দেওয়ার পরামর্শ তাঁর।
সার, রক্ষণাবেক্ষণ বা অভিজ্ঞ কর্মীর খরচ অন্ধভাবে কাটার বিরুদ্ধেও সতর্ক করেন তিনি। আর্থিক সংকটের আগাম লক্ষণ হলো স্বাভাবিকের চেয়ে আগে ওভারড্রাফট নেওয়া, সরবরাহকারীর বকেয়া পরের মাসে টেনে নেওয়া এবং স্বল্পমেয়াদি ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়া। ঋণ শোধে সমস্যার আশঙ্কা থাকলে হালনাগাদ হিসাব ও বাস্তবসম্মত নগদ প্রবাহের হিসাব নিয়ে আগেভাগে ব্যাংকে যেতে বলেন তিনি। তাঁর ভাষায়, ভালো মৌসুম আবার আসবেই; লক্ষ্য হলো তখনো যেন ব্যবসাটি টিকে থাকে এবং সুযোগ কাজে লাগাতে পারে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন লিন্ডি বোথা (Lindi Botha)।
ছবি: Lotus Head / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: ফার্মার্স উইকলি সাউথ আফ্রিকা




মন্তব্য
(০)