ঢাকা জেলার সাভার উপজেলার তেতুলঝোড়া ইউনিয়নের দক্ষিণ মেইটকা এবং ভাকুর্তা ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম ২০২০ সালের শুরুতে এলাকায় 'চায়না গ্রাম' নামে পরিচিত হয়ে উঠেছিল। কারণ, এসব গ্রামের কৃষকেরা তখন চাইনিজ খাবারে ব্যবহৃত নানা বিদেশি সবজির চাষ করছিলেন। বার্তা২৪.কমের সাভার প্রতিনিধি ২০২০ সালের ১ জানুয়ারি গ্রামগুলো ঘুরে এ খবর দিয়েছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চাহিদা বাড়তে থাকায় অনেক কৃষক আশপাশের গ্রাম বা জেলায় জমি ভাড়া নিয়েও এই সবজির চাষ করছিলেন।
প্রায় ৮০ হেক্টরে ২০ থেকে ২২ জাতের সবজি
তেতুলঝোড়া ও ভাকুর্তা ইউনিয়নের ওই গ্রামগুলোতে তখন প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হেক্টর জমিতে 'চায়না সবজি' নামে পরিচিত প্রায় ২০ থেকে ২২ জাতের বিদেশি সবজির চাষ হচ্ছিল। প্রতিবেদনে যেসব সবজির নাম এসেছিল:
- ক্যাপসিকাম
- চায়নাপাতা ও লিকপাতা
- চাংচিং ওনিয়ন
- পিংক বাঁধাকপি
- পার্সলি
- বেবিকর্ন ও সুইটকর্ন
- বিটরুট
- আইসবার্গ লেটুস
- চেরি টমেটো
- ব্রকোলি
- লেমনগ্রাস ও থাই জিনজার
সাভার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বার্তা২৪.কমকে বলেছিলেন, সাভারে প্রায় ৮০ হেক্টর জমিতে এই উচ্চমূল্যের সবজির চাষ হচ্ছে এবং ধীরে ধীরে এর প্রসার বাড়ছে। কৃষি বিভাগ নিয়মিত চাষিদের পরামর্শ দিচ্ছে বলেও তিনি জানান। বিদেশি সবজির পাশাপাশি এসব গ্রামের কৃষকেরা নানা রকম দেশি সবজিও চাষ করছিলেন।

চাইনিজ রেস্তোরাঁর চাহিদা থেকে চাষের প্রসার
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশে চাইনিজ খাবারের জনপ্রিয়তা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব সবজির চাহিদাও বেড়েছিল। স্থানীয় এক কৃষক বলেছিলেন, আগে তাঁরা শীতের সব ধরনের সবজি চাষ করতেন, কিন্তু এখন এলাকাটি চাইনিজ সবজির ওপর নির্ভরশীল এবং ঢাকার চাইনিজ রেস্তোরাঁগুলো তাঁদের উৎপাদিত সবজি কিনে নেয়। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, শাহবাগ এবং চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন জায়গায় বাজার তৈরি হওয়ায় কৃষকেরা এ চাষে আগ্রহী হচ্ছিলেন।
এই চাষ গ্রামে দিনমজুরদের কাজের সুযোগও বাড়িয়েছিল। খেতে কাজ করা শ্রমিকেরা বার্তা২৪.কমকে বলেছিলেন, আগে সব দিন কাজ মিলত না, এখন প্রতিদিন কাজ পাওয়ায় সংসারের অভাব কমেছে।

ঋণ ও পরামর্শ নিয়ে চাষিদের চাওয়া
চাষিদের কিছু চাওয়াও ছিল। এক চাষি জানিয়েছিলেন, তিনি প্রায় ৫০ বিঘা জমিতে সবজি চাষ করছেন, যার ১৫ বিঘায় বিভিন্ন চায়না সবজি; কৃষিঋণ পেলে তিনি আরও বেশি জমিতে চাষ করতেন। আরেক চাষি বলেছিলেন, এসব সবজির জন্য তাঁরা কৃষি অ্যাপ থেকে কোনো সেবা পান না।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তখন বলেছিলেন, এই সবজির চাষ বেশি দিন আগে শুরু হয়নি বলে কৃষকেরা কৃষি অ্যাপের সুবিধা পাচ্ছেন না; খুব দ্রুত এসব সবজি অ্যাপের আওতায় আনা হবে। তেতুলঝোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জানিয়েছিলেন, ইউনিয়ন পরিষদ চাষিদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছে এবং বিনা মূল্যে সার ও বীজ দিয়েছে; ভালো যোগাযোগব্যবস্থার কারণে কৃষকেরা অল্প সময়ে ভোক্তার কাছে সবজি পৌঁছাতে পারছেন।
সাভার এবং বিদেশি সবজির অন্য এলাকা
সাভার উপজেলা ঢাকা শহর থেকে প্রায় ২৪ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। তেতুলঝোড়া ও ভাকুর্তা ছাড়াও কাউন্দিয়া, ধামসোনা, আমিনবাজার, আশুলিয়া ও বিরুলিয়া এই উপজেলার ইউনিয়ন। বংশী, তুরাগ ও বুড়িগঙ্গা এই অঞ্চলের নদীগুলোর মধ্যে অন্যতম। এখানকার প্রধান ফসলের মধ্যে আছে ধান, পাট, চীনাবাদাম, পেঁয়াজ, রসুন, মরিচ ও নানা সবজি।
বিদেশি সবজির বাণিজ্যিক চাষ শুধু সাভারে সীমিত ছিল না। প্রথম আলো ২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে জানিয়েছিল, বগুড়ার শিবগঞ্জ, গাবতলী ও শাজাহানপুর উপজেলার কৃষকেরা লেটুস, ক্যাপসিকাম, ব্রকোলি, লাল বাঁধাকপি, বেবিকর্ন, থাই জিনজার ও চায়নিজ বাঁধাকপির মতো সবজি চাষ করে সেগুলো তারকা হোটেল, সুপারশপ ও চাইনিজ রেস্তোরাঁয় সরবরাহ করছিলেন।

ছবি: Sm faysal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: দ্য এগ্রো নিউজ, বার্তা২৪.কম, প্রথম আলো, উইকিপিডিয়া (সাভার উপজেলা)





মন্তব্য
(০)