সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

কলা চাষে সার ও সেচ: রোপণের আগে থেকে ফুল আসা পর্যন্ত কখন কী দিতে হয়

কলার ভালো ফলনের ভিত্তি তৈরি হয় রোপণের শুরুতেই। কৃষি তথ্য সার্ভিসের নির্দেশনায় প্রতি গর্তে গোবর ২০ কেজি, টিএসপি ৪০০ গ্রাম, এমওপি ৩০০ গ্রাম ও ইউরিয়া ৬৫০ গ্রাম কয়েক কিস্তিতে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, আর শুকনো মৌসুমে সেচ ১৫ থেকে ২০ দিন পরপর।

কলা চাষে সার ও সেচ: রোপণের আগে থেকে ফুল আসা পর্যন্ত কখন কী দিতে হয়
ফল

কলা বাংলাদেশের অতি পরিচিত ফল, দেশের প্রায় সব জায়গায় সারা বছর এর চাষ হয়। ২০২৫ সালের মে মাসের শেষে জাগো নিউজে প্রকাশিত কৃষি ও পরিবেশ বিশেষজ্ঞ সমীরণ বিশ্বাসের এক লেখায় মনে করিয়ে দেওয়া হয়, রোপণের শুরুর দিনগুলোতে সঠিক সার ও সেচই পরে গাছের শিকড়, বৃদ্ধি ও ফলন ঠিক করে দেয়। সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) কলা চাষের যে নির্দেশনা দিয়েছে, তাতেও সারের বড় অংশ গর্তে ও রোপণের প্রথম কয়েক মাসে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

জমি, জাত ও রোপণের সময়


এআইএসের নির্দেশনা অনুযায়ী উর্বর দোআঁশ মাটি এবং পানি জমে না এমন উঁচু জমি কলা চাষের জন্য ভালো। জমি গভীর করে চাষ দিয়ে দুই মিটার দূরে দূরে দুই ফুট গভীর গর্ত করতে হয়। বছরে তিন মৌসুমে কলা রোপণ করা যায়: আশ্বিন-কার্তিক, মাঘ-ফাল্গুন এবং চৈত্র-বৈশাখ। চারা হিসেবে অসি তেউড়, অর্থাৎ সরু ও সুচালো পাতার তেউড় সবচেয়ে ভালো। প্রচলিত জাতের মধ্যে অমৃত সাগর, চাম্পা, চিনি চাম্পা, সবরি, বারি কলা-১ ও বারি কলা-৪ উল্লেখযোগ্য।

বাংলাপিডিয়া জানায়, দেশে কলার প্রধান এলাকা রাঙামাটি, বরিশাল, রংপুর, দিনাজপুর, নোয়াখালী, ফরিদপুর ও খুলনা। কলাগাছ একবার ফল দিয়েই মরে যায় বা কেটে ফেলা হয়; তখন গোড়ার কন্দ থেকে বের হওয়া তেউড় থেকে নতুন গাছ হয়।

মাটি থেকে গজিয়ে ওঠা কলা বা প্ল্যানটেন জাতের একটি কচি চারা। ছবি: Paul The Writer / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
মাটি থেকে গজিয়ে ওঠা কলা বা প্ল্যানটেন জাতের একটি কচি চারা। ছবি: Paul The Writer / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)

গর্তে ও উপরি প্রয়োগে সারের হিসাব


এআইএসের নির্দেশনায় প্রতি গর্তের জন্য মোট সারের পরিমাণ এবং তা কয়েক কিস্তিতে দেওয়ার নিয়ম এভাবে বলা হয়েছে:

  • মোট সার (প্রতি গর্তে): গোবর ২০ কেজি, টিএসপি ৪০০ গ্রাম, এমওপি ৩০০ গ্রাম এবং ইউরিয়া ৬৫০ গ্রাম।
  • গোবরের অর্ধেক জমি তৈরির সময় এবং বাকি অর্ধেক গর্তে দিতে হয়; এ সময় টিএসপির অর্ধেকও গর্তে দিতে হয়।
  • রোপণের দেড় থেকে দুই মাস পর ইউরিয়ার ২৫ ভাগ, এমওপির ৫০ ভাগ এবং বাকি টিএসপি জমিতে ছিটিয়ে ভালোভাবে কুপিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হয়।
  • এর দুই থেকে আড়াই মাস পর গাছপ্রতি ইউরিয়ার আরও ৫০ ভাগ এবং এমওপির বাকি ৫০ ভাগ দিতে হয়।
  • ফুল আসার সময় বাকি ২৫ ভাগ ইউরিয়া জমিতে ছিটিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে হয়।

অর্থাৎ এই নির্দেশনায় রোপণের সময় কোনো ইউরিয়া নেই; প্রথম ইউরিয়া যায় দেড় থেকে দুই মাস পর। ভারতের তামিলনাড়ু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশিকাও নাইট্রোজেন ও পটাশ কয়েক ভাগে ভাগ করে দেওয়ার কথা বলে এবং প্রতিবার সার দেওয়ার পর জমিতে ভালোভাবে সেচ দিতে বলে।

গ্রামের একটি কলাবাগান। ছবি: Montasir Rongon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
গ্রামের একটি কলাবাগান। ছবি: Montasir Rongon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সেচ, নিষ্কাশন ও পরিচর্যা


তামিলনাড়ু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্দেশিকায় চারা রোপণের পরপরই প্রথম সেচ দিতে বলা হয়েছে। এআইএস বলছে, রোপণের পর মাটিতে পর্যাপ্ত রস না থাকলে এবং শুকনো মৌসুমে ১৫ থেকে ২০ দিন পরপর সেচ দিতে হবে। গাছ যত বড় হয়, পানির চাহিদাও তত বাড়ে: বিশ্ববিদ্যালয়টির ড্রিপ সেচের সূচিতে রোপণের পর প্রথম চার সপ্তাহে গাছপ্রতি দিনে ৪ লিটার, আর মোচা বের হওয়া ও কাঁদি বাড়ার সময় দিনে ২০ লিটার বা তার বেশি পানি ধরা হয়েছে।

কলাগাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না, তাই পানি নিষ্কাশন ভালো এমন দোআঁশ মাটি বেছে নিতে হয় এবং বর্ষায় বাগানে যেন পানি না দাঁড়ায় সেদিকে নজর রাখতে হয়। এআইএসের পরামর্শ অনুযায়ী গাছের গোড়া ও নালার আগাছা সব সময় পরিষ্কার রাখতে হবে এবং মোচা আসার আগ পর্যন্ত গাছের গোড়ায় কোনো তেউড় রাখা যাবে না।

ভারতের চিনাওয়াল গ্রামে কলা রোপণের জন্য চাষ করা জমিতে ড্রিপ সেচের লাইন বসানো হচ্ছে। ছবি: abhiriksh / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ভারতের চিনাওয়াল গ্রামে কলা রোপণের জন্য চাষ করা জমিতে ড্রিপ সেচের লাইন বসানো হচ্ছে। ছবি: abhiriksh / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

রোগ ও ফল তোলার সময়


বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী দেশে কলার সবচেয়ে ক্ষতিকর রোগগুলোর একটি পানামা রোগ, যা মাটিবাহিত একটি ছত্রাকের কারণে হয়। এআইএস বলছে, এ রোগে প্রথমে বয়স্ক পাতার কিনারা হলুদ হয়, পরে পাতা বোঁটার কাছে ভেঙে ঝুলে পড়ে; আক্রান্ত গাছ গোড়াসহ তুলে ফেলতে হবে এবং তার তেউড় চারা হিসেবে ব্যবহার করা যাবে না। এআইএসের হিসাবে চারা রোপণের ১১ থেকে ১৫ মাসের মধ্যে কলা সংগ্রহের উপযোগী হয়।

ছবি: The Roving Rokibul / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস), বাংলাপিডিয়া, তামিলনাড়ু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (টিএনএইউ অ্যাগ্রিটেক পোর্টাল)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)