সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৯°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৫৮%বাতাস ৬ কিমি/ঘ

বাগেরহাটে সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকেছেন প্রায় ৪ হাজার কৃষক

সোনালি রোদে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে হাসছে সূর্যমুখী। সেই হাসিতে প্রাণ জুড়াচ্ছে কৃষকের। উৎপাদন খরচ কম, কম সময়ে ফলন ও লাভ বেশি হওয়ায় দিন দিন সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকছেন বাগেরহাটের কৃষকেরা। একই সাথে মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহ দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। জেলার কচুয়া উপজেলার শ্যানপুকুরিয়া গ্রামে দেখা যায় বিস

সোনালি রোদে মাথা তুলে দাঁড়িয়ে হাসছে সূর্যমুখী। সেই হাসিতে প্রাণ জুড়াচ্ছে কৃষকের। উৎপাদন খরচ কম, কম সময়ে ফলন ও লাভ বেশি হওয়ায় দিন দিন সূর্যমুখী চাষে ঝুঁকছেন বাগেরহাটের কৃষকেরা। একই সাথে মাঠজুড়ে হলুদ ফুলের সমারোহ দেখতে ভিড় করছেন দর্শনার্থীরা। জেলার কচুয়া উপজেলার শ্যানপুকুরিয়া গ্রামে দেখা যায় বিস্তীর্ণ এলাকায় চাষাবাদ হয়েছে সূর্যমুখী।

কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, বাগেরহাট জেলায় এবার ৬১০ হেক্টর জমিতে সূর্যমুখী চাষ করছেন ৩ হাজার ৮০০ কৃষক। লবণ সহিষ্ণু হওয়ায় বাগেরহাটের মাটিতে সূর্যমুখীর ফলন ভালো হয়েছে। কৃষকদের উৎসাহিত করতে কৃষি বিভাগ থেকে বিনা মূল্যে বীজ, সার ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

কৃষকেরা জানান, ডিসেম্বর মাসে সূর্যমুখী বীজ রোপণ শুরু হয়। মাত্র ৪ মাসের মাথায় এপ্রিলের শেষদিকে কাটা হয় সূর্যমুখী। গত বছরের তুলনায় এবার ফলন ভালো হয়েছে। সূর্যমুখী চাষে প্রতি বিঘা জমিতে ৮ থেকে ৯ হাজার টাকা খরচ হয়। বিঘাপ্রতি ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। এই তেল পুষ্টিকর ও সুস্বাদু। দামও কেজি প্রতি ৪০০ টাকা।

স্থানীয় কৃষক মোহাম্মদ সোহাগ বলেন, 'ধান, ভুট্টা, সরিষা থেকে সূর্যমুখীর ফলন ভালো হয়েছে। এতে খরচও কম। আমি মাঠে অন্যান্য ফসলের কাজ করি। সূর্যমুখী চাষে পরিশ্রম কম হওয়ায় বাড়ির গৃহিণীরা সব কাজ করতে পারেন। সূর্যমুখীর এই ফসলের বেশিরভাগ কাজ আমার স্ত্রীই করেন।'

ছবি মৃধা নামের এক কৃষাণি বলেন, 'আমরা তিন বছর ধরে সূর্যমুখী চাষ করছি। এর ফলন ভালো। এইটা চাষ করে আমরা খুব লাভবান হইছি। সূর্যমুখীর এই তেলে অনেক পুষ্টিগুণ আছে। তাই সারাবছর আমরা নিজেরাই এইটা ব্যবহার করি। পাশাপাশি ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করি। এই তেলের অনেক চাহিদা আছে। বাসা থেকেই এই তেল কিনে নিয়ে যায়।'

কৃষক রবীন্দ্রনাথ মৃধা বলেন, 'ধান চাষ থেকে সূর্যমুখী চাষে খরচ বেশ কম। খরচ কম হওয়ায় আমাদের আয় বেশি হচ্ছে। তাছাড়া এই ফসলে সেচ ও পরিচর্যা তুলনামূলক কম লাগে। আমরা এই সূর্যমুখী থেকে তেলের পাশাপশি খৈলও পাচ্ছি। খৈল গরুকে খাওয়াতে পারছি। এই তেল খেয়ে আমরা অনেক উপকৃত হচ্ছি। আমাদের বাইরের ভেজাল তেল কিনে খেতে হচ্ছে না। নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে বাইরেও তেল বিক্রি করতে পারছি।'

এ বিষয়ে বাগেরহাটের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, 'সূর্যমুখী লবণ সহিষ্ণু হওয়ায় বাগেরহাটে ফলন ভালো হয়েছে। আমরা উঠান বৈঠকের মাধ্যমে কৃষকদের সূর্যমুখী চাষের উপকারিতা বোঝাতে সক্ষম হয়েছি। আমরা কৃষকদের বীজ, সার দিয়ে সূর্যমুখী চাষে উৎসাহিত করছি। বীজ বপন থেকে শুরু করে ফসল সংগ্রহ পর্যন্ত আমরা প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।'

তিনি বলেন, 'বাগেরহাটের পতিত জমিতে যদি সূর্যমুখী চাষ করা যায়, তাহলে বাহির থেকে তেল আমদানি নির্ভরতা অনেকটা কমে আসবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে আগামীতে বারি সূর্যমুখী ৩ জাতের বীজ সব কৃষককে দেওয়া হবে। তাদের বীজ, সার দেওয়ার মাধ্যমে পতিত জমি, ঘেরের আইলে ও বসতবাড়িতে চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ করবো। এভাবেই আমরা সূর্যমুখীর আবাদ বৃদ্ধি করবো।'

নাহিদ ফরাজী/এসইউ

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

ফুল

সম্পর্কিত খবর

জৈব

গরুর চারণের আচ্ছাদন ফসলে সূর্যমুখী, সেই মাঠেই ফুল তুলতে আসেন দর্শনার্থী

কানাডার ম্যানিটোবার আর্নেসের দুগিদ পরিবার পুনরুৎপাদনশীল চারণের আচ্ছাদন ফসলে কাটা ফুলের সূর্যমুখী জাত যোগ করেছে। এখন একই মাঠ তাদের গরুর খাবার জোগায়, আবার দর্শনার্থীদের নিজ হাতে ফুল তোলার দিনেও ভিড় টানে।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফুল

আগুনরঙা সুগন্ধি পানামা রোজ: গোলাপ নয়, রঙ্গনের আত্মীয়; কাটিংয়েই চারা

মিরপুরের জাতীয় উদ্ভিদ উদ্যানে ফোটা কমলা-লাল পানামা রোজ (Rondeletia odorata) পানামা ও কিউবার গুল্ম; অক্টোবর থেকে মে পর্যন্ত ফোটে, ১০-১৫ সেন্টিমিটার ডাল কেটে পুঁতলে তিন থেকে পাঁচ সপ্তাহে শিকড় গজায়।

সমকাল১৪ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফুল

পাবনার বিল-ঝিলে লাল-সাদা শাপলার সমারোহ, তবু কমছে শাপলা জন্মানোর জায়গা

গাজনার বিল, ডিকশির বিল, চলনবিলসহ পাবনার জলাশয়ে এখন লাল ও সাদা শাপলা ফুটেছে; তবে জলাশয় ভরাট, অপরিকল্পিত মাছ চাষ আর কীটনাশকে শাপলার জায়গা সংকুচিত হচ্ছে বলে জানান স্থানীয়রা।

দেশ রূপান্তর১২ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)