সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

ভালো দামে লিচু বেচে লাভবান মেহেরপুরের চাষিরা, আবাদ প্রায় ৭৩০ হেক্টরে

আগের বছরের লোকসানের পর ২০২৬ সালের মে মাসে ভালো ফলন ও সন্তোষজনক দামে লাভের মুখ দেখেন মেহেরপুরের লিচুচাষি ও ব্যবসায়ীরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে জেলায় প্রায় ৭৩০ হেক্টরে লিচুর আবাদ হয়, উৎপাদনের আশা প্রায় ৬ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন।

ভালো দামে লিচু বেচে লাভবান মেহেরপুরের চাষিরা, আবাদ প্রায় ৭৩০ হেক্টরে
ফল

২০২৬ সালের মে মাসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছিলেন দেশের পশ্চিম সীমান্তের ছোট জেলা মেহেরপুরের লিচুবাগানের মালিক, কৃষক ও ফল ব্যবসায়ীরা। আগের বছর লিচু চাষে ব্যাপক লোকসানের পর তারা জাগো নিউজকে জানান, অনুকূল আবহাওয়া, প্রচুর মুকুল এবং রোগবালাইয়ের আক্রমণ তুলনামূলক কম থাকায় এবার বাম্পার ফলনের আশা করছেন। জেলার বিভিন্ন বাগানে আগাম জাতের আঁটি লিচু পাকতে শুরু করেছিল, আর ২০২৬ সালের ২২ মে জাগো নিউজের প্রতিবেদন প্রকাশের সপ্তাহেই শুরু হয় লিচু বিক্রি। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মেহেরপুরের লিচুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় বাগান মালিক ও ব্যবসায়ীরা বেশ উৎফুল্ল সময় পার করছিলেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, জেলার নানা এলাকায় তখন চোখে পড়ছিল রঙিন লিচুর বাগান, থোকায় থোকায় ঝুলছিল পাকা ও আধাপাকা লিচু, আর প্রতিটি বাগানে বিরাজ করছিল উৎসবমুখর পরিবেশ। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে শুরু হতো লিচু সংগ্রহের ব্যস্ততা। শ্রমিকেরা উঁচু ডালে উঠে থোকা কেটে নিচে ফেলতেন, আর নিচে থাকা শ্রমিকেরা সেগুলো কুড়িয়ে বাছাই করতেন। এরপর লিচু পরিপাটি করে প্লাস্টিকের ক্যারেটে ভরে পাঠানো হতো দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে।

আবাদ, সম্ভাব্য উৎপাদন ও চাষিদের কথা


জাগো নিউজের উদ্ধৃত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মৌসুমে মেহেরপুর জেলায় প্রায় ৭৩০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়, আর এসব বাগান থেকে প্রায় ৬ হাজার ৮০০ মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের আশা করা হচ্ছিল। সংশ্লিষ্টরা বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সে বছর লিচু জেলার অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এর আগের কয়েক সপ্তাহে অন্য প্রতিবেদনে জেলার হিসাব কিছুটা ভিন্ন ছিল। ২০২৬ সালের ৩ মে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের বরাতে জানায়, ২০২৫ সালে মেহেরপুরে ৭১৫ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছিল এবং উৎপাদিত হয়েছিল ৬ হাজার ১১০ মেট্রিক টন, যার বাজারমূল্য ছিল ৫০ কোটি টাকার বেশি; ২০২৬ সালে আবাদ বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮০০ হেক্টরে, আর বাজার ঠিক থাকলে প্রায় ৫৫ কোটি টাকার লিচু বাণিজ্যের আশা করছিলেন চাষিরা। ২০২৬ সালের ১৪ মে আইটিভি মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জিব মৃধার বরাতে জানায়, জেলায় বোম্বাই, চায়না-থ্রি ও মোজাফফর জাতের লিচুর বাগান আছে প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে।

বাগান মালিকেরা জাগো নিউজকে জানান, আগের বছরের তুলনায় এবার ফলন অনেক ভালো হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় গাছে গাছে প্রচুর ফল এসেছে, আর বাজারে দাম সন্তোষজনক হওয়ায় লোকসানের শঙ্কাও অনেকটা কেটে গেছে।

বাগান মালিক জাকের আলী বলেন, 'গত বছর আবহাওয়ার কারণে অনেক ক্ষতি হয়েছিল। অনেক গাছে কাঙ্ক্ষিত ফলন পাওয়া যায়নি। তবে এবার গাছে প্রচুর ফল এসেছে। ফলনও গত বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে। আশা করছি এবার ভালো লাভ করতে পারবো।'

ব্যবসায়ী ও জেলার বাইরের বাজার


শুধু বাগান মালিক নন, খুশি ছিলেন ফল ব্যবসায়ীরাও। তাদের দাবি, মেহেরপুরের আঁটি লিচুর স্বাদ, মিষ্টতা ও মানের কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এর আলাদা পরিচিতি তৈরি হয়েছে, ফলে বাজারে এর চাহিদাও বেশ ভালো।

ফল ব্যবসায়ী আব্দুল কুদ্দুস বলেন, 'মেহেরপুরের আঁটি লিচুর স্বাদ অনেক ভালো। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা লিচু নিতে আসছেন। প্রতিদিন ঢাকা, কুমিল্লা, বরিশাল, বগুড়াসহ বিভিন্ন স্থানে লিচু পাঠানো হচ্ছে।'

লিচু ব্যবসায়ী আহসানুল হক বলেন, 'মেহেরপুরের লিচুর আলাদা একটা সুনাম আছে। প্রতিদিন বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা যোগাযোগ করছেন। বাজারে চাহিদাও অনেক ভালো।'

মেহেরপুরের লিচু বহু বছর ধরেই দূরের বাজারে যায়। ২০১৮ সালের মে মাসে দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস মেহেরপুর থেকে জানায়, জেলায় আঁটি, বোম্বাই, মোজাফফর ও চায়না-থ্রি জাতের লিচু হয় এবং এখানকার লিচু যায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশালের বাজারে। ২০২৬ সালের ৩ মে বাসসের প্রতিবেদনেও বলা হয়, জেলার লিচু, বিশেষ করে স্থানীয় মোজাফফর ও নতুন বোম্বাই জাতের চাহিদা সারা দেশে রয়েছে, ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে এর কদর আছে এবং পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি বাগান থেকে লিচু কিনছেন।

সেই মাসে দেশের অন্য এলাকার দাম থেকে বোঝা যায় মেহেরপুরের চাষিরা কেমন বাজারে লিচু বেচছিলেন। ২০২৬ সালের ৩ মে বাসস জানায়, রাজশাহী শহরের বাজারে সীমিত পরিমাণে লিচু আসতে শুরু করেছে এবং সাহেববাজারে প্রতিটি লিচু ৫ থেকে ৬ টাকায়, অর্থাৎ প্রতি শ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের বছরের চেয়ে বেশি। সেখানকার বিক্রেতারা এর জন্য দীর্ঘ খরা ও তীব্র গরমকে দায়ী করেন, যাতে অনেক ফল ঠিকমতো পরিপক্ব হয়নি এবং কিছু ফল পাকার আগেই ফেটে গেছে। মাগুরায় ২০২৬ সালের ১৮ মে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানায়, সেখানে স্থানীয় জাতের লিচু প্রতি হাজার ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায় এবং বোম্বাই ও চায়না-থ্রি প্রতি হাজার ২ হাজার ৬০০ থেকে ২ হাজার ৮০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল; ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল মাগুরার হাজরাপুরী লিচু ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পাওয়ায় চাহিদা বেড়েছিল।

বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লিচু-অঞ্চল রাজশাহীর পাকা লিচু। ছবি: Nakib Ahmed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান লিচু-অঞ্চল রাজশাহীর পাকা লিচু। ছবি: Nakib Ahmed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

মাঠ ফসল ছেড়ে বাগানের দিকে কৃষক


জাগো নিউজের প্রতিবেদনে উঠে আসে, মাঠ ফসলে ধারাবাহিক লোকসানের কারণে মেহেরপুরের অনেক কৃষক ফলবাগানের দিকে ঝুঁকছিলেন। আঁটি লিচুর পাশাপাশি উন্নত ও কলমের জাতের লিচু চাষে আগ্রহ বাড়ছিল, আর তুলনামূলক কম জায়গায় বেশি লাভের সম্ভাবনা থাকায় অনেকে নতুন বাগান তৈরি করছিলেন।

লিচু চাষি আজিজুল হক বলেন, 'ধানসহ অন্যান্য ফসলে আগের মতো লাভ হচ্ছে না। তাই এখন লিচুর বাগান করছি। পরিচর্যা ঠিকভাবে করতে পারলে ভালো আয় করা সম্ভব। ১ বিঘা জমিতে ৩০-৪০ হাজার টাকা খরচ করে ১ থেকে দেড় লাখ টাকার লিচু বিক্রি হচ্ছে চলতি বছরে।'

মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর উপজেলার লিচুচাষিদের নিয়ে একটি গবেষণা থেকে বোঝা যায় সেখানে কারা এই ফল চাষ করেন। ইবনাত, আহমেদ, জামান ও আমিনের এই গবেষণা ২০২২ সালে সাউথ এশিয়ান জার্নাল অব এগ্রিকালচারে প্রকাশিত হয়। গবেষকেরা ২০১৯ সালের মে ও জুন মাসে ৬০ জন চাষির সাক্ষাৎকার নেন। তাদের বেশির ভাগ (৫৮.৩ শতাংশ) ১৯৯৬ থেকে ২০১২ সালের মধ্যে লিচু চাষ শুরু করেছিলেন, আর ৫১.৭ শতাংশ চারা লাগানোর তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যেই ফল তুলতে শুরু করেন। প্রতি দশজনে আটজন (৮০ শতাংশ) লিচুর জন্য রেখেছিলেন ছোট জমি, আধা হেক্টর পর্যন্ত। ৮০ শতাংশ চাষি বোম্বাই জাত চাষ করতেন, ৭৩.৩ শতাংশের বাগানে ছিল ৮৬ থেকে ১৩৫টি গাছ, আর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (৩০ শতাংশ) গাছের মধ্যে ৪.৬৫ মিটার বাই ৬.২০ মিটার দূরত্ব রাখতেন।

একই গবেষণায় এসব সংখ্যার পেছনের সমস্যাগুলোও লেখা আছে। প্রতি পাঁচজনে দুজন (৪০ শতাংশ) চাষি হেক্টরপ্রতি ১ লাখ ১ থেকে ২ লাখ ফলের মাঝারি ফলন পেতেন, কিন্তু ৮১.৬৭ শতাংশ চাষি জানান, বাগান থেকে তারা কম দাম পান, হেক্টরপ্রতি ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত। ৬৮.৩৩ শতাংশ চাষির বাগানে ফল ও ডগা ছিদ্রকারী পোকার আক্রমণ এবং ৪৫ শতাংশের বাগানে ফল পচা রোগ দেখা দিয়েছিল। লিচু চাষে প্রশিক্ষণের অভাব এবং লিচু বেশি দিন টাটকা না থাকাকে সব উত্তরদাতাই সবচেয়ে বড় সমস্যা বলেছেন। গবেষকদের উপসংহার ছিল, যথাযথ, পর্যাপ্ত ও সময়মতো কৃষি সম্প্রসারণ কার্যক্রম এসব সমস্যা কমাবে।

চাষিরা যে কলমের চারার কথা বলেছেন, তা সাধারণত গুটি কলম বা এয়ার লেয়ারিং পদ্ধতিতে তৈরি হয়। বাংলাদেশের লিচু নিয়ে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) ১৯৯৯ সালের দেশভিত্তিক প্রবন্ধে এস বি এম আবু বকর সিদ্দিকী একে প্রচলিত পদ্ধতি বলেছেন। প্রায় এক বছর বয়সী, ৬০ থেকে ৭৫ সেন্টিমিটার লম্বা ডালের ২.৫ থেকে ৩ সেন্টিমিটার জায়গার বাকল আংটির মতো তুলে ফেলা হয়, খোলা অংশে এঁটেল মাটি, বালু ও জৈব সার মেশানো মাধ্যম জড়িয়ে দেওয়া হয়, আর প্রায় দুই মাসে শিকড় গজায়। প্রবন্ধে বলা হয়, এর সবচেয়ে ভালো সময় ফল তোলার পর জুলাই মাস, যখন মাটির আর্দ্রতা ও বাতাসের আর্দ্রতা সবচেয়ে বেশি থাকে; তখন সরকারি নার্সারিগুলোতে বছরে প্রায় ৯০ হাজার এমন চারা তৈরি হতো।

নিরাপদ ফলের জন্য কৃষি বিভাগের পরামর্শ


জাগো নিউজ জানায়, ভোক্তাদের জন্য নিরাপদ ফল নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ চাষিদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছিল। ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার না করে নিরাপদ উপায়ে পরিচর্যার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছিল, পাশাপাশি সময়মতো সেচ, রোগবালাই দমন ও সঠিক বাগান ব্যবস্থাপনার বিষয়ে কৃষকদের সচেতন করা হচ্ছিল।

মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সঞ্জিব মৃধা বলেন, 'আমরা কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছি, যাতে তারা নিরাপদ উপায়ে লিচুর পরিচর্যা করেন। সময়মতো সেচ, রোগবালাই নিয়ন্ত্রণ এবং ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার থেকে বিরত থাকার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে। এতে ভোক্তারা নিরাপদ ফল পাবেন এবং কৃষকেরাও লাভবান হবেন।'

রাসায়নিক নিয়ে এই সতর্কতা কেন জরুরি, তা দেখা যায় ২০১২ সালে উত্তরাঞ্চলের একটি লিচু-উৎপাদনকারী এলাকায় একটি প্রাদুর্ভাব নিয়ে গবেষণায়, যা ইসলাম ও সহকর্মীরা ২০১৭ সালে দ্য আমেরিকান জার্নাল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিনে প্রকাশ করেন। লিচু তোলার মৌসুমে ওই প্রাদুর্ভাবে ১৪টি শিশু আক্রান্ত হয়, যাদের ১৩ জন মারা যায়। গবেষকেরা দেখেন, বাগানগুলোতে প্রায়ই একাধিক কীটনাশক ব্যবহার করা হতো, যার কয়েকটি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ। অসুস্থ হওয়ার আগের দিনগুলোতে লিচুবাগানে যাওয়া, পরিবারের সদস্যদের বাগানে কাজ করা এবং কীটনাশক ছিটানোর সময় কোনো বাগানে যাওয়ার সঙ্গে অসুস্থতার সম্পর্ক পাওয়া যায়, কিন্তু তাদের কেস-কন্ট্রোল সমীক্ষায় লিচু খাওয়ার সঙ্গে অসুস্থতার সম্পর্ক পাওয়া যায়নি। তারা প্রাদুর্ভাবটিকে নিয়মিত কৃষিরাসায়নিক ব্যবহৃত বাগানের সংস্পর্শের সঙ্গে যুক্ত করেন, লিচু খাওয়ার সঙ্গে নয়।

মেহেরপুরের কৃষি কর্মকর্তারা বহু বছর ধরে অপরিপক্ব লিচু না পাড়ার কথাও বলে আসছেন। ২০১৮ সালের মে মাসে জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তখনকার উপপরিচালক দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসকে বলেন, কাঁচা লিচু খেলে মানুষ এই গ্রীষ্মকালীন ফলের পূর্ণ পুষ্টি পান না, স্বাদ থেকেও বঞ্চিত হন। ২০২৬ সালের ১৪ মে, জাগো নিউজের প্রতিবেদনের প্রায় এক সপ্তাহ আগে, আইটিভি দেখতে পায়, পাকা লিচু আসতে আরও অন্তত দুই সপ্তাহ বাকি থাকলেও মেহেরপুরের বাজারে বেশির ভাগই সবুজ, কাঁচা ও আধাপাকা লিচু ৮০টি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাগান মালিকেরা বলেন, ঝড়ের ভয়ে এবং বাদুড় ও পাখির উৎপাতের কারণে তারা আগেভাগে লিচু পাড়ছেন; কৃষি বিভাগ আরও অন্তত ১৫ দিন অপেক্ষা করার এবং ব্যবসায়িক লাভের চেয়ে ফলের মানকে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেয়।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অবশ্য বাগান ব্যবস্থাপনা থেকে আলাদা বিষয়। ২০২৬ সালের ৩ মে রাজশাহী থেকে বাসসের প্রতিবেদনে বলা হয়, চিকিৎসকেরা খালি পেটে লিচু না খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং শিশুদের বিষয়ে অভিভাবকদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে বলেছেন। ভারতের মুজাফফরপুরে ২০১৩ ও ২০১৪ সালের লিচু মৌসুমে শিশুদের মধ্যে অজ্ঞাত স্নায়ুরোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ে ২০১৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) সাপ্তাহিক প্রতিবেদন (এমএমডব্লিউআর) লেখে, রক্তে শর্করা কমে যাওয়া ছিল এর প্রধান বৈশিষ্ট্য, আর তদন্তকারীরা লিচুর বিচিতে থাকা মিথিলিনসাইক্লোপ্রোপাইলগ্লাইসিন (এমসিপিজি) নামের একটি যৌগের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্ক খতিয়ে দেখছিলেন; প্রাণীর ওপর গবেষণায় এই যৌগ রক্তে শর্করা কমায় বলে জানা যায়। প্রতিবেদনের সুপারিশ ছিল আক্রান্ত শিশুকে দ্রুত চিকিৎসার আওতায় আনা এবং চিকিৎসকদের দ্রুত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করে তা স্বাভাবিক করা। লিচু খাওয়া নিয়ে, বিশেষ করে শিশুর ক্ষেত্রে, কোনো প্রশ্ন থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

২০২৬ মৌসুমে ঝড়, গরম ও আগাম লিচু পাড়া


ভালো ফলনের আগে মৌসুমের শুরুটা কঠিন ছিল। ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিল শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মেহেরপুরে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে ঘণ্টায় ৭০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে কালবৈশাখী ঝড় বয়ে যায়। পরদিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম সঞ্জিব মৃধার বরাতে জানায়, ৬০৯ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার মধ্যে ছিল ভুট্টা, আম, লিচু ও বিভিন্ন সবজি; সে মৌসুমে জেলায় আমবাগান ছিল ২ হাজার ৮০০ হেক্টরে। পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের তথ্যমতে, ঝড়ে ১৫টি বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যায়, আরও ১৬টি হেলে পড়ে এবং প্রায় ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকে।

লিচু প্রতিটি ধাপেই এমন আবহাওয়ার প্রতি সংবেদনশীল। এফএওর প্রবন্ধে বলা হয়, ফল বড় হওয়ার সময় পানির ঘাটতি হলে ফল ঝরে পড়ে, পাকার সময় বাদুড় ও পাখি মারাত্মক ক্ষতি করে, আর অযত্নে রাখা গাছ একান্তর ফলনের অভ্যাসে চলে যায়, ফলে পরের বছরগুলোতে ফলন অর্ধেক বা তারও কম হয়। প্রবন্ধে আরও বলা হয়, মাটি ও বাতাসের আর্দ্রতা খুব কম থাকলে লিচুগাছে ফুল আসে এবং গুটি বাঁধার প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ দিন পর ফল পরিপক্ব হয়।

আগের মৌসুমটি অন্য লিচু-অঞ্চলেও কঠিন ছিল। ২০২৫ সালের ২৮ এপ্রিল দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায়, পাবনার ঈশ্বরদীতে অতিবৃষ্টির পর আগাম তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় গাছে মুকুলের বদলে পাতা গজিয়েছে, আর কর্মকর্তারা সেখানে প্রায় ৩০ শতাংশ কম লিচু উৎপাদনের আশঙ্কা করছিলেন। দিনাজপুরে ২০২৫ সালের ২৬ মে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানায়, ফল তোলার আগে ভারী বৃষ্টি ও তাপপ্রবাহে ফসলের ক্ষতি হয় এবং লোকসান কমাতে চাষিরা আগেভাগে পাকা ও কাঁচা লিচু একসঙ্গে বিক্রি করতে বাধ্য হন।

ভারতের মহারাষ্ট্রের দাহানুর গোলভাদে একটি বাগানে শ্রমিকেরা লিচু পাড়ছেন। ছবি: Raman Patel / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
ভারতের মহারাষ্ট্রের দাহানুর গোলভাদে একটি বাগানে শ্রমিকেরা লিচু পাড়ছেন। ছবি: Raman Patel / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

মেহেরপুর ও এর লিচু-অঞ্চল


জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, মেহেরপুর জেলার আয়তন ৭৫১.৬২ বর্গকিলোমিটার এবং এর উপজেলা তিনটি: গাংনী, মেহেরপুর সদর ও মুজিবনগর। জেলার পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, উত্তরে ও পূর্বে কুষ্টিয়া এবং দক্ষিণে ও পূর্বে চুয়াডাঙ্গা; প্রধান নদীর মধ্যে আছে ভৈরব, ইছামতী, মাথাভাঙ্গা ও কাজলা। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জেলার জনসংখ্যা ছিল ৬ লাখ ৫৫ হাজার ৩৯২ জন, আর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি ছিল ৬৮.৯৫ শতাংশ মানুষের। ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরেই স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করা হয় এবং বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী সরকার শপথ নেয়।

তিন উপজেলারই প্রধান ফলের তালিকায় লিচু আছে। বাংলাপিডিয়ায় ৩৬৩.৯৫ বর্গকিলোমিটারের সবচেয়ে বড় উপজেলা গাংনীর প্রধান ফল হিসেবে আম, কাঁঠাল ও লিচুর নাম আছে; মেহেরপুর সদরের প্রধান ফল আম, কাঁঠাল, লিচু ও কলা, আর এই উপজেলার প্রধান রপ্তানি পণ্যের মধ্যেও আছে আম, লিচু ও কাঁঠাল; ২০০০ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি গঠিত মুজিবনগর উপজেলার ফলের তালিকাতেও লিচু রয়েছে।

আগের প্রতিবেদনগুলো থেকে এই ফসলের বিস্তার বোঝা যায়। ২০১৯ সালের ৯ মে প্রথম আলো জানায়, জেলার তিন উপজেলায় ৫৭৭ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে, হেক্টরপ্রতি ৮ মেট্রিক টন ফলনের আশা করা হচ্ছে, আর সেখানে চায়না-ওয়ান, চায়না-টু, চায়না-থ্রি ও বোম্বাই জাতের লিচু হয়। সে বছর ঘূর্ণিঝড় ফণীর ভারী বৃষ্টির পর স্বাভাবিকের চেয়ে আগে, এপ্রিলের শেষ দিকেই মেহেরপুরের বাজারে লিচু ওঠে এবং ৮০টি লিচু বিক্রি হয় ১২০ থেকে ১৪০ টাকায়। গাংনীর কাথুলী ইউনিয়নের এক চাষি পত্রিকাটিকে জানান, তার ১২৭টি গাছের মধ্যে তখন ৩০টিতে ফল এসেছে। জেলার তখনকার কৃষি সম্প্রসারণ উপপরিচালক বলেছিলেন, মেহেরপুরের আম ও লিচুর স্বাদ অন্য অঞ্চলের চেয়ে ভালো।

লিচু ফল ও বাংলাদেশে চাষ হওয়া জাত


লিচুর বৈজ্ঞানিক নাম Litchi chinensis, এটি স্যাপিন্ডেসি পরিবারের উদ্ভিদ। বাংলাপিডিয়া বলছে, লিচুর উৎপত্তি চীনে এবং ১৬০০ সালের শেষ দিকে তা মিয়ানমার ও ভারতে পৌঁছায়। বাংলাদেশে প্রায় সব জায়গায় লিচু হতে পারলেও প্রধানত রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও নারায়ণগঞ্জে এর চাষ হয়, আর দেশের বৃক্ষজাত ফলের মধ্যে উৎপাদনে আমের পরেই লিচুর স্থান। গাছটি মাঝারি থেকে বড় আকারের চিরসবুজ, ১২ থেকে ১৫ মিটার উঁচু হয়। লিচুর খাওয়ার অংশ, অর্থাৎ শাঁস ফলের ওজনের ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ, যাতে মূলত শর্করা এবং সেই সঙ্গে আমিষ, চর্বি, ভিটামিন বি ও সি, ক্যালসিয়াম ও আয়রন থাকে। উইকিপিডিয়ায় উদ্ধৃত যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের পুষ্টি-তথ্য অনুযায়ী, প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা লিচুতে থাকে ৮১.৮ গ্রাম পানি, ৬৬ কিলোক্যালরি শক্তি এবং ৭১.৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি।

এফএওর প্রবন্ধে বলা হয়, উনিশ শতকের গোড়ার দিকে লিচু মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে আসে, আর বিশ শতকের শুরুতে পশ্চিমবঙ্গের নার্সারি ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে চীনা ও ভারতীয় জাত আসে। প্রবন্ধে বোম্বাইকে সবচেয়ে বেশি চাষ হওয়া আগাম জাত বলা হয়েছে, যা মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পাকে, ভালো বাগানে গাছপ্রতি ৭ থেকে ৮ হাজার ফল দেয় এবং এর মিষ্টতার মাপ, অর্থাৎ মোট দ্রবণীয় কঠিন পদার্থ (টিএসএস) ১৭ থেকে ১৮ শতাংশ। মোজাফফরপুরি জাতও মে মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে পাকে। সেরা জাত হিসেবে পরিচিত বেদানা পাকে জুনের দ্বিতীয় সপ্তাহে, তবে গাছপ্রতি মাত্র ২ থেকে ৩ হাজার ফল দেয়; আর চায়না-থ্রি নাবি জাত, জুনের শেষ সপ্তাহে পাকে, গাছপ্রতি ৪ থেকে ৫ হাজার ফল দেয়। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) তখন বারি লিচু-১, ২ ও ৩ জাত অবমুক্ত করেছিল। লিচুগাছ প্রায় পাঁচ বছর বয়সে ফল দিতে শুরু করে এবং ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সে সর্বোচ্চ ফলন দেয়।

মেহেরপুরে চাষ হওয়া জাতগুলোর একটি চায়না-থ্রি। উইকিপিডিয়ার তথ্যমতে, এর ফল গোলাকার, প্রতিটির ওজন প্রায় ২৫ গ্রাম, গায়ে লাল, কমলা ও সবুজ ছোপ; শাঁস ক্রিম-সাদা, নরম ও রসালো, শাঁস ও বিচির অনুপাত ১৫:১ এবং টিএসএস ১৮ শতাংশ। এফএওর প্রবন্ধে আরও বলা হয়, লিচু অত্যন্ত পচনশীল: লিচুপাতা বিছানো বাঁশের ঝুড়িতে ভালো মানের লিচু প্রায় ৪৮ ঘণ্টা টাটকা থাকে। এ কারণেই মেহেরপুরের মতো বাগান থেকে ঢাকা ও দূরের বাজারে দ্রুত লিচু পৌঁছানো এত জরুরি।

একটি বাগানে গাছে ঝুলে থাকা চায়না-থ্রি জাতের লিচু। ছবি: Mohammad Tanvir Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
একটি বাগানে গাছে ঝুলে থাকা চায়না-থ্রি জাতের লিচু। ছবি: Mohammad Tanvir Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সারা দেশে লিচু চাষের চিত্র


দেশের প্রধান লিচু-জেলাগুলোর তুলনায় মেহেরপুর ছোট উৎপাদক। ২০২৩ সালের ২৯ মে দ্য ডেইলি স্টার জানায়, সারা দেশে প্রায় ২৬ হাজার হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয় এবং গড়ে বছরে প্রায় ২ লাখ টন লিচু উৎপাদিত হয়। দিনাজপুরে তখন প্রায় ৫ হাজার ৫০০ হেক্টর জমি ও প্রায় ৪ হাজার বাণিজ্যিক বাগান ছিল, আর পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলায় ছিল ৩ হাজার ১০০ হেক্টর। সে বছর ফলন কমায় দাম বেড়েছিল; দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর কারণ হিসেবে ফেব্রুয়ারিতে মুকুল আসার সময় তাপমাত্রার ওঠানামা এবং মার্চে গুটি আসার সময় প্রচণ্ড গরম ও অপর্যাপ্ত বৃষ্টির কথা বলেছিল।

২০২৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি বাসস জানায়, দিনাজপুরে ২০২৫ সালে ৫ হাজার ৮৭০ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছিল এবং সেখানকার প্রধান জাত বোম্বাই, বেদানা, মাধুরসী ও কাঁঠালি; গাছে মুকুল আসায় কর্মকর্তা ও চাষিরা তখন ২০২৬ সালে বাম্পার ফলনের আশা করছিলেন। এক বছর আগে, ২০২৫ সালের মে মাসে, জেলার কৃষি বিভাগের হিসাবে ৫ হাজার ৫০০ হেক্টরের বেশি জমিতে ৯ হাজারের বেশি লিচুবাগান ছিল, আর ৭০০ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ৩৬ হাজার মেট্রিক টন লিচুর আশা করা হচ্ছিল। পাবনায় ২০২৪ সালের এপ্রিলে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায়, জেলায় ৪ হাজার ৭২১ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল ৪৮ হাজার ৮০১ মেট্রিক টন; সেখানকার চাষিরা জানান, চৈত্রের শেষে শিলাবৃষ্টিতে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মুকুল নষ্ট হয়েছে আর তাপপ্রবাহে গুটি ঝরে পড়ছে।

এসব সংখ্যা থেকে বোঝা যায়, লিচু চাষ কতদূর এগিয়েছে। এফএওর প্রবন্ধ অনুযায়ী, ১৯৯৭-৯৮ সালে বাংলাদেশে প্রায় ১১ হাজার ৮৭৫ হেক্টর জমিতে লিচু চাষ হতো এবং উৎপাদন ছিল ১২ হাজার ৮৪৬ মেট্রিক টন, আর জাতীয় গড় ফলন ছিল হেক্টরপ্রতি প্রায় ২.৫ মেট্রিক টন। প্রবন্ধে বলা হয়, তখন বাংলাদেশ লিচু রপ্তানি বা আমদানি কোনোটিই করত না, আর লিচু বিক্রি হতো মূলত স্থানীয় বাজারে, টাটকা অবস্থায়।

ছবি: Mazhar Zarif / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশন (আইটিভি), বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, সাউথ এশিয়ান জার্নাল অব এগ্রিকালচার, দ্য আমেরিকান জার্নাল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন, যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (এমএমডব্লিউআর), জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)