কৃষি এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ ২০২৬ সালের ১১ জুলাই কুমিল্লায় জানান, সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে প্রস্তুত করা হচ্ছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, তালিকা চূড়ান্ত হলে ক্ষতির ধরন অনুযায়ী কৃষকদের বীজ, সার ও কৃষি উপকরণসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেবে সরকার। ওই দিন কুমিল্লা টাউন হল মাঠে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলার উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
তালিকা হচ্ছে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে
মন্ত্রী বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় দেশের বিভিন্ন জেলার কৃষিজমি, ফসল ও কৃষকেরা ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির চিত্র নিরূপণে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে তালিকা তৈরির কাজ চলছে। বাসসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বন্যাকবলিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক ও চাষিদের সঠিক তথ্য সংগ্রহ করছে স্থানীয় প্রশাসন, আর তালিকা শেষ হলে তাদের পুনর্বাসন ও কৃষিকাজ দ্রুত স্বাভাবিক করতে সহায়তা দেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকের উৎপাদন অব্যাহত রাখা ও দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের লক্ষ্য, এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। একই অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে যুক্ত। তিনি জানান, কৃষকের পণ্যের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সারা দেশে পর্যায়ক্রমে মিনি কোল্ড স্টোরেজ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং আরও দুই হাজারের বেশি স্থাপনের পরিকল্পনা আছে।

যে বন্যার প্রেক্ষাপটে এই ঘোষণা
জুলাইয়ের শুরু থেকে টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যা দেখা দেয়। মানবিক সংস্থাগুলোর নিডস অ্যাসেসমেন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপের ৯ জুলাইয়ের ফ্ল্যাশ আপডেটে আবহাওয়া অধিদপ্তর, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র এবং রাইমসের বরাতে বলা হয়, ৫ জুলাই থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও আশপাশের উজানে ভারী বৃষ্টি চলছে। সরকারি সূত্রের তথ্য একত্র করে তৈরি ওই হিসাবে সাতটি জেলায় ৫ লাখ ৩৬ হাজার ১৭ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন, যার মধ্যে চট্টগ্রাম জেলায় ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৫০৩ জন এবং কুমিল্লায় ১ হাজার ৫০ জন। সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি তখন বিপৎসীমার ওপরে ছিল।
বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ১০ জুলাইয়ের প্রতিবেদনে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা জানান, জেলায় অন্তত সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি; সাতকানিয়া উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা ডুবে গেছে, আর চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও বোয়ালখালীরও বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত। ডেইলি অবজারভার ১১ জুলাই বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বরাতে জানায়, কুশিয়ারা, মনু, খোয়াই, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদী নয়টি পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছিল এবং সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জের কিছু এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি সংকটজনক হয়ে উঠেছিল।

বর্ষার এই সময়টি কৃষির জন্য স্পর্শকাতর। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, বাংলাদেশে আউশ ধান কাটা হয় সাধারণত জুলাই-আগস্টে, আর আবাদি জমির হিসাবে রোপা আমন দেশের সবচেয়ে বড় ধানের মৌসুম। ফলে বর্ষার এই সময়ের বন্যা মাঠে থাকা ফসলের জন্য বড় ঝুঁকি।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অনিয়মের অভিযোগ নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, অনেকের মধ্যে দীর্ঘদিনের অনিয়মের অভ্যাস হয়তো এখনো রয়ে গেছে; তবে কর্মসূচি ঘোষণার পর প্রধানমন্ত্রী নিজে এর অগ্রগতি নিয়মিত তদারকি করছেন, তাই এতে অনিয়মের সুযোগ নেই বলে তিনি দাবি করেন। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের ওপর জোর দিয়ে তিনি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন এবং সাধারণ মানুষকে এ কর্মসূচিতে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান। উদ্বোধনের আগে একটি র্যালি হয় এবং মন্ত্রী মেলার ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের স্টল ঘুরে দেখেন।
অনুষ্ঠানে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু, জেলা প্রশাসক রোজী আক্তার, সামাজিক বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রুহুল আমিন, পুলিশ সুপার আনিসুজ্জামানসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ছবি: Md shameem ul islam / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪ (১১ জুলাই ২০২৬), বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস, ১১ জুলাই ২০২৬), ঢাকা টাইমস (১১ জুলাই ২০২৬), নিডস অ্যাসেসমেন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ বাংলাদেশ (ফ্ল্যাশ আপডেট, ৯ জুলাই ২০২৬), বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম (১০ জুলাই ২০২৬), ডেইলি অবজারভার (১০ ও ১১ জুলাই ২০২৬), বাংলাপিডিয়া (ধান)




মন্তব্য
(০)