যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (ইআরএস) ২০২৬ সালের ১৪ মে প্রকাশিত এক ‘চার্ট অব নোট’-এ জানায়, ২০২৪ সালে মার্কিন ভোক্তারা ঘরে খাওয়ার খাবারে, যেমন মুদি দোকানের পণ্যে, যে ডলার ব্যয় করেছেন তার প্রতি ডলারে ১৮.৫ সেন্ট পেয়েছে দেশটির খামারগুলো। রেস্তোরাঁর মতো বাইরে খাওয়ার খাবারে এই ভাগ ছিল প্রতি ডলারে মাত্র ৭.১ সেন্ট। খাবার খামার থেকে থালায় কোন পথে পৌঁছায়, তার ওপরই নির্ভর করে ভোক্তার ডলারের কতটা কৃষকের কাছে ফেরে। চার্টটি তৈরি করেন ইআরএসের অর্থনীতিবিদ জেমস চ্যান্ডলার জাকারি ও কুইন্টন বেকার।
ফুড ডলার কীভাবে ভাগ হয়
ইআরএসের ফুড ডলার হিসাব ভোক্তার খাদ্য ব্যয়কে দুই ভাগে ভাগ করে। খামারের অংশ বা ‘ফার্ম শেয়ার’ হলো খাবারের সঙ্গে যুক্ত কৃষিপণ্য বিক্রি করে খামারগুলো যে আয় পায়। বাকিটা বিপণনের অংশ: প্রক্রিয়াজাতকরণ, পরিবহন, মজুত, পাইকারি ও খুচরা বিক্রিসহ খামারের গেট থেকে ক্রয়ের স্থান পর্যন্ত খাবার পৌঁছানোর কাজের মূল্য।
২০২৪ সালে ঘরে খাওয়ার প্রতি ডলারে বিপণনের অংশ ছিল ৮১.৫ সেন্ট, আর বাইরে খাওয়ার প্রতি ডলারে ৯২.৯ সেন্ট। ইআরএস ব্যাখ্যা করেছে, রেস্তোরাঁ ও স্কুলের মতো জায়গায় খাবার রান্না ও পরিবেশনের বাড়তি খরচের কারণেই বাইরে খাওয়ার খাবারে বিপণনের অংশ বেশি।

ঘর থেকে বাইরে সরছে খাদ্য ব্যয়
ইআরএস ২০২৬ সালের ১০ মার্চ ফুড ডলারের যে হালনাগাদ প্রকাশ করে, তার সারসংক্ষেপে বলা হয়, সব ধরনের খাবার মিলিয়ে ২০২৪ সালে খামারের অংশ ছিল প্রতি ডলারে ১১.৮ সেন্ট, ২০২৩ সালে যা ছিল ১২.১ সেন্ট। একই সময়ে ঘরে খাওয়ার খাবারে খামারের অংশ ১৮.৪ থেকে সামান্য বেড়ে ১৮.৫ সেন্ট হয়, আর বাইরে খাওয়ার খাবারে ৭.৫ থেকে কমে ৭.১ সেন্টে নামে।
দেশে উৎপাদিত খাবারের হিসাবে ২০২৪ সালে বাইরে খাওয়ার ব্যয় ৪.২ শতাংশ বেড়ে ১.২৭ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়, আর ঘরে খাওয়ার ব্যয় ১.৪ শতাংশ বেড়ে হয় ৯০১ বিলিয়ন ডলার। ইআরএস বলছে, বাইরে খাওয়ার খাবার সরবরাহ শৃঙ্খলে বাড়তি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবহনের মধ্য দিয়ে যায়, তাই এই পথে কৃষকেরা কম ভাগ পান। রেস্তোরাঁসহ খাদ্যসেবা খাত ২০২৪ সালে প্রতি ফুড ডলারে ৩৮.৬ সেন্ট মূল্য যোগ করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ১.১ সেন্ট বেশি।
ইআরএসের খাদ্য ব্যয়ের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তা, ব্যবসা ও সরকারি প্রতিষ্ঠান মিলিয়ে খাবারে ব্যয় করেছে ২.৫৮ ট্রিলিয়ন ডলার। এর ৫৮.৯ শতাংশ গেছে বাইরে খাওয়ার খাবারে, যা মোট খাদ্য ব্যয়ে এই খাতের সর্বোচ্চ অংশ।

পণ্যভেদে ভাগের পার্থক্য ও নতুন হিসাবপদ্ধতি
ফুড ডলার ঘরে খাওয়ার খাবারকে ২৮টি পণ্য হিসাবে ভাগ করে দেখে। ইআরএস জানায়, তাজা ফল ও তাজা সবজিতে প্রক্রিয়াজাতকরণ কম লাগে বলে টিনজাত, হিমায়িত বা শুকনা ফল ও সবজির তুলনায় সাধারণত এগুলোতে খামারের অংশ বেশি থাকে।

২০২৬ সালের হালনাগাদে ফুড ডলারের মডেল ও তথ্যসূত্র পুরোপুরি সংশোধন করা হয়। ইআরএস সতর্ক করেছে, নতুন মডেলের ফলাফল আগের প্রকাশনার সঙ্গে সরাসরি তুলনাযোগ্য নয়। খাবারের সংজ্ঞায় এবার বোতলজাত পানি, কোমল পানীয়, কফি ও চা যুক্ত হয়েছে। এসব পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খলে কৃষিপণ্য কম লাগে বলে নতুন সংজ্ঞায় ২০২৪ সালের সামগ্রিক খামার অংশ ১২.৩ সেন্টের বদলে ১১.৮ সেন্ট দাঁড়িয়েছে। চার্টের তথ্য ইআরএসের ফুড ডলার ডেটা প্রোডাক্টে রয়েছে এবং একটি রেকর্ড করা ওয়েবিনারে তা আলোচিত হয়েছে।
ইআরএস ১৯৬১ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউএসডিএর একটি সংস্থা এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল পরিসংখ্যান ব্যবস্থার অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান। কৃষি, খাদ্য, প্রাকৃতিক সম্পদ ও গ্রামীণ যুক্তরাষ্ট্র নিয়ে সরকারি ও বেসরকারি সিদ্ধান্তে সহায়তার জন্য অর্থনৈতিক গবেষণা ও তথ্য দেওয়া এর কাজ।
ছবি: MatthewHoobin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: ইউএসডিএ ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (চার্ট অব নোট, ফুড ডলার সারসংক্ষেপ, এজি অ্যান্ড ফুড স্ট্যাটিসটিকস: চার্টিং দ্য এসেনশিয়ালস), উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)