সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

চিংড়ি দিয়ে ডিম ভাজা: অল্প উপকরণে ঘরে তৈরি বাঙালি অমলেট

জাগো নিউজ ২৪-এর ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিলের রেসিপি: অর্ধেক চিংড়ি বেটে ডিমে মিশিয়ে, বাকিটা হলুদ-লবণে মেরিনেট করে ২-৩ মিনিট ভেজে ওপরে ছড়িয়ে তৈরি হয় চিংড়ি দিয়ে ডিম ভাজা, খাওয়া হয় গরম ভাতের সঙ্গে।

চিংড়ি দিয়ে ডিম ভাজা: অল্প উপকরণে ঘরে তৈরি বাঙালি অমলেট
রান্নাবান্না

২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিল বাংলাদেশের অনলাইন সংবাদমাধ্যম জাগো নিউজ ২৪-এর লাইফস্টাইল ডেস্ক ঘরে বসে চিংড়ি দিয়ে ডিম ভাজা তৈরির একটি ছোট রেসিপি প্রকাশ করে। এটি বাঙালি ধাঁচের একটি অমলেট, যেখানে চিংড়ির অর্ধেক বেটে ডিমের সঙ্গে ফেটিয়ে নেওয়া হয়, আর বাকি অর্ধেক মেরিনেট করে আলাদা ভেজে ডিম জমে আসার সময় ওপরে ছড়িয়ে দেওয়া হয়। রেসিপিতে বলা হয়, অনেকের প্রিয় দুটি খাবার, ডিম ভাজা আর চিংড়ি, একসঙ্গে রান্না করলে স্বাদে একেবারে ভিন্ন একটি পদ তৈরি হয়। এতে উপকরণ লাগে খুব অল্প, সময়ও লাগে কম, তাই ব্যস্ত দিনেও এটি রান্না করা সুবিধাজনক। পদটি পরিবেশন করা হয় গরম ভাতের সঙ্গে।

এই প্রতিবেদনে প্রথমে প্রকাশকের দেওয়া রেসিপিটি হুবহু তুলে ধরা হয়েছে, তারপর অন্যান্য দেশের ডিমের পদের সঙ্গে এর মিল-অমিল দেখানো হয়েছে। এরপর পদটির দুই প্রধান উপকরণের পরিচয় দেওয়া হয়েছে: দেশের নদী, প্লাবনভূমি ও উপকূলীয় খামারের চিংড়ি এবং পোলট্রি খাতের ডিম, রেসিপিটি প্রকাশের সময় পাওয়া সরকারি পরিসংখ্যানসহ। সঙ্গে আছে যে মসলাগুলো পদটিতে স্বাদ আনে সেগুলোর পরিচয়, আর ঘরে চিংড়ি ও ডিম রান্নার ক্ষেত্রে খাদ্য ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের দেওয়া পুষ্টি, অ্যালার্জি ও খাদ্য নিরাপত্তা বিষয়ক তথ্য।

রেসিপিতে যেসব উপকরণ লাগে


জাগো নিউজ ২৪ উপকরণের আলাদা কোনো তালিকা দেয়নি। নিচের উপকরণগুলো রান্নার পদ্ধতির বর্ণনা থেকে নেওয়া। প্রকাশক কেবল ভাজার তেল আর দুই ধরনের গুঁড়া মসলার পরিমাণ উল্লেখ করেছে; কয়টি ডিম বা কতটুকু চিংড়ি লাগবে, কোন আকারের বা কোন জাতের চিংড়ি কিনতে হবে, কিংবা পদটি কতজনের জন্য, তা বলা হয়নি। এই বিষয়গুলো রাঁধুনির নিজের বিবেচনার ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

  • চিংড়ি: ধুয়ে পানি ঝরানো, সমান দুই ভাগে ভাগ করা
  • সামান্য লবণ ও হলুদ: অর্ধেক চিংড়ি মেরিনেট করার জন্য
  • তেল: চিংড়ি ভাজার জন্য ১ টেবিল চামচ, আর ডিম ভাজার জন্য আরও সামান্য
  • পেঁয়াজ কুচি
  • মরিচ গুঁড়া: আধা চা চামচ
  • হলুদ গুঁড়া: আধা চা চামচ
  • ডিম
  • ধনেপাতা কুচি: ইচ্ছা হলে
  • পরিবেশনের জন্য গরম ভাত

যেভাবে রান্না করবেন


রান্নার কাজটি চার ধাপে ভাগ করা যায়: চিংড়িকে দুইভাবে প্রস্তুত করা, এক ভাগ ভেজে নেওয়া, অন্য ভাগ ডিমের সঙ্গে মেশানো এবং ভাজা চিংড়ি ওপরে দিয়ে ধীরে ধীরে অমলেটটি রান্না করা। প্রকাশকের দেওয়া ধাপগুলো হলো:

  • প্রথমে চিংড়িগুলো ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন। এরপর অর্ধেক চিংড়ি আলাদা করে বেটে বা ব্লেন্ডারে ব্লেন্ড করে পেস্ট করে নিন।
  • বাকি অর্ধেক চিংড়িতে সামান্য লবণ ও হলুদ মিশিয়ে ১০ মিনিট মেরিনেট করে রাখুন। রেসিপি অনুযায়ী, এতে চিংড়ির কাঁচা গন্ধ কমে যায় এবং স্বাদ আরও ভালো হয়।
  • একটি প্যানে ১ টেবিল চামচ তেল গরম করুন। তেল গরম হলে মেরিনেট করা চিংড়িগুলো দিয়ে ২ থেকে ৩ মিনিট ভাজুন, যতক্ষণ না হালকা মুচমুচে হয়। বেশি সময় ভাজবেন না, তাহলে চিংড়ি শক্ত হয়ে যেতে পারে। ভাজা চিংড়ি একটি পাত্রে তুলে রাখুন।
  • একটি বড় বাটিতে চিংড়ি বাটা, পেঁয়াজ কুচি এবং আধা চা চামচ করে মরিচ গুঁড়া ও হলুদ গুঁড়া নিন। এতে ডিম ভেঙে দিয়ে ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন, যাতে সব উপকরণ সমানভাবে মিশে যায়।
  • প্যানে সামান্য তেল দিয়ে ডিমের মিশ্রণটি ঢেলে দিন এবং মাঝারি আঁচে ধীরে ধীরে রান্না করুন।
  • ডিম কিছুটা জমে এলে তার ওপর ভাজা চিংড়ি ছড়িয়ে দিন। চাইলে সঙ্গে ধনেপাতা কুচিও দিতে পারেন; রেসিপি অনুযায়ী এতে স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ে। ডিম পুরোপুরি ভাজা হয়ে গেলে চুলা থেকে নামিয়ে গরম ভাতের সঙ্গে পরিবেশন করুন।

চিংড়িকে দুইভাবে ব্যবহার করাই পদটির বিশেষত্ব। বাটা অংশটি ডিমের ভেতরে মিশে গিয়ে পুরো অমলেটে চিংড়ির স্বাদ ছড়িয়ে দেয়, আর ভাজা অংশটি আস্ত অবস্থায় ওপরে থাকে। রেসিপিতে নিজেই সতর্ক করা হয়েছে যে বেশিক্ষণ ভাজলে চিংড়ি শক্ত হয়ে যেতে পারে, তাই প্রথম দফায় ভাজার সময় দুই থেকে তিন মিনিটে সীমিত রাখা হয়েছে। আর শেষ নির্দেশনা, ডিম পুরোপুরি ভাজা হলে তবেই নামানো, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসনের (এফডিএ) পরামর্শের সঙ্গে মেলে। নিচে বিস্তারিত বলা হয়েছে, এফডিএ বলছে ডিমের কুসুম ও সাদা অংশ দুটোই শক্ত না হওয়া পর্যন্ত রান্না করা উচিত।

বৃহত্তর অমলেট পরিবারের একটি বাঙালি সদস্য


ইংরেজি বিশ্বকোষ উইকিপিডিয়ার সংজ্ঞায়, অমলেট হলো ডিম দিয়ে তৈরি একটি পদ, সাধারণত মুরগির ডিম, যা ফ্রাইং প্যানে মাখন বা তেলে ভাজা হয়। এতে প্রায়ই সবজি, মাংস, পনির বা পেঁয়াজের মতো পুর দেওয়া হয়, আর ডিম অনেক সময় সামান্য দুধ, ক্রিম বা পানির সঙ্গে ফেটানো হয়। ধারণা করা হয়, পদটির উৎপত্তি প্রাচীন পারস্যে। ফরাসি শব্দ ‘অমলেট’ ষোড়শ শতাব্দীর মাঝামাঝি ব্যবহারে আসে; তার আগে ১৩৯৩ সালের ‘মেনাজিয়ে দ্য পারি’ গ্রন্থে শব্দটির আলুমেল ও আলুমেত রূপ পাওয়া যায়, আর আধুনিক অমলেটের দেখা মেলে ১৭৮৪ সালের ‘কুইজিন বুর্জোয়া’ গ্রন্থে।

দক্ষিণ এশিয়ায় অমলেট প্রতিদিনের খাবার। উইকিপিডিয়া জানায়, ভারতে ডিম পেঁয়াজের সঙ্গে ফেটিয়ে লবণ ও গোলমরিচ দিয়ে সরাসরি গরম প্যানে ঢেলে দেওয়া হয়, আর এমন অমলেট বহু পরিবারে নিয়মিত খাওয়া হয়। পারসি রান্নায় ‘পোরা’ নামের অমলেট তৈরি হয় ডিম, পেঁয়াজ, টমেটো, কাঁচা মরিচ ও ধনেপাতা দিয়ে; সাধারণত নাশতায় চা ও রুটির সঙ্গে খাওয়া হয়। জাগো নিউজ ২৪-এর রেসিপিতেও এগুলোর মতো পেঁয়াজ ও ধনেপাতা আছে, তবে মরিচ ও হলুদ ব্যবহার করা হয়েছে গুঁড়া হিসেবে, আর যোগ করা হয়েছে দুইভাবে প্রস্তুত চিংড়ি।

চিংড়ি আর ডিমের জুটি অন্য অনেক দেশের রান্নাতেও পরিচিত। ফিলিপাইনে অমলেটকে বলা হয় ‘তোর্তা’, আর ‘তোর্তাং হিপন’ মানে চিংড়ির অমলেট; ‘তোর্তাং আলামাং’ তৈরি হয় ক্রিল বা ছোট চিংড়ি দিয়ে। চীনা রান্নার অমলেট ‘এগ ফু ইয়াং’-এর উৎপত্তি দক্ষিণ চীনের উপকূলীয় প্রদেশ গুয়াংদংয়ে; এতে ফেটানো ডিমের সঙ্গে থাকে শিমের অঙ্কুর, বাঁশের কোঁড়, বাঁধাকপি, পেঁয়াজকলি ও মাশরুমের মতো সবজি, আর মাংস দিলে রোস্ট পর্ক, চিংড়ি, মুরগি, গরুর মাংস বা লবস্টারের মধ্যে থেকে বেছে নেওয়া যায়। ইন্দোনেশিয়ার চীনা বংশোদ্ভূতদের রান্নায় এর কাছাকাছি পদ ‘ফু ইউং হাই’-তে সবজির সঙ্গে মেশানো হয় কাঁকড়ার মাংস, চিংড়ি বা মুরগির কিমা। থাইল্যান্ডের প্রচলিত অমলেট ‘খাই জিয়াও’ সামান্য ফিশ সস দিয়ে ভেজে ভাপে রান্না ভাতের ওপর পরিবেশন করা হয়, ঠিক যেমন বাঙালি এই পদটি খাওয়া হয় গরম ভাতের সঙ্গে।

ফ্রান্সের পালেজো শহরের একটি রেস্তোরাঁয় পরিবেশিত চিংড়ির অমলেট। ছবি: Lionel Allorge / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
ফ্রান্সের পালেজো শহরের একটি রেস্তোরাঁয় পরিবেশিত চিংড়ির অমলেট। ছবি: Lionel Allorge / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

কোন চিংড়ি: বাংলাদেশের চিংড়ির পরিচয়


বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, চিংড়ি কাঁকড়া ও লবস্টারের সমগোত্রীয় ক্রাস্টেশিয়ান প্রাণী, ডেকাপোডা বর্গের অন্তর্ভুক্ত। পৃথিবীর সব ধরনের জলাশয়ে এদের পাওয়া যায়, আর আকারে এরা ২.৫ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার পর্যন্ত হয়। বাংলাদেশে মোট ৫৬ প্রজাতির চিংড়ির খোঁজ পাওয়া গেছে: এর মধ্যে ৩৭টি লোনা পানির, ১২টি আধা-লোনা পানির এবং ৭টি মিঠা পানির। এরা ছয়টি গোত্রে বিভক্ত, আর মিঠা পানির প্রজাতিগুলো প্যালিমোনিডি গোত্রের।

মৎস্য অধিদপ্তর তাদের পরিসংখ্যানে চিংড়িকে দুই দলে ভাগ করে। অধিদপ্তরের ‘ইয়ারবুক অব ফিশারিজ স্ট্যাটিসটিকস অব বাংলাদেশ ২০২৩-২৪’ অনুযায়ী গলদা, বাগদা, হরিণা ও চাকা বড় চিংড়ি, আর অন্যান্য সব ছোট চিংড়ি এক দলে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশে মোট ২,৬০,৪৮৬ টন চিংড়ি উৎপাদিত হয়: গলদা ৬৭,৭১৬ টন, বাগদা ৭৭,৬২৪ টন, হরিণা ১২,৪৮২ টন, চাকা ৫,৪২২ টন এবং অন্যান্য চিংড়ি ৯৭,২৪২ টন। শেষ দলের বেশির ভাগ এসেছে উন্মুক্ত জলাশয় থেকে, যার মধ্যে প্লাবনভূমি থেকে ৪৬,১০৮ টন, নদী থেকে ১৪,৯৯১ টন এবং বিল থেকে ৪,৫৫৫ টন; আর সমুদ্র থেকে এসেছে আরও ২০,১৫৮ টন। জাগো নিউজ ২৪-এর রেসিপিতে কোন চিংড়ি ব্যবহার করতে হবে, তা বলা হয়নি।

বাংলাপিডিয়ায় প্রধান প্রজাতিগুলোর আবাস ও প্রজননকালের বিবরণ আছে। গলদা চিংড়ি (Macrobrachium rosenbergii) নদী, উপনদী, খাল ও নদীর মোহনায় থাকে এবং জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত প্রজনন করে; জ্ঞানকোষের তালিকায় এটিই সবচেয়ে বড়, পুরুষের গড় আকার ৩৪ সেন্টিমিটার আর স্ত্রীর ২৬.৭ সেন্টিমিটার। বাগদা চিংড়ি (Penaeus monodon) থাকে বঙ্গোপসাগর ও মোহনায়, প্রজনন করে নভেম্বর থেকে মার্চে। হরিণা চিংড়ি (Metapenaeus monoceros) পাওয়া যায় বঙ্গোপসাগর, সুন্দরবন ও নদীর মোহনায়; সারা বছরই প্রজনন করে, তবে জুলাই-আগস্ট এবং নভেম্বর-ডিসেম্বরে তা সবচেয়ে বেশি। মৎস্য অধিদপ্তরের বর্ষগ্রন্থে চাকা চিংড়ির বৈজ্ঞানিক নাম Fenneropenaeus indicus; বাংলাপিডিয়া একই প্রজাতিকে Penaeus indicus নামে বঙ্গোপসাগর ও মোহনার চিংড়ি হিসেবে উল্লেখ করেছে, যার প্রজননকাল অক্টোবর-নভেম্বর এবং মে-জুন।

দেশের মৎস্য খাত ও রপ্তানিতে চিংড়ি


চিংড়ি দেশের বড় একটি মৎস্য খাতের অংশ। মৎস্য অধিদপ্তরের ২০২৩-২৪ সালের বর্ষগ্রন্থ অনুযায়ী, ওই অর্থবছরে দেশে মোট মাছ উৎপাদন হয় ৫০.১৮ লাখ টন, যার ৫৯.৩৪ শতাংশ এসেছে চাষ থেকে। বর্ষগ্রন্থে বলা হয়েছে, দেশের মানুষের প্রাণিজ আমিষের প্রায় ৬০ শতাংশ জোগায় মাছ; মাথাপিছু মাছ গ্রহণ দিনে ৬৭.৮০ গ্রাম, যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ৬০ গ্রাম। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে ২০২৩-২৪ সালে কৃষি খাতে মৎস্য খাতের অবদান ২২.২৬ শতাংশ, আর দেশের প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে মৎস্য খাতের ওপর জীবিকার জন্য নির্ভরশীল।

একই বর্ষগ্রন্থে চিংড়িকে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলোর একটি বলা হয়েছে। আহরণসহ মোট চিংড়ি উৎপাদন ২০২৩-২৪ সালে ছিল ২.৬০ লাখ টন, যা আগের বছরের ২,৭১,৩০২ টনের তুলনায় ৩.৯৯ শতাংশ কম। এর মধ্যে চিংড়ি খামার থেকে এসেছে ১,৪৭,৮২৪ টন, যা ২.৪১ শতাংশ বেশি; অন্যান্য অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৮৬,৩৯৩ টন; আর সমুদ্র থেকে ২৬,২৬৯ টন, যেখানে আগের বছর এসেছিল ৪৬,৭৬৩ টন। দেশের চিংড়ি খামারের আয়তন ছিল ২,৬২,২১৭ হেক্টর, হেক্টরপ্রতি চিংড়ির ফলন ৫৬৪ কেজি। অনেক খামারে চিংড়ির সঙ্গে মাছও চাষ হয় বলে এসব খামার থেকে রুই, কাতলা ও তেলাপিয়ার মতো মাছও এসেছে ১,৬৭,৫৬৩ টন।

বাংলাপিডিয়ায় চিংড়ি চাষের বিস্তারের বিবরণ আছে। বাগদা চিংড়ি চাষ হয় সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট এবং চকরিয়া ও টেকনাফসহ কক্সবাজারের উপকূলীয় ও জোয়ারভাটার জমিতে ঘের ও পুকুরে। গলদা চাষ হয় মূলত বাগেরহাট, খুলনা, যশোর, পটুয়াখালী, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলার পুকুর ও ধানখেতে। দুটিই এককভাবে, মুলেট, কার্প ও তেলাপিয়ার মতো মাছের সঙ্গে মিশ্রভাবে, কিংবা ধানের সঙ্গে পালাক্রমে বা একই সময়ে চাষ করা হয়। জ্ঞানকোষটি বলছে, বাংলাদেশে সনাতন ও উন্নত সনাতন পদ্ধতিই সফলভাবে চলছে।

কক্সবাজারের মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নের হরিয়ারছড়া গ্রামের একটি চিংড়ি ঘেরে নৌকা। ছবি: HMsayed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
কক্সবাজারের মহেশখালীর হোয়ানক ইউনিয়নের হরিয়ারছড়া গ্রামের একটি চিংড়ি ঘেরে নৌকা। ছবি: HMsayed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

বর্ষগ্রন্থের রপ্তানি পরিসংখ্যান, যা রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং মৎস্য অধিদপ্তরের মৎস্য পরিদর্শন ও মাননিয়ন্ত্রণ শাখার তথ্য থেকে নেওয়া, বাণিজ্যে চিংড়ির অবস্থানের বদল দেখায়। ২০২৩-২৪ সালে বাংলাদেশ ৭৭,৪০৭.৯৪ টন মাছ ও মৎস্যপণ্য রপ্তানি করে ৪,৫৩১.৮৬ কোটি টাকা আয় করে, যা দেশের মোট রপ্তানি আয়ের ০.৯১ শতাংশ। এর মধ্যে হিমায়িত চিংড়ি ছিল ১৯,১৩১.৩৫ টন, মূল্য ২,১১৭.৬৭ কোটি টাকা: বাগদা ১৩,০৪৯.৯৪ টন (১,৩৯৭.৩৬ কোটি টাকা), গলদা ৪,০৪২.৫০ টন (৫৫৫.১৬ কোটি টাকা) এবং অন্যান্য চিংড়ি ২,০৩৮.৯১ টন (১৬৫.১৫ কোটি টাকা)। বিশ বছর আগে, ২০০৩-০৪ সালে, দেশ থেকে ৪২,৯৪৩ টন হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি হয়েছিল, যার মূল্য ছিল ২,১৫২.৮ কোটি টাকা।

বাংলাদেশের বাগদা চিংড়ি ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতিও পেয়েছে। দৈনিক ইত্তেফাক ২০২২ সালের ১৮ মে জানায়, পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর বাগদা চিংড়িকে বাংলাদেশের জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে; মৎস্য অধিদপ্তর ২০১৯ সালের মে মাসে এর জন্য আবেদন করেছিল, আর ২০২২ সালের ২৪ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে নিবন্ধন সনদ দেওয়া হয়। এর ফলে অন্য কোনো দেশ বাগদা চিংড়িকে নিজেদের পণ্য বলে পরিচয় দিতে পারবে না। মৎস্য অধিদপ্তরের বর্ষগ্রন্থে এই নিবন্ধন ‘বাংলাদেশ টাইগার শ্রিম্প’ নামে উল্লেখ আছে। সংবাদ সংস্থা ইউএনবি ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বরের এক প্রতিবেদনে জানায়, ইপিবির তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায় ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চিংড়ি রপ্তানি থেকে আয় হয়েছিল ৫২৯ মিলিয়ন ডলার; এরপর রপ্তানি অনেক কমে যায়, আর ২০২৪-২৫ সালে ১৯ শতাংশ বাড়লেও তা আগের উচ্চতা থেকে অনেক দূরে ছিল। শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আসিফ ওয়ারেস নেওয়াজ ইউএনবিকে বলেন, আন্তর্জাতিক মানের বাইরে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার, বাগদা চিংড়িতে হোয়াইট স্পট রোগ এবং জেলি পুশের মতো বিষয় রপ্তানির ক্ষতি করেছে।

ডিম: পদটির অন্য অর্ধেক


অমলেটের ডিম আসে দেশের পোলট্রি খাত থেকে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর বিবিএসের তথ্যের ভিত্তিতে ‘লাইভস্টক ইকোনমি অ্যাট আ গ্লান্স’ নামে একটি সারসংক্ষেপ প্রকাশ করে। এর ২০২৪-২৫ সংস্করণ অনুযায়ী, যেখানে ওই বছরের হিসাব সাময়িক, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ডিম উৎপাদন হয় ২,৪৪০.৬৫ কোটি; ২০২৩-২৪ সালে তা ছিল ২,৩৭৪.৯৭ কোটি এবং ২০১৫-১৬ সালে ১,১৯১.২৪ কোটি।

একই সারসংক্ষেপে ২০২৪-২৫ সালে দেশে ডিমের চাহিদা ধরা হয়েছে ১,৮৫০.১৬ কোটি, মাথাপিছু বছরে ১০৪টি ডিমের হিসাবে; আর প্রাপ্যতা মাথাপিছু বছরে ১৩৭.১৯টি। ২০২৪-২৫ সালে দেশে মুরগির সংখ্যা ৩,৩৬০.৭০ লাখ এবং হাঁসের সংখ্যা ৭০৫.৮২ লাখ। স্থির মূল্যে দেশের মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রাণিসম্পদ খাতের অবদান ১.৮১ শতাংশ এবং কৃষি জিডিপিতে ১৬.৫৪ শতাংশ; অধিদপ্তরের সারসংক্ষেপে এই খাতে কর্মসংস্থানের হার সরাসরি ২০ শতাংশ এবং আংশিকভাবে ৫০ শতাংশ।

ট্রেতে সাজানো মুরগির ডিম। ছবি: Maksym Kozlenko / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ট্রেতে সাজানো মুরগির ডিম। ছবি: Maksym Kozlenko / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

হলুদ, মরিচ, পেঁয়াজ ও ধনেপাতা


রেসিপির মসলাগুলোও একেকটি ফসল। হলুদ (Curcuma longa) আদা গোত্রের (জিঞ্জিবারেসি) একটি সপুষ্পক উদ্ভিদ, যার আদি নিবাস ভারতীয় উপমহাদেশ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। এর কন্দ সাধারণত পানিতে সেদ্ধ করে শুকানো হয়, তারপর গুঁড়া করে তৈরি হয় গাঢ় কমলা-হলুদ রঙের মসলা, যা তরকারিতে রং ও স্বাদ আনে; এর উজ্জ্বল হলুদ রঙের উৎস কারকিউমিন নামের একটি রাসায়নিক। এই রেসিপিতে হলুদ দুবার লাগে: চিংড়ির মেরিনেডে সামান্য, আর ডিমের মিশ্রণে আধা চা চামচ গুঁড়া।

এই রেসিপি প্রকাশের আগের বছরগুলোতে বাংলাদেশে হলুদ গুঁড়া একটি খাদ্য নিরাপত্তা সমস্যার কেন্দ্রে ছিল। জে. ই. ফরসাইথ ও তাঁর সহকর্মীদের ২০২৩ সালে ‘এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, লেড ক্রোমেট রঞ্জক মেশানো হলুদ দেশে সিসার সংস্পর্শের একটি প্রধান উৎস হিসেবে আগেই চিহ্নিত হয়েছিল। ২০১৭ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে একটি উদ্যোগে গণমাধ্যমের মাধ্যমে বৈজ্ঞানিক তথ্য প্রচার করা হয়, গণবিজ্ঞপ্তি ও সরাসরি বৈঠকের মাধ্যমে ভোক্তা ও ব্যবসায়ীদের সচেতন করা হয়, এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলে দ্রুত সিসা শনাক্তের প্রযুক্তি ব্যবহার করে হলুদে ভেজাল নিষিদ্ধের নীতি প্রয়োগ করা হয়। এর ফলে বাজারের হলুদের নমুনায় সিসা পাওয়ার হার ২০১৯ সালের ৪৭ শতাংশ থেকে ২০২১ সালে শূন্যে নেমে আসে, আর লেড ক্রোমেট মেশানোর সরাসরি প্রমাণ পাওয়া পলিশিং মিলের হার ২০১৭ সালের ৩০ শতাংশ থেকে ২০২১ সালে শূন্যে নামে।

মরিচ (Capsicum frutescens) সোলানেসি গোত্রের উদ্ভিদ, এর আদি নিবাস মেক্সিকো। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে দেশে প্রায় ৬৬,২৩৫ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষ হয়, বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ৫২,২১৫ টন; কাঁচা ও শুকনা দুই ধরনের মরিচই তরকারির মসলা হিসেবে ব্যবহৃত হয়, আর শুকনা মরিচ কারি পাউডারের উপকরণ। পেঁয়াজের (Allium cepa) উৎপত্তি সম্ভবত পশ্চিম এশিয়ায়; বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী দেশে প্রায় ৮৬,৪২৯ হেক্টর জমিতে পেঁয়াজ চাষ হয়, মোট উৎপাদন প্রায় ৫,৮৯,৪১০ টন, আর সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয় ফরিদপুরে; এটি টাটকা সবজি, মসলা ও তরকারির উপকরণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ধনে (Coriandrum sativum) ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের উদ্ভিদ, বাংলাদেশে শীতকালীন ফসল হিসেবে ব্যাপকভাবে চাষ হয়; অক্টোবর-নভেম্বরে বোনা হয় এবং ৯০ থেকে ১০৫ দিনে পরিপক্ব হয়। এর কচি গাছ চাটনি, সস, তরকারি ও স্যুপে ব্যবহৃত হয়, আর এই রেসিপিতে ধনেপাতা কুচি ছড়ানো হয় অমলেটের ওপরে।

পদটিতে কী আছে, আর অ্যালার্জির সতর্কতা


যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফুডডেটা সেন্ট্রাল ডেটাবেসের ২০১৯ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত এসআর লিগেসি তথ্যে দুটি প্রধান উপকরণেরই পুষ্টিমান দেওয়া আছে। প্রতি ১০০ গ্রাম রান্না করা চিংড়িতে আছে ৯৯ কিলোক্যালরি, ২৩.৯৮ গ্রাম আমিষ, ০.২৮ গ্রাম চর্বি, ১৮৯ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল, ১১১ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ৭০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম এবং ১.৬৪ মিলিগ্রাম জিংক। প্রতি ১০০ গ্রাম কাঁচা গোটা মুরগির ডিমে আছে ১৪৩ কিলোক্যালরি, ১২.৫৬ গ্রাম আমিষ, ৯.৫১ গ্রাম চর্বি, ৩৭২ মিলিগ্রাম কোলেস্টেরল, ১৪২ মিলিগ্রাম সোডিয়াম, ১.৭৫ মিলিগ্রাম আয়রন, ৩০.৭ মাইক্রোগ্রাম সেলেনিয়াম, ২৯৩.৮ মিলিগ্রাম কোলিন এবং ২ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন ডি।

এই হিসাব শুধু উপকরণগুলোর; ভাজার তেল আলাদা চর্বি ও শক্তি যোগ করে, আর এক পরিবেশনে কতটা পুষ্টি থাকবে তা নির্ভর করে রাঁধুনি কতটা চিংড়ি ও কয়টি ডিম ব্যবহার করছেন তার ওপর, যা রেসিপিতে বলা নেই। যাঁরা বিশেষ খাদ্যতালিকা মেনে চলেন, কিংবা চিকিৎসক যাঁদের কোলেস্টেরল, চর্বি বা লবণ কম খেতে বলেছেন, তাঁদের এমন পদ খাদ্যতালিকায় কীভাবে রাখা যায়, তা চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত।

পদটিতে খাবারে অ্যালার্জির দুটি সাধারণ উৎস একসঙ্গে আছে। এফডিএ নয়টি প্রধান খাদ্য-অ্যালার্জেনের তালিকা দিয়েছে: দুধ, ডিম, মাছ, ক্রাস্টেশিয়ান শেলফিশ, গাছবাদাম, চীনাবাদাম, গম, সয়াবিন ও তিল। চিংড়ি ক্রাস্টেশিয়ান শেলফিশ, তাই এই অমলেটে নয়টির মধ্যে দুটি আছে। এফডিএ জানায়, উপসর্গ সাধারণত খাবার খাওয়ার কয়েক মিনিট থেকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যে দেখা দেয়; এর মধ্যে থাকতে পারে আমবাত, ত্বক লাল হয়ে যাওয়া বা ফুসকুড়ি, মুখের ভেতরে ঝিনঝিন বা চুলকানি, মুখমণ্ডল, জিভ বা ঠোঁট ফুলে যাওয়া, বমি বা ডায়রিয়া, পেটে খিঁচুনি, কাশি বা শ্বাসে সাঁই সাঁই শব্দ, মাথা ঘোরা, গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট এবং জ্ঞান হারানো। মারাত্মক, প্রাণঘাতী অ্যালার্জিক প্রতিক্রিয়াকে বলা হয় অ্যানাফাইল্যাক্সিস। এফডিএর পরামর্শ, কারও খাবারে অ্যালার্জি আছে জানা থাকলে এমন উপসর্গ দেখামাত্র খাবার খাওয়া বন্ধ করে চিকিৎসকের সহায়তা নিতে হবে।

চিংড়ি ও ডিম নিরাপদে রাখা ও রান্না


দুটি উপকরণই দ্রুত নষ্ট হয় এবং জীবাণু বহন করতে পারে, তাই খাদ্য নিরাপত্তা সংস্থাগুলো এ বিষয়ে নির্দিষ্ট পরামর্শ দেয়। চিংড়ির ক্ষেত্রে, সামুদ্রিক খাবার নিরাপদে বাছাই ও পরিবেশন নিয়ে এফডিএর নির্দেশনায় বলা হয়েছে, মাছ কিনতে হবে কেবল তখনই, যখন তা ফ্রিজে বা পুরু টাটকা বরফের স্তরের ওপর রাখা থাকে; চিংড়ির মাংস হবে স্বচ্ছ, মুক্তার মতো রঙের, আর গন্ধ থাকবে খুব কম বা একেবারেই না। কেনার দুই দিনের মধ্যে ব্যবহার করতে হলে তা পরিষ্কার ফ্রিজে ৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা তার কম তাপমাত্রায় রাখতে হবে; তা না হলে ভালোভাবে মুড়িয়ে ফ্রিজারে রাখতে হবে। হিমায়িত সামুদ্রিক খাবার রাতভর ফ্রিজে রেখে ধীরে ধীরে গলানো ভালো, আর তাড়াতাড়ি দরকার হলে প্লাস্টিকের ব্যাগে বন্ধ করে ঠান্ডা পানিতে ডুবিয়ে রাখা যায়।

রান্নার ক্ষেত্রে এফডিএ বলছে, বেশির ভাগ সামুদ্রিক খাবারের ভেতরের তাপমাত্রা ১৪৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে পৌঁছানো উচিত, আর চিংড়ির মাংস শক্ত, মুক্তার মতো উজ্জ্বল ও অস্বচ্ছ হলে বুঝতে হবে তা রান্না হয়েছে। সংস্থাটি সতর্ক করে, নষ্ট সামুদ্রিক খাবার থেকে টক, বাসি, আঁশটে বা অ্যামোনিয়ার মতো গন্ধ আসতে পারে, রান্নার পর এই গন্ধ আরও বাড়ে, আর এমন গন্ধ পেলে তা খাওয়া উচিত নয়। কাঁচা খাবার ধরার পর সাবান ও কুসুম গরম পানি দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধুতে হবে, আর কাঁচা সামুদ্রিক খাবার ও রান্না করা খাবার প্রস্তুতের মাঝে কাটার বোর্ড, থালাবাসন, চামচ-খুন্তি ও রান্নাঘরের তাক সাবান ও গরম পানিতে ধুয়ে নিতে হবে। এই রেসিপির ক্ষেত্রে এর মানে, কাঁচা চিংড়ি বাটার শিল-পাটা বা ব্লেন্ডার রান্না করা কোনো খাবারের সংস্পর্শে আসার আগে ধুয়ে নেওয়া।

ডিমের ক্ষেত্রে এফডিএ ব্যাখ্যা করে, পরিষ্কার ও না-ফাটা খোসার ডিমেও সালমোনেলা ব্যাকটেরিয়া থাকতে পারে, যা খাদ্যে বিষক্রিয়া ঘটাতে পারে; আক্রান্ত বেশির ভাগ মানুষের ১২ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে ডায়রিয়া, জ্বর, পেটে খিঁচুনি ও বমি হয়, আর শিশু, বয়স্ক, অন্তঃসত্ত্বা নারী এবং দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার মানুষের গুরুতর অসুস্থতার ঝুঁকি বেশি। সংস্থাটির পরামর্শ: ডিম ফ্রিজে রাখতে হবে, কুসুম ও সাদা অংশ দুটোই শক্ত না হওয়া পর্যন্ত রান্না করতে হবে, আর ডিমযুক্ত পদ ১৬০ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত রান্না করতে হবে। রান্না করা ডিমের পদ বেঁচে গেলে ফ্রিজে রেখে তিন থেকে চার দিনের মধ্যে খেয়ে ফেলতে হবে, আর সামুদ্রিক খাবারের মতোই রান্না করা ডিম বা ডিমের পদ দুই ঘণ্টার বেশি, কিংবা তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হলে এক ঘণ্টার বেশি, ফ্রিজের বাইরে রাখা উচিত নয়।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রতিটি রান্নাঘরের জন্য একই নীতিগুলো সংক্ষেপে বলেছে তাদের ‘নিরাপদ খাদ্যের পাঁচটি চাবিকাঠি’তে: পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকুন; কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখুন; ভালোভাবে রান্না করুন; খাবার নিরাপদ তাপমাত্রায় রাখুন; আর নিরাপদ পানি ও কাঁচামাল ব্যবহার করুন। এফডিএর পরামর্শ, নিজের বা পরিবারের কারও খাদ্যে বিষক্রিয়া হয়েছে বলে মনে হলে অবিলম্বে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

ছবি: Torshac12 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, মৎস্য অধিদপ্তর (ইয়ারবুক অব ফিশারিজ স্ট্যাটিসটিকস অব বাংলাদেশ ২০২৩-২৪), প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (লাইভস্টক ইকোনমি অ্যাট আ গ্লান্স ২০২৪-২৫), বাংলাপিডিয়া (চিংড়ি, মরিচ, পেঁয়াজ, ধনে), দৈনিক ইত্তেফাক, ইউএনবি, এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (ফরসাইথ ও অন্যান্য, ২০২৩), ইউএসডিএ ফুডডেটা সেন্ট্রাল, যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, উইকিপিডিয়া (অমলেট, এগ ফু ইয়াং, হলুদ)

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

রান্নাবান্না

সম্পর্কিত খবর

রান্নাবান্না

ঘরেই ক্যাফে-স্টাইলের ক্রিমি প্রন পাস্তা: উপকরণ আর রান্নার ধাপ

২৫০ গ্রাম পাস্তা, এক কাপ চিংড়ি, ১০০ গ্রাম চিজ, মেয়োনিজ আর দুধে তৈরি ঘন ক্রিমি সসে প্রন পাস্তা; সেদ্ধ থেকে পরিবেশন পর্যন্ত সময় লাগে অল্পই।

সারাবাংলা১৪ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
স্বাস্থ্য

প্রোটিন শেক কি খাবারের বিকল্প? কার কতটা প্রোটিন লাগে

প্রাপ্তবয়স্কের দৈনিক প্রতি কেজি ওজনে ০.৮ গ্রাম প্রোটিন লাগে, ৭০ কেজির মানুষের ৫৬ গ্রাম, যা সুষম খাবার থেকেই মেলে; প্রোটিন শেক দরকার কেবল যাঁদের চাহিদা খাবারে পূরণ হয় না।

প্রথম আলো১৪ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
রান্নাবান্না

মৌসুমি তালের পিউরিতে নরম কেক, ঘরে বানানোর সহজ রেসিপি

আধা কাপ তালের পিউরি, এক কাপ ময়দা, দুটি ডিম আর এক-তৃতীয়াংশ কাপ গুঁড়া দুধ ও তেলে ওভেনে ১৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ৩৫-৪০ মিনিটে তৈরি হয় তুলতুলে তালের কেক।

এগ্রিকেয়ার২৪১৪ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)