সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

শীতের কুল এলেও দেশি-বিদেশি ফলের চড়া দামে অস্বস্তিতে ঢাকার ক্রেতারা

২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর ঢাকার বাজারে দেশি ও আমদানি করা ফলের সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও প্রতি কেজি কুল ২৫০-৩০০ টাকা এবং অধিকাংশ বিদেশি ফল ৩০০ টাকার ওপরে বিক্রি হয়েছে; রমজানের প্রায় দুই মাস আগেই ক্রেতারা কম কিনছিলেন, জানায় জাগো নিউজ।

শীতের কুল এলেও দেশি-বিদেশি ফলের চড়া দামে অস্বস্তিতে ঢাকার ক্রেতারা
ফল

শীতের মৌসুমে কুল, বরইসহ নানা দেশি ফল বাজারে এলেও দাম বেশি হওয়ায় অস্বস্তিতে পড়েছিলেন রাজধানীর ক্রেতারা। ২০২৫ সালের ২৬ ডিসেম্বর, শুক্রবার, অনলাইন সংবাদমাধ্যম জাগো নিউজ এ খবর দেয়। সেদিন মিরপুর, টোলারবাগ, পল্লবী, কালশী ও রূপনগর এলাকার বাজার ঘুরে প্রতিবেদক দেখেন, দেশি ফলের পাশাপাশি আপেল, আঙুর, কমলা, আনারসহ অধিকাংশ আমদানি করা ফল প্রচুর সরবরাহে রয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী সমস্যা সরবরাহে নয়, দামে। ক্রেতারা কিনছিলেন সীমিত পরিমাণে, আর তাঁদের ভাষ্য, পবিত্র রমজান শুরু হতে তখনো প্রায় দুই মাস বাকি থাকলেও ৩০০-৩৫০ টাকার নিচে বেশিরভাগ ফল মিলছিল না।

শীতের দেশি ফল ও তার দাম


প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেদিন ঢাকার বাজারে প্রতি কেজি মাঝারি আকারের বরই বিক্রি হচ্ছিল ১৫০-২০০ টাকায়, কুল ২৫০-৩০০ টাকায়। ছোট বরই পাওয়া যাচ্ছিল ১০০-১৩০ টাকায়। থাই পেয়ারা বিক্রি হচ্ছিল ১০০-১২০ টাকায়, আর চালতা ও কদবেল ৪০-৬০ টাকায়। এই চার ফলের বাইরে বাকি ফলও ক্রেতার নাগালের বাইরে ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়; দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতাদের মুখ ছিল মলিন।

দেশে উৎপাদিত অন্য ফলের মধ্যে প্রতি কেজি ড্রাগন ফলের দাম ছিল ২০০-২৫০ টাকা, সফেদা ১৫০ টাকা, আমড়া ১২০-১৫০ টাকা এবং জলপাই ৮০-১০০ টাকা।

বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া বরই ও কুলকে একই ফলের, অর্থাৎ ভারতীয় বরই বা ইন্ডিয়ান জুজুবের দুটি বাংলা নাম হিসেবে উল্লেখ করেছে। বাজার প্রতিবেদনে অবশ্য বরই ও কুলের দাম আলাদা করে দেওয়া হয়েছে, যেখানে বড় আকারের কুলের দাম ছিল বেশি।

আমদানি করা ফল ৩০০ টাকার ওপরে


আমদানি করা ফলের মধ্যে প্রতি কেজি মাল্টা বিক্রি হচ্ছিল ২৫০-৩০০ টাকায়। কমলার দাম ছিল ৩৫০-৩৮০ টাকা, ছোট কমলা ৩০০-৩২০ টাকা এবং চায়না কমলা ৩০০-৩২০ টাকা। নাশপাতি বিক্রি হচ্ছিল ৩০০-৩৫০ টাকায়। আনারের দাম ছিল ৬০০-৬৫০ টাকা, আঙুর ৫০০-৬০০ টাকা এবং পার্সিমন ফলের দাম প্রতি কেজি এক হাজার ২০০ টাকা। ফুজি আপেল বিক্রি হচ্ছিল ৩০০-৩৫০ টাকায়, আর সবুজ আপেল ৪০০-৪৫০ টাকায়।

এসব বাজারের ক্রেতারা প্রতিবেদককে জানান, রমজান, যখন ফলের চাহিদা বাড়ে, শুরু হতে এখনো প্রায় দুই মাস বাকি থাকলেও রাজধানীর বাজারে আমদানি করা ফলের দাম এরই মধ্যে বেড়ে গেছে।

বিক্রেতারা দিয়েছেন নিজেদের ব্যাখ্যা। তাঁদের ভাষ্য, পাইকারি পর্যায়ে দাম বেশি থাকায় খুচরা বাজারেও ফলের দাম চড়া, আর আমদানি কম হওয়া ও উচ্চ রাজস্বের কারণে বিদেশি ফলের দাম বেড়েছে। এ অবস্থায় রমজানের আগে ফলের দাম আরেক দফা বাড়তে পারে বলে আশঙ্কার কথাও প্রতিবেদনে উঠে আসে।

বিক্রেতা ও ক্রেতারা যা বললেন


পল্লবীর ফল বিক্রেতা রায়হান মাহমুদ বলেন, পাইকারি বাজারে সব ধরনের আমদানি করা ফলের দাম বেড়েছে। মাল্টার দাম কিছুটা কম থাকলেও প্রতি সপ্তাহেই ফলের দাম বাড়ছে। তাঁর মতে, রমজানের আগে দাম আরও বাড়তে পারে, কারণ সে সময় চাহিদা বাড়বে, কিন্তু সরবরাহ কম থাকবে।

রূপনগর বাজারের ফল বিক্রেতা শামসুদ্দোহা বলেন, ফল বিক্রি আগের তুলনায় অনেক কমে গেছে। বর্তমানে মূলত অসুস্থ ব্যক্তিরাই ফল কিনছেন। সাধারণ ক্রেতারা নিজের খাওয়ার জন্য খুব অল্প পরিমাণে ফল নিচ্ছেন, আধা কেজি কিংবা এক-দুটি কমলা বা আপেল। এভাবেই তখন বেচাকেনা চলছিল বলে জানান তিনি।

ক্রেতাদের অভিযোগ, বাজারে তদারকির অভাবে বিক্রেতারা ইচ্ছামতো ফলের দাম নির্ধারণ করছেন। এই অভিযোগের বিষয়ে ব্যবসায়ী বা বাজার তদারকির দায়িত্বে থাকা কোনো কর্তৃপক্ষের বক্তব্য প্রতিবেদনে ছিল না।

মধ্য পল্লবীর ফুটপাতে একাধিক ফলের দোকান ঘুরে দেখছিলেন চাকরিজীবী নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, কিছুদিন আগেও প্রতি কেজি মাল্টা ও কমলা ছিল ২০০-২৫০ টাকা, কিন্তু এখন সেগুলোর দাম ৩০০ টাকার ওপরে। তাঁর মতে, বাজারে ফলের ঘাটতি নেই, আমদানিও পর্যাপ্ত, তাই দাম বাড়ার যুক্তিসংগত কোনো কারণ নেই। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে ফল সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

গৃহিণী সাবিহা মাহমুদ বলেন, রমজান আসতে দেরি আছে, অথচ এর মধ্যেই ফলের দাম বেড়েছে। ফলের বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের বড় পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

কুল ও বরই: শীতের দেশি ফল


প্রতিবেদনে সবচেয়ে কম দামের ফলগুলো ছিল শীতের। বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায় বরই বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ফল। এটি জিজিফাস (Ziziphus) গণের ফল, যে গণে প্রায় ৪০টি প্রজাতি আছে; এর মধ্যে চাষ হয় দুটির, ভারতীয় বরই (Ziziphus mauritiana) এবং চীনা বরই (Ziziphus jujuba)। জ্ঞানকোষটির তথ্যমতে, বরইয়ের উৎপত্তি ভারতের উত্তরাঞ্চল, চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও মালয়েশিয়ার মধ্যাঞ্চলে; আফ্রিকা ও আমেরিকার শুষ্ক অঞ্চলেও এটি জন্মে।

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, বরইয়ে ৮৫.৯ শতাংশ পানি, ০.৮ শতাংশ আমিষ, ০.১ শতাংশ চর্বি ও ১২.৮ শতাংশ শর্করা থাকে; খাওয়ার উপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম অংশে থাকে ৫৫ কিলোক্যালরি, ৭০ আন্তর্জাতিক একক ক্যারোটিন এবং ৫০ থেকে ১৫০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। ফলটি টাটকা খাওয়া হয়, আবার জ্যাম, জেলি, চাটনি, আচার ও জুসও তৈরি হয়। জ্ঞানকোষটির ফলবিষয়ক ভুক্তিতে ভারতীয় বরই সংগ্রহের সময় বলা হয়েছে ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাস।

দেশে বরইয়ের কয়েকটি জাতের চাষ হয়। বাংলাপিডিয়া জনপ্রিয় জাত হিসেবে বাউকুল ১ ও ২, বারি কুল ১ ও ২, নারিকেলি, সবজি ও আপেল কুলের নাম দিয়েছে এবং এগুলোর বর্ণনা দিয়েছে এভাবে:

  • বাউকুল ১: বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মপ্লাজম সেন্টার উদ্ভাবিত জাত। ফলের ওজন ৯০ থেকে ২৫০ গ্রাম, মিষ্টতা (টিএসএস) ১৮ থেকে ২১। গাছ কাঁটাহীন, দ্রুত বাড়ে এবং চারা রোপণের চার-পাঁচ মাসের মধ্যে ফল ধরে। বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার মতো লবণাক্ত এলাকা, সেন্ট মার্টিন, সোনাদিয়া দ্বীপ ও কক্সবাজারের মতো বালুময় এলাকা এবং খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির পাহাড়ি এলাকাসহ সারা দেশে এর চাষ হয়।
  • বাউকুল ২ (শাহ কুল): এটিও বিশ্ববিদ্যালয়ের জার্মপ্লাজম সেন্টারের জাত। ফলের ওজন ১০০ থেকে ২০০ গ্রাম, মিষ্টতা ১৯ থেকে ২৫, বীজ ছোট, শাঁস কচকচে ও রসালো; গাছ খাটো আকারের।
  • নারিকেলি কুল: ফল লম্বাটে, টাকুর মতো; বীজ ছোট, শাঁস মিষ্টি। সাতক্ষীরা, রাজশাহী ও আশপাশের এলাকা এর প্রধান উৎপাদন অঞ্চল।
  • কুমিল্লার কুল: কুমিল্লার কচুয়া, বরুড়া ও চান্দিনা এলাকায় জন্মে; দেখতে ডাবের মতো বলে স্থানীয়ভাবে একে ডাব কুল বলা হয়।
  • আপেল কুল: দেখতে আপেলের মতো আকর্ষণীয়, কচকচে, মিষ্টি ও রঙিন ফল; গাছ দ্রুত বাড়ে এবং ফল ঝরে কম।

বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, বরই সহিষ্ণু গাছ। এটি খরা সইতে পারে, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এক হাজার মিটার উচ্চতা পর্যন্ত জন্মে এবং শুষ্ক ও গরম আবহাওয়া এর জন্য ভালো; তবে ভারী ও সামান্য ক্ষারীয় মাটি সবচেয়ে উপযোগী। বীজ থেকে চারা হয়, তবে এখন কুঁড়ি সংযোজন ও কলম ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে ফাটল কলম সবচেয়ে জনপ্রিয়। চারা রোপণের সবচেয়ে ভালো সময় মার্চ থেকে মে। নতুন ডালে ফল ধরে বলে সংগ্রহ শেষে, সাধারণত মার্চের শেষে, গাছ ছেঁটে দেওয়া হয়; পাউডারি মিলডিউ ও ফলের মাছির আক্রমণ কমাতে বাগানের কাছে বুনো বরইগাছ রাখা হয় না। ফলের মাছি ও ফল ছিদ্রকারী পোকা বরইয়ের প্রধান শত্রু; এগুলো দমনের ব্যবস্থা জানতে চাষিদের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নেওয়া উচিত।

জ্ঞানকোষে এই ফসলের সরকারি পরিসংখ্যান পুরোনো। বাংলাপিডিয়ার ফলবিষয়ক ভুক্তির একটি সারণিতে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০০৭ সালের কৃষি পরিসংখ্যান বর্ষগ্রন্থের বরাতে তখন ভারতীয় বরইয়ের জমি প্রায় চার হাজার হেক্টর এবং বার্ষিক উৎপাদন প্রায় ১৫ হাজার টন দেখানো হয়েছিল। পরে বাণিজ্যিক চাষ অনেক বেড়েছে: ২০২৪ সালের জুলাইয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পুষ্টি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক প্রথম আলোকে বলেন, পেয়ারা ও বরইয়ের মতো দেশি ফল এখন সারা বছর পাওয়া যায়, যা আমদানি করা ফলের চাহিদা কমিয়েছে।

বাংলাদেশের পাকা বরই। ছবি: Shariful Islam (Masum) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশের পাকা বরই। ছবি: Shariful Islam (Masum) / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

চালতা, কদবেল, পেয়ারা, আমড়া, সফেদা ও জলপাই


প্রতিবেদনের অন্য দেশি ফলগুলোর বেশিরভাগই বাংলাপিডিয়ার ভাষায় দেশের অপ্রধান ফল। জ্ঞানকোষটির তথ্যমতে, বাংলাদেশে ৯টি প্রধান ও ৪৮টি অপ্রধান ফল জন্মে, মোট প্রায় ১,৩৯,৫৩৫ হেক্টর জমিতে; এর ৭৯ শতাংশ জমিতে চাষ হয় আম, কলা, কাঁঠাল, আনারস, পেঁপে, লিচু ও বরই। দেশের মোট ফলের প্রায় ৫৪ শতাংশ সংগ্রহ হয় বৈশাখ থেকে শ্রাবণ, এই চার মাসে; বাকি ৪৬ শতাংশ আসে অন্য আট মাসে, যার মধ্যে আছে বরই, আমড়া, আমলকী, বেল, সফেদা, আনার ও কামরাঙা। এ কারণেই শীতের বাজারে দেশি ফলের তালিকা ছোট।

  • চালতা (Dillenia indica): বাংলাপিডিয়া একে দেশের সাধারণ অপ্রধান ফলের তালিকায় রেখেছে।
  • কদবেল বা কতবেল (Feronia limonia): মাঝারি আকারের কাঁটাওয়ালা ছোট পাতার গাছের ফল। বাংলাপিডিয়ার বর্ণনায় ফলটি প্রায় টেনিস বলের মতো বড়, কাঁচা অবস্থায় সবুজাভ এবং পাকলে সাদাটে; এর সুগন্ধি, সামান্য টক শাঁস চাটনি হিসেবে ব্যাপকভাবে খাওয়া হয়। গাছটি সারা দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে জন্মে।
  • পেয়ারা: বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আমেরিকা থেকে আসা এই ফল এখন প্রায় সব গ্রামের বাগানে জন্মে। দেশে প্রায় ৫০টি জাত পাওয়া যায়, যার বেশিরভাগ চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট ও বরিশাল অঞ্চলে; ফলের ওজন ২০ থেকে ৭০০ গ্রাম।
  • আমড়া (বাংলাপিডিয়ার সারণিতে Spondias dulcis): গ্রীষ্মের মাসগুলোর বাইরে সংগ্রহ করা ফলের একটি।
  • সফেদা: গ্রীষ্মমণ্ডলীয় আমেরিকা থেকে আসা মাঝারি আকারের চিরসবুজ গাছ, যা ফরিদপুর ও ঢাকা অঞ্চলে ব্যাপকভাবে চাষ হয়। বাংলাপিডিয়া পেঁপে, নারিকেল ও কলার সঙ্গে সফেদাকে সারা বছর পাওয়া যায় এমন ফলের তালিকায় রেখেছে।
  • জলপাই: জ্ঞানকোষটির সাধারণ অপ্রধান ফলের তালিকায় এটিও আছে।
পাতাসহ কদবেল (Limonia acidissima); ছবিটি ঢাকার শেরেবাংলা নগরে ২০১৮ সালের জাতীয় বৃক্ষমেলায় তোলা। ছবি: Salim Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
পাতাসহ কদবেল (Limonia acidissima); ছবিটি ঢাকার শেরেবাংলা নগরে ২০১৮ সালের জাতীয় বৃক্ষমেলায় তোলা। ছবি: Salim Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

আমদানি করা ফলে শুল্ক-কর যেভাবে বেড়েছে


শুল্কের কারণে বিদেশি ফলের দাম বেড়েছে, বিক্রেতাদের এই ব্যাখ্যা ২০২৫ সালের প্রায় পুরো সময় খবরে ছিল। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আজকের পত্রিকা জানায়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ২০১২ সালে বিদেশি ফলকে বিলাসপণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে, এবং ২০২২ সালের মে মাস পর্যন্ত আমদানি করা সব ধরনের ফলে ২৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক, ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ৫ শতাংশ অগ্রিম আয়কর ও ৪ শতাংশ অ্যাডভান্স ট্রেড ভ্যাট ছিল। ২০২২ সালের মে মাসে ডলার-সংকটের মধ্যে এনবিআর ২০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক যোগ করলে ফল আমদানিতে মোট শুল্ক-কর দাঁড়ায় ১১৩ দশমিক ৮০ শতাংশ, একই প্রতিবেদনে বলা হয়।

২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি এনবিআর আপেল, আঙুর ও তরমুজের মতো কিছু টাটকা ফল ও জুসের ওপর সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৩০ শতাংশ করে, জানায় আজকের পত্রিকা ও দ্য ডেইলি স্টার বাংলা। আজকের পত্রিকা দেখতে পায়, রামপুরা বাজারে প্রতি কেজি ফুজি আপেল চার-পাঁচ দিনের ব্যবধানে ২৮০ টাকা থেকে ৩০০ টাকা হয়েছে; ব্যবসায়ীরা বলেন, বিক্রি প্রায় অর্ধেকে নেমেছে।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশন এনবিআরে পাঠানো এক প্রতিবেদনে জানায়, ১০০ টাকার ফল আমদানি করলে ১৩৬ টাকা শুল্ক-কর দিতে হয়; ২০২৫ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলো এ খবর দেয়। কমিশন সম্পূরক শুল্ক ৩০ থেকে ২০ শতাংশে এবং অগ্রিম কর ১০ থেকে ২ শতাংশে নামানো আর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক তুলে নেওয়ার সুপারিশ করে। কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, আপেল, নাশপাতি, আঙুর, মাল্টা ও কমলা এখন আর বিলাসপণ্য নয়, রমজানে এগুলোর চাহিদা বাড়ে এবং চিকিৎসকেরা রোগীদের এসব ফল খেতে বলেন। ২০২৫ সালের ১৩ মার্চ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানায়, এনবিআর আঙুর, নাশপাতি, কমলা, মাল্টাসহ কয়েক ধরনের তাজা ও শুকনা ফল আমদানির উৎসে কর ১০ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করেছে।

২০২৫ সালের অক্টোবরে দৈনিক দেশ রূপান্তর ঢাকার বাজারে ভালো মানের আপেল কেজিপ্রতি অন্তত ৪৫০ টাকা এবং লাল আঙুর ৪৬০-৪৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখে। বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক পত্রিকাটিকে বলেন, দাম বাড়ার প্রধান কারণ উচ্চ শুল্ক, দ্বিতীয় কারণ শতভাগ মার্জিনে ঋণপত্র (এলসি) খোলার বাধ্যবাধকতা; তাঁর ভাষায়, ফল নিয়মিত খাবার হলেও একে বিলাসপণ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতা ও আমদানিকারকদের হিসাবে আমদানি করা ফলের বিক্রি ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কমেছিল।

বাজার প্রতিবেদনের ১২ দিন আগে, ২০২৫ সালের ১৪ ডিসেম্বর, আজকের পত্রিকা এনবিআরকে দেওয়া ট্যারিফ কমিশনের নতুন এক চিঠির খবর দেয়। চিঠিতে বলা হয়, আপেল, কমলা, মেস্তারিন, আঙুর ও নাশপাতি আমদানিতে মোট শুল্ক ১২১ দশমিক ৭৮ শতাংশ এবং আনার আমদানিতে ১২৬ দশমিক ৭৮ শতাংশ। তাজা ফলকে বিলাসপণ্য ধরে এর ওপর ৩০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছে, অথচ নিত্যপণ্য আইন, ১৯৫৬ অনুযায়ী খাদ্যপণ্য হিসেবে তাজা ফল অত্যাবশ্যকীয় পণ্য। চিঠির যুক্তি, আপেল, মাল্টা ও আনারের স্থানীয় উৎপাদন নেই, তাই এত উচ্চহারে শুল্ক-কর রাখার প্রয়োজনীয়তা সীমিত; উচ্চ শুল্ক অবৈধ পথে আমদানিকে উৎসাহিত করতে পারে এবং ভবিষ্যতে রাজস্ব আহরণও কমাতে পারে। কমিশন অতিরিক্ত সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহার বা যৌক্তিক করার প্রস্তাব দেয়। বিভিন্ন সময়ে ও ভিন্ন ভিত্তিতে হিসাব করায় প্রতিবেদনগুলোতে মোট শুল্ক-করের হার ভিন্ন এসেছে।

রমজানের আগে একটি ফলের ক্ষেত্রে সরকার পদক্ষেপ নিয়েছিল। ২০২৫ সালের ২৪ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস জানায়, এনবিআর ২৩ ডিসেম্বরের এক প্রজ্ঞাপনে খেজুর আমদানিতে শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করেছে, যা ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে; উদ্দেশ্য, ইফতারের অত্যাবশ্যক খাবার খেজুরকে সব শ্রেণির মানুষের নাগালে রাখা। একই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সর্বশেষ বাজেটের আওতায় বিধি সংশোধনের মাধ্যমে খেজুরসহ সব ধরনের ফল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে, এবং খেজুর ও অন্যান্য ফল আমদানিতে বিদ্যমান ৫০ শতাংশ অগ্রিম আয়কর রেয়াত বহাল রয়েছে।

দেশে কত ফল আসে, কোথা থেকে আসে


২০২৪ সালের জুলাইয়ে প্রথম আলো এনবিআরের তথ্যের ভিত্তিতে জানায়, বাংলাদেশে ৩৮ ধরনের ফল আমদানি হয়, যার প্রায় ৯৫ শতাংশই আপেল, মাল্টা, কমলা, আঙুর ও আনার; বাকি অংশে আছে নাশপাতি, কিনু, কতবেল, অ্যাভোকাডো, রাম্বুটান ও কিউই। ফল আমদানি ২০২১-২২ অর্থবছরের ৮ লাখ ২২ হাজার টন থেকে কমে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫ লাখ ৯৯ হাজার টন এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৫ লাখ ৮৯ হাজার টন হয়। চীন থেকে এসেছিল প্রায় ২ লাখ টন, যা মোট আমদানির ৩৪ শতাংশ, আর ভারত থেকে ১ লাখ ৯২ হাজার টন, প্রায় ৩৩ শতাংশ; তৃতীয় উৎস আফ্রিকা। চার-পাঁচ বছর আগে যেখানে ৩৫টি দেশ থেকে ফল আসত, তখন আসছিল ২২টি দেশ থেকে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আমদানি ব্যয় ছিল ৩০ কোটি মার্কিন ডলার, আর ফল আমদানি থেকে সরকার রাজস্ব পায় ৫ হাজার ১৩৯ কোটি টাকা।

দ্য ডেইলি স্টার বাংলা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই-ডিসেম্বরে তাজা ফল আমদানি হয়েছে ১২৮ দশমিক ৫১ মিলিয়ন ডলারের, যা তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। সবচেয়ে বড় দুই আমদানি ফলের ক্ষেত্রেও প্রবণতা ছিল নিম্নমুখী: ২০২৫ সালের জুলাইয়ে প্রথম আলো জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ১৬ কোটি ১৪ লাখ কেজি আপেল এবং ১৬ কোটি ৮৬ লাখ কেজি মাল্টা ও কমলা আমদানি হয়েছে, যা ২০২৩-২৪ অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ৪ শতাংশ কম; এই দুই ফল থেকে শুল্ক-কর আদায় হয় প্রায় ৩ হাজার ২২০ কোটি টাকা। এনবিআরের তথ্য থেকে পত্রিকাটির হিসাবে, প্রতি কেজি আপেলের আমদানি ব্যয় ছিল প্রায় ৭৬ টাকা ৩৫ পয়সা, আর বন্দর থেকে খালাসের আগে শুল্ক-কর দিতে হয়েছে প্রায় ১০৩ টাকা।

২০২৪ সালের জুলাইয়ের ওই প্রতিবেদনেই কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের একই প্রকল্প পরিচালক বলেন, এক দশক আগে দেশে বছরে প্রায় এক কোটি টন ফল উৎপাদিত হতো, এখন তা প্রায় দেড় কোটি টন; ফলন ও আবাদ দুটোই বেড়েছে। তবে বাংলাপিডিয়া জানায়, কিছু এলাকায় আঙুর ছাড়া নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলের ফলের চাষ বাংলাদেশে সফল হয়নি, আর কমলা চাষ হয় কেবল সিলেটের সীমিত এলাকায় এবং রাঙামাটির সাজেক ও বান্দরবানের রুমার মতো দুর্গম এলাকায়। ফলে ঢাকার দোকানের আপেল, নাশপাতি ও আনার প্রায় সবই আমদানি করা।

বাদামতলী: খুচরা দামের পেছনের পাইকারি বাজার


পল্লবী ও রূপনগরের বিক্রেতারা যে পাইকারি দামের কথা বলেছেন, তা মূলত ঠিক হয় পুরান ঢাকায় বুড়িগঙ্গার তীরে বাদামতলীতে। বাংলাপিডিয়া একে বাদামতলী থেকে ওয়াইজঘাট পর্যন্ত বিস্তৃত পাইকারি ফলের বাজার হিসেবে বর্ণনা করেছে; ১৯৩৫ সালে হাসান আলী দালি ও আরও চার-পাঁচজন ব্যবসায়ী এখানে ফলের পাইকারি ব্যবসা শুরু করেন। ১৯৭১ সাল পর্যন্ত এখানে মূলত দেশি মৌসুমি ফল ও পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আসা কিছু ফল বিক্রি হতো; স্বাধীনতার পর নতুন ব্যবসায়ী যুক্ত হওয়ায় বাজারটি বড় হয়।

২০২৫ সালের ৩০ অক্টোবর প্রথম আলো সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল ও আহসান মঞ্জিলের কাছের এই বাজারকে দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি ফলের বাজার হিসেবে বর্ণনা করে। এখানকার ব্যবসা চালান আমদানিকারক, ফড়িয়া ও পাইকারেরা; ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ৫০০-র বেশি, যাঁদের প্রায় ১০০ জন বড় আমদানিকারক, আর বাজারে ৫০০-র বেশি ফড়িয়া ও পাইকারি দোকান এবং ৮ থেকে ১০টি বড় হিমাগার রয়েছে। রাতভর সড়ক ও নৌপথে ফল আসে, ভোরে নিলাম হয় এবং দুপুরের পর পর্যন্ত বেচাকেনা চলে। পাইকারি বিক্রি হয় কার্টন ধরে: এক কার্টন মাল্টায় ১৫ থেকে ১৬ কেজি, আঙুরে ৬ থেকে ৭ কেজি এবং কমলায় ১২ থেকে ১৩ কেজি থাকে। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদকের ভাষ্য, আমদানি করা ফলের বড় অংশ এখন অনলাইনে আগাম বিক্রি হয়ে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দর থেকে চলে যায়।

একই প্রতিবেদনে মৌসুম ধরে ফলের উৎসের হিসাব দেওয়া হয়। মাল্টা মূলত জানুয়ারি থেকে জুন মিসর থেকে, জুন থেকে অক্টোবর দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এবং আগস্ট থেকে অক্টোবর ভারত থেকে আসে। আপেল ও কমলা আসে প্রধানত চীন, দক্ষিণ আফ্রিকা ও ভারত থেকে, আঙুর চীন ও ভারত থেকে, আনার ভারত ও মিসর থেকে, নাশপাতি চীন থেকে এবং খেজুর সৌদি আরব ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে।

২০২৫ সালের অক্টোবরের শেষে প্রথম আলো বাদামতলীতে প্রতি কেজির পাইকারি দাম পায় এমন: মাল্টা ২২০-২৪০ টাকা, সবুজ আপেল ২৪০-৩৬০ টাকা, লাল আপেল ২০০-২৫০ টাকা, আঙুর ৩৫০-৪০০ টাকা, কমলা ২২০-২৫০ টাকা, আনার ৩৫০-৪০০ টাকা, নাশপাতি ২০০-২২০ টাকা এবং ড্রাগন ফল ১২০-১৭০ টাকা। একজন পাইকারি ব্যবসায়ী পত্রিকাটিকে বলেন, ফল পচনশীল বলে এর দাম প্রতিদিন বদলায়।

বাদামতলী পাইকারি বাজারের কাছে ঢাকার সদরঘাটে একটি ফলের দোকানে সাজানো সবুজ মাল্টা। ছবি: A S M Jobaer / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাদামতলী পাইকারি বাজারের কাছে ঢাকার সদরঘাটে একটি ফলের দোকানে সাজানো সবুজ মাল্টা। ছবি: A S M Jobaer / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

রমজানের চাহিদা, বাজার তদারকি ও খাদ্যতালিকায় ফল


প্রতিবেদনের বিক্রেতা ও ক্রেতা দুই পক্ষই রমজানের কথা ভাবছিলেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে আমদানিকারকেরা আজকের পত্রিকাকে বলেছিলেন, রোজার মাসে দেশি ফলের কোনো মৌসুম থাকে না, তাই ইফতারের চাহিদা মেটাতে হয় আমদানি করা ফল দিয়ে; ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে ট্যারিফ কমিশনের চেয়ারম্যানও রমজানে চাহিদা বাড়ার কথা বলেছিলেন। ডিসেম্বরে খেজুরের শুল্ক কমানোর ব্যাখ্যাও এনবিআর দিয়েছিল এই প্রেক্ষাপটে।

বাজার তদারকি নিয়ে ক্রেতাদের অভিযোগ জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কাজের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ (২০০৯ সনের ২৬ নং আইন) অনুযায়ী গঠিত। আইনের সরকারি পাঠ অনুযায়ী, এর ৩৮ ধারায় বলা আছে, কোনো আইন বা বিধি দ্বারা আরোপিত বাধ্যবাধকতা অমান্য করে কেউ দোকান বা প্রতিষ্ঠানের সহজে দৃশ্যমান স্থানে পণ্যের মূল্যতালিকা লটকিয়ে প্রদর্শন না করলে তিনি অনূর্ধ্ব এক বছর কারাদণ্ড, অনধিক ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।

শুধু অসুস্থ মানুষই মূলত ফল কিনছেন, শামসুদ্দোহার এই কথা ফলকে যেভাবে দেখা হচ্ছিল তারই প্রতিফলন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা চর্বি, চিনি ও সোডিয়াম কম থাকা স্বাস্থ্যকর খাদ্যের অংশ হিসেবে দিনে ৪০০ গ্রামের বেশি ফল ও সবজি খাওয়ার পরামর্শ দেয় এবং বলে, প্রতিদিন ফল ও সবজি খেলে হৃদ্‌রোগ ও কয়েক ধরনের ক্যানসারসহ কিছু অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমতে পারে। বাংলাপিডিয়া জানায়, সুস্থ থাকতে প্রত্যেক মানুষের দিনে অন্তত ৮৫ গ্রাম ফল খাওয়া উচিত, অথচ বাংলাদেশের মানুষ খায় মাত্র প্রায় ৩৫ গ্রাম; এর বণ্টনও অসম, অনেক দরিদ্র মানুষ ফল প্রায় পানই না। খাদ্যাভ্যাস বদলানোর আগে, বিশেষ করে কোনো রোগ থাকলে, চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ছবি: Yahya / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ, বাংলাপিডিয়া, প্রথম আলো, আজকের পত্রিকা, দ্য ডেইলি স্টার বাংলা, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম, দেশ রূপান্তর, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ (বিডিলজ, আইন মন্ত্রণালয়), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)