যুক্তরাষ্ট্রের মানুষ এক প্রজন্ম আগের তুলনায় এখন প্রায় দ্বিগুণ মধু খান, আর সেই মধুর বেশির ভাগ আসে অন্য দেশ থেকে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) গবেষণা শাখা ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস (ইআরএস) ২০২৬ সালের ২৩ জুন প্রকাশিত এক চার্টে এ তথ্য জানায়। হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির মোট মধু সরবরাহের ৭৮ শতাংশ এসেছিল আমদানি থেকে।
৩৫ বছরে মাথাপিছু খাওয়া প্রায় দ্বিগুণ
ইআরএসের তথ্যে দেখা যায়, ১৯৯০ সালে একজন মার্কিন নাগরিক বছরে গড়ে এক পাউন্ডের সামান্য বেশি মধু খেতেন। ২০২৪ সালে মাথাপিছু খাওয়া রেকর্ড ২.০ পাউন্ডে ওঠে। ২০২৫ সালে তা ছিল প্রায় ১.৯ পাউন্ড, যা ১৯৯০ সালের প্রায় দ্বিগুণ।
ইআরএস এই বৃদ্ধির দুটি কারণ বলেছে: দেশের জনসংখ্যা বেড়েছে, আর প্রত্যেক মানুষ আগের চেয়ে বেশি মধু খাচ্ছেন। দুটি কারণই মোট চাহিদা বাড়িয়েছে।
মধু হলো মৌমাছির তৈরি মিষ্টি খাদ্য। মৌমাছি ফুলের মধুরস (নেক্টার) সংগ্রহ করে নিজের শরীরের এনজাইম মিশিয়ে তা প্রক্রিয়াজাত করে; এতে সুক্রোজের মতো জটিল চিনি ভেঙে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের মতো সরল চিনিতে পরিণত হয়।

দেশীয় উৎপাদন কমেছে, ঘাটতি মেটাচ্ছে আমদানি
ইউএসডিএর ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিস (নাস) ২০২৬ সালের ১৩ মার্চ প্রকাশিত বার্ষিক মধু প্রতিবেদনে জানায়, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মধু উৎপাদন হয়েছিল ১১ কোটি ৬০ লাখ পাউন্ড, যা ২০২৪ সালের চেয়ে ১৪ শতাংশ কম। মধু দেওয়া মৌচাকের (কলোনি) সংখ্যা ৭ শতাংশ কমে দাঁড়ায় ২৪ লাখ ১০ হাজারে, আর প্রতি কলোনিতে গড় ফলন ৭ শতাংশ কমে হয় ৪৮.০ পাউন্ড।
একই প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মার্কিন মৌচাষিরা মধুর গড় দাম পেয়েছিলেন প্রতি পাউন্ড ৩.০৫ ডলার, আগের বছরের ২.৪১ ডলারের চেয়ে ২৭ শতাংশ বেশি। ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর উৎপাদকদের হাতে মজুত ছিল ৩ কোটি ৪৮ লাখ পাউন্ড, এক বছর আগের চেয়ে ১৫ শতাংশ কম।

কোন দেশ থেকে আসে মধু
ইআরএস জানায়, ২০২৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মধু সরবরাহের ৭৮ শতাংশই ছিল আমদানি করা। এই আমদানির প্রধান উৎস ছিল ভারত, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল ও ভিয়েতনাম। ফলে দেশটির ক্রমবর্ধমান চাহিদার বড় অংশই মিটছে এসব দেশের মৌচাষিদের উৎপাদিত মধুতে।
বিশ্বজুড়ে মধু উৎপাদনের হিসাবে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে বিশ্বে প্রায় ১৯ লাখ টন মধু উৎপাদিত হয়েছিল; সবচেয়ে বেশি উৎপাদন হয়েছিল চীনে, প্রায় ৪ লাখ ৬৩ হাজার ৫০০ টন।

ইআরএসের এই হিসাব এসেছে সংস্থাটির সুগার অ্যান্ড সুইটেনার্স ইয়ারবুক টেবিলস থেকে। চার্টটি তৈরি করেছেন ভিদালিনা আবাদাম, ডি. অ্যাডেলিন ইয়ে ও সিমলা টোকগোজ। বিষয়টির বিস্তারিত বিশ্লেষণ রয়েছে ২০২৬ সালের জুনের সুগার অ্যান্ড সুইটেনার্স আউটলুক প্রতিবেদনে।
ছবি: Scott Bauer, USDA ARS / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ইউএসডিএ ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস, ইউএসডিএ ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিস (হানি, মার্চ ২০২৬), উইকিপিডিয়া (মধু; এফএওস্ট্যাট উপাত্ত)





মন্তব্য
(০)