ভারতের ২০২৬-২৭ কৃষিবর্ষ কঠিন হতে চলেছে বলে ১৬ অক্টোবর এক বিশ্লেষণে লিখেছে রুরাল ভয়েস। দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ু স্বাভাবিকের চেয়ে ১৩ শতাংশ কম বৃষ্টি দিয়েছে, কয়েকটি অঞ্চলে ঘাটতি ৪০ থেকে ৬০ শতাংশ। এতে খরিফ ফসলের ক্ষতি হয়েছে, আসন্ন রবি মৌসুমও ঝুঁকিতে, ফলে এ বছর কৃষি জিডিপি সংকুচিত হতে পারে। প্রথম প্রান্তিকেই কৃষি ও সংশ্লিষ্ট খাতের প্রবৃদ্ধি আগের বছরের ৪.৪ শতাংশ থেকে নেমে ৩.৬ শতাংশ হয়েছে।
সরকার খাদ্যশস্য উৎপাদনের প্রাক্কলন কমিয়েছে। চালের উৎপাদন কমবে বলে ধারণা, ডাল ও তেলবীজও চাপে। ডালের বড় উৎপাদক মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, মধ্যপ্রদেশ ও রাজস্থানে বৃষ্টি কম হয়েছে। মহারাষ্ট্র ২৬৫টি ও কর্ণাটক ২২৬টি তালুকে খরা ঘোষণা করেছে, পানির অভাবে অনেক কৃষক রবি ফসল বুনতে নিরুৎসাহিত হচ্ছেন। এল নিনো ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত থাকবে বলে শীতের বৃষ্টিও কম হতে পারে, তাতে গম ঝুঁকিতে।
অর্থকরী ফসলের অবস্থাও খারাপ। তুলার উৎপাদন কমায় ভারত এখন নিট আমদানিকারক, আর চিনি আমদানির অনুমতি দিয়েছে সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) হিসাবে এবার আখের উৎপাদন ৪২ কোটি ৫০ লাখ টনের নিচে নামবে, যেখানে দেশে চিনির বার্ষিক চাহিদা প্রায় ২ কোটি ৮৫ লাখ টন। খুচরা বাজারে ছোলার দাম কেজিতে ৯০ রুপিতে উঠেছে, মাসখানেকের মধ্যে ১০০ রুপি ছাড়াতে পারে। ভুট্টা ও সয়াবিনের দাম বাড়ায় পশু ও মুরগির খাদ্য এবং ডিমের দামও বাড়ছে।
গ্রামের চাহিদাও কমছে। অটোমোবাইল ডিলারদের ফেডারেশনের (এফএডিএ) হিসাবে আগস্টে ট্রাক্টর বিক্রি আগের মাসের তুলনায় ২৫.০৩ শতাংশ এবং সেপ্টেম্বরে ১২.৫৮ শতাংশ কমেছে। গমের ন্যূনতম সহায়ক মূল্য কুইন্টালে মাত্র ২৫ রুপি বাড়ানো হয়েছে, যা প্রায় দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম বৃদ্ধির একটি। মূল্যস্ফীতি রিজার্ভ ব্যাংকের সহনসীমা ছাড়ানোয় নীতি সুদহারও বেড়েছে।
রুরাল ভয়েস বলছে, খাদ্যশস্যের মজুত স্বস্তিদায়ক থাকলেও আগের খরার সময়ের মতো কৃষিঋণ পুনর্গঠনের কোনো ত্রাণ এখনও ঘোষণা করেনি কেন্দ্রীয় সরকার। অথচ ভারতের ৪৬ শতাংশের বেশি কর্মজীবী মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল, যদিও জিডিপিতে কৃষির অবদান প্রায় ১৮ শতাংশ।
ছবি: Adityamadhav83 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: Rural Voice





মন্তব্য
(০)