জয়পুরহাটের দুর্গাদহ কলার হাট উত্তরাঞ্চলের কলা বেচাকেনার বড় কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, প্রতিদিন এই হাটে কোটি টাকার কলা কেনাবেচা হয়। সকাল থেকেই সারি সারি কলার স্তূপ, ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে জমে ওঠে বাজার।
জেলার নানা এলাকা থেকে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা পাকা ও কাঁচা কলা নিয়ে আসেন, পাইকাররা তা কিনে ট্রাকে পাঠান দেশের বিভিন্ন বাজারে। পাঁচবিবির আয়মা এলাকার ব্যবসায়ী আজিজুল ইসলাম জানান, প্রতিদিন ৩০ থেকে ৪০ ট্রাক কলা ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম, কক্সবাজারসহ উত্তরাঞ্চলের সব জেলায় যায়।
হাটকে ঘিরে পরিবহন, শ্রমিক ও আড়তদারদের কর্মসংস্থান তৈরি হলেও কৃষকের লাভ কমছে। জয়পুরহাট সদরের দোগাছী এলাকার কলাচাষি মো. এনামুল ইসলাম বলেন, ১০ থেকে ১৫ দিন আগে যে কাদি (ঘাউর) ৩০০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি করেছেন, এখন তা ২০০ থেকে ২৫০ টাকায় দিতে হচ্ছে; হাটে তেমন পাইকার নেই।
হাটের জায়গা ছোট হওয়ায় ভোগান্তিও আছে। নওগাঁর ধামইরহাটের নানইস গ্রামের আলেক উদ্দীন বলেন, উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় এই কলার হাটে ট্রাক, ভটভটি ও পিকআপ ঢুকতে পারে না, ফলে কলা ওঠানো-নামানোয় সমস্যা হয়। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, এত বেচাকেনার পরও হাটের কোনো উন্নয়ন হয়নি।
জয়পুরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) সাদিয়া সুলতানা বলেন, এ বছর কলার ফলন ভালো ও লাভজনক হওয়ায় আবাদ বাড়ছে; জেলায় ৭০০ হেক্টর জমিতে কলার চাষ হয়েছে। দুর্গাদহ হাটের মাধ্যমে এলাকার কৃষক ও ব্যবসায়ীরা লাভবান হচ্ছেন, কৃষি বিভাগ পরামর্শসহ সহযোগিতা দিচ্ছে।
ছবি: Masumcity / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0); ফলের দোকানে কলার কাদি, প্রতীকী ছবি
সূত্র: কৃষি সংবাদ




মন্তব্য
(০)