২০২৬ সালের ১ জুন যুক্তরাষ্ট্রের খামারগুলোতে শূকরের সংখ্যা ছিল ৭ কোটি ৩৭ লাখ (৭৩.৭ মিলিয়ন)। এই সংখ্যা ২০২৫ সালের জুনের তুলনায় সামান্য কম, আবার ২০২৬ সালের ১ মার্চের তুলনায়ও সামান্য কম। দেশটির কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) পরিসংখ্যান সংস্থা ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিস (এনএএসএস) ২০২৬ সালের ২৫ জুন প্রকাশিত ত্রৈমাসিক হগস অ্যান্ড পিগস প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
মোট সংখ্যার মধ্যে বাজারজাত করার জন্য পালিত শূকর ছিল ৬ কোটি ৭৮ লাখ এবং প্রজননের জন্য রাখা শূকর ছিল ৫৮ লাখ ৮০ হাজার। এর আগে ২০২৬ সালের ২৬ মার্চ প্রকাশিত প্রতিবেদনে ১ মার্চের হিসাবে মোট শূকর ছিল ৭ কোটি ৪৩ লাখ, যার মধ্যে বাজারজাত শূকর ৬ কোটি ৮৪ লাখ ও প্রজনন পাল ৫৮ লাখ ৯০ হাজার।
উৎপাদন ও প্রজননের হিসাব
এনএএসএসের হিসাবে ২০২৬ সালের মার্চ থেকে মে মাসে দুধ ছাড়ানো শূকরছানার সংখ্যা ছিল ৩ কোটি ৩৫ লাখ, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় সামান্য বেশি। এ সময়ে প্রতিবার বাচ্চা দেওয়ায় গড়ে ১১.৮৭টি ছানা দুধ ছাড়ানো পর্যন্ত টিকেছে।
খামারিরা ২০২৬ সালের জুন থেকে আগস্টে ২৯ লাখ এবং সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বরে ২৮ লাখ ৯০ হাজার মাদি শূকরের বাচ্চা দেওয়ানোর পরিকল্পনা জানিয়েছেন। সামনের মাসগুলোতে বাজারে কত শূকর আসতে পারে, তার আগাম ইঙ্গিত মেলে এই পরিকল্পনা থেকে।

কোন অঙ্গরাজ্যে কত শূকর
অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি শূকর আইওয়ায়, ২ কোটি ৪৭ লাখ। এরপর মিনেসোটা, ৯৩ লাখ, এবং তৃতীয় নর্থ ক্যারোলাইনা, ৭২ লাখ। মার্চের প্রতিবেদনেও এই তিন অঙ্গরাজ্য শীর্ষে ছিল; তখন নর্থ ক্যারোলাইনায় শূকর ছিল ৭৬ লাখ।
ইউএসডিএর ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিসের (ইআরএস) তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন শূকর খামার মূলত মধ্য-পশ্চিমাঞ্চলে, বিশেষ করে আইওয়া ও দক্ষিণ মিনেসোটায়, এবং পূর্ব নর্থ ক্যারোলাইনায় কেন্দ্রীভূত। ১৯৯০ সালের পর থেকে শূকর আছে এমন খামারের সংখ্যা ৭০ শতাংশের বেশি কমেছে, তবে টিকে থাকা খামারগুলো আকারে অনেক বড় হয়েছে।
ভুট্টা ও সয়াবিনের সঙ্গে সম্পর্ক
ইআরএস জানায়, বাজারজাত করার আগে শূকরকে প্রায় চার মাস ধরে মূলত ভুট্টা ও উচ্চ আমিষযুক্ত (৪৮ শতাংশ) সয়াবিন খইলের খাদ্য খাইয়ে বড় করা হয়। ফলে শূকরের পালের আকার এই দুই ফসলের চাহিদার সঙ্গে জড়িত। শূকরের মাংস রপ্তানিতেও যুক্তরাষ্ট্র বড় দেশ: ইআরএসের হিসাবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরেই দেশটির অবস্থান, ২০২২ সালে বিশ্বের মোট রপ্তানি করা শূকরের মাংসের ২৬ শতাংশ ছিল যুক্তরাষ্ট্রের।

জরিপ যেভাবে হয়
এই হিসাব তৈরিতে এনএএসএস ২০২৬ সালের জুনের প্রথমার্ধে সারা দেশে ৪ হাজার ২৫৪ জন খামার পরিচালকের কাছ থেকে তথ্য নেয়। উত্তর সংগ্রহ করা হয় সংস্থার অনলাইন রেসপন্ডেন্ট পোর্টাল, ডাক, টেলিফোন ও সরাসরি সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে। মার্চের জরিপে অংশ নিয়েছিলেন ৪ হাজার ২৫২ জন। ত্রৈমাসিক হগস অ্যান্ড পিগস প্রতিবেদনসহ এনএএসএসের প্রতিবেদনগুলো সংস্থার ওয়েবসাইটে বিনামূল্যে পাওয়া যায়।
ছবি: টিম ম্যাককেব, ইউএসডিএ ন্যাচারাল রিসোর্সেস কনজারভেশন সার্ভিস / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ইউএসডিএ ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিস (২৫ জুন ২০২৬ ও ২৬ মার্চ ২০২৬), ইউএসডিএ ইকোনমিক রিসার্চ সার্ভিস




মন্তব্য
(০)