ভারতের কোচির আইসিএআর-কেন্দ্রীয় সামুদ্রিক মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (সিএমএফআরআই) সহায়তায় কেরালার উপকূলীয় নারীরা মাছভিত্তিক নিজস্ব ব্যবসা গড়ে তুলছেন বলে জানিয়েছে ভারতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদ (আইসিএআর)। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের অর্থায়নে বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন (এসটিআই) হাবের আওতায় ২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে আট জেলায় ৮৪টি ক্ষুদ্র উদ্যোগ গড়ে উঠেছে। উপকারভোগীদের বেশির ভাগ তফসিলি জাতিভুক্ত।
কর্মসূচিতে সরাসরি উপকৃত হয়েছেন ৪৬৯ জন, যাঁদের মধ্যে ২২০ জন নারী ও ছয়জন রূপান্তরিত লিঙ্গের মানুষ; পরোক্ষভাবে আরও প্রায় আড়াই হাজার মানুষ উপকৃত হবেন বলে আশা। প্রভাব মূল্যায়নে দেখা গেছে, উপকারভোগী পরিবারের আয় বেড়েছে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ। প্রকল্পে ১৪১টি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি হয়েছে।
ব্যবসাগুলোর মধ্যে আছে খাঁচায় মাছ চাষ, করিমিন (পার্ল স্পট) মাছের পোনা উৎপাদন, শোভাবর্ধক মাছ চাষ, সমন্বিত মাছ চাষ, ঝিনুক ও শামুকজাতীয় খোলসযুক্ত প্রাণী চাষ, সঙ্গে মাছের মূল্য সংযোজন, মাছ বিক্রি ও শুঁটকি উৎপাদন। অংশগ্রহণকারীরা খাঁচা তৈরি, অ্যাকুয়ারিয়াম প্রযুক্তি, সমন্বিত খামার এবং পোনা ও মা-মাছ বিতরণের দক্ষতাও শিখেছেন। সিএমএফআরআই প্রযুক্তি হস্তান্তর, হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, ব্যবসায়িক পরামর্শ এবং কৃষি প্রযুক্তি তথ্যকেন্দ্র ও কৃষি বিজ্ঞান কেন্দ্রের মাধ্যমে বাজার সংযোগ দিয়ে সহায়তা করেছে।
সিএমএফআরআইয়ের পরিচালক ড. গ্রিনসন জর্জ (Grinson George) বলেন, বৈজ্ঞানিক উদ্যোগ কীভাবে বাস্তব অর্থনৈতিক সুযোগে রূপ নিতে পারে, এসটিআই হাব তা দেখিয়েছে; মৎস্য খাতে নারীর ক্ষমতায়নের এটি অনুসরণযোগ্য মডেল। তিনি জানান, জীবিকানির্ভর আয়ের উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর অর্থ, কারিগরি জ্ঞান ও অবকাঠামোর ঘাটতি দূর করাই ছিল প্রকল্পের লক্ষ্য। কোডুঙ্গাল্লুরে এক উপকারভোগীর খামারে নারী কৃষক দিবস উদ্যাপনেরও পরিকল্পনা করেছে ইনস্টিটিউটটি।
কক্সবাজার থেকে সাতক্ষীরা পর্যন্ত বাংলাদেশের উপকূলীয় নারীরাও একই ধরনের কাজে যুক্ত, বিশেষ করে শুঁটকি উৎপাদন এবং কাঁকড়া ও মাছের পোনা সংগ্রহে।
ছবি: Arayilpdas / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.5)
সূত্র: আইসিএআর





মন্তব্য
(০)