আইন, বিচার, সংবিধান ও মানবাধিকার বিষয়ক সাংবাদিকদের সংগঠন ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম (এলআরএফ) ২০২৬ সালের ১৯ জুলাই, রোববার তাদের বাৎসরিক ফল উৎসবের আয়োজন করে। ঢাকায় সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনে অবস্থিত এলআরএফ কার্যালয়ে আয়োজিত এ উৎসবে আম, কাঁঠাল, লটকন, পেয়ারা, আনারসসহ বিভিন্ন দেশীয় মৌসুমি ফল পরিবেশন করা হয়। জাগো নিউজ ২৪ ও দৈনিক ইনকিলাবের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারপতি, আইনজীবী, বিচারিক কর্মকর্তা ও আইন সাংবাদিকসহ প্রায় আড়াই শতাধিক ব্যক্তি এতে অংশ নেন।
সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে ফল উৎসব
অনুষ্ঠানে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, বিভিন্ন আদালতের বিচারিক কর্মকর্তা, আইন অঙ্গনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন গণমাধ্যমে কর্মরত আইন সাংবাদিকরা যোগ দেন। অতিথিরা দেশীয় মৌসুমি ফলের স্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি মতবিনিময় করেন।
উপস্থিত বিচারপতিদের মধ্যে ছিলেন বিচারপতি গোবিন্দ চন্দ্র ঠাকুর, বিচারপতি মো. খসরুজ্জামান, বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার, বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথ, বিচারপতি মো. বশির উল্লাহ এবং অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম আর হাসান। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পক্ষে ছিলেন দায়িত্বরত রেজিস্ট্রার জেনারেল মো. নুরুল আমিন বিপ্লব, আপিল বিভাগের রেজিস্ট্রার আশিকুল খবির এবং হাইকোর্ট বিভাগের রেজিস্ট্রার (বিচার) মোহাম্মদ শরীফুর রহমান। বার কাউন্সিলের ভাইস চেয়ারম্যান জয়নুল আবেদীন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সম্পাদক মোহাম্মদ আলীসহ জ্যেষ্ঠ আইনজীবী, ডেপুটি ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেলরাও উৎসবে অংশ নেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাবেক সভাপতি ইলিয়াস হোসেন এবং এলআরএফের কয়েকজন সাবেক সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকও উপস্থিত ছিলেন।
২০২৬ সালের জুলাইয়ের শুরুতে নির্বাচিত এলআরএফ সভাপতি মুহাম্মদ ইয়াছিন ও সাধারণ সম্পাদক আরাফাত মুন্নার দিকনির্দেশনায় উৎসবটি আয়োজিত হয়। আয়োজনের তত্ত্বাবধানে ছিলেন ফল উৎসব বাস্তবায়ন উপ-কমিটির আহ্বায়ক ও ফোরামের সহ-সভাপতি আবু সালেহ রনি এবং সদস্যসচিব ও ফোরামের যুগ্ম সম্পাদক তানভীর আহমেদ।

অতিথিরা যা বলেন
প্রতিবেদন দুটি অনুযায়ী, অতিথিরা বলেন, বিচার বিভাগ, আইনজীবী সমাজ ও গণমাধ্যমের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ, আস্থা ও সৌহার্দ্য বাড়াতে ল’ রিপোর্টার্স ফোরাম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাঁদের মতে, আদালত ও বিচার বিভাগের সংবাদ যথাযথভাবে জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে এবং আইন ও বিচার অঙ্গনের স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও জনসচেতনতা তৈরিতেও ভূমিকা রাখছে। ভবিষ্যতেও সংগঠনটি একই নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করবে বলে তাঁরা আশা প্রকাশ করেন।
উৎসবের ফল: আম, কাঁঠাল ও লটকন
উৎসবে পরিবেশিত ফলগুলো ছিল দেশীয় মৌসুমি ফল। এর মধ্যে কাঁঠাল বাংলাদেশের জাতীয় ফল; এটি হলুদ রঙের সুমিষ্ট গ্রীষ্মকালীন ফল এবং দেশের সর্বত্র এর গাছ দেখা যায়। আমগাছ বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষ, আর আমের উৎপত্তি উত্তর-পশ্চিম মিয়ানমার, বাংলাদেশ এবং পূর্ব ও উত্তর-পূর্ব ভারতের মধ্যবর্তী অঞ্চলে বলে ধারণা করা হয়।

লটকন (বৈজ্ঞানিক নাম Baccaurea motleyana) টক-মিষ্টি স্বাদের ফল, যা থোকায় থোকায় ধরে এবং সাধারণত আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে পাকে। একসময় অপ্রচলিত ফল হিসেবে পরিচিত লটকনের ফলন বাংলাদেশে নরসিংদীতে সবচেয়ে বেশি; সিলেট, নেত্রকোণা, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল ও গাজীপুরেও এর বাণিজ্যিক চাষ হয়। ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল ‘নরসিংদীর লটকন’ ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পায়; নরসিংদী জেলা প্রশাসন ২০২৩ সালে এর আবেদন করেছিল।

ছবি: Shahnoor Habib Munmun / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দৈনিক ইনকিলাব, এনটিভি অনলাইন, উইকিপিডিয়া (কাঁঠাল, লটকন, আম)





মন্তব্য
(০)