উত্তরাঞ্চলের সবচেয়ে বড় সবজি বেচাকেনার কেন্দ্রগুলোর একটি বগুড়ার মহাস্থান। সেখানকার কৃষক ও ছোট ব্যবসায়ীরা বলছেন, মোবাইল ফোনের কল্যাণে এখন তাঁরা শহরের বাজারে সবজির দাম তাৎক্ষণিক জেনে নিতে পারেন, ফলে দামের একটা বাস্তব ধারণা নিয়েই হাটে আসেন। এতে দর-কষাকষির ক্ষমতা বেড়েছে, যদিও শেষ পর্যন্ত দাম ঠিক হয় সরবরাহ আর চাহিদায়।
বগুড়া সদরের রহমতবালা গ্রামের কৃষক মো. আমিনুল ইসলাম (৩৬) এক একর জমিতে মুলা, লাউ, কুমড়া ও বরবটি চাষ করেছেন। ২ অক্টোবর মুলা নিয়ে মহাস্থানে এসে তিনি দেখেন, তিন দিন আগে যে মুলার মণ (৪০ কেজি) প্রায় ১,০০০ টাকা ছিল, তা নেমে এসেছে ৫০০-৬০০ টাকায়। তাঁর ব্যাখ্যা, সরবরাহ বেশি, আর গরমে চাষ করা মুলার মান সব সময় ভালো হয় না। ‘কৃষক ও ব্যবসায়ী দুজনের হাতেই মোবাইল আছে, তাই সরবরাহ আর চাহিদার খবর দুই পক্ষই পায়,’ বলেন তিনি।
শিবগঞ্জের উথলীর রাব্বি মোল্লা (২৫) প্রায় ৫০ শতক জমিতে আগাম ফুলকপি করেছেন। ক্ষেত থেকে তোলার আগে তিনি অন্য কৃষক ও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে সম্ভাব্য দাম আঁচ করে নেন। তাঁর অভিজ্ঞতা, ঢাকা বা অন্য শহরে চাহিদা বাড়লেই পাইকাররা ভালো দাম দেন।
ব্যবসায়ীরাও একই কথা বলছেন। শিবগঞ্জের বিচোকের মাসুম ইসলাম (২৭) সেদিন কৃষকের কাছ থেকে করলা কিনেছিলেন প্রতি মণ ১,৬০০ টাকায়, বিক্রির আশা ১,৮০০ টাকায়। প্রায় এক দশক ধরে সবজির পাইকারি ব্যবসা করা লাহিড়ীপাড়ার আবদুল হামিদ প্রামাণিক (৪৮) বলেন, সবাই ফোন বা ফেসবুকে চাহিদা-সরবরাহের খোঁজ রাখেন, আর দাম বাড়লে তার একটা অংশ এখন কৃষকও পান।
মহাস্থান বাণিজ্যকেন্দ্রে প্রায় ২০০ জন পাইকার ও ৭০ জন আড়তদার আছেন। মাইশা ট্রেডার্সের মালিক আল-মামুন (৪০) বলেন, এতে ব্যবসায় প্রতিযোগিতা বেড়েছে, কৃষকের বিক্রয়মূল্য আর পাইকারি দামের মধ্যে আগের মতো বড় ফারাক আর দেখা যায় না। ঢাকার মিরপুরের একটি পাইকারি আড়তের প্রতিনিধি হেফজুল বারী ফকির (৪০) জানান, প্রতিদিন সকালে ফোনে ঢাকার চাহিদা ও সম্ভাব্য দামের নির্দেশনা পেয়ে তিনি কেনাকাটা করেন, তবে সরবরাহ কম-বেশি হলে সেই দামে সব সময় কেনা যায় না।
সবজি পচনশীল। বিশেষজ্ঞদের হিসাবে, উৎপাদিত সবজির প্রায় ৩০ শতাংশ ভোক্তার কাছে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হয়। দ্রুত দামের খবর পেয়ে কৃষক ও ব্যবসায়ীরা তাড়াতাড়ি বিক্রি করতে পারলে এই অপচয়ও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ছবি: Nahid Hossain / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: সমকাল





মন্তব্য
(০)