সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

আমের মুকুলে ছেয়ে গেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, মৌমাছির গুনগুন

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আমগাছগুলো মুকুলে ভরে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক এর কারণ হিসেবে কম কুয়াশা, ঠান্ডা শীত এবং আগের দুই বছরের কম ফলনে গাছের বিশ্রামের কথা বলেন।

আমের মুকুলে ছেয়ে গেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, মৌমাছির গুনগুন
ফল

২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ সপ্তাহে আমের মুকুলে সেজে ওঠে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ক্যাম্পাস। জাগো নিউজের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিবেদক মনির হোসেন মাহিন ২৬ ফেব্রুয়ারি জানান, মতিহারের সবুজ চত্বরজুড়ে হলুদাভ মুকুলের ভারে গাছের ডালপালা নুয়ে পড়েছে, বাতাসে ছড়িয়ে পড়েছে মিষ্টি সুবাস, আর মৌমাছির গুনগুন ও পাখির কলতানে পুরো ক্যাম্পাসে তৈরি হয়েছে প্রাণবন্ত এক আবহ, যা শিক্ষার্থী ও দর্শনার্থীদের মনে বসন্তের আগমনী বার্তা পৌঁছে দিচ্ছিল।

মুকুলে ভরা গাছগুলো ছিল ক্যাম্পাসের আমবাগান, পরিবহন চত্বর ও বুদ্ধিজীবী চত্বরে, কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ ও শহীদ মিনারের পাশে, চারুকলা ও কৃষি অনুষদে, বধ্যভূমি স্মৃতিস্তম্ভের কাছে, বিভিন্ন একাডেমিক ভবনের সামনের প্রাঙ্গণে এবং আবাসিক হলগুলোর আঙিনায়। প্রতিবেদনের ভাষায়, সবুজ পাতার ফাঁকে হলুদ মুকুলের সমারোহ যেন প্রকৃতির নিজস্ব রঙের উৎসব। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত মুকুলে ভরা ডালে মৌমাছির ব্যস্ত আনাগোনা চলে; মৃদু বাতাসে ভেসে আসা ঘ্রাণে পথচলতি শিক্ষার্থীরা থমকে দাঁড়ান, আর ডালে বসা ছোট পাখিদের কিচিরমিচির ব্যস্ত একাডেমিক জীবনে এনে দেয় এক টুকরো প্রশান্তি।

ঋতুচক্রের নিয়মে এই ক্ষণস্থায়ী মুকুল শিগগিরই রূপ নেবে সবুজ ছোট আমে, যা গ্রীষ্মে ধীরে ধীরে পেকে উঠবে; প্রতিবেদনে ক্যাম্পাসের এই সুবাসময় দিনগুলোকে বলা হয় ভবিষ্যৎ ফলনের এক নীরব প্রতিশ্রুতি।

ভালো ফলনের আশায় শিক্ষার্থীরা


শিক্ষার্থীরা জাগো নিউজকে জানান, প্রতিবছর বসন্তে রাবির আমগাছগুলো নতুন রূপে ধরা দিলেও এবার অনুকূল আবহাওয়ার কারণে মুকুলের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি, তাই চলতি মৌসুমে তাঁরা ভালো ফলনের আশা করছেন। ক্যাম্পাসসংশ্লিষ্ট অন্যরাও মনে করেন, আবহাওয়া সহায়ক থাকলে বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে।

চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের শিক্ষার্থী হুমায়রা তাবাসসুম সাবা বলেন, ক্যাম্পাসে এখন হাঁটলেই আমের মুকুলের ঘ্রাণ টের পাওয়া যায়। তাঁর মতে, এই সময়টা যেন একটু ধীরে চলতে শেখায়, ব্যস্ততার মাঝেও প্রকৃতির শান্ত ছোঁয়া অনুভব করা যায়, আর বসন্ত এখানে শুধু প্রকৃতির রূপান্তর নয়, অন্তরেরও এক সূক্ষ্ম নবায়নের ইঙ্গিত।

গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া আক্তার বলেন, প্রতিবছর তিনি খুব কাছ থেকে আমের মুকুল ফোটার দৃশ্য দেখেন, আর হলুদাভ মুকুলে ভরা গাছগুলো বসন্তের আগমনকে স্পষ্ট করে তোলে। মুকুলের ঘ্রাণ আর চারপাশের সজীবতা মনকে এক অদ্ভুত প্রশান্তিতে ভরিয়ে দেয় বলে জানান তিনি। মুকুল দেখলেই আশা জাগে, হয়তো এবার প্রচুর আম হবে, আর সবাই মিলে তা ভাগাভাগি করে খাওয়া যাবে। আগের বছরের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, বন্ধুদের সঙ্গে গাছতলায় আড্ডা, পাকা আমের স্বাদ আর গরম বিকেলে আমের ঘ্রাণ মিলে ক্যাম্পাস জীবনে আলাদা এক আবেগ তৈরি হয়েছিল।

এত মুকুলের কারণ: রাবির দুই শিক্ষকের ব্যাখ্যা


উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. মুস্তফা আবুল কালাম আজাদ জাগো নিউজকে বলেন, এবারের শীতে কুয়াশা তুলনামূলক কম ছিল, ফলে মুকুল কম নষ্ট হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রাকৃতিকভাবে অনেক আমগাছ এক বছর বেশি ফল দেয়, পরের বছর বিশ্রামে থাকে; আর যেসব গাছে নিয়মিত ফলন হয়, সেগুলোর শাখা-প্রশাখার বৃদ্ধি ভিন্নভাবে প্রভাবিত হয়।

এগ্রোনমি অ্যান্ড এগ্রিকালচারাল এক্সটেনশন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গিয়াসউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমের মুকুল ও ফলনে আবহাওয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। বসন্তে তাপমাত্রা ধীরে বাড়া এবং কুয়াশা কম থাকা মুকুলের জন্য উপযোগী পরিবেশ তৈরি করে। তাঁর ভাষ্য, গত দুই বছর ফলন কম ছিল, আর এর একটি কারণ হলো, এক বছর বেশি ফলন হলে পরের বছর পুষ্টির ঘাটতিতে ফলন কমে যায়।

তিনি জানান, শীতকালে তাপমাত্রা ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার নিচে নামলে অনেক ক্ষতিকর পোকা দমন হয়। আগের বছরগুলোতে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকায় মুকুলে পোকার আক্রমণ বেড়েছিল; এবার তুলনামূলক কম তাপমাত্রায় পোকার সংক্রমণও কম হয়েছে। পাশাপাশি আগের দুই বছর ফলন কম হওয়ায় গাছগুলো পর্যাপ্ত পুষ্টি সঞ্চয় করতে পেরেছে, যা এ বছর ভালো ফলনের সম্ভাবনা বাড়িয়েছে।

বাগান পরিচর্যা প্রসঙ্গে অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিন বলেন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মতো সরকারি প্রতিষ্ঠান কৃষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ দেয়, তবে অনেক সময় অতিরিক্ত বালাইনাশকের ব্যবহার পরিবেশ ও মাটির উর্বরতার জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়।

ঠান্ডা জানুয়ারি, কুয়াশা কম শীত


শিক্ষকদের ব্যাখ্যার সঙ্গে সেই শীতের আবহাওয়ার রেকর্ড মিলে যায়। বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যে, ২০২৬ সালের ৬ জানুয়ারি রাজশাহীতে তাপমাত্রা নামে ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, যা তখন পর্যন্ত মৌসুমের সর্বনিম্ন; সেদিন রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর, নীলফামারী, পঞ্চগড়, রাঙ্গামাটি, যশোর, কুষ্টিয়া ও চুয়াডাঙ্গা, এই ১০ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ বইছিল। আবহাওয়াবিদ ড. ওমর ফারুক তখন দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত পরিস্থিতি প্রায় একই থাকবে এবং ১২ জানুয়ারি থেকে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে। পত্রিকাটির উল্লেখ করা শ্রেণিবিভাগ অনুযায়ী, সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ থেকে ৮.১ ডিগ্রি হলে মৃদু এবং ৮ থেকে ৬.১ ডিগ্রি হলে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) অধীন রাজশাহীর ফল গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরাও আগাম মুকুল লক্ষ করেছিলেন। কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. শফিকুল ইসলাম ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসকে বলেন, এবার স্বাভাবিকের চেয়ে আগে মুকুল এসেছে, গতবারের চেয়ে বেশি মুকুলের আশা করা হচ্ছে, আর কুয়াশায় বড় ক্ষতি না হলে উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে। রাবির প্রতিবেদনটি প্রকাশের দিন, ২৬ ফেব্রুয়ারি, তিনি বাসসকে জানান, শীত কুয়াশা বা বৃষ্টি ছাড়াই পার হয়েছে এবং তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বেড়েছে, যা গাছের মুকুল আসার প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে সাহায্য করেছে।

চারঘাটের চাষিরাও একই কথা বলেন। কালুহাটি গ্রামের আমচাষি মোজাফফর হোসেন ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি বাসসকে বলেন, এবার আগাম মুকুল এসেছে, কুয়াশায় নষ্ট না হলে ফলন অনেক বেশি হতে পারে। চারঘাটের আরেক চাষি মাহফুজ আলী সতর্ক করেন, হপারসহ রস শোষণকারী পোকা সময়মতো দমন না করলে উৎপাদন কমে যেতে পারে।

এই সময়ে কুয়াশাই চাষিদের পুরোনো দুশ্চিন্তা। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রথম আলো রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের শিক্ষক জাহাঙ্গীর শাহর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে, যিনি প্রায় ২০ বছর ধরে প্রতিদিনের আবহাওয়া লিখে রাখছেন। তাঁর হিসাবে, সে বছর মুকুলের মৌসুমে কুয়াশা ছিল সাত দিন, আগের বছর পাঁচ দিন এবং তার আগের বছর চার দিন; কুয়াশা এবং গরম রাত ও ঠান্ডা সকালের মিশ্রণ গুটি ধরায় ক্ষতি করতে পারে। তিনি জানান, ১৫ থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে মুকুল থেকে গুটি আসে। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ইত্তেফাক চারঘাট থেকে জানায়, ঘন কুয়াশায় আগাম মুকুল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় ছিলেন চাষিরা; কৃষি বিভাগের এক কর্মকর্তা তখন বলেন, কুয়াশার পর রোদ উঠলে ক্ষতির ঝুঁকি কম, আর কৃষি কর্মকর্তারা মুকুল রক্ষায় ছত্রাকনাশক স্প্রের পরামর্শ দেন।

মুকুল থেকে যেভাবে আম হয়


বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, আমের বৈজ্ঞানিক নাম ম্যাঙ্গিফেরা ইন্ডিকা (Mangifera indica), এটি কাজুবাদামের পরিবার অ্যানাকার্ডিয়েসির উদ্ভিদ এবং বাংলাদেশ, আসাম ও মিয়ানমারসহ ভারতীয় উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলকে এর আদি নিবাস ধরা হয়। বাংলাদেশে আমগাছে মুকুল আসে জানুয়ারি থেকে মার্চে, আর এ সময়ে কুয়াশা, বৃষ্টি বা মেঘলা আবহাওয়া গুটি ধরায় ক্ষতি করে। ফুলগুলো ছোট ও সুগন্ধি, সাদা, হলদেটে বা বেগুনি রঙের, ডালের আগায় বড় মঞ্জরিতে ফোটে; ফুল একলিঙ্গ বা উভলিঙ্গ দুই রকমই হতে পারে।

এর খুব সামান্য অংশই আমে পরিণত হয়। বাংলাপিডিয়া বলছে, মোটামুটি হাজারে এক বা দুটি ফুল থেকে পরিপক্ব আম হয়, আর প্রতি মঞ্জরিতে দুই-তিনটি ফল থাকলেই প্রায়ই সন্তোষজনক ফলন ধরা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার সম্প্রসারণ সেবার বিবরণে, একটি মঞ্জরি আড়াই থেকে ১৬ ইঞ্চি লম্বা হয় এবং তাতে ৫৫০ থেকে চার হাজারের বেশি ফুল থাকে, যার বেশির ভাগ পুরুষ ফুল, বাকিগুলো উভলিঙ্গ। সেখানে বলা হয়েছে, মুকুল আসার আগে ও ফোটার সময় শুষ্ক আবহাওয়া ফলনের জন্য সবচেয়ে ভালো: ফুল ও কচি ফল আক্রমণকারী ছত্রাকজনিত রোগ অ্যানথ্রাকনোজ বৃষ্টি বা ভারী শিশিরে বাড়ে, আর ফুল ও কচি ফলের আরেক রোগ পাউডারি মিলডিউর সম্পর্ক শুষ্ক বসন্ত আবহাওয়ার সঙ্গে।

বাংলাপিডিয়ার তালিকায় বাংলাদেশে আমের প্রায় ১০০টি জাত রয়েছে; ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হিমসাগর, ক্ষীরশাপাত ও আশ্বিনা উৎকৃষ্ট জাতগুলোর অন্যতম। উন্নত জাতের আম চাষের প্রধান এলাকা হিসেবে রাজশাহী, নবাবগঞ্জ (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) ও দিনাজপুরের নাম আছে, আর বারির গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও জয়দেবপুরে। কলমের চারা থেকে গাছ মোটামুটি চতুর্থ বছর থেকে ফল দেয় এবং প্রায় ৪৫তম বছর পর্যন্ত ভালো ফলন দেয়; আঁটির চারার গাছে ফল আসতে আরও কয়েক বছর লাগে, তবে তা ৬০ বছর বা তার বেশি সময় ফল দিতে পারে। বাংলাদেশে আমের প্রায় তিন ডজন ক্ষতিকর পোকা আছে, যার মধ্যে আমের হপার প্রধানগুলোর একটি।

মৌমাছি, মাছি ও পরাগায়নের কাজ


রাবির গাছে গুনগুন করা মৌমাছিরা আসলে আরও বড় এক দলের অংশ। ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার তথ্যে, আমের পরাগায়ন করে থ্রিপস, মাছি এবং অল্প মাত্রায় মধু মৌমাছি। ২০১৫ সালে জার্নাল অব ইনসেক্ট সায়েন্সে প্রকাশিত এ. নুরুল হুদা ও সহকর্মীদের এক গবেষণায় মালয়েশিয়ার দুটি জাত পর্যবেক্ষণ করা হয়। তাতে দেখা যায়, এরিস্টালিনাস ও ক্রাইসোমিয়া গণের বড় মাছিরা সবচেয়ে বেশি আমের পরাগ বহন করে, আর পিঁপড়া ঘন ঘন এলেও পরাগায়নে দুর্বল। গবেষকেরা লেখেন, আমের ফুল মধু মৌমাছির কাছে খুব আকর্ষণীয় নয়, সম্ভবত এতে মধু কম থাকে বলে।

এই অতিথি পোকারা কতটা জরুরি, সেই গবেষণাই তা দেখায়। প্রাকৃতিক পরাগায়নে উভলিঙ্গ ফুলের মধ্যে ‘সালা’ জাতে ৪.৮ শতাংশ এবং ‘চোক আনান’ জাতে ৩.১ শতাংশে ফল ধরে; পোকা আটকে রাখলে চোক আনানে একটি ফলও ধরেনি, আর হাতে পরাগায়ন করলে সালার ফল ধরা ১০০ শতাংশের বেশি এবং চোক আনানের প্রায় ৩৩ শতাংশ বাড়ে। গবেষকদের হিসাবে মোট ফল ধরার প্রায় ৫৩ শতাংশ এসেছে পরাগায়নকারী পোকার অবদানে। চোক আনানের একটি মঞ্জরিতে গড়ে প্রায় ১,১৫৩টি ফুল ছিল, যার ১৫.৭ শতাংশ উভলিঙ্গ; সালার মঞ্জরিতে প্রায় ৭৩৩টি, যার ৯.২ শতাংশ উভলিঙ্গ। দুই জাতেই ৯৫ শতাংশের বেশি উভলিঙ্গ ফুল ফল না ধরেই ঝরে যায়।

ঢাকা জেলার ধামরাইয়ের কালামপুরে আমের মুকুলে একটি মাছি, ছবিটি ২০১৩ সালের ১ মার্চ তোলা। ছবি: Morshed Alam / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
ঢাকা জেলার ধামরাইয়ের কালামপুরে আমের মুকুলে একটি মাছি, ছবিটি ২০১৩ সালের ১ মার্চ তোলা। ছবি: Morshed Alam / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)

সরকারি হিসাবে রাজশাহীর আম


রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি বাসস এবং পরদিন বাংলা ট্রিবিউন জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজশাহী জেলায় ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয় এবং উৎপাদন হয় ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫২ টন; ২০২৫-২৬ অর্থবছরে একই জমি থেকে লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৪৬ হাজার টন। বাঘা, চারঘাট ও পুঠিয়া উপজেলায় মুকুল এসেছিল বিশেষভাবে বেশি, আর রোগ থেকে মুকুল রক্ষায় স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শে চাষিরা স্প্রে করেছিলেন।

২০২৫ সালের মৌসুমে রাজশাহী জেলা প্রশাসন ১৯ হাজার ৬০৩ হেক্টর জমি থেকে হেক্টরপ্রতি গড়ে ১৩.২৬ টন হারে ২ লাখ ৬০ হাজার ৬ টন আম উৎপাদনের হিসাব দিয়েছিল, বিক্রির সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৬৯৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা, ঢাকা ট্রিবিউন ২০২৫ সালের ৭ মে এ খবর দেয়। অপরিপক্ব আম বাজারে আসা ঠেকাতে সেই মৌসুমে আম পাড়ার সময়সূচি ছিল এমন:

  • সব ধরনের আগাম জাত: ১৫ মে থেকে
  • গোপালভোগ: ২০ মে থেকে
  • রানীপছন্দ বা লক্ষ্মণভোগ: ২৫ মে থেকে
  • হিমসাগর বা ক্ষীরশাপাত: ৩০ মে থেকে
  • ল্যাংড়া: ১০ জুন থেকে
  • আম্রপালি ও ফজলি: ১৫ জুন থেকে
  • বারি আম-৪: ৫ জুলাই থেকে
  • আশ্বিনা: ১০ জুলাই থেকে
  • গৌড়মতি: ১৫ জুলাই থেকে

২০২৬ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি বাসসের এক প্রতিবেদনে রাজশাহী অঞ্চলের চার জেলার সর্বশেষ সরকারি হিসাব উঠে আসে। এক বছরে রাজশাহী জেলায় আমবাগান ৫৪১ হেক্টর কমে ১৯ হাজার ৬০৩ থেকে দাঁড়িয়েছে ১৯ হাজার ৬২ হেক্টরে; গাছ ৩৬ লাখ ৯৫ হাজার ২৭৭টি, যার প্রায় ৬০ শতাংশে মুকুল এসেছে। নওগাঁয় বাগান ৩০ হাজার ৩০০ থেকে বেড়ে ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর, গাছ ২ কোটি ৫ লাখ ৩৪ হাজার ৩২৫টি, মুকুল প্রায় ৭১ শতাংশে; চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাগান ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর, আগের বছরের চেয়ে ১৭ হেক্টর কম, মুকুল প্রায় ৭০ শতাংশে; নাটোরে ৫ হাজার ৬৯ হেক্টরে ১৪ লাখ ৮৬ হাজার ১৮৭টি গাছ, মুকুল প্রায় ৫৩ শতাংশে। পুরো অঞ্চলে ৯২ হাজার ৫৫২ হেক্টর বাগানে গাছ ৩ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ৫৫৪টি, যার প্রায় ৬৩ শতাংশে তখন পর্যন্ত মুকুল এসেছিল।

বাসস জানায়, আগের মৌসুমে ফলন ভালো হলেও অতিবৃষ্টিতে প্রচুর আম নষ্ট হয়, দাম পড়ে যায় এবং চাষিরা লোকসানে পড়েন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান চমৎকার ফলনের আশা প্রকাশ করেন এবং জানান, কৃষকদের জন্য রপ্তানির সুযোগ তৈরিতে তাঁর দপ্তর কাজ করছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক কাজী জুলফিকার আলী বাসসকে বলেন, লাভ কমে যাওয়াই চাষিদের আমগাছ কাটার প্রধান কারণ: এ অঞ্চলের বেশির ভাগ জাত দেরিতে পাকে, বাজারে আসার সময় দাম পড়ে যায়, আর আম পচনশীল হলেও সংরক্ষণের ব্যবস্থা কম। তাঁর মতে, নওগাঁ রাজশাহীকে ছাড়িয়ে গেছে, আর কিছু চাষি আবার ধান চাষে ফেরার কথা ভাবছেন।

জাতীয় পর্যায়ে, ২০২৫ সালের এপ্রিলে বাসস ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড প্রকাশিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যে, ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রায় ২ লাখ ২ হাজার ৯৬৮ হেক্টর জমিতে আম উৎপাদন হয় ২৩ লাখ ৫০ হাজার ৪৯৯ টন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৭ লাখ ৭ হাজার ৪৫৯ টন এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২ লাখ ৫ হাজার ৩৪ হেক্টরে ২৫ লাখ ৮ হাজার ৯৭৩ টন; ২০২৫ সালের মৌসুমে লক্ষ্য ছিল রেকর্ড ২৭ লাখ টন। আম মূলত ১৫টি জেলায় চাষ হয়, যার মধ্যে রাজশাহী, নওগাঁ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও সাতক্ষীরা অন্যতম। রপ্তানি ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৩ হাজার ১০০ টন এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১ হাজার ৩২১ টন হয়, ২০২৫ সালের লক্ষ্য ছিল প্রায় ৫ হাজার টন।

রাজশাহীর একটি আমগাছ, ছবিটি ২০২৪ সালের মে মাসে তোলা। ছবি: Tanvir Rahat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
রাজশাহীর একটি আমগাছ, ছবিটি ২০২৪ সালের মে মাসে তোলা। ছবি: Tanvir Rahat / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

আমের দেশের মাঝখানে এক ক্যাম্পাস


বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় আইন ১৯৫৩-এর অধীনে, যার গেজেট প্রকাশিত হয় ১৯৫৩ সালের ১৬ জুন, আর ১৯৫৩-৫৪ শিক্ষাবর্ষে পাঠদান শুরু হয়। ক্যাম্পাসটি মতিহারে, আয়তন ২৯৮.২ হেক্টর; ২০১৮-১৯ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৯টি অনুষদ ও ৫৯টি বিভাগ ছিল। বাংলাপিডিয়ায় লেখা আছে, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন শিক্ষক, ১৫ জন কর্মচারী ও ৯ জন শিক্ষার্থীকে হত্যা করে। কৃষি অনুষদের যাত্রা ২০০০ সালে, যখন স্থানীয় একটি কৃষি কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়; প্যারিস রোডের দুই পাশে এবং কাজলা পুকুর ও উপাচার্যের বাসভবনের আশপাশে রয়েছে আমগাছের সারি।

ক্যাম্পাসটি এমন এক জেলায়, যার আমের ইতিহাস বহু পুরোনো। ২০২৫ সালের জুনে প্রথম আলো সেই ইতিহাস তুলে ধরে: রাবি ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) ক্যাম্পাসের বড় অংশ আমবাগানে ঢাকা; মুঘল সম্রাট জাহাঙ্গীরের দূত আবদুল লতিফ ১৬০৯ সালে তাঁর দিনলিপিতে বাঘার আম ও আমবাগানের কথা লিখে গেছেন; আর উনিশ শতকে বাঘার ফজলি ও ক্ষীরশাপাত আম কলকাতার বাজারে বিক্রি হতো ‘নাটোরের আম’ নামে। রাজশাহী শহরের হাদগ্রামে রায়পাড়ার বাগান একসময় প্রায় ৫০০ বিঘাজুড়ে ছিল, যেখানে উপমহাদেশের নানা প্রান্তের জাত সংগ্রহ করা হয়েছিল।

ফজলি আমের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) স্বীকৃতি রয়েছে। রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্র ২০১৭ সালের ৯ মার্চ আবেদন করার পর চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিদের সংগঠন আপত্তি জানায়; শুনানি শেষে পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর ২০২২ সালের ২৪ মে ফজলিকে ‘রাজশাহী-চাঁপাইনবাবগঞ্জের ফজলি আম’ ঘোষণা করে, জানায় ইউএনবি। ২০২৫ সালের জুনে প্রথম আলো জানায়, দেশে আমের নতুন জাত উদ্ভাবনের কাজ শুরু হয় ১৯৯৩ সালে, আর বারি এ পর্যন্ত তিনটি হাইব্রিডসহ ১৮টি জাত অবমুক্ত করেছে; এর ১৪টি এসেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম গবেষণা কেন্দ্র থেকে, বাকি চারটি রাজশাহীসহ অন্যান্য ফল গবেষণা কেন্দ্র থেকে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাসস জানায়, অঞ্চলের নতুন বাগানে আম্রপালি (বারি আম-৩) ও বারি আম-৪ জাতের চাষ বাড়ছে। আমগাছ বাংলাদেশের জাতীয় বৃক্ষও, এ সিদ্ধান্তের খবর বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম প্রকাশ করে ২০১০ সালের ১৫ নভেম্বর।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্যারিস রোড, ছবিটি ২০১৩ সালের ২০ মার্চ তোলা। ছবি: Grambangla / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্যারিস রোড, ছবিটি ২০১৩ সালের ২০ মার্চ তোলা। ছবি: Grambangla / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

মুকুলের সময় স্প্রে, আর অতিরিক্ত ব্যবহার নিয়ে সতর্কতা


স্প্রে এই মৌসুমের পরিচর্যারই অংশ ছিল। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাসস জানায়, মুকুল রক্ষায় স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শে রাজশাহীর চাষিরা বালাইনাশক স্প্রে করেছেন, আর ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা জানান, বাগান পরিচর্যার অংশ হিসেবে চাষিদের স্প্রে করতে বলা হয়েছে। রাবি ক্যাম্পাসে অধ্যাপক গিয়াসউদ্দিনের সতর্কবার্তা ছিল উল্টো দিকের: অতিরিক্ত বালাইনাশক পরিবেশ ও মাটির ক্ষতি করে।

রাজশাহীতে এ প্রশ্নের একটি ইতিহাসও আছে। ২০১৯ সালের এপ্রিলে, অনিয়মিত আবহাওয়া ও পোকার আক্রমণের মুখে চাষিরা যখন স্প্রে করছিলেন, তখন ৯ এপ্রিল হাইকোর্ট সাত দিনের মধ্যে রাজশাহী বিভাগের আমবাগানে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ মোতায়েনের নির্দেশ দেন, যাতে আমে বিষাক্ত রাসায়নিকের অপব্যবহার ঠেকানো যায়; ১৬ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট ওই আদেশের বিরুদ্ধে আবেদন খারিজ করেন, জানায় দ্য ডেইলি স্টার। ফল গবেষক ড. শরফ উদ্দিন তখন পত্রিকাটিকে বলেন, রোগ দেখা দিলে কর্মকর্তারা অনুমোদিত বালাইনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেন, আর রোগ না থাকলে স্প্রের দরকার নেই।

পরাগায়ন নিয়ে গবেষণা যেমন দেখায়, ফোটা আমের ফুলে ফল ধরতে অতিথি পোকাদের দরকার হয়; তাই কোন বালাইনাশক, কখন ও কতটুকু, সে সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রতিবেদনে কোনো মাত্রা দেওয়া হয়নি: মুকুল ফোটা বাগানে স্প্রের আগে চাষিদের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বা রাজশাহীর ফল গবেষণা কেন্দ্রের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ছবি: Sm faysal / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ, বাসস, বাংলা ট্রিবিউন, দ্য ডেইলি স্টার, ঢাকা ট্রিবিউন, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, প্রথম আলো, দৈনিক ইত্তেফাক, ইউএনবি, বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া, ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডা আইএফএএস এক্সটেনশন, জার্নাল অব ইনসেক্ট সায়েন্স

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)