সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

আমে চাঙা উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, মৌসুমে জীবিকা পান লাখো মানুষ

২০২৬ সালের মৌসুমে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোরে প্রায় ১২ লাখ ৫৫ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল, আর ব্যবসায়ীদের ধারণা ছিল আমঘিরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার কর্মকাণ্ড হতে পারে। তবে চাষিদের অভিযোগ, মধ্যস্বত্বভোগী ও ৫৪ কেজিতে মণ ধরার প্রথায় তাঁদের লাভ কমে যায়।

আমে চাঙা উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, মৌসুমে জীবিকা পান লাখো মানুষ
ফল

২০২৬ সালের জুনের শুরুতে উত্তরাঞ্চলের গ্রীষ্মকালীন অর্থনীতির গতি আবারও ঠিক করে দিচ্ছিল আম। ২০২৬ সালের ৪ জুন প্রকাশিত এক বিশেষ প্রতিবেদনে জাগো নিউজ লিখেছিল, রাজশাহী অঞ্চলের বাগানে বাগানে তখন পাকা-আধাপাকা আমের সুবাস, মোকামে ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়, আর ট্রাকভর্তি চালান দেশের নানা প্রান্তে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছিল। প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ফলকে ঘিরে গড়ে উঠেছে হাজার কোটি টাকার অর্থনীতি, লাখো মানুষের জীবিকা এবং বাগান থেকে কুরিয়ারের কাউন্টার পর্যন্ত বিস্তৃত এক বাণিজ্যিক চক্র।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মৌসুমে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোর এই চার জেলায় প্রায় ১২ লাখ ৫৫ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছিল। ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের ধারণা ছিল, উৎপাদন, বিপণন, পরিবহন, প্যাকেজিং, কুরিয়ার, ব্যাংকিং, ঝুড়িশিল্প ও রপ্তানি মিলিয়ে কয়েক মাসের এই মৌসুমে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হতে পারে। তবে চাষিরা সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এই অর্থের বড় অংশ তাঁদের হাতে পৌঁছায় না। এর জন্য তাঁরা আড়তদার, মধ্যস্বত্বভোগী এবং ৫৪ কেজিতে এক মণ ধরার স্থানীয় প্রথাকে দায়ী করেন।

চার জেলার লক্ষ্যমাত্রা ও বাণিজ্যের আকার


প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, একসময় আম ছিল কেবল মৌসুমি ফল, কিন্তু গত দুই দশকে এটি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষিভিত্তিক শিল্পে পরিণত হয়েছে। নতুন জাত, বাণিজ্যিক বাগানের সম্প্রসারণ, উন্নত পরিচর্যা ও অনলাইনে বিক্রির কারণে এ অঞ্চলের আম আর শুধু স্থানীয় বাজারে সীমাবদ্ধ নেই।

বছরের শুরুতে প্রকাশিত ডিএইর হিসাবেই এই বিস্তারের মাপ বোঝা যায়। ২০২৬ সালের মার্চে রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস জানায়, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোরে ৯২ হাজার ৫৫২ হেক্টর জমিতে আম চাষের লক্ষ্য ধরেছে ডিএই। এ অঞ্চলের ৩ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ৫৫৪টি আমগাছ থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য ছিল প্রায় সাড়ে ১২ লাখ টন। একই বছরের ফেব্রুয়ারিতে দ্য ডেইলি স্টার সরকারি তথ্য উদ্ধৃত করে জানায়, আগের মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৬৪০ টন, নওগাঁয় ৪ লাখ ২১ হাজার ৪২৯ টন, রাজশাহীতে ২ লাখ ৪৯ হাজার ৯৫৩ টন এবং নাটোরে ৭২ হাজার ৭৩ টন আম উৎপাদিত হয়েছিল।

২০২৬ সালের অনুমান আগের বছরের অনুমানেরই পুনরাবৃত্তি ছিল। ২০২৫ সালের জুনে ডিএইর রাজশাহী অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. আজিজুর রহমান বাসসকে বলেছিলেন, চার জেলায় প্রায় ১২ দশমিক ৫৫ লাখ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্য রয়েছে, যার আনুমানিক বাণিজ্যমূল্য প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকা। তিনি আরও বলেছিলেন, আম পাড়া, পরিবহন, মজুত, বিপণন, চালান ও প্যাকেজিং মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থান হবে এবং আমকেন্দ্রিক মোট অর্থনৈতিক মূল্য দাঁড়াবে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা। বাসস তখন জানিয়েছিল, দেশের মোট আম উৎপাদনের প্রায় অর্ধেক আসে এই অঞ্চল থেকে।

রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্যান) পাপিয়া রহমান মৌরী জাগো নিউজকে জানান, দেশি গুটি ও গোপালভোগ আম তখন বাজারে উঠতে শুরু করেছে। এরপর পর্যায়ক্রমে খিরসাপাত, ল্যাংড়া, ফজলি, আম্রপালি ও আশ্বিনা বাজারে আসবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ফলনও ভালো হবে বলে জানান তিনি।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহা. ফরিদ উদ্দিন খান পত্রিকাটিকে বলেন, ধান ও আলুর পর আম এখন উত্তরাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। পরিকল্পিতভাবে আমভিত্তিক শিল্প গড়ে তুলতে পারলে সারা বছরই কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এক বছর আগে বাসসকেও তিনি একই কথা বলেছিলেন এবং যোগ করেছিলেন, এ অঞ্চলে বিপুল আম উৎপাদিত হলেও তার সামান্য অংশই রপ্তানি হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কানসাটের মোকাম


আম উৎপাদনে এবারও শীর্ষে ছিল চাঁপাইনবাবগঞ্জ। জেলা কৃষি বিভাগের বরাত দিয়ে বাসস ২০২৬ সালের ১৬ মে জানায়, সে বছর জেলায় ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন, যা আগের বছরের ৪ লাখ ৫৮ হাজার টনের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে সামান্য বেশি। ডিএইর চাঁপাইনবাবগঞ্জ কার্যালয়ের উপপরিচালক ড. ইয়াছিন আলী সংস্থাটিকে বলেন, আবহাওয়া, মাটির গুণাগুণ ও ভৌগোলিক কারণে এ জেলার আম অন্য জেলার তুলনায় সুস্বাদু, তবে এখানে আম কিছুটা দেরিতে পাকে।

প্রতিবেশী জেলাগুলোর মতো চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০২৬ সালে কোনো সরকারি ম্যাংগো ক্যালেন্ডার ছিল না। জেলা প্রশাসক আবু ছালেহ মো. মুসা বাসসকে জানান, ১১ মে এক মতবিনিময় সভায় আমচাষিদের সম্মতিতে আম পাড়ার কোনো তারিখ নির্ধারণ না করার সিদ্ধান্ত হয়েছে; গাছে আম পাকলেই তা বাজারে বিক্রি করা যাবে। আমের ওজন নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিলতা নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনার কথাও জানান তিনি।

ফজলি, খিরসাপাত, ল্যাংড়া ও আশ্বিনা জাতের আমের জন্য জেলাটি বিশেষভাবে পরিচিত। ২০১৯ সালের জানুয়ারিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত দেশের তৃতীয় ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পায়, যা দ্য ডেইলি স্টার তখন প্রকাশ করেছিল। শিবগঞ্জ উপজেলায় সোনামসজিদমুখী সড়কের পাশে অবস্থিত কানসাট আমের বাজার প্রতি মৌসুমে দেশের অন্যতম বৃহৎ আম বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়। ২০২৬ সালের ১ জুন প্রথম আলো একে দেশের বৃহত্তম আমের বাজার হিসেবে উল্লেখ করে।

জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কানসাটে তখন প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ কোটি টাকার আম বেচাকেনা হচ্ছিল, আর জেলাজুড়ে এর পরিমাণ ছিল ২৫ থেকে ৩০ কোটি টাকার কাছাকাছি। প্রতিবেদনে বলা হয়, দুই থেকে আড়াই মাসের মৌসুমে এ বাজারে লেনদেন শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায় এবং পুরো মৌসুমে জেলার আম ব্যবসার আকার সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি হয়।

কানসাটে তখন জাত ও মানভেদে আম বিক্রি হচ্ছিল প্রতি মণ ৮০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকায়। হিমসাগর (খিরসাপাত) প্রতি মণ ১ হাজার ৭০০ থেকে ২ হাজার ১০০ টাকা এবং লক্ষ্মণভোগ ও গুটি আম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। ১ জুন বাজার ঘুরে প্রথম আলো চাষিদের অসন্তোষের কথা লেখে। একজন খিরসাপাত চাষি জানান, ঈদের আগে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে তিনি যে আম ৩ হাজার টাকা মণ দরে বিক্রি করেছিলেন, সেদিন তা বিক্রি করতে হয়েছে ১ হাজার ৬৫০ টাকায়, তাও ৫৪ কেজিতে মণ ধরে। আরেকজন চাষি ২ হাজার ১০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেন, তবে ৫২ কেজিতে এক মণ হিসাবে। একজন আড়তদার পত্রিকাটিকে বলেন, বাইরের ব্যবসায়ীরা তখনো তেমনভাবে বাজারে আসেননি এবং মনমতো দাম না পাওয়ায় অনেক চাষি পর্যাপ্ত আম বাজারে আনছেন না।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে গাছে ঝুলছে আম, ২০১৬ সালের জুলাইয়ে তোলা। ছবি: Fozli.com / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
চাঁপাইনবাবগঞ্জের কানসাটে গাছে ঝুলছে আম, ২০১৬ সালের জুলাইয়ে তোলা। ছবি: Fozli.com / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

নওগাঁ: আম্রপালির জেলা


নওগাঁয় প্রায় ৩০ হাজার হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছিল। ২০২৬ সালের ১০ মে জেলার আম সংগ্রহের সময় নির্ধারণী সভার খবরে প্রথম আলো ও বাসস জমির পরিমাণ জানায় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর। প্রথম আলোর তথ্যে, প্রতি হেক্টরে ১২ দশমিক ৭৮ টন হিসাবে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৩৬১ টন, আর কৃষি বিভাগের ধারণা ছিল জেলায় প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার আম-বাণিজ্য হতে পারে। একই সভার খবরে বাসস সম্ভাব্য বিক্রির পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা উল্লেখ করে। জাগো নিউজকে স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্যের কথা বলেন।

জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, নওগাঁর আমবাগানের ৭৬ শতাংশ জমিতে আম্রপালি, ৭ শতাংশে আশ্বিনা, ৬ শতাংশে বারি আম-৪, ফজলি ও ল্যাংড়া ৩ শতাংশ করে, খিরসাপাত ২ শতাংশ এবং গৌড়মতি, কাটিমন ও অন্যান্য জাত ১ শতাংশ করে জমিতে রয়েছে। আম্রপালি দশেরি ও নীলম জাতের সংকর, যা দিল্লির ভারতীয় কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে উদ্ভাবিত হয়ে ১৯৭১ সালে প্রবর্তিত হয়। এর গাছ খাটো এবং প্রতিবছর নিয়মিত ফল দেয়, যা নতুন বাণিজ্যিক বাগানে এর বিস্তারের একটি কারণ।

অপরিপক্ব আম বাজারে আসা ঠেকাতে নওগাঁ জেলা প্রশাসন জাতভেদে আম সংগ্রহের সময় বেঁধে দেয়: ২২ মে থেকে গুটি, ৩০ মে গোপালভোগ, ২ জুন হিমসাগর বা খিরসাপাত, ৫ জুন জিআই স্বীকৃতি পাওয়া নাক ফজলি, ১০ জুন ল্যাংড়া ও হাঁড়িভাঙা, ১৫ জুন আম্রপালি, ২৫ জুন ব্যানানা ম্যাঙ্গো ও ফজলি এবং ৫ জুলাই থেকে আশ্বিনা, বারি আম-৪, গৌড়মতি ও কাটিমন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আম পাকানো, সংরক্ষণ বা বাজারজাতকরণে কোনো রাসায়নিক মেশানো যাবে না এবং ভেজাল ঠেকাতে প্রশাসন বিশেষ নজরদারি রাখবে।

ডিএইর নওগাঁর উপপরিচালক হুমায়রা মণ্ডল জানান, আগের বছর জেলা থেকে প্রায় ১০০ মেট্রিক টন আম মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হয়েছিল, আর ২০২৬ সালের লক্ষ্য ২০০ মেট্রিক টন। জাগো নিউজ জানায়, রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছিল এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে রাসায়নিকের ব্যবহার কমানোর উদ্যোগও নেওয়া হয়েছিল।

ফজলি আম, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁয় ব্যাপকভাবে চাষ হওয়া একটি নাবি জাত। ছবি: Fozli.com / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
ফজলি আম, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁয় ব্যাপকভাবে চাষ হওয়া একটি নাবি জাত। ছবি: Fozli.com / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

রাজশাহী ও নাটোর


রাজশাহী জেলায় ২০২৬ সালে ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আমবাগান ছিল। আম নামানোর প্রথম দিন ১৫ মে পাপিয়া রহমান মৌরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, জেলায় উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৫ টন, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ৭৮০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। জাগো নিউজের তথ্যে, বাঘা উপজেলা জেলার সবচেয়ে বড় আম উৎপাদন এলাকা; এ ছাড়া চারঘাট, গোদাগাড়ী, পুঠিয়া, বাগমারা ও দুর্গাপুরেও দ্রুত আমচাষ বাড়ছিল।

জেলা প্রশাসক ১০ মে রাজশাহীর যে ম্যাংগো ক্যালেন্ডার ঘোষণা করেন, তাতে ১৫ মে থেকে গুটি, ২২ মে গোপালভোগ, ২৫ মে রানিপছন্দ ও লক্ষ্মণভোগ, ৩০ মে হিমসাগর বা খিরসাপাত, ১০ জুন ল্যাংড়া ও ব্যানানা ম্যাঙ্গো এবং ১৫ জুন আম্রপালি ও ফজলি পাড়ার অনুমতি দেওয়া হয়। ৫ জুলাই থেকে বারি আম-৪, জুলাইয়ের শুরুতে আশ্বিনা এবং ১৫ জুলাই থেকে গৌড়মতি নামানো যাবে; আর কাটিমন ও বারি আম-১১ সারা বছরই সংগ্রহ করা যাবে।

জাগো নিউজ জানায়, রাজশাহীর বানেশ্বর ও বাঘার মোকামে তখন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত আম কেনাবেচা চলছিল এবং বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা সেখানে অবস্থান করছিলেন। গোদাগাড়ীর চাষি আব্দুর রহিম সাগর ৫০ একর জমিতে আম চাষ করেছিলেন এবং সে মৌসুমে এক কোটি টাকার আম বিক্রির আশা করছিলেন। তিনি বলেন, 'ফলন ভালো হয়েছে। বাজারদর অনুকূলে থাকলে এবার লাভবান হওয়ার আশা করছি।' আব্দুর রাজ্জাক নামের আরেক চাষি পত্রিকাটিকে বলেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন তুলনামূলক ভালো হয়েছে, কিন্তু উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় তিনি ভালো দামের আশা করেছিলেন, 'কিন্তু বাজারে দাম নেই।'

প্রথম আলোর খবরে, নাটোরে ৫ হাজার ৬৯৩ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছিল এবং ডিএই উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরেছিল ৬৮ হাজার ৩১৬ টন। সেখানে ১৫ মে আনুষ্ঠানিকভাবে আম পাড়া শুরু হয়। কৃষি বিভাগ ও বাগানমালিকেরা আশা করছিলেন, আগের বছরের প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার তুলনায় এবার বেচাকেনা ৪০০ কোটি টাকা ছাড়াবে। জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, নাটোর এখন উত্তরাঞ্চলের চতুর্থ বৃহত্তম আম উৎপাদনকারী জেলা, যেখানে গত দুই দশকে, বিশেষ করে লালপুর, বাগাতিপাড়া ও আশপাশের এলাকায়, আমচাষ দ্রুত বেড়েছে। কষজনিত পচন ঠেকাতে বোঁটাসহ আম পাড়া এবং নিরাপদ ফল উৎপাদনে ব্যাগিং পদ্ধতি অনুসরণের পরামর্শ দেন তিনি।

রাজশাহী শহরের আম চত্বর, ২০০৯ সালে তোলা। ছবি: A junaid alam khan / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
রাজশাহী শহরের আম চত্বর, ২০০৯ সালে তোলা। ছবি: A junaid alam khan / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

প্রায় তিন লাখ মানুষের মৌসুমি কাজ


ব্যবসায়ীরা জাগো নিউজকে জানান, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাগানের শ্রমিক, ঝুড়ি কারিগর, ট্রাকচালক, পরিবহন শ্রমিক, কুরিয়ার কর্মী, আড়তদার ও প্যাকেজিং কর্মী মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ মানুষের মৌসুমি কর্মসংস্থান হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, আম সংগ্রহ, বাছাই ও প্যাকিংয়ের শ্রমিকেরা দিনে এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করেন, আর ঝুড়ি ও প্যাকেজিং শিল্প, পরিবহন এবং কুরিয়ার সেবার সঙ্গে যুক্ত হাজারো মানুষ মৌসুমে বাড়তি আয়ের সুযোগ পান।

গোদাগাড়ী উপজেলার আমবাগানের শ্রমিক নির্জর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, 'আমের মৌসুমে আমাদের প্রচুর কাজ থাকে। সারা বছর নিয়মিত কাজ পাওয়া যায় না, কিন্তু আমের সময়ে বাগানে আম পাড়া, বাছাই ও প্যাকিংয়ের কাজ করে ভালো আয় করা যায়। এই মৌসুমের আয়ের ওপরই অনেকটা নির্ভর করে পরিবারের খরচ চালাই।'

এই মৌসুমি অর্থনীতির একটি নতুন দিক অনলাইন বিক্রি। ২০২৫ সালের জুনে বাসস জানিয়েছিল, আমের মৌসুমে নতুন নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি হচ্ছে, বিশেষ করে অনলাইনে আম বিক্রি করা তরুণদের জন্য। জাত অনুযায়ী আম আসতে শুরু করলে বানেশ্বর, সাহেববাজার, হড়গ্রাম, গোদাগাড়ী, কানসাট ও রহনপুরের মতো বাজার জমজমাট হয়ে ওঠে বলেও সংস্থাটি জানায়।

২০২৫ সালের জুনে বিশেষজ্ঞরা বাসসকে বলেছিলেন, এ অঞ্চলে যা এখনো নেই তা হলো প্রক্রিয়াজাতকরণ। আঞ্চলিক ফল গবেষণা কেন্দ্রের সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দিন বলেন, উৎপাদন বাড়লেও এ অঞ্চলে আম সংরক্ষণের ব্যবস্থা বা প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা নেই। সংস্থাটি জানায়, দেশের মোট আমের ৪৯ শতাংশ উৎপাদিত হয় এ অঞ্চলে। ঝড়ে পড়ে যাওয়া আমসহ এই ফল থেকে জুস, আচার, জ্যাম ও জেলি তৈরি করা যায়। ডিএইর সাবেক পরিচালক মনজুরুল হুদা বলেন, এখানে এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো আম প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা গড়ে ওঠেনি।

চাষিদের অভিযোগ: লাভ যায় মধ্যস্বত্বভোগীর হাতে


আমকে ঘিরে উত্তরাঞ্চলে প্রতিবছর হাজার কোটি টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড হলেও চাষিরা জাগো নিউজকে বলেন, এর প্রকৃত সুফল অনেক ক্ষেত্রে তাঁরা পান না। তাঁদের অভিযোগ, মধ্যস্বত্বভোগী ও আড়তদারদের দৌরাত্ম্যের কারণে তাঁরা ন্যায্য দাম থেকে বঞ্চিত হন।

চাষিদের হিসাবে, এক মণ আম উৎপাদনে গড়ে ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা খরচ হয়। পোকামাকড় ও রোগবালাই দমনে বছরে পাঁচ থেকে ছয়বার স্প্রে করতে হয়, এতে প্রতি বিঘা বাগানে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত ব্যয় হয়; সার, সেচ ও শ্রমিকের খরচ এর বাইরে। এক বিঘা জমিতে গড়ে ৪০ থেকে ৫০ মণ আম হলেও মৌসুমে সরবরাহ বেড়ে গেলে দাম কমে যায়, ফলে অনেক চাষি প্রত্যাশিত লাভ পান না। গোদাগাড়ীর আমচাষি নজরুল ভুঁইয়া বলেন, ৫৪ কেজিকে এক মণ ধরায় চাষিদের ১৪ কেজি বেশি দিতে হয়, ফলে অনেক সময় লোকসানে পড়তে হয়। বাজার সিন্ডিকেটের কারণে অনেক সময় আমের দামও ঠিকমতো থাকে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ অভিযোগের বিষয়ে আড়তদারদের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনে ছিল না।

ওজনের এই অভিযোগ সে মৌসুমে নতুন ছিল না। ২০২৬ সালের ১৬ মে শিবগঞ্জের এক আমচাষি বাসসকে বলেন, যেখানে ৪০ কেজিতে এক মণ হওয়ার কথা, সেখানে জায়গাভেদে ৫০ থেকে ৫৫ কেজিতে এক মণের ওজন দিতে হয়। তিনি আরও বলেন, প্রান্তিক চাষি যে আম ৪০ টাকা কেজিতে বিক্রি করেন, সেই আম ঢাকাসহ অন্য জায়গায় ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। তিনি জেলা প্রশাসকসহ সরকারের হস্তক্ষেপ চান। চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক জানান, ওজনের বিষয়টি নিয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করবেন।

বাগান থেকে ভোক্তার কাছে পৌঁছাতে আমকে কয়েক হাত ঘুরতে হয়। সাধারণত ফড়িয়া বা সংগ্রহকারী চাষির কাছ থেকে আম কেনেন; পরে তা আড়তদার, পাইকার ও খুচরা বিক্রেতার মাধ্যমে বাজারে যায়। চাষিদের ভাষায়, এই দীর্ঘ শৃঙ্খলের কারণে বাগানের দাম আর খুচরা দামের মধ্যে বড় ব্যবধান তৈরি হয়। দ্রুত বিক্রি করতে না পারলে আম পচে যায় বলে মৌসুমের শুরুতে সরবরাহ বাড়লে তাঁরা কম দামেও বিক্রি করতে বাধ্য হন, আর মধ্যস্বত্বভোগীরা সংরক্ষণ সুবিধা ও ক্রেতা নেটওয়ার্কের সুবিধা পান। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও রাজশাহীর ব্যবসায়ীরা জাগো নিউজকে বলেন, বাগানে দাম কম থাকলেও পরিবহন খরচ, কমিশন, আড়তের খরচ ও একাধিকবার হাতবদলের কারণে ঢাকাসহ বড় শহরে খুচরা দাম অনেক বেড়ে যায়।

রপ্তানি: বিদেশে চাহিদা, দেশে বাধা


দেশে আমের মোট উৎপাদন কয়েক বছর ধরে বাড়ছিল। ২০২৬ সালের এপ্রিলে ডিএইর বরাত দিয়ে বাসস জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে উৎপাদন ছিল ২৬ দশমিক ৭০ লাখ টন এবং সে মৌসুমে প্রায় ২ লাখ ৪ হাজার হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। ডিএইর রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান বলেন, কালবৈশাখীর মতো বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে উৎপাদন প্রায় ২৭ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে।

এর তুলনায় রপ্তানি ছিল সামান্য। ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে দ্য ডেইলি স্টারে প্রকাশিত ডিএইর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ৩ হাজার ১০০ টন, ২০২৪ সালে ১ হাজার ৩২১ টন এবং ২০২৫ সালে ২ হাজার ১৯৪ টন আম রপ্তানি হয়। ২০২৫ সালে সবচেয়ে বেশি, ৬৮৬ টন, নেয় যুক্তরাজ্য; এরপর সৌদি আরব, ইতালি, কুয়েত ও কাতার। নতুন গন্তব্য হিসেবে চীনে যায় ৫ টন। পত্রিকাটি জানায়, দেশে চাষ হওয়া ৭২টি জাতের মধ্যে মাত্র সাত-আটটি জাত রপ্তানি হয় এবং মোট চালানের প্রায় ৮০ শতাংশই আম্রপালি। দেশের অভ্যন্তরীণ আমের বাজারের আকার ১৩ থেকে ১৪ হাজার কোটি টাকা বলেও উল্লেখ করে পত্রিকাটি।

জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজশাহীর আম যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ইতালি, সৌদি আরব, কাতার, বাহরাইন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনসহ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হচ্ছে, তবে বিপুল উৎপাদন সত্ত্বেও রপ্তানির পরিমাণ খুবই সীমিত। সংশ্লিষ্টদের মতে প্রধান বাধাগুলো হলো আন্তর্জাতিক মানের কোল্ড চেইন সুবিধার অভাব, গ্লোবাল জিএপি সনদের স্বল্পতা, উন্নত প্যাকেজিং ও গ্রেডিং ব্যবস্থার ঘাটতি, উচ্চ পরিবহন ব্যয় এবং ফাইটোস্যানিটারি শর্ত পূরণের জটিলতা। কৃষি বিশেষজ্ঞরা বলেন, রপ্তানি বাড়াতে হলে উৎপাদন থেকে শুরু করে সংগ্রহ, সংরক্ষণ, প্যাকেজিং ও পরিবহনের প্রতিটি ধাপে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে হবে।

২০২৫ সালেও রপ্তানিকারকেরা একই ধরনের কথা বলেছিলেন। বাংলাদেশ ফ্রুটস, ভেজিটেবলস অ্যান্ড অ্যালাইড প্রোডাক্টস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ মনসুর দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ২০২৪ সালে উড়োজাহাজের ভাড়া স্বাভাবিকের তুলনায় দুই থেকে তিন গুণ বেড়েছিল এবং ভেপার হিট ট্রিটমেন্ট সুবিধা না থাকায় প্রধান বাজারগুলোতে প্রতিযোগিতা করা কঠিন। ২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রথম আলো রপ্তানিকারকদের হিসাব তুলে ধরে জানায়, সে বছর এক কেজি আম রপ্তানিতে অন্তত ৫০০ টাকা খরচ হয়েছে, যেখানে বছর দুয়েক আগে লাগত ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা। প্রতিদ্বন্দ্বী ভারত, পাকিস্তান ও থাইল্যান্ডের তুলনায় বাংলাদেশের আমের দাম কেজিতে অন্তত এক ডলার বেশি পড়ে বলেও জানান রপ্তানিকারকেরা।

বাসস জানায়, ২০২৬ সালের ২১ মে ঢাকায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলে মৌসুমের আম রপ্তানি কার্যক্রম উদ্বোধন করে কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে থাকা মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ বলেন, সরকার রপ্তানির বাধা, বিশেষ করে উচ্চ বিমানভাড়ার সমস্যা দূর করার চেষ্টা করবে। তিনি বলেন, বছরে ২৫ থেকে ২৭ লাখ টন আম উৎপাদিত হলেও রপ্তানি ১ শতাংশের বেশি নয়। একটি নতুন বাজারের সম্ভাবনাও তখন দেখা দিয়েছিল। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম জানায়, কুয়ালালামপুরের বাংলাদেশ হাইকমিশন ২ জুন জানিয়েছে, মালয়েশিয়ার কৃষি বিভাগের দুই সদস্যের একটি কারিগরি দল ৭ থেকে ১৩ জুন বাংলাদেশ সফর করে আমবাগান, প্যাকিং ও সংরক্ষণ ব্যবস্থা পরিদর্শন করবে। দলটি সন্তোষজনক প্রতিবেদন দিলে সেই মৌসুমেই মালয়েশিয়ায় আম রপ্তানি শুরু হতে পারে।

বাংলাদেশে ফ্রুট ব্যাগে মোড়ানো আশ্বিনা আম; নিরাপদ ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়, ২০১৬ সালে তোলা। ছবি: Fozli.com / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)
বাংলাদেশে ফ্রুট ব্যাগে মোড়ানো আশ্বিনা আম; নিরাপদ ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনে এই পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়, ২০১৬ সালে তোলা। ছবি: Fozli.com / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

আবহাওয়ার ঝুঁকি ও আম চাষের পটভূমি


কৃষিবিদেরা জাগো নিউজকে বলেন, তখন পর্যন্ত আবহাওয়া অনুকূলে ছিল, তবে মৌসুমের বাকি সময়ে শিলাবৃষ্টি, কালবৈশাখী কিংবা অতিবৃষ্টি বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে। রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম পত্রিকাটিকে বলেন, 'আমের মৌসুমে তাপপ্রবাহ, কালবৈশাখী ঝড় ও আকস্মিক ভারী বৃষ্টি সবচেয়ে বড় ঝুঁকি। বিশেষ করে গুটি ও পরিপক্ব অবস্থায় ঝড়-বৃষ্টি হলে ফল ঝরে পড়তে পারে। তবে আবহাওয়ার পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে এ বছর আমের উৎপাদন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।'

মৌসুমের শুরুটা ভালো ছিল। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে তিনি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, শীত থেকে উষ্ণ আবহাওয়ায় মসৃণ পরিবর্তন এবং শীতের শেষে কুয়াশা বা বৃষ্টি না থাকায় গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। মার্চে ডিএইর ড. আজিজুর রহমান বাসসকে বলেন, এটি আমের 'অন ইয়ার', প্রায় সব গাছেই মুকুল এসেছে। ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জাগো নিউজকে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে সে মৌসুমে উৎপাদন ও বাণিজ্যে নতুন রেকর্ড হবে বলে তাঁরা আশা করছেন।

আবহাওয়া কেন এত গুরুত্বপূর্ণ, তার ব্যাখ্যা আছে জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ায়। জানুয়ারি থেকে মার্চে আমগাছে ফুল আসার সময় কুয়াশা, বৃষ্টি বা মেঘলা আবহাওয়া ফল ধরায় ক্ষতি করে; ফল বাড়ার সময় হালকা বৃষ্টি উপকারী, কিন্তু ঝড়, বিশেষ করে শিলাবৃষ্টিতে প্রায়ই অপরিপক্ব আম ঝরে পড়ে। আমের বৈজ্ঞানিক নাম ম্যাঙ্গিফেরা ইন্ডিকা, যা বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশের পূর্বাঞ্চলের স্থানীয় উদ্ভিদ হিসেবে বিবেচিত। দেশে প্রায় ১০০টি আমের জাত রয়েছে, যা দুই ভাগে পড়ে: কলমের মাধ্যমে বংশবিস্তার করা ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হিমসাগর, খিরসাপাত ও আশ্বিনার মতো উন্নত জাত, এবং বীজ থেকে জন্মানো দেশি বা গুটি আম। কলমের গাছে চতুর্থ বছর থেকে ফল আসে এবং প্রায় ৪৫ বছর পর্যন্ত ভালো ফলন দেয়; দেশের সেরা কিছু আমবাগান গড়ে উঠেছে গঙ্গা প্লাবনভূমির গভীর পলিমাটিতে। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে আম গবেষণা কেন্দ্র রয়েছে, যেখানে বিজ্ঞানীরা বংশবিস্তার, উৎপাদন ও সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেন।

ছবি: Mahinur11 / উইকিমিডিয়া কমন্স (সিসি বাই-এসএ ৪.০)

সূত্র: জাগো নিউজ (৪ জুন ২০২৬), বাসস (১৬ জুন ২০২৫, ২৮ জুন ২০২৫, ১১ মার্চ ২০২৬, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১০ মে ২০২৬, ১৬ মে ২০২৬, ২১ মে ২০২৬), প্রথম আলো (২৫ অক্টোবর ২০২৫, ১০ মে ২০২৬, ১১ মে ২০২৬, ১৫ মে ২০২৬, ১ জুন ২০২৬), দ্য ডেইলি স্টার (২৮ জানুয়ারি ২০১৯, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৪ মে ২০২৬), বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম (১৫ মে ২০২৬, ৩ জুন ২০২৬), বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)