সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

মেসির প্রিয় খাবার মিলানেসা নাপোলিটানা: ইতিহাস ও ঘরে তৈরির রেসিপি

লিওনেল মেসি বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বলেছেন, মা সেলিয়ার রান্না করা মিলানেসা নাপোলিটানাই তার সবচেয়ে পছন্দের খাবার। ২০২৬ সালের জুনে জাগো নিউজ ২৪ আর্জেন্টিনার এই ব্রেডক্রাম্বে মোড়ানো মাংসের পদটি ঘরে তৈরির রেসিপি প্রকাশ করে।

মেসির প্রিয় খাবার মিলানেসা নাপোলিটানা: ইতিহাস ও ঘরে তৈরির রেসিপি
রান্নাবান্না

আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক ও ইন্টার মায়ামির ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসি একাধিকবার বলেছেন, রোসারিওর বাড়িতে তার মা সেলিয়া কুচিত্তিনির রান্না করা মিলানেসা আ লা নাপোলিটানাই তার সবচেয়ে প্রিয় খাবার। ২০২৬ সালের ১৭ জুন বাংলা সংবাদমাধ্যম জাগো নিউজ ২৪ এই পদটি ঘরে তৈরির ধাপে ধাপে রেসিপি প্রকাশ করে। মিলানেসা নাপোলিটানা হলো ব্রেডক্রাম্বে মোড়ানো পাতলা এক টুকরো মাংস, যা ভেজে বা বেক করে ওপরে টমেটো সস ও গলানো চিজ দিয়ে ঢেকে দেওয়া হয়। আর্জেন্টিনার ঘরোয়া রান্নার সবচেয়ে পরিচিত পদগুলোর একটি এটি, আর এর গল্প উনিশ শতকের মিলান শহর থেকে বুয়েনস আইরেসের একটি বক্সিং স্টেডিয়ামের উল্টো দিকের রেস্তোরাঁ পর্যন্ত বিস্তৃত।

জাগো নিউজ ২৪-এর রেসিপিতে আর্জেন্টিনার প্রচলিত ধারাই অনুসরণ করা হয়েছে: মাংসে মসলা মাখানো, ময়দা, ডিম ও ব্রেডক্রাম্বে মোড়ানো, সোনালি করে ভাজা, তারপর ওপরে টমেটো সস, মোজারেলা চিজ, টমেটোর স্লাইস ও ওরেগানো দিয়ে চিজ গলে যাওয়া পর্যন্ত ওভেনে রাখা। নিচের অংশগুলোতে রয়েছে এই খাবার নিয়ে মেসি নিজে কী বলেছেন, তার মা কীভাবে এটি রান্না করেন, পদটি কোথা থেকে এসেছে এবং কীভাবে নিরাপদে রান্না করা যায়।

মায়ের মিলানেসা নিয়ে মেসি যা বলেছেন


মায়ের হাতের মিলানেসার প্রতি মেসির ভালোবাসার কথা আর্জেন্টিনার গণমাধ্যমে বহু বছর ধরেই আসছে। আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম কানাল ২৬-এর ২০২৩ সালের ১৫ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দৈনিক ক্লারিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বিদেশে থাকার সময় সবচেয়ে বেশি কী মিস করেন জানতে চাইলে মেসি মায়ের মিলানেসা আ লা নাপোলিটানার কথা বলেন: "এটাই আমার সবচেয়ে পছন্দের।" একই সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন: "পাড়ার ছেলের সেই সত্তাটা আমি কখনো হারাব না।"

মায়ের রান্নাটা কেন আলাদা, সেটিও তিনি ব্যাখ্যা করেছিলেন। কানাল ২৬-এর উদ্ধৃতি অনুযায়ী মেসি বলেন: "সসটাই হয়তো রহস্য। জানি না, আমি অনেক খুব ভালো মিলানেসা খেয়েছি। অন্যরাও খেয়ে দেখেছে, বলেছে সত্যিই এগুলো সেরা। ছোটবেলা থেকে এগুলো খাচ্ছি, আর জানোই তো, সব সস এক রকম হয় না।" চিলির সংবাদমাধ্যম টি১৩ ২০২৪ সালের জুনে ক্রীড়া দৈনিক ওলেকে দেওয়া মেসির ২০২১ সালের একটি সাক্ষাৎকার উদ্ধৃত করে, সেখানেও তিনি প্রায় একই কথা বলেন: রহস্য হয়তো ওপরে দেওয়া সসটায়, আর কারণটা হয়তো এই যে এটাই তার খাওয়া প্রথম মিলানেসা, ছোটবেলায় বাড়িতে সব সময় যেটা রান্না হতো।

কানাল ২৬-এর একই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৩ সালের অক্টোবরে জাতীয় দলের অনুশীলন শেষ হওয়ার পরপরই মেসি ব্যক্তিগত বিমানে রোসারিওতে গিয়ে আর্জেন্টিনার মা দিবসে মায়ের সঙ্গে দুপুরের খাবার খান। আর্জেন্টিনার আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যম ভিয়া পাইস ২০২৪ সালের জুনে জানায়, মেসি একাধিকবার বলেছেন ইউরোপে থাকার সময় যা সবচেয়ে বেশি মিস করতেন তার একটি মায়ের রান্না। পরে এক দ্রুত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি আর্জেন্টাইন বারবিকিউ আসাদোকে প্রিয় খাবার বলেছিলেন, আর তার পরিবার ইনস্টাগ্রামে বিষয়টি পরিষ্কার করে দেয়।

সেলিয়া কুচিত্তিনি যেভাবে রান্না করেন


২০২৪ সালের জুনে মেসি যখন যুক্তরাষ্ট্রে কোপা আমেরিকায় আর্জেন্টিনার হয়ে খেলছিলেন, তখন তার মা নাতি তোমাস মেসির সহায়তায় নিজের মিলানেসা রেসিপির একটি ছোট ভিডিও ধারণ করেন; তোমাস অনলাইনে স্ট্রিমিং করেন। ভিয়া পাইস ও টি১৩ দুটি সংবাদমাধ্যমই ভিডিওতে দেখানো ধাপগুলো বর্ণনা করে। সেলিয়া প্রথমে মাংস পাতলা স্টেকের মতো করে কাটেন এবং চর্বি ছাঁটাই করেন। এরপর মাংসে লবণ মাখিয়ে ফেটানো ডিমে ভিজিয়ে রাখেন। তারপর পর্যাপ্ত গোলমরিচ দিয়ে টমেটো ও পেঁয়াজের সস তৈরি করেন।

ভিয়া পাইসের বর্ণনায়, অধিনায়ক নিজে পরিবারের সঙ্গে খাবার টেবিলে থাকতে পারেননি, তবে কোপা আমেরিকায় লিওনেল স্কালোনির দলের দ্বিতীয় ম্যাচের আগের দিন রোসারিওতে তার আত্মীয়রা মায়ের রান্না করা এই মিলানেসা খান। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক বার্সেলোনা ও প্যারিস সেন্ট-জার্মেই (পিএসজি) খেলোয়াড়ের ছোটবেলার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এই রান্নার রেসিপিটি রোসারিওতে সবচেয়ে বেশি খোঁজা রেসিপিগুলোর একটি। তোমাস মেসি এর আগের সপ্তাহে তার চাচার একটি সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন, এরপর দাদির সঙ্গে রান্নার এই ভিডিও তৈরি করেন।

ব্রেডক্রাম্ব ভরা একটি পাত্রে হাতে মাংসের টুকরোগুলো মোড়ানো হয়। তেলে ভাজার বদলে সেলিয়া মিলানেসাগুলো একটি ট্রেতে রেখে ওপরে ভালো পরিমাণ তেল ছড়িয়ে ওভেনে দেন। রান্নার প্রথম ধাপ শেষ হলে তিনি টুকরোগুলো উল্টে দেন, পুরোপুরি সস দিয়ে ঢেকে দেন এবং নাপোলিটানার শেষ ছোঁয়া হিসেবে ওপরে পাতলা চিজের স্লাইসের একটি স্তর বিছিয়ে দেন। ভিয়া পাইসের তথ্য অনুযায়ী, ভিডিওটি ১২ ঘণ্টার কম সময়ে ১ লাখ ৩০ হাজারবার দেখা হয়।

জাগো নিউজ ২৪-এর রেসিপির সঙ্গে মূল পার্থক্য রান্নার পদ্ধতিতে। সেলিয়া মিলানেসা ওভেনে তেল দিয়ে বেক করেন, আর জাগো নিউজ ২৪-এর রেসিপিতে মাংস কড়াইয়ে ভেজে ওভেন ব্যবহার করা হয় শুধু চিজ গলানোর জন্য। দুটির শেষটা একই রকম: ওপরে সস আর চিজ।

মিলান থেকে বুয়েনস আইরেস: মিলানেসার উৎস


স্প্যানিশ ভাষায় মিলানেসা মানে "মিলানের"। এটি ব্রেডক্রাম্বে মোড়ানো কাটলেটের একটি ধরন, যার উৎস ইতালির কোতোলেত্তা আল্লা মিলানেজে। মিলান শহরের এই বিশেষ পদে হাড়সহ বাছুরের পাঁজরের মাংস ব্রেডক্রাম্বে মুড়ে পরিশোধিত মাখনে (ক্ল্যারিফায়েড বাটার) ভাজা হয়। এর সঠিক উৎস নিয়ে বিতর্ক আছে। ইতালির একটি প্রচলিত মত অনুযায়ী, অস্ট্রিয়ার ফিল্ড মার্শাল ইয়োসেফ রাডেৎস্কি রেসিপিটি মিলান থেকে ভিয়েনায় নিয়ে যান, যেখানে এটি ভিনার শ্নিৎসেল হয়ে ওঠে; তবে এর কোনো লিখিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভিয়েনার একটি মত আবার বলে প্রভাবটা উল্টো দিক থেকে এসেছে। মাংস রুটির গুঁড়ায় মোড়ানোর রীতি দুটি গল্পের চেয়েই পুরোনো: ১১৩৪ সালে মিলানের এক ভোজের খাদ্যতালিকায় "লোম্বোস কুম পানিতিও" বা রুটিতে মোড়ানো মাংসের কথা লেখা ছিল।

ইতালীয় অভিবাসীদের হাত ধরে পদটি রিও দে লা প্লাতা অঞ্চলে পৌঁছায়। উনিশ শতকের শেষ থেকে বিশ শতকের শুরু পর্যন্ত আর্জেন্টিনায় ইউরোপ থেকে বিপুল অভিবাসন ঘটে। ১৮৭০ থেকে ১৯২০ সালের মধ্যে প্রায় ৩০ লাখ ইতালীয় বুয়েনস আইরেস বন্দরে নামেন, যা ওই সময়ের মোট অভিবাসীর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ। শহরের জনসংখ্যা ১৮৭০ সালের প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার থেকে ১৯১০ সালের মধ্যে ১৩ লাখে পৌঁছায়। পাস্তা ও পিৎজা থেকে শুরু করে মিলানেসা পর্যন্ত, ইতালীয় রান্না দেশটির খাদ্যাভ্যাসে গভীর ছাপ রেখে যায়। আর্জেন্টাইনরা বাছুরের পাঁজরের বদলে চর্বি কম, হাড়বিহীন গরুর মাংস দিয়ে পদটিকে নিজেদের মতো করে নেন।

ইতালির মিলান শহরে পরিবেশিত কোতোলেত্তা আল্লা মিলানেজে, ব্রেডক্রাম্বে মোড়ানো বাছুরের মাংসের যে কাটলেট থেকে মিলানেসার জন্ম। ছবি: Vaselineeeeeeee / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ইতালির মিলান শহরে পরিবেশিত কোতোলেত্তা আল্লা মিলানেজে, ব্রেডক্রাম্বে মোড়ানো বাছুরের মাংসের যে কাটলেট থেকে মিলানেসার জন্ম। ছবি: Vaselineeeeeeee / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

নাম কেন নাপোলিটানা


নাম শুনে মনে হতে পারে, কিন্তু মিলানেসা নাপোলিটানা ইতালির নেপলস শহর থেকে আসেনি। ক্লারিনের তথ্যের ভিত্তিতে স্প্যানিশ ভাষার উইকিপিডিয়ায় দেওয়া বিবরণ অনুযায়ী, ১৯৪০-এর দশকের শেষ দিকে বুয়েনস আইরেসের নাপোলি রেস্তোরাঁয় "মিলানেসা আ লা নাপোলি" নামে এটি প্রথম পরিবেশন করা হয়। হোর্হে লা গ্রোত্তার মালিকানাধীন রেস্তোরাঁটি ছিল বুশার সড়কে, কোরিয়েন্তেস অ্যাভিনিউ ও লাভাইয়ে সড়কের মাঝে, লুনা পার্ক বক্সিং স্টেডিয়ামের ঠিক উল্টো দিকে। লা গ্রোত্তার উত্তরসূরিরা জানিয়েছেন, পিৎজার মতো দক্ষিণ ইতালির রান্নার রীতির সঙ্গে উত্তরের কোতোলেত্তা আল্লা মিলানেজের মিলনেই এই পদের জন্ম।

একটি জনপ্রিয় কিংবদন্তি বলে, এক রাঁধুনি একটি মিলানেসা পুড়িয়ে ফেলেছিলেন, আর কোনো মিলানেসা না থাকায় পোড়া অংশ ঢাকতে ওপরে টমেটো সস, হ্যাম ও চিজ দিয়ে ওভেনে গ্রিল করেন; খদ্দেরের এত ভালো লাগে যে পদটি মেনুতে উঠে যায়। স্প্যানিশ ভাষার বিশ্বকোষটি এই গল্পকে অসম্ভাব্য বলে উল্লেখ করেছে। কানাল ২৬ জানায়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে খাদ্যবিষয়ক গাইড টেস্টঅ্যাটলাস মিলানেসা নাপোলিটানাকে বিশ্বের সেরা ব্রেডেড কাটলেট হিসেবে বেছে নেয়। টেস্টঅ্যাটলাসের বর্ণনায় এটি ব্রেডক্রাম্বে মোড়ানো ও ভাজা মিলানেসা স্টেক, যার ওপর থাকে এক স্লাইস হ্যাম, ঝাল টমেটো সস এবং মোটা মোজারেলার স্লাইস, যা গ্রিলে গলে যায়; এর উৎস হিসেবে তারা ১৯৩০ বা ১৯৪০-এর দশকে নাপোলি রেস্তোরাঁর কথা বলেছে। তালিকায় আর্জেন্টিনার অন্য রূপগুলোও জায়গা পায়: ওপরে ডিমভাজা দেওয়া মিলানেসা আ কাবাইয়ো ছিল ২০তম স্থানে।

আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসের লুনা পার্ক স্টেডিয়াম; বলা হয়, এর উল্টো দিকের নাপোলি রেস্তোরাঁয় মিলানেসা নাপোলিটানার জন্ম। ছবি: Ed Vill / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)
আর্জেন্টিনার বুয়েনস আইরেসের লুনা পার্ক স্টেডিয়াম; বলা হয়, এর উল্টো দিকের নাপোলি রেস্তোরাঁয় মিলানেসা নাপোলিটানার জন্ম। ছবি: Ed Vill / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 2.0)

আর্জেন্টিনার জাতীয় খাবার


লাতিন আমেরিকাজুড়ে পরিচিত হলেও মিলানেসা সবচেয়ে বেশি জড়িয়ে আছে আর্জেন্টিনার সঙ্গে, যেখানে একে জাতীয় খাবার হিসেবেই দেখা হয়। হিসাব অনুযায়ী, আর্জেন্টাইনরা গড়ে সপ্তাহে প্রায় তিনবার মিলানেসা খান; বছরে প্রায় ৩০ কোটি কিলোগ্রাম, অর্থাৎ মাথাপিছু ১১.৪ কিলোগ্রাম। দেশটিতে প্রচলিত কথা "লা বের্দাদ দে লা মিলানেসা", অর্থাৎ মিলানেসার সত্য, দিয়ে বোঝানো হয় এমন সত্য যা নিয়ে কোনো প্রশ্ন চলে না।

২০১১ সাল থেকে আর্জেন্টিনায় প্রতি বছর ৩ মে জাতীয় মিলানেসা দিবস পালিত হয়; পদটির ভক্তদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের এক উদ্যোগ থেকে এর শুরু। দেশটির উত্তরের প্রদেশ তুকুমানের বিশেষ খাবার মিলানেসা স্যান্ডউইচ, আর ২০২৪ সালে প্রদেশটির আইনসভা একে প্রদেশের অস্পৃশ্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ঘোষণা করে। গরুর মাংসই প্রচলিত, তবে মুরগি, শূকর ও মাছের মিলানেসাও বেশ চলে; বেগুন, সয়া বা ছোলা দিয়ে নিরামিষ মিলানেসাও তৈরি হয়। মুরগির বুকের মাংস দিয়ে একইভাবে তৈরি পদকে বলা হয় সুপ্রেমা নাপোলিটানা।

মিলানেসার জন্য আর্জেন্টাইন রাঁধুনিরা চর্বি কম এমন কিছু নির্দিষ্ট কাট পছন্দ করেন, যেমন নালগা (পেছনের রানের মাংস), পেসেতো, কুয়াদ্রাদা, লোমো (টেন্ডারলয়েন), কুয়াদ্রিল ও বোলা দে লোমো। সাধারণ মিলানেসার বর্ণনায় টেস্টঅ্যাটলাস উল্লেখ করেছে, ভাজার সময় মাংস কুঁকড়ে যায়, কারণ এসব কাটে অন্য কাটের তুলনায় চর্বি ও রগ কম থাকে।

পদটির পেছনে গরুর মাংসের হিসাব


মিলানেসা গড়ে উঠেছে বিশাল গবাদিপশু শিল্পের একটি দেশে। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বরের আর্জেন্টিনাবিষয়ক বার্ষিক প্রাণিসম্পদ প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেয়, ২০২৫ সালে দেশটির গরুর মাংস উৎপাদন হবে ৩১ লাখ ৭৫ হাজার টন (কারকাস ওজন সমতুল্য), যা আগের বছরের চেয়ে ২ শতাংশ বেশি। একই বছরে রপ্তানি রেকর্ড ৮ লাখ ৬০ হাজার টন এবং দেশের ভেতরে ভোগ ২৩ লাখ টন হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়।

একই প্রতিবেদনে আর্জেন্টাইনদের খাদ্যাভ্যাসের বদলও উঠে আসে। রোসারিও শস্য বিনিময় কেন্দ্রের (বলসা দে কমার্সিও দে রোসারিও) তথ্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, ২০২৪ সালে মাথাপিছু গরুর মাংস খাওয়ার পরিমাণ আনুমানিক ৪৫ কিলোগ্রাম, যা ১১০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন; ২৪ বছর আগে এটি ছিল ৬৫ কিলোগ্রাম। কম দামের মুরগি ও শূকরের মাংস জায়গা করে নিচ্ছিল, আর ২০২৪ সালে প্রথমবারের মতো মুরগির মাংস খাওয়ার পরিমাণ গরুর মাংসের সমান হয়। ওই বছর তিন প্রধান মাংস মিলিয়ে মাথাপিছু ভোগ ১০৬ কিলোগ্রাম হবে বলে প্রাক্কলন করা হয়।

২০২৬ সালের ১৭ জুন প্রকাশিত রেসিপি


জাগো নিউজ ২৪-এর রেসিপিতে উপকরণের সঠিক পরিমাণ দেওয়া হয়নি। এতে রয়েছে টুকরো করা মাংস, লবণ, গোলমরিচ, রসুন বাটা, ডিম, ময়দা, ব্রেডক্রাম্ব, রান্নার তেল, টমেটো সস, মোজারেলা চিজ, টমেটোর স্লাইস ও সামান্য ওরেগানো। প্রণালি এমন:

  • মাংসের টুকরোগুলো ভালোভাবে ধুয়ে পানি ঝরিয়ে নিন।
  • লবণ, গোলমরিচ ও রসুন বাটা মাখিয়ে ২০ থেকে ৩০ মিনিট রেখে দিন।
  • একটি পাত্রে ডিম ফেটিয়ে নিন; আরেকটি পাত্রে ময়দা এবং তৃতীয়টিতে ব্রেডক্রাম্ব রাখুন।
  • প্রতিটি টুকরো প্রথমে ময়দায় গড়িয়ে নিন, তারপর ডিমে ডুবিয়ে ব্রেডক্রাম্বে ভালোভাবে মুড়িয়ে নিন।
  • কড়াইয়ে তেল গরম করে মাঝারি আঁচে মাংস সোনালি হওয়া পর্যন্ত ভাজুন, তারপর টিস্যুর ওপর রেখে বাড়তি তেল ঝরিয়ে নিন।
  • ভাজা টুকরোগুলো বেকিং ট্রেতে রেখে প্রতিটির ওপর টমেটো সস ছড়িয়ে দিন, তারপর মোজারেলা চিজ, টমেটোর স্লাইস ও সামান্য ওরেগানো দিন।
  • ১৮০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে আগে থেকে গরম করা ওভেনে ৮ থেকে ১০ মিনিট বেক করুন, যতক্ষণ না চিজ পুরোপুরি গলে যায়।
  • ওভেন না থাকলে ঢাকনা দেওয়া ননস্টিক প্যানে অল্প আঁচে কয়েক মিনিট রেখে চিজ গলিয়ে নিন।
প্যানে ভাজা হচ্ছে ব্রেডক্রাম্বে মোড়ানো মিলানেসা। ছবি: Geogast / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
প্যানে ভাজা হচ্ছে ব্রেডক্রাম্বে মোড়ানো মিলানেসা। ছবি: Geogast / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

টেস্টঅ্যাটলাস ও স্প্যানিশ বিশ্বকোষে বুয়েনস আইরেসের প্রচলিত সংস্করণে যে রান্না করা হ্যামের স্লাইসের কথা আছে, এই রেসিপিতে তা রাখা হয়নি; ২০২৪ সালের ভিডিওতে সেলিয়ার সংস্করণেও শুধু সস আর চিজ ব্যবহার করা হয়েছে। নিচে বর্ণিত মায়ামির রেস্তোরাঁর সংস্করণে মসলায় আরেক রকম বৈচিত্র্য দেখা যায়, যেখানে মেরিনেডে লেবু ও ওরেগানো থাকে।

জাগো নিউজ ২৪ মিলানেসা নাপোলিটানা ম্যাশড পটেটো, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, সালাদ বা ভাতের সঙ্গে পরিবেশনের পরামর্শ দেয় এবং জানায়, অনেকে এর ওপর লেবুর রস ছিটিয়ে খেতে পছন্দ করেন। আর্জেন্টিনায় সাধারণত এটি ফ্রেঞ্চ ফ্রাই বা ম্যাশড পটেটোর সঙ্গে পরিবেশন করা হয়।

সাদা ভাতের সঙ্গে পরিবেশিত আর্জেন্টাইন মিলানেসা নাপোলিটানা। ছবি: Horacio Cambeiro / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সাদা ভাতের সঙ্গে পরিবেশিত আর্জেন্টাইন মিলানেসা নাপোলিটানা। ছবি: Horacio Cambeiro / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ব্রেডেড মাংস নিরাপদে রান্নার নিয়ম


এই পদে কাঁচা মাংস, কাঁচা ডিম আর অল্প সময়ের বেকিং একসঙ্গে থাকে, তাই খাদ্য নিরাপত্তার মৌলিক নিয়ম মানা জরুরি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) নিরাপদ খাবারের পাঁচটি চাবিকাঠি হলো: পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, কাঁচা ও রান্না করা খাবার আলাদা রাখা, ভালোভাবে রান্না করা, নিরাপদ তাপমাত্রায় খাবার রাখা এবং নিরাপদ পানি ও কাঁচামাল ব্যবহার করা।

ডব্লিউএইচও মাংস, মুরগি ও ডিম ভালোভাবে রান্না করার পরামর্শ দেয়; মাংস ও মুরগির ক্ষেত্রে নিশ্চিত হতে বলে যে রস স্বচ্ছ, গোলাপি নয়। সম্ভব হলে থার্মোমিটার ব্যবহার করা উচিত; গবেষণায় দেখা গেছে, খাবার ৭০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রান্না করলে তা নিরাপদ হওয়া নিশ্চিত করতে সাহায্য করে। কাঁচা মাংস ও তার রসে ক্ষতিকর অণুজীব থাকতে পারে, তাই সংস্থাটি কাঁচা মাংস অন্য খাবার থেকে আলাদা রাখতে এবং কাঁচা খাবারের জন্য আলাদা ছুরি ও কাটিং বোর্ড ব্যবহার করতে বলে। কাঁচা মাংস মোড়ানোর কাজে ব্যবহৃত ময়দা, ডিম ও ব্রেডক্রাম্বের পাত্রের ক্ষেত্রেও এ নিয়ম খাটে; রান্না করা খাবারে এগুলো আবার ব্যবহার করা উচিত নয়।

রান্না করা খাবার ঘরের তাপমাত্রায় দুই ঘণ্টার বেশি ফেলে রাখা যাবে না; দ্রুত ফ্রিজে রাখতে হবে, সম্ভব হলে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে, অথবা পরিবেশনের আগ পর্যন্ত ৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি গরম রাখতে হবে। হিমায়িত মাংস ঘরের তাপমাত্রায় রেখে গলানো ঠিক নয়। ২০২৬ সালের জুনে হালনাগাদ করা ডব্লিউএইচওর খাদ্য নিরাপত্তাবিষয়ক তথ্যপত্রে বলা হয়েছে, অনিরাপদ খাবার ২০০টির বেশি রোগের কারণ হতে পারে, আর কাঁচা বা আধা রান্না মাংস ক্যাম্পাইলোব্যাক্টার ও শিগা টক্সিন উৎপাদনকারী ই. কোলাইয়ের মতো সংক্রমণের সঙ্গে যুক্ত।

রেস্তোরাঁয় মেসির মিলানেসা


মেসির সঙ্গে পদটির সম্পর্ক ব্যবসাতেও গড়িয়েছে। ভয়েস অব আমেরিকা ২০২৪ সালের জুনে জানায়, মায়ামির উত্তরে অ্যাভেনচুরা শহরের দ্য আমালফি লামা রেস্তোরাঁ তাদের মেনুতে "মিলামেসি" যোগ করেছে। এটি মেসির মা সেলিয়া মারিয়া কুচিত্তিনির রেসিপিতে তৈরি প্রচলিত মিলানেসা, আর মেনুতে রাখার অনুমতি তিনিই দিয়েছেন। রেস্তোরাঁর শেফ আলেহান্দ্রো পোরভেন জানান, মাংসের ফিলে চ্যাপ্টা করে লবণ, গোলমরিচ, লেবু, ওরেগানো ও রসুন দিয়ে মেরিনেট করা হয়, তারপর অর্গানিক ডিম ও ভালো মানের রুটির গুঁড়া দিয়ে মোড়ানো হয়। ভয়েস অব আমেরিকার তথ্য অনুযায়ী, প্রকল্পটির পেছনে ছিল মেসির পরিবার; দক্ষিণ ফ্লোরিডা দিয়ে শুরু করে লাস ভেগাস, নিউইয়র্ক, দুবাই ও বার্সেলোনার মতো শহরে বিস্তারের পরিকল্পনা ছিল তাদের।

আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যম তিয়েম্পো দে সান হুয়ান ২০২৫ সালের ১০ জুলাই জানায়, মেসি মিলানেসাভিত্তিক আর্জেন্টাইন রেস্তোরাঁ চেইন এল ক্লাব দে লা মিলানেসার অংশীদার হয়েছেন। চেইনটি ২০০৬ সালে বুয়েনস আইরেসের বেলগ্রানো এলাকায় প্রথম টেকঅ্যাওয়ে দোকান খোলে, আর্জেন্টিনার ব্ল্যাক অ্যাঙ্গাস গরুর মাংস ব্যবহার করে এবং আর্জেন্টিনা, উরুগুয়ে ও যুক্তরাষ্ট্রে এর শাখা ৭০টির বেশি, যার একটি মায়ামিতে। প্রতিষ্ঠানটির বিবৃতিতে মেসির অংশীদারত্বের পরিমাণ বা বিনিয়োগের অঙ্ক জানানো হয়নি। বিবৃতিতে বলা হয়, সে বছর চিলি ও প্যারাগুয়েতে শাখা খোলার এবং ২০২৭ সালে স্পেন, ইতালি ও পর্তুগালে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষায়: "একটি পদের চেয়েও বেশি, মিলানেসা ঐতিহ্য ও স্বাদের সমার্থক।"

ছবি: Horacio Cambeiro / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, কানাল ২৬, টি১৩, ভিয়া পাইস, ভয়েস অব আমেরিকা, তিয়েম্পো দে সান হুয়ান, মার্কিন কৃষি বিভাগের ফরেন এগ্রিকালচারাল সার্ভিস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

রান্নাবান্না

সম্পর্কিত খবর

রান্নাবান্না

ঘরেই ক্যাফে-স্টাইলের ক্রিমি প্রন পাস্তা: উপকরণ আর রান্নার ধাপ

২৫০ গ্রাম পাস্তা, এক কাপ চিংড়ি, ১০০ গ্রাম চিজ, মেয়োনিজ আর দুধে তৈরি ঘন ক্রিমি সসে প্রন পাস্তা; সেদ্ধ থেকে পরিবেশন পর্যন্ত সময় লাগে অল্পই।

সারাবাংলা১৪ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
স্বাস্থ্য

প্রোটিন শেক কি খাবারের বিকল্প? কার কতটা প্রোটিন লাগে

প্রাপ্তবয়স্কের দৈনিক প্রতি কেজি ওজনে ০.৮ গ্রাম প্রোটিন লাগে, ৭০ কেজির মানুষের ৫৬ গ্রাম, যা সুষম খাবার থেকেই মেলে; প্রোটিন শেক দরকার কেবল যাঁদের চাহিদা খাবারে পূরণ হয় না।

প্রথম আলো১৪ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
রান্নাবান্না

মৌসুমি তালের পিউরিতে নরম কেক, ঘরে বানানোর সহজ রেসিপি

আধা কাপ তালের পিউরি, এক কাপ ময়দা, দুটি ডিম আর এক-তৃতীয়াংশ কাপ গুঁড়া দুধ ও তেলে ওভেনে ১৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ৩৫-৪০ মিনিটে তৈরি হয় তুলতুলে তালের কেক।

এগ্রিকেয়ার২৪১৪ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)