যশোরের বাঘারপাড়া উপজেলায় যশোর-মাগুরা মহাসড়কে রাস্তা পার হতে থাকা একটি বন্যপ্রাণীর সঙ্গে ধাক্কা লেগে গুরুতর আহত হয়ে মারা গেছেন মোটরসাইকেলচালক মহব্বত হোসেন (২৮)। ২০২৬ সালের ৩০ জুন, মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বন্দবিলা ইউনিয়নের গাইদঘাট এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পথে রাত দেড়টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। জাগো নিউজ ২৪ প্রাণীটিকে শিয়াল বলে জানিয়েছে, আর প্রথম আলো জানিয়েছে, সেটি ছিল একটি বনবিড়াল।
মহব্বত হোসেন যশোর সদর উপজেলার ইছালী ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের সাঈদুর মণ্ডলের ছেলে। জাগো নিউজের তথ্য অনুযায়ী তিনি বাবার একমাত্র ছেলে ছিলেন। বাঘারপাড়ার খাজুরায় সরকারি শহীদ সিরাজুদ্দীন হোসেন কলেজের সামনে তাঁর ফার্নিচারের ব্যবসা ছিল।
কীভাবে ঘটে দুর্ঘটনা
পুলিশ ও স্থানীয়দের বরাতে দুই সংবাদমাধ্যম জানায়, ব্যবসায়িক কাজ শেষে মাগুরার শালিখা উপজেলার সীমাখালী এলাকায় খালাবাড়িতে রাতের খাবার খেয়ে মোটরসাইকেলে যশোরে ফিরছিলেন মহব্বত। জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৯টার দিকে গাইদঘাট এলাকায় হঠাৎ একটি শিয়াল মহাসড়ক পার হতে গেলে মোটরসাইকেলটির সঙ্গে ধাক্কা লাগে এবং তিনি সড়কে ছিটকে পড়েন।
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে ঘটনার বিবরণ কিছুটা ভিন্ন। সেখানে বলা হয়, মহব্বত দোকানের এক কর্মীকে পেছনে বসিয়ে মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। রাত পৌনে ১১টার দিকে একটি বনবিড়াল হঠাৎ সড়ক পার হওয়ার সময় মোটরসাইকেলের সঙ্গে ধাক্কা লাগে; এতে মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশের একটি অর্জুনগাছে সজোরে ধাক্কা খায়। মাথায় গুরুতর আঘাত পান মহব্বত, তাঁর সহকর্মীও আহত হন। সহকর্মীর নাম-পরিচয় ও শারীরিক অবস্থা পুলিশ বিস্তারিতভাবে জানাতে পারেনি।

আহত মহব্বতকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে প্রথম আলোর তথ্য অনুযায়ী গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর এলাকায় তাঁর মৃত্যু হয়। ইছালী ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য রেজাউল ইসলাম ১ জুলাই সকালে জাগো নিউজকে বলেন, 'দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক যুবকের ফুসফুস ফেটে যায়। নাক ও মুখ দিয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল। উন্নত চিকিৎসার জন্য যশোর থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে তিনি মারা যান।'
বাঘারপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান সড়ক দুর্ঘটনায় মহব্বত হোসেনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেন। খাজুরা পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ হোসেন প্রথম আলোকে জানান, জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯ থেকে খবর পেয়ে রাত ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত মহব্বতকে হাসপাতালে পাঠায় এবং ঘটনাটি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।

শিয়াল ও বনবিড়াল: গ্রামীণ সড়কের পাশের প্রাণী
বাংলাপিডিয়ার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে শিয়ালের একটিমাত্র প্রজাতি পাওয়া যায়, সোনালি বা এশীয় শিয়াল (Canis aureus), এবং এটি দেশজুড়ে বিস্তৃত। শিয়াল নিশাচর প্রাণী: দিনে ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে থাকে, সন্ধ্যার পর খাবারের খোঁজে খামার ও গ্রামে আসে। ইঁদুর, পোকামাকড়, টিকটিকি জাতীয় প্রাণী ও মৃত প্রাণী এদের খাবার; আখ ও ভুট্টাও খায়। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) প্রজাতিটিকে 'ন্যূনতম উদ্বেগ' শ্রেণিতে রেখেছে।
বনবিড়াল (Felis chaus) মূলত ঘন গাছপালাঘেরা জলাভূমি ও নদীতীরের প্রাণী, তবে শিম ও আখখেতের মতো কৃষিজমিতেও প্রায়ই দেখা যায়। আইইউসিএনের তালিকায় এটিও 'ন্যূনতম উদ্বেগ' শ্রেণির, আর বাংলাদেশে এ প্রাণী শিকার নিষিদ্ধ।


সড়কে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার চিত্র
সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংস্থা রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ২০২৬ সালের ১০ জানুয়ারি জানায়, ২০২৫ সালে দেশে ৭ হাজার ৫৮৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৩৫৯ জন নিহত ও ১৬ হাজার ৪৭৬ জন আহত হন। এর মধ্যে ৩ হাজার ২৯টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হন ২ হাজার ৬৭২ জন, যা মোট দুর্ঘটনার ৩৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ এবং মোট নিহতের ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ। সংস্থার চেয়ারম্যান অধ্যাপক এ আই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ তখন বলেন, দেশের মোট মোটরযানের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল।
ছবি: Apu Jaman / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্রথম আলো, রোড সেফটি ফাউন্ডেশন (প্রথম আলোর প্রতিবেদন), বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া



মন্তব্য
(০)