যুক্তরাষ্ট্রের কৃষকরা ২০২৬ সালে ৯ কোটি ৫৩ লাখ একর জমিতে ভুট্টা আবাদ করতে চান, যা আগের বছরের চেয়ে ৩% কম। অন্যদিকে সয়াবিন আবাদের পরিকল্পনা ৮ কোটি ৪৭ লাখ একরে, যা ৪% বেশি। ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিস (এনএএসএস) প্রকাশিত প্রসপেক্টিভ প্ল্যান্টিংস প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে আসে।
মার্কিন কৃষকদের আবাদ পরিকল্পনা নিয়ে এটিই বছরের প্রথম সরকারি, জরিপভিত্তিক হিসাব। মার্চের প্রথম দুই সপ্তাহে সারা দেশের প্রায় ৭৪ হাজার খামারির কাছ থেকে নেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এটি তৈরি। আমেরিকান ফার্ম ব্যুরো ফেডারেশনের (এএফবিএফ) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ভুট্টার আবাদ হয়েছিল ৯ কোটি ৮৮ লাখ একরে। ফেব্রুয়ারির অ্যাগ্রিকালচারাল আউটলুক ফোরামে ইউএসডিএ ২০২৬ সালের জন্য ৯ কোটি ৪০ লাখ একর ভুট্টা ও ৮ কোটি ৫০ লাখ একর সয়াবিনের অনুমান দিয়েছিল। জরিপে ভুট্টার সংখ্যা সেই অনুমান ও বাজার বিশ্লেষকদের গড় প্রত্যাশার চেয়ে বেশি, আর সয়াবিনের সংখ্যা দুটির চেয়েই কম।
কেন ভুট্টা থেকে সয়াবিনে ঝোঁক
এএফবিএফের বিশ্লেষণে বলা হয়, ভুট্টায় মুনাফার ব্যবধান কমে আসা এবং সারের বাড়তি দাম এই পরিবর্তনের পেছনে কাজ করেছে। ভুট্টায় সয়াবিনের চেয়ে অনেক বেশি নাইট্রোজেন সার লাগে, তাই সারের দাম বাড়লে চাপটা ভুট্টার ওপরই বেশি পড়ে। পারস্য উপসাগর ঘিরে সংঘাতের কারণে বিশ্ববাজারে সারের দাম ও সরবরাহে অস্থিরতা দেখা দেয়; সংস্থাটির হিসাবে ওই অঞ্চলের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলো বিশ্বের ইউরিয়া রপ্তানির প্রায় ৪৯% এবং অ্যামোনিয়া রপ্তানির প্রায় ৩০% জোগায়। দেশের ভেতরে সয়াবিন মাড়াইয়ের (ক্রাশিং) জোরালো চাহিদা এবং ২০২৫ সালের বড় ভুট্টা আবাদের পর ফসল পালাক্রমের প্রয়োজনও সয়াবিনের পক্ষে গেছে।

অঙ্গরাজ্যভিত্তিক চিত্র
ভুট্টা থেকে সরে আসা কোনো একটি অঞ্চলে সীমিত নয়। হিসাবভুক্ত ৪৮টি অঙ্গরাজ্যের ৩৭টিতেই ভুট্টার আবাদ পরিকল্পনা কম। ইলিনয়, আইওয়া, মিনেসোটা, নেব্রাস্কা, নর্থ ডাকোটা, সাউথ ডাকোটা ও উইসকনসিনে ৩ লাখ একর বা তার বেশি কমার কথা। পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে নেভাদা ও ওয়াশিংটনে ভুট্টার জমি হবে রেকর্ডে সর্বোচ্চ, আর কানেটিকাট, ম্যাসাচুসেটস, পেনসিলভেনিয়া ও রোড আইল্যান্ডে সর্বনিম্ন। সবচেয়ে বেশি ভুট্টার জমি থাকবে আইওয়ায়, ১ কোটি ৩১ লাখ একর।
সয়াবিনে ৩ লাখ একর বা তার বেশি বাড়ার সম্ভাবনা আরকানসাস, আইওয়া, কানসাস, মিসিসিপি, নেব্রাস্কা, সাউথ ডাকোটা ও উইসকনসিনে; উইসকনসিনে সয়াবিনের জমি রেকর্ড ছোঁবে বলে ধারণা। এএফবিএফের হিসাবে সবচেয়ে বড় বৃদ্ধি আরকানসাসে, ৫ লাখ ১০ হাজার একর।

গম, তুলা ও গুদামের মজুত
সব ধরনের গম মিলিয়ে আবাদ পরিকল্পনা ৪ কোটি ৩৮ লাখ একর, আগের বছরের চেয়ে ৩% কম; এএফবিএফের মতে এটি ১৯১৯ সাল থেকে রাখা হিসাবে সবচেয়ে কম। এর মধ্যে শীতকালীন গম ৩ কোটি ২৪ লাখ একর (২% কম), অন্যান্য বসন্তকালীন গম ৯৪ লাখ ২০ হাজার একর (৬% কম) এবং ডুরাম গম ১৯ লাখ ৫০ হাজার একর (১১% কম)। সব ধরনের তুলা মিলিয়ে ৯৬ লাখ ৪০ হাজার একর, ৪% বেশি; এর বড় অংশ টেক্সাসে, ৫৫ লাখ ২০ হাজার একর।
একই দিনে এনএএসএস ত্রৈমাসিক গ্রেইন স্টকস প্রতিবেদনও প্রকাশ করে। ১ মার্চ গুদামে ভুট্টা ছিল ৯০২ কোটি বুশেল, এক বছর আগের চেয়ে ১১% বেশি; খামারের ভেতরের মজুত ২১% বেড়েছে, বাইরের মজুত ২% কমেছে। সয়াবিনের মজুত ২১০ কোটি বুশেল, ১০% বেশি। সব ধরনের গম মিলিয়ে মজুত ১৩০ কোটি বুশেল, ৫% বেশি।
বাংলাদেশের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ
বাংলাদেশের সয়াবিন তেল ও পশুখাদ্যের বড় অংশ আমদানিনির্ভর। ২০২৫ সালের মার্চে দ্য ডেইলি স্টার ইউএসডিএর বাংলাদেশবিষয়ক তেলবীজ প্রতিবেদনের বরাতে জানায়, ২০২৪-২৫ বিপণন বছরে বাংলাদেশ ২২ লাখ টন সয়াবিন আমদানি করে, যার অর্ধেক যুক্তরাষ্ট্র থেকে এবং এক-তৃতীয়াংশ ব্রাজিল থেকে। দেশে উৎপাদিত সয়াবিন সয়ামিল ও ভোজ্যতেলের চাহিদার মাত্র ৭% মেটায়, আর মুরগি, মাছ ও গবাদিপশুর খাদ্যশিল্পে চাহিদা বাড়ছে। তাই মার্কিন সয়াবিন ও ভুট্টার আবাদ এবং মজুতের খবর এ দেশের ভোজ্যতেল ও পশুখাদ্যের বাজারের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ।
তবে পরিকল্পনা আর ফসল এক নয়। মার্চ থেকে বপনের মধ্যে সারের বাজার, আবহাওয়া ও দামের সংকেত দেখে কৃষকরা সিদ্ধান্ত বদলাতে পারেন। সে কারণেই ৩০ জুন এনএএসএসের অ্যাক্রিএজ প্রতিবেদন প্রকাশের কথা ছিল, যেটি বপনের পরের হিসাব দেয়।

ছবি: ইউএসডিএ / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
সূত্র: ইউএসডিএ ন্যাশনাল অ্যাগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিকস সার্ভিস, আমেরিকান ফার্ম ব্যুরো ফেডারেশন, দ্য ডেইলি স্টার




মন্তব্য
(০)