সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৯°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৫৮%বাতাস ৬ কিমি/ঘ

এক মাসে ৯ খাদ্য পণ্যের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত

জরুরি নিত্যপণ্য হিসেবে পরিচিত চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটা-ময়দা, পিঁয়াজ ও আলুর দাম বাড়ছে হু হু করে। মাছ, গরু বা খাসির মাংসের বদলে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির মাংস খেত গরিব মানুষ। সে

জরুরি নিত্যপণ্য হিসেবে পরিচিত চাল, ডাল, তেল, চিনি, আটা-ময়দা, পিঁয়াজ ও আলুর দাম বাড়ছে হু হু করে। মাছ, গরু বা খাসির মাংসের বদলে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির মাংস খেত গরিব মানুষ। সেই ডিম ও ব্রয়লার মুরগিও এখন তাদের নাগালের বাইরে। ফার্মের মুরগির ডিমের হালি ৪০ টাকা। ১ কেজি ব্রয়লার মুরগি প্রায় ২০০ টাকা, যা এক মাস আগেও ছিল ১৪০ টাকা। আর ছয় মাস আগে ব্রয়লার মুরগির কেজি ছিল ১০০ থেকে ১১০ টাকা।

মাছ, মাংস, ডিম নিয়মিত খেতে না পারলে ডাল, আলুভর্তা দিয়ে ভাত খেয়ে জীবন ধারণ করত দিনমজুর। এখন সেই আলুভর্তার দামও বাড়তি। শুধু আলুর দামই বাড়েনি। আলুভর্তায় যে তেল, পিঁয়াজ, মরিচের দরকার সেই তিনটি পণ্যের দামও এখন আকাশচুম্বী। ফলে স্বচ্ছন্দে আলুভর্তা-ভাতও খেতে পারছে না গরিব মানুষ। তাই নিত্যদিনের বাজার খরচ মেটাতে দিশাহারা নিম্নমধ্যবিত্তরা। আয়-ব্যয়ের তাল মেলাতে পারছে না কিছুতেই। জীবন চালাতে ধার-কর্য করছে প্রতিনিয়ত। ডাল-ভাত খেতে নাভিশ্বাস উঠেছে দিনমজুরদের।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) হিসাবে গত এক মাসে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে পিঁয়াজ ও ভোজ্য তেলের দাম। এক মাসে পিঁয়াজের দাম বেড়েছে ৩৯ শতাংশ। গতকাল দেশি পিঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ৬৫ টাকা কেজি। আর আমদানি করা ভারতীয় পিঁয়াজ ৫০ টাকা। এই সময়ে ভোজ্য তেলের দাম বেড়েছে ৯ শতাংশ। আর এক বছরের ব্যবধানে পণ্য দুটির দাম বেড়েছে ৫৩ শতাংশ পর্যন্ত। ১ লিটার সয়াবিন তেলের দাম এখন ১৫০-১৫৫ টাকা, যা এক মাস আগেও ছিল ১৩০-১৩৫ টাকা। আর এক বছর আগে ছিল ৯০-৯২ টাকা। ফলে বছরের ব্যবধানে ভোজ্য তেলের দাম দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

এ ছাড়া জরুরি নিত্যপণ্য হিসেবে পরিচিত চালের দাম এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে ১১ শতাংশ। মোটা চালও এখন ৫০ টাকা কেজি। খোলা ও প্যাকেটজাত উভয় ধরনের আটা ও ময়দার দাম বেড়েছে ২ থেকে ১৬ শতাংশ পর্যন্ত। প্যাকেটজাত আটার দাম এক মাসে বেড়েছে কেজিতে প্রায় ৭ টাকা আর খোলা ময়দা ১৬ টাকা পর্যন্ত।

টিসিবির হিসাবে গরিবের আমিষ হিসেবে পরিচিত এক ডজন ডিম প্রায় তিন মাস ধরেই ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ছিল ৯০-৯৫ টাকা। আর ব্রয়লার মুরগির বাজারে তো রীতিমতো আগুন লেগেছে। প্রতিদিনই বাড়ছে দাম। গতকাল প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯৫ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে, যা এক মাস আগে ছিল ১৪০ টাকা। আর ছয় মাস আগে ১০০ থেকে ১১০ টাকা। সংস্থাটির ওয়েবসাইটের তথ্যমতে, প্রতি কেজি আলু গতকাল বিক্রি হয়েছে ২৫-২৭ টাকায়, যা এক সপ্তাহ আগেও ছিল ১৮-২০ টাকা।

শরীরে ক্লান্তি কাটাতে এক কাপ চা খাওয়ার খরচও বেড়েছে। কেননা চায়ের অনিবার্য উপাদান চিনির বাজার চড়া। সরকারের তরফ থেকে প্রতি কেজি লাল চিনির দাম ৭৫ টাকা বেঁধে দেওয়া হলেও ৮০ টাকার নিচে চিনি নেই বাজারে। এমনকি কোনো কোনো ক্ষেত্রে লাল চিনির কেজি ৮৫ টাকা। দুই মাস আগে এ চিনির দাম ছিল ৬৫-৭০ টাকা। এদিকে ভর্তা দিয়ে ডাল-ভাতও স্বচ্ছন্দে খাওয়ার সুযোগ হারিয়েছে মানুষ। কেননা আমদানি করা মোটা দানার ডালের প্রতি কেজির দাম ১০০ টাকা ছুঁইছুঁই, যা তিন মাস আগে ছিল ৭০ টাকা। এমনকি করোনা মহামরীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ার সময় এক বছর আগেও এ ডালের দাম ছিল ৬৫ টাকা।

ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ও পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারীর ফলে অসংখ্য মানুষ কাজ হারিয়েছে। দেশের বেশির ভাগ মানুষেরই আয় কমেছে। করোনার প্রথম দিকের সময়গুলোতে মানুষ ধারকর্জ করেছে বা সঞ্চয় ভেঙে জীবন চালিয়েছে। এখন কিন্তু সে অবস্থা নেই। ফলে মানুষ বাধ্য হয়ে খাবার কম খাচ্ছে। অনেকেই আবার কুলাতে না পেরে খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনছে। অর্থাৎ মাছ-মাংসের পরিবর্তে ভাত, আলু কিংবা ডালের ওপর নির্ভর করছে। তবে এসবের পরিমাণও ঠিক রাখতে হিমশিম খাচ্ছে সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের সংকট কাটানো কঠিন হবে।’ তবে এখানে সরকারের আরও অনেক কাজ করার সুযোগ রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

বাজারদর পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কয়েক মাস ধরে টানা পণ্যমূল্য বাড়ছে তো বাড়ছেই। মোটা চালও এখন ৫০ টাকা কেজি। খুচরা বিক্রেতারা দুষছেন পাইকারদের। আর পাইকাররা ডিলারদের। মাছ আর কাঁচাবাজারের আড়তেও ঊর্ধমুখিতা। খুচরা বাজারে ৫০ টাকার নিচে কোনো সবজি নেই। ছোট সাইজের একটি লাউ কিনতে হয় ৫০-৬০ টাকায়। সাইজ বড় হলে ৮০ টাকা। আলুর কেজিও ২৭ টাকা। ডাবল সেঞ্চুরি হাকিয়েছে কাঁচা মরিচ। ১ কেজি শসা ৮০ টাকা। মহামারী করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে টানা লকডাউনে কাজ হারিয়েছে অসংখ্য মানুষ। বেশির ভাগ কর্মজীবীর আয় কমেছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির প্রায় সব মানুষেরই নাভিশ্বাস উঠেছে জীবন চালাতে। সংসার চালাতে না পেরে অনেকেই ঢাকা ছেড়েছে, ছাড়ছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজার নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে দেশে খাদ্যপণ্যের শৃঙ্খলে বিশৃঙ্খলা দেখা দেবে। এর প্রভাবে সামাজিক অস্থিরতা পর্যন্ত তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

আমাদেরসময়.কমসূত্র

এগ্রোবিজ

সম্পর্কিত খবর

ফসল

ইংল্যান্ডে যবের ফলন ১৪ বছরে সর্বনিম্ন, গম সামান্য বেশি

যুক্তরাজ্যের কৃষি মন্ত্রণালয় ডেফরার প্রাথমিক হিসাবে ইংল্যান্ডে যব উৎপাদন ১১ শতাংশ কমে ৩৭ লাখ টন হয়েছে, গম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৮ লাখ টন; গমের তুলনায় পশুখাদ্যের যব বিক্রি হচ্ছে অনেক কম দামে।

Farmers Weekly১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

নিজস্ব কারখানা ছেড়ে চুক্তিভিত্তিক ও যৌথ কারখানায় ঝুঁকছে উদ্ভিজ্জ মাংস

চাহিদা অনিশ্চিত থাকায় উদ্ভিজ্জ মাংসের ব্র্যান্ডগুলো নিজস্ব কারখানার বদলে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন, যৌথ অবকাঠামো ও মাংস প্রক্রিয়াকরণের পুরোনো যন্ত্রপাতির দিকে ঝুঁকছে বলে জানিয়েছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।

FoodNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোবিজ

সারের দাম দেখার প্ল্যাটফর্ম ক্লিয়ারকস্টে বিনিয়োগ, সালফার সংকটে কমছে ফসফরাস

কৃষকদের সারের দাম ও চালান দেখার এবং সরবরাহ চুক্তির সুযোগ দেওয়া কানাডার স্টার্টআপ ক্লিয়ারকস্ট সিরিজ এ তহবিল পেয়েছে; ২০২৭ সালের শুরুতে উত্তর আমেরিকাজুড়ে নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু করবে তারা।

AgNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)