দেশের সবচেয়ে বড় আম উৎপাদনকারী জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ রোববার রাত ১০টার দিকে ফাল্গুনের হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি হয়। জেলার আমবাগানগুলো তখন মুকুলে ভরা। পরদিন সকাল ১০টা ২৮ মিনিটে প্রকাশিত জাগো নিউজের জেলা প্রতিনিধির প্রতিবেদনে আমচাষিরা জানান, এই বৃষ্টিতে বাগানে মুকুলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তাঁরা। চাষিদের ভাষায়, মুকুল পর্যায়ে থাকা আমগাছের জন্য এই সময়ের বৃষ্টি অত্যন্ত ক্ষতিকর: এতে ফলন কমে যেতে পারে, আর পচে নষ্ট হতে পারে আমের ছোট গুটি।
সেই রাতের ভারী বৃষ্টিতে ঘরে ফেরা মানুষও ভোগান্তিতে পড়েন। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি ক্ষতির শঙ্কায় ছিলেন আমচাষিরা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) জেলা কার্যালয় জানায়, চাষিদের আগেই সতর্ক করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য ক্ষতি কমাতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে।
চাষি ও কৃষি বিভাগ যা বলেছেন
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার বাসিন্দা ঈমান আলী জানান, রাত ১০টার দিকে বাসায় ফেরার পথে তিনি বৃষ্টিতে আটকে যান। প্রায় আধা ঘণ্টা পর ভিজে বাসায় পৌঁছান।
ইসলামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা শরিফুল ইসলাম বলেন, আমগাছে তখন ভরপুর মুকুল, আর কিছু কিছু মুকুলে এরই মধ্যে আমের গুটি আসতে শুরু করেছে। এমন সময়ে বৃষ্টি হওয়ায় মুকুলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হবে বলে তাঁর আশঙ্কা।
আলিনগর ইউনিয়নের বাসিন্দা হাফিজ হোসেন বলেন, তাঁর বাগানের গাছগুলো তখন মুকুলে ভরপুর। বাগানে সবচেয়ে বেশি গাছ লক্ষণভোগ জাতের, আর সেগুলোতে এই সময়ে অনেক ফুল ও মুকুল এসেছে। হঠাৎ বৃষ্টিতে মুকুলগুলো নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বাগানের ফলনকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করতে পারে বলে তিনি জানান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী বলেন, ফাল্গুনের এ ধরনের হঠাৎ বৃষ্টি সাধারণত শীতের শেষ দিকে দেখা যায়। বৃষ্টি মাটি ও ফসলের জন্য কিছুটা উপকারী হলেও আমের মতো ফুলে থাকা গাছের ওপর এর প্রভাব পড়তে পারে। তিনি জানান, চাষিদের এরই মধ্যে সতর্ক করা হয়েছে এবং ক্ষতির সম্ভাবনা কমাতে কিছু প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হবে। প্রতিবেদনে ক্ষতিগ্রস্ত জমি বা ক্ষতির পরিমাণের কোনো হিসাব ছিল না।
আমের অঞ্চলে ঝড়-বৃষ্টির রাত
এই বৃষ্টি ছিল বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস দেওয়া অস্থির আবহাওয়ারই অংশ। জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৪ মার্চ শনিবার রাতে দেওয়া পূর্বাভাসে অধিদপ্তর জানায়, মার্চের শুরু থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে অস্থায়ীভাবে বৃষ্টি শুরু হয়েছে এবং এ প্রবণতা ক্রমশ বাড়ছে; প্রাক-বর্ষা মৌসুমে এটি স্বাভাবিক বৃষ্টি, যা চলতি মাসে অনিয়মিতভাবে চলবে। ১৮ মার্চ পর্যন্ত পাঁচ দিনে রাজশাহী, রংপুর, খুলনা ও বরিশাল বিভাগের দু-এক জায়গায় এবং ময়মনসিংহ, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝোড়ো হাওয়া ও বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে, আর কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও বলা হয়।
একই রাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলায় প্রবল ঝড় হয়। ১৬ মার্চ সকাল ৮টা ৩৩ মিনিটে জাগো নিউজ জানায়, ১৫ মার্চ রাত ১০টার দিকে হঠাৎ শুরু হওয়া ঝড়ে উপজেলার প্রায় সব ইউনিয়নে ঘরবাড়ি, গাছপালা ও আমবাগানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ধেয়ে আসা তীব্র দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিতে রহনপুর পৌর এলাকা এবং বোয়ালিয়া, গোমস্তাপুর, আলিনগর, পার্বতীপুর, রাধানগর ও চৌডালা ইউনিয়নের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। অনেক কাঁচা ও আধাপাকা ঘরের টিনের চাল উড়ে যায়, উপড়ে পড়ে অসংখ্য গাছ; আতঙ্কে অনেকে ঘর ছেড়ে খোলা জায়গায় আশ্রয় নেন। গোমস্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ঝড়ে ঘরবাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও কৃষি খাতে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তবে তখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি এবং ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণের কাজ চলছে।
এ ধরনের ঝড় এই মৌসুমের নিয়মিত ঘটনা। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া কালবৈশাখী বা নরওয়েস্টারকে এমন এক বজ্রঝড় হিসেবে বর্ণনা করেছে, যা সাধারণত এপ্রিল-মে মাসে উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বয়ে যায়। মার্চের মাঝামাঝি থেকে এপ্রিল পর্যন্ত শীতের মাসগুলোর তুলনায় তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ে, আর ভূপৃষ্ঠের কাছে উষ্ণ ও আর্দ্র বাতাস এই ঝড় তৈরির পূর্বশর্ত। এ ঝড়ে শিলাবৃষ্টি সাধারণ ঘটনা, সঙ্গে থাকে বজ্রপাত ও বিদ্যুৎ চমকানো। দেশের পশ্চিমাঞ্চলে এ ঝড় সাধারণত বিকেলের শেষ দিকে বা সন্ধ্যার আগে আসে। এর গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৬০ কিলোমিটার, তবে ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে ১০০ কিলোমিটার ছাড়িয়ে যেতে পারে; আর একটি ঝড় সাধারণত এক ঘণ্টার কম স্থায়ী হয়।
বাংলাপিডিয়ার জলবায়ু-বিবরণে মার্চ মাস প্রাক-বর্ষা উষ্ণ মৌসুমের অন্তর্ভুক্ত, যা মার্চ থেকে মে পর্যন্ত চলে এবং যার বৈশিষ্ট্য উচ্চ তাপমাত্রা ও বজ্রঝড়। নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারির শীত মৌসুম খুবই শুষ্ক, বছরের মোট বৃষ্টির মাত্র ২ থেকে ৪ শতাংশ হয় এ সময়ে; প্রাক-বর্ষা মৌসুমে হয় ১০ থেকে ২৫ শতাংশ। দেশের পশ্চিমাঞ্চলের বেশির ভাগ এলাকায় মার্চ ও এপ্রিল সবচেয়ে কম আর্দ্র মাস।
রাজশাহী ও নওগাঁয় বৃষ্টি এসেছিল স্বস্তি হয়ে
অঞ্চলের সবাই অবশ্য বৃষ্টিকে একইভাবে দেখেননি। পাশের জেলা রাজশাহীতে ১৬ মার্চ সকাল ৮টা ১৫ মিনিটে প্রকাশিত প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, রোববার রাতে সেখানে ৫ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে, যা জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফল আমের জন্য উপকারী বলে মনে করেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা। রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্যমতে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়ছিল; শনিবার রাজশাহীতে মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। রোববার দিনভর মেঘাচ্ছন্ন আকাশের পর রাত ৯টায় হালকা ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়ে রাত ১১টা পর্যন্ত থেমে থেমে চলে। এর আগে সেখানে সর্বশেষ বৃষ্টি হয়েছিল ২০ ফেব্রুয়ারি, মাত্র শূন্য দশমিক ১ মিলিমিটার।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ইনচার্জ ও আবহাওয়া পর্যবেক্ষক রহিদুল ইসলাম পত্রিকাটিকে বলেন, এ সময়ে কালবৈশাখীর কারণে বৃষ্টি হবে, তাপমাত্রা কমবে, আবার বাড়বে; এগুলো এই মৌসুমের স্বাভাবিক ঘটনা। কৃষক ও কর্মকর্তারা জানান, এ সময়ে আমগাছে আলাদা করে সেচ দিতে হয়, নিয়মিত বৃষ্টি না হলে গুটি ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে, আর ডিজেল পেতেও কৃষকদের বেগ পেতে হচ্ছিল। পুঠিয়ার আমচাষি মাহবুব ইসলাম বলেন, এ বছর তাঁর গাছগুলোতে প্রচুর মুকুল এসেছে; প্রতিটি গাছে সেচ দিতে হতো, কিন্তু রাতের বৃষ্টির পর কিছুদিন আর সেচ লাগবে না। বৃষ্টির পর আমের গুটি দৃশ্যমান হয়েছে, এতে বোঁটা শক্ত হবে বলে তাঁর আশা, তবে এখন একবার স্প্রে করতে হবে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর প্রথম আলোকে জানায়, সে বছর জেলায় ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন। অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, কোথাও একটু বেশি, কোথাও কম বৃষ্টি হয়েছে; তাঁদের হিসাবে গড় বৃষ্টি ২ দশমিক ৩২ মিলিমিটার, যা আমের জন্য খুবই উপকারী হয়েছে। মাঠে পানি জমে না থাকায় আলু ও গমেরও কোনো ক্ষতি হবে না বলে তিনি জানান।
এর চার দিন আগে নওগাঁও বছরের প্রথম বৃষ্টিকে একইভাবে স্বাগত জানিয়েছিল। ১২ মার্চ প্রথম আলো জানায়, বদলগাছী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের হিসাবে সেদিন সকাল ৭টা থেকে সাড়ে ৯টা পর্যন্ত জেলায় ২৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে; আগের বছরের নভেম্বরের মাঝামাঝির পর প্রায় চার মাসে এটিই প্রথম বৃষ্টি। চাষিরা জানান, দীর্ঘ অনাবৃষ্টিতে মুকুল ও গুটি ঝরে পড়ছিল, আর বৃষ্টিতে গাছে জমে থাকা ধুলাবালু ধুয়ে গেছে। নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হুমায়রা মণ্ডল বলেন, এই বৃষ্টি আম, লিচুসহ সব ফসলের জন্যই উপকারী, তবে ভারী বৃষ্টি হলে আলুখেতে সমস্যা হতো।
চাঁপাইনবাবগঞ্জে এর আগেও একবার এমন শঙ্কা দেখা দিয়েছিল। ২৬ ফেব্রুয়ারি দিনাজপুর টিভি জানায়, ২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাতে জেলার বিভিন্ন এলাকায় থেমে থেমে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হয়েছে, বিশেষ করে শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট, বিনোদপুর ও মোবারকপুর ইউনিয়নে তুলনামূলক বেশি বৃষ্টি হওয়ায় বাগান মালিকেরা শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন। প্রতিবেদনে বলা হয়, অসময়ের বৃষ্টিতে মুকুলে ছত্রাকজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে, আর কৃষি কর্মকর্তারা চাষিদের দ্রুত প্রয়োজনীয় ছত্রাকনাশক স্প্রে করা ও নিয়মিত পরিচর্যার পরামর্শ দিয়েছেন। চাঁপাইনবাবগঞ্জ ম্যাংগো ফাউন্ডেশন জানায়, বৃষ্টির পর দ্রুত রোদ উঠলে ক্ষতি কিছুটা কম হতে পারে; ম্যাংগো প্রডিউসার কো-অপারেটিভ সোসাইটির ভাষ্য ছিল, যেসব গাছে সবে মুকুল আসছে সেগুলো বেশি ঝুঁকিতে, তবে যেসব মুকুলে গুটি ধরেছে সেগুলোর জন্য এ বৃষ্টি কিছুটা উপকারীও হতে পারে। শিবগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, বৃষ্টিতে ধান, গম ও পেঁয়াজসহ অন্যান্য রবি ফসলের কিছুটা উপকার হতে পারে।
ফুল ফোটার সময় বৃষ্টি কেন চাষির দুশ্চিন্তা
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শঙ্কা আর রাজশাহীর স্বস্তি, দুটিরই ভিত্তি আছে আম নিয়ে কৃষিবিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যায়। বাংলাপিডিয়া জানায়, আমের ফুল ছোট, সুগন্ধি, সাদাটে-হলুদ বা বেগুনি রঙের, আর তা ডালের মাথায় বড় মঞ্জরিতে ফোটে। একটি মঞ্জরিতে ১০০ থেকে ২৫০টি ফুলের কুঁড়ি থাকতে পারে, যার সবগুলো ফোটে না। প্রায় এক হাজার ফুলের মধ্যে মাত্র এক-দুটি পরিণত আমে রূপ নেয়, আর একটি মঞ্জরিতে দু-তিনটি আম থাকলেই প্রায়ই সন্তোষজনক ফলন হয়। জ্ঞানকোষটির ভাষ্য, জানুয়ারি থেকে মার্চে গাছে ফুল আসার সময় কুয়াশা, বৃষ্টি বা মেঘলা আবহাওয়া ফল ধারণে বিরূপ প্রভাব ফেলে। আম বড় হওয়ার সময়ের হালকা বৃষ্টি উপকারী, কিন্তু ঝড়, বিশেষ করে শিলাবৃষ্টিতে প্রায়ই অপরিপক্ব আম ঝরে পড়ে।
ফুল ফোটার সময় বৃষ্টির প্রধান বিপদ ছত্রাকজনিত রোগ। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার সম্প্রসারণ বিভাগের আম চাষ নির্দেশিকা (২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে হালনাগাদ) বলছে, কলেটোট্রিকাম গ্লিওস্পোরিওয়েডিস ছত্রাকজনিত অ্যানথ্রাকনোজ ফ্লোরিডায় আমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ রোগ। এটি ফুল, কচি ফল, পাতা ও ডালে আক্রমণ করে কালো, সামান্য বসে যাওয়া দাগ তৈরি করে, যা থেকে মুকুল ঝলসে যায়, পাতায় দাগ পড়ে, ফলে দাগ হয় ও ফল পচে। বৃষ্টি বা ভারী শিশির এ রোগের বিস্তারে সহায়ক। মঞ্জরির আরেক প্রধান রোগ পাউডারি মিলডিউ শুষ্ক বসন্তকালে পাতা, ফুল ও কচি ফলে আক্রমণ করে; তীব্র সংক্রমণে মুকুল নষ্ট হয়ে ফল ধরা বন্ধ হয়ে যায়। নির্দেশিকা অনুযায়ী, ফুল আসার আগে ও ফুল ফোটার সময় শুষ্ক আবহাওয়াই ভালো ফলনের জন্য সবচেয়ে অনুকূল।
দেশের সবচেয়ে পরিচিত জাত নিয়ে বাংলাদেশি গবেষণাও একই কথা বলে। সরকারের কৃষি তথ্য সার্ভিসের (এআইএস) পত্রিকা কৃষিকথায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আমের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের নিবন্ধন সনদ পাওয়া নিয়ে ২০১৯ সালে লেখা নিবন্ধে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) একজন ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা লেখেন, মুকুল আসার সময় আবহাওয়া শুষ্ক ও ঠান্ডা এবং আমের বৃদ্ধি ও পরিপক্বতার সময় শুষ্ক ও গরম (২৮ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) থাকলে ফলন ও মান দুটোই ভালো হয়। মুকুল আসার সময় বা মুকুল বের হওয়ার পর বৃষ্টি হলে নানা রোগ ও পোকামাকড়ের আক্রমণ হতে পারে, আর বৃদ্ধি ও পরিপক্বতার সময় বেশি বৃষ্টি হলে আমের গুণগত মান খারাপ হয়।
আবার শুষ্ক আবহাওয়ার মাশুল পরে দিতে হয়। বৃষ্টির দিন, অর্থাৎ ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ কৃষিকথায় বারির সিনিয়র সায়েন্টিফিক অফিসার কৃষিবিদ মো. প্লাবন লেখেন, আমের প্রতিটি মুকুলে সাধারণত ১ হাজার থেকে ৬ হাজার পুরুষ ও স্ত্রী ফুল থাকে; জাতভেদে প্রতি থোকায় এক থেকে ৩০টি গুটি ধরে, কিন্তু গুটি আসার ২৫ থেকে ৫০ দিনের মধ্যে থোকায় থাকে মাত্র এক-দুটি। আমের বৃদ্ধির প্রাথমিক পর্যায়ে, মার্চ-এপ্রিলে, বৃষ্টি কম হলে মাটিতে রসের অভাব দেখা দেয়, আমের বোঁটায় দ্রুত নির্মোচন স্তর তৈরি হয় এবং গুটি ঝরে যায়। এ কারণেই রাজশাহী ও নওগাঁর যেসব চাষির গাছে গুটি ধরে গিয়েছিল এবং যাঁরা সেচ দিতে হিমশিম খাচ্ছিলেন, তাঁরা যে বৃষ্টিকে স্বাগত জানান, পুরো মুকুলে থাকা গাছ নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিরা সেই বৃষ্টিকেই ভয় পেয়েছিলেন।

মুকুলের সময়ে কৃষি কর্তৃপক্ষের পরামর্শ
বৃষ্টির পর চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হবে বলে জানিয়েছিল ডিএই; সরকারি কৃষি সংস্থাগুলোর প্রকাশিত নির্দেশনা থেকে বোঝা যায়, এ ধরনের পরামর্শে সাধারণত কী থাকে। ২০১৮ সালের মার্চে কৃষিকথায় প্রকাশিত আমবাগানের রোগ ও পোকামাকড় ব্যবস্থাপনা বিষয়ক নিবন্ধে যেকোনো স্প্রের চারটি মূলনীতি বলা হয়: সঠিক বালাইনাশক নির্বাচন, সঠিক মাত্রা নির্ধারণ, সঠিক সময় নির্বাচন ও সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ। নিবন্ধ অনুযায়ী, কী ওষুধ স্প্রে করতে হবে তা কীটনাশক ডিলারদের কাছে জানতে চাওয়া ঠিক নয়; এ জন্য স্থানীয় কৃষিকর্মী, কৃষি অফিস বা আম গবেষণা কেন্দ্রের পরামর্শ নিতে হবে। একই গ্রুপের ওষুধ বারবার না দিয়ে মাঝে মাঝে বদলাতে হবে, কারণ বারবার একই ওষুধে পোকা বা রোগজীবাণুর প্রতিরোধ ক্ষমতা বেড়ে যেতে পারে।
সময় প্রসঙ্গে ২০১৮ সালের নিবন্ধে বলা হয়, মুকুল আসার আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ দিন আগে প্রথম স্প্রে এবং মুকুল ১০ থেকে ১২ সেন্টিমিটার লম্বা হলে দ্বিতীয় স্প্রে দেওয়া উচিত; আর মুকুলের ফুল ফোটার পর কোনো অবস্থাতেই স্প্রে করা যাবে না। কারণ, আমের পরাগায়ন প্রধানত বিভিন্ন প্রজাতির মাছির মাধ্যমে হয়; ফুল ফোটার সময় কীটনাশক দিলে মাছি মারা গিয়ে পরাগায়ন ও ফল ধারণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হতে পারে। নিবন্ধে আরও বলা হয়, মুকুলে অ্যানথ্রাকনোজ বা পাউডারি মিলডিউ দেখা না গেলেও আবহাওয়া রোগের অনুকূল হলে প্রতিষেধক হিসেবে ছত্রাকনাশক স্প্রে করতে হবে। ২০১৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত এআইএসের ফাল্গুন মাসের কৃষি কাজের নির্দেশিকা জানায়, এ সময় আমের মুকুলে অ্যানথ্রাকনোজ রোগ দেখা দেয়; মুকুল আসার পর কিন্তু ফুল ফোটার আগে আক্রান্ত গাছে ছত্রাকনাশক স্প্রে এবং আম মটরদানার মতো হলে দ্বিতীয়বার স্প্রের পরামর্শ দেয় নির্দেশিকাটি।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের বিজ্ঞানীরাও মৌসুমের আগে একই ধরনের পরামর্শ দিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের তৎকালীন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মোখলেসুর রহমান ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, ফুল আসার সময় বৃষ্টি হলে ফুলের ক্ষতি হতে পারে; মুকুল রক্ষায় উপযুক্ত কীটনাশক ও ছত্রাকনাশক স্প্রে এবং বৃষ্টি না হলে সঠিকভাবে সেচ দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ডিএই কর্মকর্তারা দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানান, তাঁরা চাষিদের সুষম সার, সেচ ও রোগ প্রতিরোধ বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন এবং মৌমাছি রক্ষা ও পরাগায়ন নিশ্চিত করতে পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে উৎসাহিত করছেন।
২০১৮ সালের কৃষিকথার নিবন্ধে বাগানে স্প্রে করার সময় মেনে চলার জন্য কিছু সতর্কতাও তালিকা করা হয়:
- কোনো বালাইনাশক খালি হাতে ছোঁয়া যাবে না; হাতে গ্লাভস, পুরো শরীর ঢাকা অ্যাপ্রন, চোখে চশমা, মাথায় ক্যাপ বা হেলমেট এবং পায়ে জুতা পরতে হবে।
- স্প্রের সময় খাওয়াদাওয়া বা ধূমপান করা যাবে না, আর পুকুর বা অন্য কোনো পানির উৎস যেন দূষিত না হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
- বাতাসের অনুকূলে, অর্থাৎ যেদিক থেকে বাতাস আসছে গাছের সেদিকে দাঁড়িয়ে স্প্রে করতে হবে।
- স্প্রের পর দুই দিন গাছের নিচে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি চরতে দেওয়া যাবে না।
- স্প্রের ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে সেই গাছের আম খাওয়া যাবে না, তাই আম পাড়ার ১৫ থেকে ২০ দিন আগেই স্প্রে বন্ধ করতে হবে।
- বালাইনাশকের খালি প্যাকেট বা বোতল অন্য কাজে না লাগিয়ে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে, আর বালাইনাশক তালাবদ্ধ অবস্থায় শিশুদের নাগালের বাইরে রাখতে হবে।
এই প্রতিবেদনে কোনো ওষুধের নাম বা মাত্রা দেওয়া হয়নি। কোন ছত্রাকনাশক বা কীটনাশক, কী মাত্রায় ও কখন দিতে হবে, তা প্রতিটি বাগানের অবস্থা দেখে ঠিক করবেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বা আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের বিজ্ঞানীরা।

আগাম ও প্রচুর মুকুলের মৌসুম
বৃষ্টিটা এসেছিল ২০২৬ সালের আশাজাগানো মৌসুমের শুরুর পর। ২০ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসস ডিএইর তথ্য উদ্ধৃত করে জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমবাগান, গাছের সংখ্যা ৯২ লাখ ৪৪ হাজার ৭৬৫টি, আর সে বছর উৎপাদনের সরকারি লক্ষ্যমাত্রা ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৯১২ মেট্রিক টন। সদর ও শিবগঞ্জ উপজেলার বাগানগুলো মুকুলে ভরে গিয়েছিল, আর পাঁচ উপজেলাতেই মুকুল দেখা যাচ্ছিল। মুকুল আসা জাতগুলোর মধ্যে ছিল গুটি, লক্ষণভোগ, আম্রপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, খিরসাপাত ও আশ্বিনা। ড. ইয়াছিন আলী তখন জানান, জেলার প্রায় ৭০ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। সদর উপজেলার রানীহাটি ইউনিয়নের চাষি আব্দুর রাজ্জাক সংস্থাটিকে বলেন, আগের বছরগুলোর চেয়ে এবার আগে মুকুল এসেছে, ঘন কুয়াশায় নষ্ট না হলে বিপুল ফলনের আশা করছেন তিনি।
দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২৩ ফেব্রুয়ারি জানায়, জেলায় দেড় শতাধিক জাতের আম চাষ হয়। চাষিদের মনে ছিল আগের মৌসুমের অভিজ্ঞতা: প্রচুর মুকুল ও ভালো গুটি ধরার পর পাকার সময় ভারী বৃষ্টিতে আম নষ্ট হয়, দামও পড়ে যায়। কৃষি বিশেষজ্ঞরা পত্রিকাটিকে সতর্ক করেন, ফুল ফোটার পরের সময়ে অতিরিক্ত কুয়াশা, আগাম বৃষ্টি বা তাপমাত্রার হঠাৎ ওঠানামায় ফুল ঝরে গিয়ে ফল ধারণ ও উৎপাদন কমতে পারে। সার, কীটনাশক ও অন্যান্য উপকরণের দাম এবং শ্রমিকের মজুরি বাড়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে বলেও অভিযোগ করেন চাষিরা।
যে গোমস্তাপুর উপজেলায় ১৫ মার্চ রাতে ঝড় আঘাত হানে, সেখানকার উপজেলা কৃষি অফিস ২৮ ফেব্রুয়ারি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানায়, সে মৌসুমে উপজেলায় ৪ হাজার ৩৯০ হেক্টর জমিতে আম চাষ হচ্ছে এবং প্রায় ৯২ শতাংশ গাছে মুকুল এসেছে। তুলনামূলক মৃদু শীত, কম কুয়াশা ও কম মেঘলা দিন এর কারণ, যা পোকা ও ছত্রাকজনিত রোগের ঝুঁকিও কমিয়েছে বলে অফিসটি জানায়। বোয়ালিয়া ইউনিয়নের চাষি মমতাজ আলী, যাঁর আট বিঘার বাগান আছে, বলেন প্রায় প্রতিটি গাছেই ভালো মুকুল এসেছে; তাঁর বাগানে আছে আম্রপালি, কালীভোগ, লক্ষণভোগ, বারি-৪, ফজলি, ল্যাংড়া ও হিমসাগর।
ডিএইর রাজশাহী অঞ্চলে, যার মধ্যে রয়েছে রাজশাহী, নওগাঁ, নাটোর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ, ৯২ হাজার ৫৫২ হেক্টর বাগানে ৩ কোটি ৪৯ লাখ ৬০ হাজার ৫৫৪টি আমগাছ রয়েছে এবং প্রায় ৬৩ শতাংশে মুকুল এসেছে বলে ২৬ ফেব্রুয়ারি জানায় বাসস। এক বছরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে বাগান কমেছে ১৭ হেক্টর, ৩৭ হাজার ৫০৪ থেকে ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টরে। দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস ৫ মার্চ জানায়, কৃষক ও কর্মকর্তারা এই কমার মূল কারণ হিসেবে অনিয়ন্ত্রিত মাছের পুকুর খননকে দায়ী করেছেন; সঙ্গে আছে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি, পোকার আক্রমণ বাড়া ও ন্যায্য দাম নিয়ে অনিশ্চয়তা। ২৫ ফেব্রুয়ারি দ্য ডেইলি স্টারে উদ্ধৃত সরকারি তথ্য অনুযায়ী, আগের মৌসুমে চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৪ লাখ ৫৮ হাজার ৬৪০ টন আম উৎপাদিত হয়েছিল। তার আগে, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ডিএই ঢাকা ট্রিবিউনকে জানায়, ২০২৪ সালে জেলায় ৩ লাখ ৪৮ হাজার ২৭৮ টন আম হয়েছিল, যদিও সেটি ছিল "অফ-ইয়ার", অর্থাৎ বেশি ফলনের বছরের পর কম ফলনের প্রাকৃতিক চক্রের বছর। জেলায় সবচেয়ে বেশি বাগান শিবগঞ্জ উপজেলায়, ২০ হাজার ১০০ হেক্টর; এরপর সদর উপজেলা, ৫ হাজার ১৮০ হেক্টর।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও এর আমের জাত
বাংলাপিডিয়ায় পুরোনো নাম নবাবগঞ্জে তালিকাভুক্ত চাঁপাইনবাবগঞ্জ রাজশাহী বিভাগের ১ হাজার ৭০২ দশমিক ৫৫ বর্গকিলোমিটারের জেলা। এর উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বে রাজশাহী ও নওগাঁ জেলা; জেলার ভূমি বরেন্দ্র, দিয়াড় ও চর নিয়ে গঠিত। প্রধান নদী পদ্মা, মহানন্দা ও পাগলা। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত নবাবগঞ্জ ছিল মালদহ জেলার একটি থানা; দেশভাগের সময় এটি রাজশাহী জেলার মহকুমা হয়, আর ১৯৮৪ সালে জেলায় উন্নীত হয়। পাঁচ উপজেলার মধ্যে শিবগঞ্জ সবচেয়ে বড়, ৫২৫ দশমিক ৪৩ বর্গকিলোমিটার, আর ভোলাহাট সবচেয়ে ছোট, ১২৩ দশমিক ৫২ বর্গকিলোমিটার। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জেলার জনসংখ্যা ছিল ১৬ লাখ ৪৭ হাজার ৫২১, আর ৫৭ দশমিক ১৩ শতাংশ মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি।
বাংলাপিডিয়া জানায়, দেশের উৎকৃষ্ট জাতের আম বেশির ভাগ চাষ হয় রাজশাহী, নবাবগঞ্জ ও দিনাজপুরে। হাফিজ হোসেন যে লক্ষণভোগ জাতের কথা বলেছেন, সেটিও ফজলি, ল্যাংড়া, গোপালভোগ, হিমসাগর, খিরসাপাত ও আশ্বিনার সঙ্গে উৎকৃষ্ট জাতের তালিকায় রয়েছে। দেশে প্রায় ১০০টি আমের জাত আছে; বারির উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ রাজশাহী, নবাবগঞ্জ ও জয়দেবপুরে গবেষণা কেন্দ্র স্থাপন করেছে, যেখানে বংশবিস্তার, উৎপাদন ও সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তি নিয়ে কাজ হয়। দেশের কিছু সেরা আমবাগান গাঙ্গেয় প্লাবনভূমির পলিমাটিতে; যেখানে মাটি গভীর পর্যন্ত ভেজানোর মতো বৃষ্টি এবং একটি সুস্পষ্ট শুষ্ক মৌসুম থাকে, সেখানেই আম সবচেয়ে ভালো হয়।
খিরসাপাত জেলার পরিচয়বাহী জাত। ২০১৯ সালের কৃষিকথার নিবন্ধ অনুযায়ী, ২০১৬ সালে জাতটিকে জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের দায়িত্ব দেওয়া হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের বারি আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রকে; ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে জিআই জার্নালের ৩ নম্বর সংখ্যায় এটি প্রকাশের পর পেটেন্ট, ডিজাইন ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর নিবন্ধন সনদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। জেলাটি কৃষি পরিবেশ অঞ্চল ১১, অর্থাৎ উঁচু গঙ্গা নদী প্লাবনভূমির অন্তর্ভুক্ত, যেখানে ভালো খিরসাপাতের জন্য প্রয়োজনীয় ৬.৫ থেকে ৭.৫ পিএইচের মাটি রয়েছে। ফুল আসা থেকে ফল পরিপক্ব হতে প্রায় চার মাস লাগে, আর মোট আম উৎপাদনের ২০ থেকে ২৫ ভাগ এই জাতের বলে নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়। চার মাসের এই সময়ের কারণেই ফেব্রুয়ারি-মার্চের আবহাওয়া গ্রীষ্মের ফলনের অনেকটা ঠিক করে দেয়।

ছবি: Sd Raihan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ, প্রথম আলো, দিনাজপুর টিভি, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, দ্য ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস, দ্য ডেইলি স্টার, ঢাকা ট্রিবিউন, কৃষি তথ্য সার্ভিস (কৃষিকথা), বাংলাপিডিয়া, ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডা আইএফএএস এক্সটেনশন





মন্তব্য
(০)