সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

নেত্রকোনার হাওরে ফসলহানিতে বর্গাচাষিরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত: বাবর

২০২৬ সালের ৯ মে মদনের ফাতুনিয়া হাওর পরিদর্শনে নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, হাওরের বর্গাচাষিরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত; তাঁর দাবি, প্রশাসনের করা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অতিরঞ্জন আছে, তা ঈদের আগে আবার যাচাই করা হবে।

নেত্রকোনার হাওরে ফসলহানিতে বর্গাচাষিরাই বেশি ক্ষতিগ্রস্ত: বাবর
ফসল

নেত্রকোনার হাওরে বোরো ধানের ক্ষতিতে বর্গাচাষিরাই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন নেত্রকোনা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। ২০২৬ সালের ৯ মে, শনিবার বিকেলে মদন উপজেলার কাইটাইল ইউনিয়নের ফাতুনিয়া হাওর পরিদর্শনের সময় তিনি এ কথা বলেন বলে সেদিন সন্ধ্যায় জাগো নিউজ ২৪ জানায়। এর আগের দুই সপ্তাহে টানা ভারী বৃষ্টিতে ধান কাটার মৌসুমের মাঝখানে জেলার বিভিন্ন হাওরের পাকা বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যায়। হাওরের বেশির ভাগ পরিবার সারা বছর এই একটি ফসলের ওপরই চলে।

ফাতুনিয়া হাওরে বাবর যা বললেন


জাগো নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাবর বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা তৈরির দায়িত্ব প্রশাসনকে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁর মতে, প্রশাসনের করা তালিকা গ্রহণযোগ্য নয়, কারণ এতে অতিরঞ্জন রয়েছে। প্রকৃত কৃষকেরা যাতে প্রণোদনা পান, সে জন্য তালিকা আবার যাচাই-বাছাই করা হবে বলে তিনি জানান। ঈদের আগেই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে প্রণোদনা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি বলেন।

বাবর আরও বলেন, তাঁর এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করা হচ্ছে এবং এ জন্য পাঁচ বছরের একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনায় কী আছে, প্রশাসনের তালিকায় কতজন কৃষক রয়েছেন, প্রতিটি পরিবার কত সহায়তা পাবে, কিংবা তালিকা নিয়ে তাঁর সমালোচনার বিষয়ে জেলা প্রশাসন কিছু বলেছে কি না, প্রতিবেদনে তা জানানো হয়নি।

ফাতুনিয়া হাওর পরিদর্শন ছিল বাবরের দুই দিনের সফরের অংশ। এই সফরে তিনি নেত্রকোনা-৪ আসনের তিন উপজেলা মদন, মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুরির বিভিন্ন হাওর এলাকা ঘুরে দেখেন, কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের দুর্ভোগ সরেজমিনে দেখেন। ফাতুনিয়ায় উপস্থিত ছিলেন মদন উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরল আলম তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম আকন্দ এবং সাংগঠনিক সম্পাদক ও কাইটাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু তাহেরসহ অন্যরা।

মদন, কাইটাইল ও মগড়া নদী


মদন ময়মনসিংহ বিভাগের নেত্রকোনা জেলার ১০টি উপজেলার একটি। উপজেলার আয়তন ২২৫.৮৫ বর্গকিলোমিটার। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী, এখানে ৩৪ হাজার ৯২১টি খানা এবং ১ লাখ ৪৯ হাজার ৮৭৮ জন মানুষ ছিলেন; তাঁদের ১৫.৮৩ শতাংশ শহর এলাকায় বাস করতেন। মদনের উত্তরে আটপাড়া ও মোহনগঞ্জ, দক্ষিণে ইটনা ও তাড়াইল, পূর্বে খালিয়াজুরি এবং পশ্চিমে কেন্দুয়া উপজেলা। মদন পৌরসভার বাইরে উপজেলাটি আটটি ইউনিয়নে বিভক্ত: ফতেপুর, গোবিন্দশ্রী, চানগাঁও, কাইটাইল, মদন, মাঘান, নায়েকপুর ও তিয়শ্রী। মদন থানা গঠিত হয় ১৯১৭ সালে, উপজেলা হয় ১৯৮৩ সালে।

মদন নেত্রকোনার হাওর উপজেলাগুলোর একটি, আর এর ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে মগড়া নদী। ২০২৬ সালের এপ্রিলের শেষ সপ্তাহে প্রথম আলো যেসব হাওরে পাকা ধান তলিয়ে যাওয়ার কথা জানায়, তার মধ্যে মদনের গোবিন্দশ্রী, উচিতপুর ও কদমশ্রী হাওরও ছিল। মদন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের তথ্য অনুযায়ী, সেই মৌসুমে উপজেলায় ১৭ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছিল; ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এর মধ্যে ৭৬০ হেক্টর জমির ধান পানির নিচে ছিল, আর ৬৮ শতাংশ খেতের ধান কাটা হয়ে গিয়েছিল।

মদনের কুলিহাটি গ্রামের এক কৃষক ২৯ এপ্রিল প্রথম আলোকে বলেন, উচিতপুর হাওরে তাঁর পাঁচ একর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। দৈনিক ১ হাজার ৪০০ টাকা মজুরিতে শ্রমিক ঠিক করেছিলেন, কিন্তু বজ্রপাতের ভয়ে তাঁরা খেতে নামছিলেন না। দুই দিন পর তিনি জানান, যে ধান তখনো পানির ওপরে আছে, তা কাটতে দৈনিক ২ হাজার টাকা দিয়েও শ্রমিক পাওয়া যাচ্ছে না।

নেত্রকোনার মদনে মগড়া নদী, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর। ছবি: টপু সাহা / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)
নেত্রকোনার মদনে মগড়া নদী, ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বর। ছবি: টপু সাহা / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 2.0)

নেত্রকোনার হাওর ও তার একমাত্র ফসল


হাওর হলো বড় আকারের গামলা-আকৃতির নিচু ভূমি, যা বর্ষায় নদী ও খালের পানিতে ভরে বিশাল জলরাশিতে পরিণত হয় এবং বর্ষার পর বেশির ভাগ অংশ শুকিয়ে উর্বর পলিমাটি বেরিয়ে আসে, যেখানে ধান চাষ হয়। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া হাওরকে বাংলাদেশের সবচেয়ে উৎপাদনশীল জলাভূমি বলে বর্ণনা করেছে। হাওর মূলত বৃহত্তর সিলেট ও বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলে; এই অববাহিকার উত্তরে ভারতের মেঘালয়ের পাহাড়। সেসব পাহাড় থেকে নেমে আসা নদী সমতলে পানি ও পলি বয়ে আনে।

নেত্রকোনা জেলার আয়তন ২ হাজার ৭৪৪.২৮ বর্গকিলোমিটার, ২০২২ সালের জনশুমারিতে জনসংখ্যা ২৩ লাখ ২৪ হাজার ৮৫৩। জেলার উত্তরে মেঘালয়ের গারো পাহাড়, পূর্বে সুনামগঞ্জ, দক্ষিণে কিশোরগঞ্জ এবং পশ্চিমে ময়মনসিংহ। বর্ষায় জেলার দক্ষিণ-পূর্ব অংশ হাওরে পরিণত হয়। ২০২৬ সালের এপ্রিলে যুগান্তর ও প্রথম আলো স্থানীয় কৃষক, জেলা প্রশাসন, কৃষি বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বরাতে জানায়, জেলার খালিয়াজুরি, মোহনগঞ্জ, মদন ও কলমাকান্দার আংশিক এলাকা মূলত হাওরাঞ্চল। জেলায় ছোট-বড় ১৩৪টি হাওর আছে, এর ৮৯টিই খালিয়াজুরিতে।

শুকনো মৌসুমের ধান বোরোই এসব হাওরের একমাত্র ফসল। কৃষকদের সারা বছরের সংসার খরচ, চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা ও সামাজিক অনুষ্ঠান এই ফসলের ওপর নির্ভর করে। আগাম বন্যা থেকে ফসল রক্ষায় সেই মৌসুমে পাউবো ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে জেলায় ১৩৮ কিলোমিটার ডুবন্ত (অস্থায়ী) বাঁধ নির্মাণ করা হয়, যার ব্যয় ধরা হয় ৩১ কোটি টাকা। এসব বাঁধের ওপর প্রায় ৪২ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল নির্ভর করে। যুগান্তরের হিসাবে ওই জমির ফসলের বাজারমূল্য প্রায় ৭০০ কোটি টাকা, আর প্রথম আলো জানায়, সেখান থেকে প্রায় ৩ লাখ টন ধান উৎপাদন হয়।

এপ্রিলের শেষ দিকে নেত্রকোনা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উপপরিচালক আমিনুল ইসলাম জানান, সেই মৌসুমে জেলায় ১ লাখ ৮৫ হাজার ৫৪৭ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৩ লাখ ২১ হাজার ৭৩২ মেট্রিক টন ধান। এর মধ্যে হাওর অঞ্চলে আবাদ ৪১ হাজার ৬৫ হেক্টর, লক্ষ্যমাত্রা ২ লাখ ৯২ হাজার ৫৯০ মেট্রিক টন। শুধু খালিয়াজুরিতেই বোরো আবাদ হয় ২০ হাজার ২৩২ হেক্টরে, লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৪৮ হাজার মেট্রিক টন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, সেখানে উচ্চফলনশীল ব্রি ধান৮৮, ব্রি ধান৮৯ ও ব্রি ধান৯২ জাতের আবাদ বেশি। তিনি আরও বলেন, কৃষকদের আগাম জাতের ধান লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু বেশি ফলনের আশায় অনেকে আগাম জাত কম লাগান।

নেত্রকোনার একটি হাওর, দূরে চন্দ্রডিঙ্গা পাহাড়, ২০২৫ সালের জুন। ছবি: Redmin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
নেত্রকোনার একটি হাওর, দূরে চন্দ্রডিঙ্গা পাহাড়, ২০২৫ সালের জুন। ছবি: Redmin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

বৃষ্টিতে যেভাবে তলিয়ে গেল ফসল


সংকটের আভাস মিলেছিল আগেই। ২০২৬ সালের ২২ এপ্রিল নেত্রকোনা পাউবো হাওরের কৃষকদের পরামর্শ দেয়, জমির ৮০ শতাংশ ধান পেকে গেলেই দ্রুত কেটে ফেলতে হবে, কারণ জেলার উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ভারী বৃষ্টির পানি পাহাড়ি ঢল হয়ে নামছে। পাউবো জানায়, সে বছর চৈত্র মাসের শুরু থেকেই নেত্রকোনায় বৃষ্টি হচ্ছিল এবং হাওরের নিচু অংশে আগে থেকেই জলাবদ্ধতা ছিল।

২৮ এপ্রিলের মধ্যে এক সপ্তাহের মাঝারি ও ভারী বৃষ্টিতে ধনু, কংস, সোমেশ্বরী, ভুগাই, উব্দাখালী, মগড়াসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বেড়ে যায়। ২৭ এপ্রিল সকাল থেকে পরদিন সকাল ৯টা পর্যন্ত খালিয়াজুরিতে ধনু নদের পানি প্রায় চার ফুট বাড়ে, আর ২৭ এপ্রিল খালিয়াজুরিতে বজ্রপাতে তিনজন নিহত হন। কৃষকেরা ২০১৭ সালের মতো অকালবন্যায় ফসল হারানোর আশঙ্কা করছিলেন। ডিএইর তথ্যে ২৭ এপ্রিল বিকেল পর্যন্ত ৫৫ শতাংশ ধান কাটা হয়েছিল। কলমাকান্দায় সোনাডুবি, গোরাডোবা, আঙ্গাজুরা ও মহিষাশুরা হাওর এবং মেদী ও তেলেঙ্গা বিলে পানি ঢুকে প্রায় এক হাজার হেক্টর জমির কাঁচা-পাকা বোরো ধান তলিয়ে যায়।

এরপর ২৯ এপ্রিল সকাল ৯টা পর্যন্ত আগের ২৪ ঘণ্টায় নেত্রকোনায় ১৩২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়, যা ছিল মৌসুমের সর্বোচ্চ। কংস নদের জারিয়া পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৮৫ সেন্টিমিটার ওপরে ওঠে। প্রথম আলো জানায়, খালিয়াজুরি, মোহনগঞ্জ, মদন ও কলমাকান্দার বিভিন্ন হাওরে প্রায় দেড় হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে, আর আগের এক মাসে হাওরে বজ্রপাতে পাঁচজন প্রাণ হারিয়েছেন।

সরকারি হিসাবও বাড়তে থাকে। ৩০ এপ্রিল বিকেল পর্যন্ত ডিএইর হিসাবে কলমাকান্দা, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুরি, মদন, আটপাড়া, কেন্দুয়া, সদর, বারহাট্টাসহ বিভিন্ন উপজেলায় ৯ হাজার ৬২৫ হেক্টর জমির ধান নিমজ্জিত হয়; এর মধ্যে খালিয়াজুরিতে ৪ হাজার ৯৮৫ হেক্টর, কলমাকান্দায় ১ হাজার ৯৫০ হেক্টর এবং মোহনগঞ্জে ৬৫০ হেক্টর। ২ মে এই হিসাব দাঁড়ায় ১৩ হাজার ৪৬৬ হেক্টরে। ৫ মে ডিএইর উপপরিচালক জানান, ভারী বৃষ্টিতে ১৮ হাজার ১৭৫ হেক্টর জমির ধান নষ্ট হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৭২ হাজার কৃষক পরিবার। প্রতিবারই স্থানীয় কৃষকেরা সাংবাদিকদের বলেন, প্রকৃত ক্ষতি আরও বেশি, কোথাও সরকারি হিসাবের দ্বিগুণ। ৩ মে প্রথম আলো ছয় উপজেলার হাওর ঘুরে হিসাব করে জানায়, প্রায় সাড়ে ২৩ হাজার হেক্টর জমির ধান পানির নিচে।

কর্মকর্তারা জোর দিয়ে বলেন, এটি বাঁধ ভাঙার ঘটনা নয়, বৃষ্টির পানির জলাবদ্ধতা। পাউবো জানায়, কোনো ফসল রক্ষা বাঁধ ভাঙেনি। নেত্রকোনার জেলা প্রশাসক খন্দকার মুশফিকুর রহমান ১ মে বলেন, হাওরে বন্যার পানি ঢোকেনি; ধান ডুবেছে আটকে থাকা বৃষ্টির পানিতে, যা বের হওয়ার পথ নেই, কারণ হাওরের নালা, খাল ও নদ-নদী পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। কৃষকেরা অকেজো জলকপাটকেও (স্লুইসগেট) দায়ী করেন। ৪ মে থেকে রোদ উঠলে কৃষকেরা কাটা ধান শুকাতে শুরু করেন, যদিও ৫ মে-ও খালিয়াজুরিতে ধনু নদের পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপরে ছিল।

শ্রমিক, যন্ত্র আর শুকনো জায়গার সংকট


যেখানে ধান পানির ওপরে ছিল, সেখানেও কাটা সহজ ছিল না। পানি জমা খেতে কম্বাইন হারভেস্টার চলে না। প্রথম আলো ২৮ এপ্রিল জানায়, কলমাকান্দায় ৩৫টি হারভেস্টার ছিল, প্রতিটির দিনে প্রায় ১২০ লিটার ডিজেল লাগে, কিন্তু জ্বালানি তেলের সংকটে সেগুলোর কাজ ব্যাহত হচ্ছিল। এক হারভেস্টারমালিক বলেন, তাঁর যন্ত্রে দিনে ১৩৫ লিটার তেল লাগে, কিন্তু পাম্প থেকে দেওয়া হয় ৮০ লিটার, তাতে অর্ধেক দিন কাজ চলে। কলমাকান্দার এক কৃষক বলেন, শ্রমিক দিয়ে আট শতক জমির ধান কাটতে প্রায় ১ হাজার ৪০০ টাকা খরচ হয়, অথচ ধানের দাম মণপ্রতি মাত্র ৭০০ টাকা।

আরেক বাধা ছিল শ্রমিক। কৃষকদের কথায়, এপ্রিলের শেষে দৈনিক মজুরি ১ হাজার ২০০ টাকার বেশি, মে মাসের শুরুতে ১ হাজার ৫০০ টাকা, এমনকি ২ হাজার টাকা দিয়েও শ্রমিক মিলছিল না। কৃষকেরা জানান, অন্যান্য বছর কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ, জামালপুর, শেরপুর, পাবনা, রাজশাহীসহ বিভিন্ন জায়গা থেকে শ্রমিক এনে হাওরে জিরাতি হিসেবে রেখে ধান কাটানো হতো; কিন্তু হারভেস্টারের ওপর নির্ভরতার কারণে এখন আর শ্রমিক আনা হয় না। যুগান্তর জানায়, বজ্রপাতে মৃত্যুর ভয়েও বাইরের শ্রমিকের আসা কমেছে। কেউ কেউ স্ত্রী-সন্তান নিয়ে পানিতে নেমে যতটুকু পেরেছেন ধান কেটেছেন, কেউ নেমেছেন বুকসমান পানিতে।

কাটা ধানেও ছিল বিপদ। দিনের পর দিন রোদ না থাকায় খলায় (ধান মাড়াই ও শুকানোর খোলা জায়গা) ভেজা ধানের স্তূপ শুকানো যায়নি; সেগুলো পচে চারা গজাতে থাকে। গবাদিপশুর খাদ্য খড়ও শুকানো যায়নি। খালিয়াজুরির এক কৃষক প্রথম আলোকে বলেন, গরু বিক্রি ছাড়া তাঁর আর কোনো পথ দেখছেন না। কৃষকেরা আরও জানান, শুকনো মৌসুমে হাওর থেকে পানি দেরিতে নামায় বীজতলা তৈরি ও চারা রোপণ দেরিতে হয়, ফলে ধান কাটার সময়ও পিছিয়ে ঝুঁকির সপ্তাহগুলোতে গিয়ে পড়ে।

সুনামগঞ্জের একটি হাওরে বোরো ধান কাটছেন কৃষকেরা। ছবি: বলরাম মহলদার / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সুনামগঞ্জের একটি হাওরে বোরো ধান কাটছেন কৃষকেরা। ছবি: বলরাম মহলদার / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

বর্গাচাষিদের ক্ষতি কেন সবচেয়ে বেশি


বর্গা হলো এমন চাষব্যবস্থা, যেখানে একজন চাষি অন্যের জমি চাষ করে উৎপাদিত ফসল জমির মালিকের সঙ্গে ভাগ করে নেন। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, এই ভাগ দীর্ঘদিন স্থানীয় প্রথায় ঠিক হতো, সাধারণত ফসলের অর্ধেক। ১৯৮৪ সালের ভূমি সংস্কার অধ্যাদেশে বর্গা জমির ফসলের এক-তৃতীয়াংশ মালিক এবং দুই-তৃতীয়াংশ বর্গাচাষির পাওয়ার বিধান রাখা হয়; তবে বাংলাপিডিয়া লিখেছে, গ্রাম পর্যায়ে এ আইন কার্যকরের কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, তাই শর্ত এলাকাভেদে আলাদা। বাংলাপিডিয়া আরও জানায়, ষাটের দশক থেকে প্রথাগত বর্গা কমে আসে এবং জমির মালিকেরা ক্রমশ নগদ টাকার বিনিময়ে নির্দিষ্ট মেয়াদে জমি দিতে শুরু করেন।

বাবরের কথার প্রতিধ্বনি মাসের শুরুতেই শোনা গিয়েছিল। ৩ মে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা), পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থা এবং নাগরিক উদ্যোগের যৌথ সংবাদ সম্মেলনে লেখক ও গবেষক গওহার নঈম ওয়ারা বলেন, মূলত বর্গাচাষিরাই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং তাঁদের সহায়তা দিতে হবে। তিনি সতর্ক করেন, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা সাবধানে করতে হবে, যাতে তা পক্ষপাতদুষ্ট না হয়, আর এই ফসলহানিতে বাল্যবিবাহ বাড়তে পারে এবং শিশুরা পড়াশোনা থেকে ঝরে পড়তে পারে।

হাওরের বর্গাচাষের হিসাবই কারণটা বোঝায়। ৪ মে প্রথম আলোয় প্রকাশিত লেখায় লেখক ও গবেষক পাভেল পার্থ জানান, মদন ও সুনামগঞ্জের যে কৃষকদের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন, তাঁদের হিসাবে ১ কেয়ার জমি চাষে বর্গা বাবদ ৮ হাজার টাকা এবং চাষের খরচ ৭ হাজার টাকা মিলিয়ে মোট ১৫ হাজার টাকা লাগে। ১ কেয়ারে ধান হয় ২০ থেকে ২৫ মণ; সরকারি দামে প্রতি কেজি ধান ৩৬ টাকায় বিক্রি করলে কৃষকের হাতে প্রায় কিছুই থাকে না। কৃষকেরা জানান, প্রত্যেকেই অনেক ধারদেনা করে চাষ করেন।

পাভেল পার্থ হাওরের ‘নয়নভাগা’ নামের এক কঠিন ভাগপ্রথার কথাও লেখেন: চোখের সামনে তলিয়ে যাওয়া ধান বাঁচাতে শ্রমিকেরা ধান কাটেন, আর কাটা ধানের এক ভাগ পান কৃষক, এক ভাগ শ্রমিক। তিনি লেখেন, সেই মৌসুমে নয়নভাগাতেও শ্রমিক মিলছিল না। ৩ মের সংবাদ সম্মেলনে অ্যাসোসিয়েশন ফর ল্যান্ড রিফর্ম অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (এএলআরডি) নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, ফসলহানির কারণে কৃষকের জীবিকা, ঋণ পরিশোধ, শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যাহত হবে; গোখাদ্যের সংকটে কৃষকেরা কম দামে গরু বিক্রি করে দিচ্ছেন।

সহায়তা, ধান-চাল সংগ্রহ ও তালিকা


বাবরের সফরের আগেই সরকার সহায়তার ঘোষণা দিয়েছিল। ২৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, হাওরাঞ্চলে ভারী বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের চিহ্নিত করে আগামী তিন মাস সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা দেওয়া হবে। তিনি জানান, সেদিন সকালে তিনি সংশ্লিষ্ট তিন জেলা ও ময়মনসিংহের কিছু এলাকা নিয়ে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন।

নেত্রকোনায় জেলা প্রশাসক ২ মে জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে। ৩ মে সন্ধ্যায় জেলা শহরের মোক্তারপাড়া পাবলিক হলে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী সরকারিভাবে ধান-চাল সংগ্রহের উদ্বোধন করেন। তিনি বলেন, কৃষকেরা যত ইচ্ছা ধান সরকারি গুদামে বিক্রি করতে পারবেন, হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তিন মাস সহায়তা দেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে মেয়াদ বাড়ানো হবে। জেলা খাদ্য কর্মকর্তা জানান, জেলায় প্রতি কেজি ৩৬ টাকা দরে ২০ হাজার ৪১৫ মেট্রিক টন বোরো ধান সংগ্রহ করা হবে; এ ছাড়া মিলারদের কাছ থেকে ৫৫ হাজার ৫৮৫ মেট্রিক টন সেদ্ধ চাল ও ২ হাজার ৩৪০ মেট্রিক টন আতপ চাল কেনা হবে, চালের দাম প্রতি কেজি ৪৯ টাকা। ৫ মে ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ তখনো চলছে।

অন্য জায়গাতেও তালিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। ৫ মে সুনামগঞ্জে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা নিয়ে কিছু কথা শোনা যাচ্ছে, তালিকা তৈরিতে কোনো অনিয়ম সহ্য করা হবে না। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা টানা তিন মাস সরকারি সহায়তা পাবেন এবং এ জন্য তাঁদের কার্ড দেওয়া হবে বলে তিনি জানান। সেদিন বিকেলে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার করচার হাওরপারের ক্ষতিগ্রস্ত ৪০০ কৃষকের প্রত্যেককে ৭ হাজার ৫০০ টাকা ও ২০ কেজি চাল দেওয়া হয়; অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জানান, তাঁরা টানা তিন মাস এই অর্থ ও চাল সহায়তা পাবেন।

৩ মে ঢাকার সংবাদ সম্মেলনে তোলা ১৫ দফা দাবির মধ্যে ছিল ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে বছরব্যাপী ৩০ কেজি চাল ও এক হাজার টাকা সহায়তা, হাওরের কৃষকদের কাছ থেকে অন্তত ১০ লাখ টন ধান সরাসরি কেনা, সুদমুক্ত ঋণ ও ঋণের পুনঃতফসিল, কমিউনিটি মাড়াইকেন্দ্র ও ড্রায়ার স্থাপন, নদী-খাল-বিল খনন এবং অপরিকল্পিত সড়ক ও বাঁধ নির্মাণ বন্ধ করা। পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা বলেন, মার্চের মাঝামাঝি থেকে এপ্রিলের শেষ পর্যন্ত টানা তিন দফা বৃষ্টি এবং ফসল রক্ষা বাঁধ ভাঙার কারণে হাওরাঞ্চলে অন্তত ৭৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে।

পাঁচ বছরের পরিকল্পনা ও বদলের প্রস্তাব


নিজের আসনের জন্য বাবরের পাঁচ বছরের পরিকল্পনা ছিল সেই সপ্তাহগুলোতে আসা কয়েকটি দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তাবের একটি। ৫ মে সুনামগঞ্জে আসাদুল হাবিব বলেন, হাওরের ফসল রক্ষায় স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নেওয়া হবে এবং বজ্রপাতে মৃত্যুঝুঁকি কমাতে হাওরে বজ্রনিরোধক দণ্ড ও সাইরেনসহ ছোট ছোট কৃষক আশ্রয়কেন্দ্র করা হবে। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, হাওরের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে করণীয় ঠিক করতে প্রকৌশলীদের কাজে লাগানো হয়েছে।

স্থানীয়রা দেখিয়েছেন পানিনিষ্কাশনের দিকে। খালিয়াজুরির হাওর গবেষক সঞ্জয় সরকার ২ মে প্রথম আলোকে বলেন, হাওর নিয়ে বিচ্ছিন্ন পরিকল্পনা নয়, টেকসই ও সমন্বিত পরিকল্পনা দরকার। অপরিকল্পিত বাঁধ, পলিতে বন্ধ হয়ে যাওয়া পানি নামার পথ আর অকেজো জলকপাটের কারণে বৃষ্টির পানি আটকে থাকে; তাই হাওরের তলদেশ খনন এবং ধান শুকানোর যন্ত্র স্থাপন করা যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, বেশি ফলনের আশায় অনেক কৃষক ১৪৫ থেকে ১৪৮ দিন জীবনকালের দীর্ঘমেয়াদি ধান লাগান; ১৪০ দিনের মধ্যে পাকে এমন জাত লাগাতে তাঁদের উদ্বুদ্ধ করা দরকার, যাতে দ্রুত ধান কাটা যায়।

ময়মনসিংহের বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকেরাও ৪ মে একই কথা বলেন। ফসল উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক হাবিবুর রহমান প্রামানিক জানান, ৩৬ বছরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আগাম ও আকস্মিক বন্যায় হাওরে প্রতিবছর ১০ থেকে ১০০ ভাগ ধান নষ্ট হয়েছে; এপ্রিলের শেষভাগে বন্যার প্রকোপ প্রায় ৪২ শতাংশ, মে মাসে প্রায় ৫০ শতাংশ। তিনি বলেন, হাওরে বহুল চাষ হওয়া ব্রি ধান৯২-এর জীবনকাল ১৬০ দিন, হেক্টরপ্রতি ফলন ৯ টনের কাছাকাছি; অন্যদিকে ব্রি ধান৮৮, ব্রি ধান১০১, ব্রি ধান১০৫ ও ব্রি ধান১১৩-এর জীবনকাল প্রায় ১৪০ থেকে ১৪৫ দিন, তবে ফলন হেক্টরপ্রতি এক থেকে দেড় টন কম, আর এটিই কৃষকের অনীহার বড় কারণ। তাঁর দল ২০২১ সাল থেকে সুনামগঞ্জ, ইটনা, মিঠামইন ও অষ্টগ্রামে মাঠে এসব স্বল্পমেয়াদি জাত চাষ করে দেখিয়েছে এবং রাইস ট্রান্সপ্ল্যান্টার ও কম্বাইন হারভেস্টার সহজলভ্য করার আহ্বান জানিয়েছে।

ছবি: তানিন / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, প্রথম আলো, যুগান্তর, বাংলাপিডিয়া, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফসল

সম্পর্কিত খবর

ফসল

ইংল্যান্ডে যবের ফলন ১৪ বছরে সর্বনিম্ন, গম সামান্য বেশি

যুক্তরাজ্যের কৃষি মন্ত্রণালয় ডেফরার প্রাথমিক হিসাবে ইংল্যান্ডে যব উৎপাদন ১১ শতাংশ কমে ৩৭ লাখ টন হয়েছে, গম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৮ লাখ টন; গমের তুলনায় পশুখাদ্যের যব বিক্রি হচ্ছে অনেক কম দামে।

Farmers Weekly১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
বিশ্ব

ভালো ফসলের বছরেও আফগানিস্তানে শীতে তীব্র খাদ্যসংকটে পড়বে ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ

অনুকূল বৃষ্টি ও ভালো ফসলের পরও নভেম্বর-এপ্রিলে আফগানিস্তানের ৩৮ শতাংশ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এফএও ও ডব্লিউএফপি; গত বছর একই সময়ের পূর্বাভাস ছিল ১ কোটি ৭৪ লাখ।

ডব্লিউএফপি১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ফসল

জমির সিদ্ধান্তের ভার পেয়ে তুলার ফলন সাত গুণ করলেন মহারাষ্ট্রের সুনীতা

একসময় দিনমজুরি করা, পরিবারের ১২ একর জমি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের অধিকার না থাকা মহারাষ্ট্রের পাচোদ গ্রামের সুনীতা নেহারে এখন খামার চালান; মাটি ও পানি সংরক্ষণে একরপ্রতি তুলার ফলন প্রায় ১ থেকে বাড়িয়েছেন ৭ দশমিক ১৪ কুইন্টালে।

ডাউন টু আর্থ১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)