আনারসের পাতা, আপেলের রস ও ওয়াইন তৈরির পর পড়ে থাকা শাঁস ও খোসা, বাতিল আম কিংবা পরিপক্ব নারকেলের পানি থেকে এখন এমন সব উপকরণ তৈরি হচ্ছে, যা জুতা, ব্যাগ ও নানা অনুষঙ্গে পশুর চামড়ার বিকল্প হিসেবে বিক্রি হয়। ২০২৬ সালের ২৭ জুন জাগো নিউজ ২৪-এ প্রকাশিত এক ফিচারে টেকসই ফ্যাশনের এই প্রবণতা তুলে ধরা হয়, সবচেয়ে পরিচিত উপকরণগুলোর পেছনের প্রতিষ্ঠান ও সেগুলো ব্যবহারকারী ব্র্যান্ডের নাম দেওয়া হয়, এবং যুক্তি দেওয়া হয় যে বিপুল ফল উৎপাদন এবং দীর্ঘদিনের চামড়া ও পোশাকশিল্পের কারণে বাংলাদেশ এখানে নতুন সুযোগ খুঁজে পেতে পারে। এই প্রতিবেদনে ফিচারটির বক্তব্য তুলে ধরা হলো, সেই তারিখ পর্যন্ত প্রকাশিত নথির সঙ্গে প্রতিষ্ঠান ও ব্র্যান্ড-সংক্রান্ত তথ্য মিলিয়ে দেখা হলো, এবং পাঠকের প্রয়োজনীয় পটভূমি যোগ করা হলো: এসব উপকরণ আসলে কী দিয়ে তৈরি, স্বাধীন গবেষণাগারের পরীক্ষায় কী পাওয়া গেছে, আর বাংলাদেশের ফল, চামড়া ও আঁশ খাত তখন কোথায় দাঁড়িয়ে ছিল।
ফলের বর্জ্য থেকে ‘ভেগান লেদার’ বলতে কী বোঝায়
‘ভেগান লেদার’ মূলত একটি বিপণন-শব্দ; পশুর চামড়া ছাড়া তৈরি যেকোনো চামড়াসদৃশ উপকরণকেই এ নামে ডাকা হয়। প্রচলিত কৃত্রিম চামড়া, যা লেদারেট, ফক্স লেদার বা পিইউ লেদার নামেও বিক্রি হয়, সাধারণত একটি কাপড় (প্রায়ই পলিয়েস্টার), যার ওপর পলিভিনাইল ক্লোরাইড (পিভিসি) বা পলিইউরেথেনের (পিইউ) কয়েকটি স্তরের প্রলেপ দেওয়া থাকে, আর ওপরের তলে চামড়ার দানার মতো নকশা ছাপ দিয়ে ফুটিয়ে তোলা হয়। জার্মানির এফআইএলকে ফ্রাইবার্গ ইনস্টিটিউটের ২০২১ সালের এক গবেষণা, যা কোটিংস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়, বলেছে এ ধরনের উপকরণ সম্পূর্ণভাবে জীবাশ্ম-জ্বালানিভিত্তিক, এবং ইউরোপীয় মান ইএন ১৫৯৮৭ এগুলোর ক্ষেত্রে ‘লেদার’ শব্দের ব্যবহার সীমিত করেছে।
একই গবেষণায় চামড়ার বিকল্পে উদ্ভিজ্জ উপাদান আনার তিনটি পথের কথা বলা হয়েছে। প্রথম পথে সরাসরি আঁশের জাল জন্মানো হয়, সেলুলোজ তৈরিকারী ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের শিকড়সদৃশ মাইসেলিয়াম দিয়ে। দ্বিতীয় পথে প্রচলিত প্রলেপের পিভিসি বা পিইউয়ের একাংশের বদলে গুঁড়া করা কৃষিবর্জ্য ভরাট-উপাদান হিসেবে মেশানো হয়, যেমন আপেলের পোমাস, আঙুরের অবশেষ বা পিষে নেওয়া ক্যাকটাস পাতা। তৃতীয় পথে প্রলেপযুক্ত কাপড়ের নকশা ঠিক রেখে পলিয়েস্টারের ভিত্তির বদলে প্রাকৃতিক আঁশের অবোনা (নন-ওভেন) পরত ব্যবহার করা হয়, যেমন আনারস পাতার আঁশ। জাগো নিউজের ফিচারে উল্লেখিত ফলভিত্তিক উপকরণের বেশির ভাগই দ্বিতীয় বা তৃতীয় দলে পড়ে, আর এগুলো নিয়ে করা দাবির বিচারে এ পার্থক্য গুরুত্বপূর্ণ।
পোমাস হলো রস, সাইডার বা ওয়াইনের জন্য ফল চেপে নেওয়ার পর পড়ে থাকা কঠিন অবশেষ। আঙুরের ক্ষেত্রে একে মার্কও বলা হয়, যাতে থাকে খোসা, বীজ ও ডাঁটা; আপেলের ক্ষেত্রে এটি চাপার পর থেকে যাওয়া শাঁস, খোসা ও বীজ। এই অবশেষ এক জায়গাতেই বিপুল পরিমাণে জমে, তাই রসের কারখানা ও ওয়াইনারিগুলোই এসব উপকরণের প্রথম সরবরাহকারী হয়ে ওঠে।
আনারসের পাতা ও পিন্যাটেক্স
আনারস (Ananas comosus) গাছে খাটো কাণ্ড ঘিরে গোলাপের পাপড়ির মতো সাজানো থাকে ৩০টি বা তার বেশি লম্বা, শক্ত, মোমের আবরণযুক্ত পাতা। ফল তোলার পর পাতাগুলো থেকে যায়, আর অনেক দেশে সেগুলো খেতে পচতে দেওয়া হয় বা পুড়িয়ে ফেলা হয়। এই পাতা থেকে তৈরি সবচেয়ে পরিচিত উপকরণ পিন্যাটেক্স উদ্ভাবন করেন স্পেনের ডিজাইনার কারমেন হিজোসা। ১৯৯০-এর দশকে তিনি ফিলিপাইনে চামড়াজাত পণ্য শিল্পের পরামর্শক হিসেবে কাজ করতেন এবং আনারসের আঁশে বোনা ফিলিপাইনের ঐতিহ্যবাহী পোশাক বারং তাগালগ থেকে অনুপ্রেরণা পান। লন্ডনের রয়্যাল কলেজ অব আর্টে ডক্টরেট গবেষণার মধ্য দিয়ে তিনি উপকরণটি তৈরি করেন এবং এটি উৎপাদন ও বিক্রির জন্য ২০১৩ সালে আনানাস আনাম প্রতিষ্ঠা করেন।
উপকরণটির প্রকাশিত বিবরণ অনুযায়ী, পাতার লম্বা আঁশ কর্নস্টার্চ থেকে তৈরি প্লাস্টিক পলিল্যাকটিক অ্যাসিডের (পিএলএ) সঙ্গে মিশিয়ে চেপে অবোনা পাত বানানো হয়, যার প্রায় ৮০ শতাংশ আনারস পাতার আঁশ ও ২০ শতাংশ পিএলএ; এরপর তার ওপর রেজিনের প্রলেপ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য ছিল, এক বর্গমিটার উপকরণে প্রায় ৪৮০টি পাতা লাগে, যা ১৬টি গাছের বর্জ্য, এবং এই আঁশ কৃষকদের বাড়তি আয় দেয়। এফআইএলকের ২০২১ সালের গবেষণায় পিন্যাটেক্সের নমুনাটি ছিল সেলুলোজ আঁশের অবোনা পাত, যার ওপর পলিইউরেথেন অ্যাক্রিলেটের মতো পাতলা পলিমার প্রলেপ; প্রতিষ্ঠানটি পিএলএ প্রলেপের কথা প্রচার করলেও বিশ্লেষণে তাতে ‘উল্লেখযোগ্য পরিমাণ পিইউআর/অ্যাক্রিলেট’ পাওয়া যায়। পিএলএ ও রেজিনের কারণে উপকরণটি জৈবভাবে পচনশীল নয়।
উপকরণটি পরিচিত ব্র্যান্ডগুলোর কাছেও পৌঁছায়। ২০১৮ সালে জার্মান ফ্যাশন প্রতিষ্ঠান হুগো বস নীল, কালো, বাদামি ও হলুদ রঙে পিন্যাটেক্সের উপরিভাগওয়ালা পুরুষদের সীমিত সংস্করণের স্নিকার্স বাজারে আনে; প্রতিষ্ঠানটির দাবি ছিল, এই পাতা জন্মাতে বাড়তি কোনো সম্পদ লাগে না এবং তা কৃষক সম্প্রদায়কে বাড়তি আয় দেয়। ২০১৯ সালের ১১ এপ্রিল বাজারে আসা এইচঅ্যান্ডএমের ‘কনশাস এক্সক্লুসিভ’ কালেকশনে রুপালি পিন্যাটেক্স ও জ্যাকার্ড মিলিয়ে তৈরি একটি জ্যাকেট ছিল; একই কালেকশনে ছিল লেবুজাতীয় ফলের রসের উপজাত থেকে তৈরি রেশমসদৃশ কাপড় অরেঞ্জ ফাইবারের একটি টপ এবং শৈবাল দিয়ে তৈরি ব্লুম ফোমের একটি স্যান্ডেল।
জাগো নিউজের ফিচার প্রকাশের অনেক আগেই প্রতিষ্ঠানটি গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়েছিল। ফ্যাশনইউনাইটেড ২০২৫ সালের ২৯ অক্টোবর জানায়, মূল প্রতিষ্ঠান আনানাস আনাম ইউকে লিমিটেড ২০২৫ সালের ১৯ আগস্ট প্রশাসনের (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন) অধীনে যায়; এর স্প্যানিশ প্রতিষ্ঠান ৩২ লাখ ২০ হাজার ইউরোর পুঞ্জীভূত দেনা নিয়ে ২০২৫ সালের জুলাইয়ে বার্সেলোনার আদালতে সুরক্ষা চায়; আর প্রশাসকদের ২০২৫ সালের ২৫ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে বলা হয়, চালু প্রতিষ্ঠান হিসেবে উদ্ধার সম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে না এবং প্রতিষ্ঠানটি অবসায়িত হবে। ফল ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান ফ্রেশ ডেল মন্টে ও কোম্পানি ফ্রুইতিয়েরের সঙ্গে উদ্ধার-আলোচনাও সফল হয়নি। ফলে ফিচারে আনানাস আনামকে সক্রিয় উৎপাদক হিসেবে যে বর্ণনা ছিল, তা ২০২৬ সালের জুনে প্রতিষ্ঠানটির প্রকৃত অবস্থার সঙ্গে মেলে না।

আপেল ও আঙুরের পোমাস: অ্যাপলস্কিন, আপিল ও ভেজিয়া
ফিচারে বলা হয়, আপেলের বর্জ্য থেকে চামড়াসদৃশ উপকরণ প্রথম তৈরি করে ইতালির প্রতিষ্ঠান ফ্রুমাত। ব্রিটিশ ডিজাইনার স্টেলা ম্যাককার্টনির নিজস্ব বিবরণ অনুযায়ী, উত্তর ইতালির বোলজানোভিত্তিক ফ্রুমাত রস ও জ্যামের জন্য চাষ করা আপেলের অবশিষ্ট শাঁস, খোসা ও বীজ সংগ্রহ করে শুকিয়ে গুঁড়া করে, আর ম্যাবেল ইন্ডাস্ট্রিজ সেই গুঁড়া দিয়ে তেলভিত্তিক কাঁচামালের একাংশ প্রতিস্থাপন করে, টেকসই করতে তার সঙ্গে পলিইউরেথেন মেশায় এবং ক্যানভাসের ওপর প্রলেপ দেয়। ম্যাবেল ও ফ্রুমাত ২০১৪ সাল থেকে উপকরণটি নিয়ে কাজ করছে, এবং ম্যাবেলের হিসাবে শুধু উত্তর ইতালিতেই বছরে প্রায় ৩০ হাজার টন এমন আপেল-বর্জ্য তৈরি হয়। উপকরণটি অ্যাপলস্কিন ও আপিল (Uppeal) নামে বিক্রি হয়েছে।
এফআইএলকের গবেষণাগার অ্যাপলস্কিনের নমুনায় পায় পাতলা ঘন পলিইউরেথেন স্তর এবং জৈব কণায় ভরা ফোমযুক্ত পলিইউরেথেন স্তর, যা পলিইউরেথেনে সিক্ত একটি কাপড়ের ভিত্তির ওপর বসানো। গবেষকদের ভাষায়, পলিইউরেথেনের একাংশ কৃষি-উপজাত দিয়ে প্রতিস্থাপিত হলেও ‘উপকরণের মূল অংশ পলিইউরেথেনই থেকে যায়’। ফিচারে বলা হয়েছিল, স্টেলা ম্যাককার্টনি আপেলের চামড়া দিয়ে হ্যান্ডব্যাগ ও স্নিকার্স দুটোই তৈরি করছে। ব্র্যান্ডটির প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায় ব্যাগ: ২০২৩ সালের শীতকালীন র্যাম্প কালেকশনে ছাপযুক্ত আপিল ‘অল্টার ক্রক’ ফিনিশে ফ্রেইম টোট, বাকেট ও শোল্ডার ব্যাগ, এবং এস-ওয়েভ ব্যাগেট ব্যাগ ও একটি ওয়ালেট ক্লাচে আপিলের ট্রিম। আপেলভিত্তিক কোনো স্নিকার্সের তথ্য নিশ্চিত করা যায়নি, তাই সে দাবি বাদ দেওয়া হয়েছে।

আঙুরভিত্তিক উপকরণ ভেজিয়া ২০১৬ সালে মিলানে প্রতিষ্ঠা করেন স্থপতি জানপিয়েরো তেসিতোরে ও রসায়নবিদ ফ্রানচেসকো মেরলিনো। ২০১৭ সালে প্রতিষ্ঠানটি এইচঅ্যান্ডএম ফাউন্ডেশনের গ্লোবাল চেঞ্জ অ্যাওয়ার্ডে প্রথম হয়, যার সঙ্গে ছিল ৩ লাখ ইউরো অনুদান ও এক বছরের অ্যাক্সেলারেটর কর্মসূচি। প্রতিষ্ঠানটি তাদের উপকরণকে আঙুরের মার্কের আঁশ ও তেল থেকে তৈরি বলে বর্ণনা করে। পরিবেশবিষয়ক সাময়িকী রিনিউয়েবল ম্যাটার ২০১৮ সালে জানায়, বিশ্বে বছরে প্রায় ২ হাজার ৬০০ কোটি লিটার ওয়াইন উৎপাদনে বিপুল পরিমাণ মার্ক তৈরি হয়, এবং বিশ্বের ওয়াইনের প্রায় ১৮ শতাংশ উৎপাদন করে ইতালি। এফআইএলকের গবেষণাগার ভেজিয়ার নমুনায় পায় সেলুলোজভিত্তিক কাপড়ের ভিত্তির ওপর পলিইউরেথেনের স্তর।
ফিচারে বলা হয়েছিল, এইচঅ্যান্ডএম তাদের কনশাস এক্সক্লুসিভ কালেকশনে ভেজিয়ার আঙুরভিত্তিক উপকরণ ব্যবহার করেছে। নথি বলছে ভিন্ন কথা: ২০১৯ সালের কনশাস এক্সক্লুসিভ কালেকশনে ব্যবহৃত হয় পিন্যাটেক্স, অরেঞ্জ ফাইবার ও ব্লুম ফোম; আর ভেজিয়া ব্যবহৃত হয় প্রাণী-অধিকার সংগঠন পেটার সঙ্গে তৈরি এইচঅ্যান্ডএমের ‘কো-এক্সিস্ট স্টোরি’ কালেকশনে, যা ২০২১ সালের ৪ নভেম্বর থেকে বিক্রি শুরু হয়; সেখানে এটি দিয়ে তৈরি হয় ছাপযুক্ত একটি ভেস্ট ও ট্রাউজার। এই প্রতিবেদনে সংশোধিত কালেকশনের নামই দেওয়া হলো।

আম, কমলা, নারকেল, ক্যাকটাস ও ছত্রাক
ফ্রুটলেদার রটারড্যাম শুরু করেন হুগো দে বুন ও কুন মেরকের্ক। ২০১৫ সালে একটি আর্ট একাডেমির শিক্ষার্থী থাকাকালে তাঁরা কাজটি শুরু করেন: রটারড্যামের এক বাজারের ফলের বর্জ্য থেকে রং তৈরির একটি ক্লাস-অ্যাসাইনমেন্টের পর অবশিষ্ট শুকনো মণ্ডে চামড়ার মতো বৈশিষ্ট্য দেখা দেয়। জাতিসংঘের আঞ্চলিক তথ্যকেন্দ্র (ইউএনআরআইসি) ২০২১ সালের নভেম্বরে জানায়, প্রতিষ্ঠানটি সপ্তাহে প্রায় ১ হাজার কেজি আম সংগ্রহ করছিল; নেদারল্যান্ডস বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আম আমদানিকারক এবং রটারড্যাম তার ট্রানজিট বন্দর; আর প্রতিষ্ঠাতাদের দাবি, তাঁদের পণ্য প্রচলিত চামড়ার চেয়ে কম দূষণ ও কম গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন ঘটায়। জাগো নিউজের ফিচারে পদ্ধতিটি বর্ণনা করা হয় এভাবে: বাতিল আমের খোসা ও শাঁস ব্লেন্ড করে পেস্ট বানানো, তা শুকিয়ে শিট তৈরি এবং শেষে পানিরোধী প্রলেপ দেওয়া।
ফিচারে উল্লেখিত লেবুজাতীয় ফলের উপকরণ ওহোস্কিন নিজেকে কমলা ও ক্যাকটাসের উপজাত থেকে তৈরি প্রথম পেটেন্টকৃত উপকরণ হিসেবে বর্ণনা করে, যা সিসিলির কমলা দিয়ে পুরোপুরি ইতালিতে তৈরি হয়; প্রতিষ্ঠানটি নিজেই জানায়, উপকরণটিতে জৈবভিত্তিক পলিমারের সঙ্গে পুনর্ব্যবহৃত পলিমার মেশানো থাকে। ফিচারের এই বক্তব্য যে এটি বিখ্যাত গাড়ির ইন্টেরিয়র ও ঘড়ির স্ট্র্যাপে ব্যবহৃত হচ্ছে, তা নিশ্চিত করা যায়নি এবং বাদ দেওয়া হয়েছে।
নারকেলভিত্তিক উপকরণ মালাই তৈরি করে মালাই বায়োমেটেরিয়ালস। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে ভারতের কেরালায় স্লোভাকিয়ার উপকরণ-নকশাবিদ জুজানা গোম্বোসোভা ও ভারতের পণ্য-নকশাবিদ ও প্রকৌশলী সুস্মিত সুশীলন এটি প্রতিষ্ঠা করেন, এবং এর বেশির ভাগ কাজ হয় কোচিতে। এর মূল উপকরণ ব্যাকটেরিয়াল সেলুলোজ, যা নারকেল প্রক্রিয়াজাতকরণ ইউনিট থেকে সংগৃহীত পরিপক্ব নারকেলের পানি গাঁজিয়ে তৈরি হয়। ব্যাকটেরিয়াল সেলুলোজ হলো চিনিসমৃদ্ধ তরলে বেড়ে ওঠা ব্যাকটেরিয়ার তৈরি সেলুলোজ; গবেষকেরা একে উদ্ভিজ্জ সেলুলোজের চেয়ে বিশুদ্ধ এবং এর উপাদানগত বৈশিষ্ট্য, কম অবকাঠামোগত চাহিদা ও জৈব পচনশীলতার কারণে চামড়ার সম্ভাবনাময় বিকল্প বলে বর্ণনা করেন। মালাই জানায়, তারা কেবল স্থানীয়ভাবে সংগৃহীত, জৈব পচনশীল ও অবিষাক্ত জৈবভিত্তিক উপকরণ নিয়ে কাজ করে; এটি প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব দাবি।
ফিচারে ব্যানানাটেক্সকে সুইজারল্যান্ড ও ভারতে ফেলে দেওয়া কলাগাছের কাণ্ড থেকে তৈরি চামড়া হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। এটি সংশোধন প্রয়োজন। ব্যানানাটেক্স চামড়া নয়, একটি ক্যানভাস কাপড়; জুরিখের ব্যাগ নির্মাতা কিউস্টিয়ন তাইওয়ানের তাইনানের একটি সুতা কাটার প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তিন বছর ধরে এটি তৈরি করে। এটি তৈরি হয় আবাকা (Musa textilis) গাছের আঁশ থেকে; আবাকা ফিলিপাইনের স্থানীয় একটি কলা প্রজাতি, যা ফলের জন্য নয়, আঁশের জন্য চাষ হয়, এবং ব্যানানাটেক্সের গাছ চাষ হয় ফিলিপাইনের কাতানদুয়ানেস প্রদেশে। ম্যানিলা হেম্প নামেও পরিচিত আবাকার আঁশ বের করা হয় গাছের নকল কাণ্ড গঠনকারী পাতার খোল থেকে, এবং তা দিয়ে দড়ি, টি-ব্যাগ ও ব্যাংক নোটের কাগজ তৈরি হয়। ব্যানানাটেক্স মৌমাছির মোমের পানিরোধী প্রলেপসহ বা প্রলেপ ছাড়া বিক্রি হয়।
ফিচারের আরও দুটি উপকরণ ফল থেকে তৈরি নয়। ডেজার্তো তৈরি হয় নোপাল বা ফণীমনসাজাতীয় প্রিকলি পিয়ার ক্যাকটাস থেকে, মেক্সিকোর উদ্যোক্তা আদ্রিয়ান লোপেজ ভেলার্দে ও মার্তে কাজারেসের হাতে। ২০২১ সালের এপ্রিলে কার্ল লাগারফেল্ড মডেল অ্যাম্বার ভ্যালেটার সঙ্গে একটি কালেকশন আনে, যেখানে তাদের কে/কুশন ব্যাগ ডেজার্তোর ক্যাকটাস লেদারে নতুন করে তৈরি হয়; একই মাসে ফসিল ডেজার্তো দিয়ে তৈরি কিয়ার টোট ব্যাগ বাজারে আনে। ফিচারে বলা হয়েছিল ফসিল ঘড়ির স্ট্র্যাপে ক্যাকটাস লেদার ব্যবহার করছে, কিন্তু টোটের সঙ্গে আনা সৌরচালিত ঘড়ির স্ট্র্যাপ ছিল পুনর্ব্যবহৃত পিইটি প্লাস্টিকের, তাই স্ট্র্যাপের দাবিটি সংশোধন করা হলো। এফআইএলকের গবেষণায় ডেজার্তোর নমুনা ছিল জৈব কণায় ভরা, পলিইউরেথেন প্রলেপযুক্ত পলিয়েস্টার কাপড়।
ফিচারে উল্লেখিত হার্মিসের পণ্যটি ছিল তাদের ভিক্টোরিয়া ট্রাভেল ব্যাগের একটি সংস্করণ, যা তৈরি সিলভানিয়া নামের উপকরণে; মার্কিন প্রতিষ্ঠান মাইকোওয়ার্কস ছত্রাকের মাইসেলিয়াম থেকে এটি জন্মায় এবং ফ্রান্সে হার্মিসের ট্যানাররা তা প্রক্রিয়াজাত করেন, ফরচুন সাময়িকী ২০২২ সালের নভেম্বরে এমনটি জানায়। ফিচার প্রকাশের সময় নাগাদ মাইকোওয়ার্কস পথ বদলেছিল: ব্যবসা-বিষয়ক প্রকাশনা জাস্ট স্টাইল ২০২৫ সালের ২৩ অক্টোবর জানায়, প্রতিষ্ঠানটি ২০২৩ সালে চালু হওয়া সাউথ ক্যারোলাইনার কারখানা বন্ধ করবে, নিজে মাইসেলিয়াম জন্মানো বন্ধ করে তা সংগ্রহ ও প্রক্রিয়াজাত করার দিকে যাবে, আর এর কারণ হিসেবে উৎপাদনের পরিসর ও খরচের সমস্যার কথা বলা হয়।
স্বাধীন গবেষণাগারের পরীক্ষায় যা পাওয়া গেছে
এফআইএলকে ফ্রাইবার্গ ইনস্টিটিউট জুতার উপরিভাগের একটি চামড়া, পলিইউরেথেন প্রলেপযুক্ত একটি প্রচলিত কৃত্রিম চামড়া এবং ডেজার্তো, পিন্যাটেক্স, অ্যাপলস্কিন ও ভেজিয়াসহ নয়টি বিকল্প উপকরণ পরীক্ষা করে। এতে অণুবীক্ষণ, ইনফ্রারেড স্পেকট্রোস্কপি এবং ছিঁড়ে যাওয়ার শক্তি, বারবার ভাঁজ সহ্য করা, জলীয় বাষ্প চলাচল ও পানি শোষণের প্রমিত ভৌত পরীক্ষা ব্যবহার করা হয়। মূল ফলাফল ছিল, কোনো বিকল্পই চামড়ার সার্বিক কার্যক্ষমতার সমান হয়নি, যদিও কিছু উপকরণ নির্দিষ্ট কিছু বৈশিষ্ট্যে উচ্চ মান দেখিয়েছে। গবেষকদের মতে, চামড়ার প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা স্তরবিন্যাস, যার ওপরের তল খুব ঘন এবং পুরুত্বজুড়ে ঘনত্ব ধাপে ধাপে বদলায়, তা এখনো কৃত্রিম বা জৈবভিত্তিক কোনো উপকরণে পুনর্নির্মাণ করা যায়নি।
গবেষণায় দেখা যায়, বেশির ভাগ বিকল্প উপকরণ জলীয় বাষ্প প্রায় চলাচল করতে দেয় না; জুতায় ব্যবহারে এতে পা ঘামবে ও আরাম কমবে, যদিও ব্যাগ বা রেইনকোটে তা বৃষ্টি ঠেকাতে কাজে দেবে। উপসংহারে বলা হয়, কৃত্রিম চামড়ার পলিমার স্তরে কৃষি-উপজাত যোগ করলে জৈবভিত্তিক উপাদানের অংশ বাড়ে, কিন্তু তুলনামূলক উপকরণের চেয়ে কোনো ভৌত সুবিধা মাপা যায় না, এবং পরিবেশগত সুফল বুঝতে যথাযথ জীবনচক্র বিশ্লেষণ দরকার। ক্ষতিকর পদার্থের পরীক্ষায় কয়েকটি নমুনায় নিষেধাজ্ঞাভুক্ত যৌগের চিহ্নও মেলে, যেমন অ্যাপলস্কিনে বিউটানোন অক্সিম। এসব ফলাফল ফিচারের এই বক্তব্যকে সীমিত করে যে ফলের চামড়ায় কোনো বিষাক্ত রাসায়নিক লাগে না এবং তা প্লাস্টিকমুক্ত: কিছু উপকরণের ক্ষেত্রে, যেমন ব্যাকটেরিয়াল সেলুলোজের পাতের ক্ষেত্রে, তা খাটে; কিন্তু ২০২১ সালে পরীক্ষিত সবচেয়ে বেশি বিক্রীত ফলভিত্তিক উপকরণগুলো পলিইউরেথেন বা অন্য পলিমারের প্রলেপের ওপর নির্ভরশীল ছিল।
বাংলাদেশের চামড়াশিল্প ও ট্যানারি দূষণ
বাংলাদেশের পক্ষে ফিচারের যুক্তির একটি ভিত্তি ছিল ক্রোমিয়াম লবণ দিয়ে পশুর চামড়া প্রক্রিয়াজাত (ট্যানিং) করার দূষণ; উনিশ শতকে উদ্ভাবিত এই পদ্ধতি উদ্ভিজ্জ ট্যানিন দিয়ে ট্যানিংয়ের বিকল্প হিসেবে আসে। কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশের ট্যানারিগুলো কেন্দ্রীভূত ছিল ঢাকার হাজারীবাগে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ২০১২ সালের অক্টোবরে জানায়, দেশের ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ ট্যানারি ছিল ওই এলাকায়, তাদের হিসাবে প্রায় ১৫০টি; ২০০৩ সালে সরকার ও ট্যানারি সমিতিগুলোর দেওয়া তথ্যমতে এগুলো থেকে দিনে প্রায় ২১ হাজার ৬০০ ঘনমিটার বিপজ্জনক তরল বর্জ্য বের হতো; আর পরিবেশ অধিদপ্তরের এক নমুনা পরীক্ষায় বর্জ্য পানিতে প্রতি লিটারে ৩ হাজার ৩২৪ ও ২ হাজার ৫৫৮ মিলিগ্রাম ক্রোমিয়াম পাওয়া যায়, যেখানে মানমাত্রা প্রতি লিটারে ২ মিলিগ্রাম।
পরে ট্যানারিগুলো সাভারের হেমায়েতপুরে সাভার চামড়াশিল্প নগরীতে সরিয়ে নেওয়া হয়, কিন্তু সমস্যা সেখানেই শেষ হয়নি। প্রথম আলো ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে জানায়, স্থানান্তরিত কারখানাগুলো থেকে উচ্চমাত্রার ক্রোমিয়াম ও লবণযুক্ত অপরিশোধিত তরল ও কঠিন বর্জ্য ধলেশ্বরী নদীর পানির মান নষ্ট করছে। দ্য ডেইলি স্টার ২০২২ সালের জুলাইয়ে জানায়, শিল্পনগরীতে ১৩৪টি ট্যানারি চালু ছিল, যা গড়তে ১৮ বছর ও ১ হাজার ১৫ কোটি টাকা লেগেছে; ৫২১ কোটি টাকায় নির্মিত কেন্দ্রীয় বর্জ্য পরিশোধনাগার (সিইটিপি) দিনে ২৫ হাজার ঘনমিটার বর্জ্য পরিশোধন করতে পারে, অথচ ঈদুল আজহার সময় চাহিদা বেড়ে দাঁড়ায় ৪২ থেকে ৪৫ হাজার ঘনমিটারে; ক্রোমিয়াম পুনরুদ্ধার ইউনিট দিনে ১ হাজার ৫০ ঘনমিটার সামলাতে পারলেও পেত প্রায় ৫ হাজার ঘনমিটার; আর বাংলাদেশি রপ্তানিকারকেরা প্রতিযোগীদের চেয়ে ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম দাম পেতেন, যেখানে দেশের ট্যানারিগুলোর চামড়া উৎপাদকদের আন্তর্জাতিক সনদদাতা সংস্থা লেদার ওয়ার্কিং গ্রুপের সনদ ছিল না।
খাতটি এখনো বড় রপ্তানি আয়ের উৎস। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য উদ্ধৃত করে দ্য ডেইলি স্টার ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জানায়, চামড়া, চামড়াজাত পণ্য ও জুতা রপ্তানি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল প্রায় ১১৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রায় ১০৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার, আর সরকারি ও খাতভিত্তিক পর্যালোচনা অনুযায়ী চামড়া ও জুতা খাতে ৮ থেকে ১০ লাখ মানুষ কাজ করেন। একই প্রতিবেদনে বলা হয়, সাভারের পরিশোধনাগার ঠিকমতো কাজ না করলে ট্যানারিগুলো ক্রেতাদের পরিবেশগত যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হতে পারে না, ফলে বেশি দামের অর্ডার পাওয়ার সুযোগ সীমিত হয়।
বাংলাদেশের ফল ও কাঁচামালের প্রশ্ন
ফিচারে বলা হয়, বাংলাদেশ আম, কাঁঠাল ও আনারসের বড় উৎপাদক দেশগুলোর একটি। বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, আনারস ভারতের আসাম ও মণিপুর হয়ে বাংলাদেশে আসে এবং বিশ শতকের শুরুতে সিলেটে প্রথম চাষ হয়; এখন প্রায় সব জেলায় এর চাষ হয়, তবে সবচেয়ে বেশি জমি সিলেট, টাঙ্গাইল, ঢাকা ও রাঙামাটিতে, আর প্রধান জাত জায়ান্ট কিউ (স্থানীয় নাম ক্যালেন্ডার), হানি কুইন (জলডুবি) ও রেড স্প্যানিশ (ঘোড়াশাল)। ঢাকা ট্রিবিউন ২০২৪ সালের অক্টোবরে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তাদের বরাতে জানায়, টাঙ্গাইল জেলায় ৭ হাজার ৬০০ হেক্টরে আনারস চাষ হয়, যার ৬ হাজার ৬৩০ হেক্টর মধুপুর উপজেলায়, এবং বছরে উৎপাদন প্রায় ২ লাখ ৭৫ হাজার টন; ২০২৪ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর মধুপুরের আনারস ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যের স্বীকৃতি পায়। একই প্রতিবেদন জানায়, এলাকায় আনারস চাষের শুরু ১৯৪২ সালে, যখন ইদিলপুর গ্রামের গারো নারী মিজি সাংমা মেঘালয় থেকে ৭৫০টি ক্যালেন্ডার জাতের চারা আনেন।
আম চাষ হয় আরও অনেক বড় পরিসরে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে দ্য ডেইলি স্টার ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে জানায়, বাংলাদেশে বছরে ২৪ থেকে ২৫ লাখ টন আম উৎপাদিত হয়, ২৩টি জেলায় বাণিজ্যিকভাবে ৭২টি জাতের চাষ হয়, আর ২০২৫ মৌসুমে রপ্তানি হয় ২ হাজার ১৯৪ টন। কাঁঠাল দেশের জাতীয় ফল; বাংলাপিডিয়া জানায়, এর খোসা ও পাতা এরই মধ্যে গবাদিপশুকে খাওয়ানো হয়। অর্থাৎ সব ফলের বর্জ্যই অব্যবহৃত পড়ে থাকে না, এবং অবশেষ থেকে উপকরণ তৈরির যেকোনো পরিকল্পনাকে এমন প্রচলিত ব্যবহারের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হবে।

মধুপুরে আনারসের পাতা এরই মধ্যে কাজে লাগছে
ফিচার প্রকাশের সময় বাংলাদেশে আনারস পাতার একটি ছোট শিল্প আগেই গড়ে উঠেছিল। ঢাকা ট্রিবিউন ২০২৪ সালের অক্টোবরে জানায়, মধুপুরে পাতাগুলো আগে খেতে পচতে দেওয়া হতো বা পশুখাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত হতো; সেখানে মেনোনাইট সেন্ট্রাল কমিটি বাংলাদেশ জলছত্র বাজারে সুতা তৈরির একটি প্রকল্প শুরু করে, আর বুরো বাংলাদেশ ২০১৭ সালে জাঙ্গালিয়া গ্রামে একটি হস্তশিল্প কারখানা স্থাপন করে। যন্ত্রে আঁশ বের করার পর শ্রমিকেরা তা ঘষে পরিষ্কার করেন, ধুয়ে রোদে শুকান; সুতার অনুপযোগী পাতা দিয়ে তৈরি হয় বাক্স, মাদুর, দেয়ালসজ্জা, চাবির রিং ও টিস্যু পেপার।
ওই প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রতি ১ হাজার কেজি পাতা থেকে প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ কেজি আঁশ পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে উদ্ধৃত এক কৃষক জানান, পূর্ণবয়স্ক প্রতিটি গাছে প্রায় ৩৬টি পাতা থাকে, যার ১৫ থেকে ২০টি ফল তোলার পর কেটে ফেলা হয় এবং এখন সেগুলো বিক্রি করে বাড়তি আয় হয়। বুরো বাংলাদেশের এক কর্মকর্তা জানান, কারখানায় ৭০ জন কাজ করেন, প্রতিবেদন অনুযায়ী যাঁদের বেশির ভাগ প্রান্তিক পরিবারের নারী, এবং এ পর্যন্ত প্রায় ৪০০ শ্রমিক প্রশিক্ষণ পেয়েছেন; তবে মজুত বেশি থাকায় উৎপাদন কিছুদিনের জন্য ধীর হয়েছে।
বাংলাদেশি গবেষকেরা এই আঁশ থেকে সুতা কাটার উপায়ও পরীক্ষা করেছেন। ২০২১ সালের আগস্টে হেলিয়ন সাময়িকীতে প্রকাশিত এক গবেষণায় খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর) ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের গবেষকেরা প্রচলিত রিং ও পাট স্পিনিং ফ্রেমে ১০০ শতাংশ আনারস পাতার আঁশের ১২১ ও ১৩৮ টেক্সের সুতা তৈরি করেন, কটন স্পিনিং পদ্ধতিতে ১০ ও ২০ শতাংশ আনারস আঁশ মেশানো সুতা কাটেন, এবং সেগুলো দিয়ে প্লেইন ও টুইল কাপড় বোনেন।
বাংলাদেশের পক্ষে ফিচারের যুক্তি
জাগো নিউজের ফিচারের লেখক বাংলাদেশ কীভাবে উপকৃত হতে পারে তার চারটি দিক তুলে ধরেন; এখানে সেগুলো লেখকের যুক্তি হিসেবেই দেওয়া হলো:
- রপ্তানির নতুন খাত: দেশীয় প্রযুক্তি বা যৌথ উদ্যোগে ফলের খোসা ও বর্জ্য থেকে চামড়ার বিকল্প তৈরি করতে পারলে আন্তর্জাতিক বাজারে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ পণ্যের নতুন খাত তৈরি হতে পারে।
- দূষণ কমানো: লেখক পশুর চামড়া ট্যানিংয়ের ক্রোমিয়াম ও রাসায়নিক নিঃসরণের সঙ্গে ফলভিত্তিক উপকরণের তুলনা করেন; এফআইএলকের পরীক্ষা দেখায়, সুফল কতটা হবে তা নির্ভর করে নির্দিষ্ট উপকরণে কতটা কৃত্রিম প্রলেপ আছে তার ওপর।
- কৃষকের বাড়তি আয়: ফল তোলার পর পড়ে থাকা আনারসের পাতা ও কলাগাছ কাঁচামাল হিসেবে বিক্রি করা যেতে পারে, মধুপুরের পাতার ব্যবসা যার সূচনা এরই মধ্যে দেখিয়েছে।
- পোশাকশিল্পের উপকরণ: লেখকের মতে, এমন উপকরণে তৈরি লেবেল, জ্যাকেট ও অনুষঙ্গ টেকসই পণ্য খোঁজা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে বাংলাদেশি পোশাকের মূল্য বাড়াতে পারে।
লেখকের উপসংহার ছিল, বাংলাদেশ যদি এসব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ করে এবং তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য পথ খুলে দেয়, তবে টেকসই ফ্যাশনের বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারবে। ফিচারে উল্লেখিত প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতা দেখায় এমন উদ্যোগকে কোন বাস্তবতার মুখোমুখি হতে হবে: ২০২৫ সালে আনানাস আনামের দেউলিয়াত্ব এবং একই বছর মাইকোওয়ার্কসের কারখানা বন্ধ হওয়া দেখিয়েছে, শিল্প-পরিসরে ও প্রতিযোগিতামূলক খরচে খামারের অবশেষকে চামড়ার বিকল্পে রূপ দেওয়া সবচেয়ে পরিচিত পথিকৃৎদের জন্যও কঠিন প্রমাণিত হয়েছে।
ছবি: Piñatex / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, এফআইএলকে ফ্রাইবার্গ ইনস্টিটিউট (কোটিংস, ২০২১), ফ্যাশনইউনাইটেড, ভেগনিউজ, এইচঅ্যান্ডএম গ্রুপ, স্টেলা ম্যাককার্টনি, রিনিউয়েবল ম্যাটার, পেটা, জাতিসংঘের আঞ্চলিক তথ্যকেন্দ্র (ইউএনআরআইসি), মালাই বায়োমেটেরিয়ালস, ওহোস্কিন, ব্যানানাটেক্স, গ্রিন কুইন, ফরচুন, জাস্ট স্টাইল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, দ্য ডেইলি স্টার, প্রথম আলো, ঢাকা ট্রিবিউন, বাংলাপিডিয়া, হেলিয়ন, উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)