সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

কাজুবাদামে সাফল্যের গল্প

এক দশক আগেও কাঁচা কাজুবাদাম ছিল ফেলনা। পাহাড়িদের কেউ কেউ তা কুড়িয়ে খোসা ছাড়িয়ে বিক্রি করত। ২০১০ সালে বান্দরবানে বেড়াতে গিয়ে এই বাদাম দেখে অবাক হন শাকিল আহমেদ। বাগান থেকে কুড

এক দশক আগেও কাঁচা কাজুবাদাম ছিল ফেলনা। পাহাড়িদের কেউ কেউ তা কুড়িয়ে খোসা ছাড়িয়ে বিক্রি করত। ২০১০ সালে বান্দরবানে বেড়াতে গিয়ে এই বাদাম দেখে অবাক হন শাকিল আহমেদ। বাগান থেকে কুড়িয়ে নেওয়ার খরচ দিয়ে দুই ট্রাক কাঁচা বাদাম চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন। পরে সিঙ্গাপুরে পরিচিত একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সহায়তায় রপ্তানিও করেন ভারতে। প্রথম চালান হাতে পেয়ে বিদেশি ক্রেতা সাফ জানিয়ে দেন, ‘বাংলাদেশ থেকে কাজুবাদাম রপ্তানি হবে না। এগুলো রপ্তানির কথা ভুলে যাও।’ ব্যর্থতার এমন কাহিনি দিয়ে শুরু হয়েছিল দেশের প্রথম কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাতের সমন্বিত কারখানা গড়ে তোলার পেছনের গল্প।

২০১৬ সালের জুনে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার ডেইলপাড়ায় ‘গ্রিনগ্রেইন কেশিও প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রি’ নামে কারখানা গড়ে তোলেন শাকিল আহমেদ। সঙ্গে ছিলেন সহ-উদ্যোক্তা ইকরাম মোরশেদ। শুরুতে মাত্র ১০ জন কর্মী নিয়ে কাজ শুরু করেন। এখন কারখানায় কাজ করছেন ৬৫ জন, যাঁদের ৫৫ জনই নারী কর্মী। উৎপাদন বাড়ার সঙ্গে এই সংখ্যাও বাড়ছে। প্রতিদিন এই কারখানা থেকে বড় বড় হোটেল-রেস্তোরাঁয় যাচ্ছে প্রক্রিয়াজাত কাজুবাদাম। দেশ থেকে প্রথমবারের মতো রপ্তানিও হচ্ছে এই কারখানার বাদাম।

কারখানার উদ্যোক্তা শাকিল আহমেদ প্রথম আলোকে জানান, কাজুবাদাম প্রক্রিয়াজাত করার বড় কারখানা হতে পারে, তা কারও ধারণায় ছিল না। পাগলামি বলে উড়িয়ে দিয়েছিল অনেকে। কারখানা করতে গিয়ে বারবার হোঁচট খেয়েছেন। দমে যাননি। এই উদ্যোগের কথা জেনে কৃষি মন্ত্রণালয়ও এখন সহযোগিতা করছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে বিলিয়ন ডলারের রপ্তানির স্বপ্ন পূরণ হতে পারে এই কাজুবাদামে। কাজুবাদামের কারখানা শ্রমনির্ভর হওয়ায় কর্মসংস্থানেরও সুযোগ আছে। ভিয়েতনামের চেয়ে এখানে শ্রমিকদের মজুরি কম।

কাঁচা বাদাম রপ্তানি দিয়ে শুরু

উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে সুইডেনের সেন্টন এবি কোম্পানির সফটওয়্যার ডেভেলপারের চাকরি ছেড়েছেন তিনি। বিশ্বখ্যাত ভোগ্যপণ্য বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর বাংলাদেশের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেও মন বসছিল না তাঁর। আবার রপ্তানির শুরুতেও ছিল ব্যর্থতার গল্প। সেখান থেকে কীভাবে সাফল্যের দেখা মিলল? চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় ডেইলপাড়ার কারখানায় যাওয়ার পথে গাড়িতে বসে গল্প শোনালেন শাকিল আহমেদ। বললেন, ‘প্রথমবার হতাশ হয়ে গেলাম। দমে না গিয়ে কাজুবাদামের বাণিজ্য নিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। কারখানার সহ-উদ্যোক্তা ইকরাম মোরশেদ ২০১৪ সালে পাহাড় থেকে আনা কাঁচা কাজুবাদাম বিক্রি হচ্ছে বলে খবর দেন। তা দেখে কিনে নিই। এবার আবার ভারতে রপ্তানির জন্য সিঙ্গাপুরের ওই পরিচিত ব্যবসায়ীর দ্বারস্থ হই। বিনা মূল্যে দিলেও তারা নেবে না বলে জানিয়ে দেয়। রাজি করাতে না পেরে অন্তত চট্টগ্রামে এসে সরেজমিনে দেখার অনুরোধ জানাই।’

তাঁর পীড়াপীড়িতে শেষ পর্যন্ত ভারতের কেরালার কল্যাম থেকে কাজুবাদাম বিশেষজ্ঞ নন্দকুমার এক দিনের জন্য চট্টগ্রামে আসেন। মাঝিরঘাটে গুদামে একটানা তিন ঘণ্টা কাঁচা কাজুবাদাম পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন। পরীক্ষার পর হাততালি দিয়ে নন্দকুমার বলেন, ‘কিছুটা হবে এবার।’ তখনই নন্দকুমারের পরামর্শ অনুযায়ী বড় ও ছোট দানা আলাদা করা হলো। বড় দানা ভিয়েতনামে ও ছোট দানা ভারতে রপ্তানির জন্য ঠিক হলো। কিন্তু সমস্যা বাধল, এই বাদামও দুই দেশের কোনো ক্রেতাই নিতে চায় না।

শেষ পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের প্রতিষ্ঠানটি ঝুঁকি নেয়। বাদাম পাওয়ার পর ভিয়েতনাম থেকে প্রথম সুখবর এল। এরপরই পাহাড় থেকে কাজুবাদাম কিনে রপ্তানি করতে থাকেন তিনি। ২০১৭ সালের জুন পর্যন্ত বাংলাদেশ থেকে রপ্তানি হওয়া কাঁচা কাজুবাদামের ৭৫ শতাংশ বা ১২ লাখ ২৩ হাজার ডলার রপ্তানি আয় আসে তাঁর হাত ধরে।

প্রতিটি বাদামে হাতের ছোঁয়া

গল্প শুনতে শুনতে গাড়ি এসে থামে পতেঙ্গার ডেইলপাড়ায় গ্রিনগ্রেইন কেশিও প্রসেসিং ইন্ডাস্ট্রিজের সামনে। সেখানে ভেতরে চলছে কর্মযজ্ঞ। প্রথম শেডে মেশিনে ছোট-বড় দানা আলাদা করে পানির বাষ্পে সেদ্ধ করা হচ্ছে। ঠান্ডা হওয়ার পর কারখানার আরেক শেডে নারী কর্মীরা একমনে বাদাম প্রক্রিয়াজাতের কাজ করছেন। প্রথম সারিতে একদল নারী কর্মী হস্তচালিত যন্ত্রে প্রতিটি বাদামের খোসা ভেঙে চলেছেন। এই খোসা টেবিলের ওপর আরেক দলের সামনে রাখা হচ্ছে। সেখানে বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে খোসা ছাড়িয়ে শুধু বাদাম আলাদা করা হচ্ছে। আলাদা করা বাদামের ওপর তখনো ডোরাকাটা হালকা আবরণ। এই হালকা আবরণ আলাদা করার জন্য আবার বিশেষায়িত যন্ত্রে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় রাখা হচ্ছে। পরের ধাপে আবার কর্মীরা হাতে এই আবরণ ছাড়িয়ে নিচ্ছেন। এরপর সাদা কাজুবাদাম আলাদা করে প্যাকেটজাত করা হচ্ছে।

কারখানার নারী কর্মী মৌসুমী আক্তার বলেন, ‘২০১৬ সাল থেকেই কাজ করছি। কাজের পরিবেশ ভালো।’ আরেক নারী কর্মী নাসরিন বেগম জানান, এখানে কাজে খুব বেশি চাপ নেই।কারখানার সহ-উদ্যোক্তা ইকরাম মোরশেদ বললেন, কারখানায় শুধু বাদামই নয়, বাদামের খোসা প্রক্রিয়াজাত করে তেল বের করার যন্ত্রপাতিও আনা হয়েছে। তাতে যে তেল পাওয়া যাবে, তা এনামেল পেইন্টে ব্যবহার করা যায়। রপ্তানিরও সুযোগ আছে। আবার তেল পাওয়ার পর খোসার গুঁড়া জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। এখন বাদামের কোনো কিছুই আর ফেলনা নয়।

প্রথম আলোসূত্র

এগ্রোবিজ

সম্পর্কিত খবর

ফসল

ইংল্যান্ডে যবের ফলন ১৪ বছরে সর্বনিম্ন, গম সামান্য বেশি

যুক্তরাজ্যের কৃষি মন্ত্রণালয় ডেফরার প্রাথমিক হিসাবে ইংল্যান্ডে যব উৎপাদন ১১ শতাংশ কমে ৩৭ লাখ টন হয়েছে, গম ০ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়ে ১ কোটি ৮ লাখ টন; গমের তুলনায় পশুখাদ্যের যব বিক্রি হচ্ছে অনেক কম দামে।

Farmers Weekly১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

নিজস্ব কারখানা ছেড়ে চুক্তিভিত্তিক ও যৌথ কারখানায় ঝুঁকছে উদ্ভিজ্জ মাংস

চাহিদা অনিশ্চিত থাকায় উদ্ভিজ্জ মাংসের ব্র্যান্ডগুলো নিজস্ব কারখানার বদলে চুক্তিভিত্তিক উৎপাদন, যৌথ অবকাঠামো ও মাংস প্রক্রিয়াকরণের পুরোনো যন্ত্রপাতির দিকে ঝুঁকছে বলে জানিয়েছেন শিল্পসংশ্লিষ্টরা।

FoodNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
এগ্রোবিজ

সারের দাম দেখার প্ল্যাটফর্ম ক্লিয়ারকস্টে বিনিয়োগ, সালফার সংকটে কমছে ফসফরাস

কৃষকদের সারের দাম ও চালান দেখার এবং সরবরাহ চুক্তির সুযোগ দেওয়া কানাডার স্টার্টআপ ক্লিয়ারকস্ট সিরিজ এ তহবিল পেয়েছে; ২০২৭ সালের শুরুতে উত্তর আমেরিকাজুড়ে নতুন প্ল্যাটফর্ম চালু করবে তারা।

AgNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)