শেরপুরের শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলায় ২০২৬ সালের ১৪ মার্চ, শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে হঠাৎ শিলাবৃষ্টি হয়। আকস্মিক এই শিলাবৃষ্টি ও দমকা হাওয়ায় ধান ও কলাচাষিরা ফসলের ক্ষতির আশঙ্কা করছিলেন। জাগো নিউজের সেই রাতের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাতের অন্ধকারে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি; প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ তথ্য সংগ্রহ শুরু করেছিল।
ইফতারের পর কালো মেঘ, তারপর শিল
স্থানীয়রা জানান, ইফতারের পর থেকেই আকাশ কালো মেঘে ছেয়ে যায়। রাত ৮টার দিকে দমকা হাওয়া আর বৃষ্টি শুরু হয়, এরপর হঠাৎ কিছু এলাকায় তীব্র শিলাবৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, ঝিনাইগাতীতে তুলনামূলক বেশি শিল পড়েছে; বিশেষ করে ঝিনাইগাতী সদর বাজার, ধানশাইল ও মালিঝিকান্দা ইউনিয়নে প্রচুর শিল পড়তে দেখা যায়। শ্রীবরদী উপজেলার গোসাইপুর ও খড়িয়া কাজির চর ইউনিয়নেও শিলাবৃষ্টি হয়।
ভয়েজ অব ঝিনাইগাতীর আহ্বায়ক জাহিদুল হক মনির জাগো নিউজকে বলেন, আকস্মিক শিলাবৃষ্টিতে অনেকের ঘরের টিন ছিদ্র হয়ে গেছে এবং কৃষকদের ধানের জমি ও বিভিন্ন সবজিক্ষেতেও ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তিনি জানান, রাতের অন্ধকারে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি তাৎক্ষণিকভাবে নিরূপণ করা যায়নি এবং কেউ আহত হননি।
ঝিনাইগাতী সদর বাজারের ব্যবসায়ী সোহেল রানা বলেন, বৃষ্টির সঙ্গে এমন শিলাবৃষ্টি তিনি গত ১৫-২০ বছরে দেখেননি। ধানশাইল ইউনিয়নের রাজীব কুমার রায় জানান, তাঁদের ইউনিয়নে ব্যাপক শিলাবৃষ্টি হয়েছে, শিলের আকার ছিল বেশ বড় এবং কয়েকজনের টিনের ঘরের চাল ছিদ্র হয়ে গেছে। খোঁজ নিয়ে তিনি ধান ও কলাচাষিদের ক্ষতির কথা শুনেছেন বলে জানান।

প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ যা বলেছিল
ঝিনাইগাতী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল আমিন বলেন, ঝড়-বৃষ্টির সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয়েছে এবং প্রশাসন তথ্য সংগ্রহ করছে। কৃষিখাতের ক্ষতির বিষয়টি কৃষি বিভাগ দেখবে; কৃষকদের ক্ষতি হয়ে থাকলে কৃষি প্রণোদনার মাধ্যমে সহায়তার সুযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ইউএনও আরও বলেন, যাঁদের ঘরবাড়ি বা টিনের চাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তাঁরা উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে এবং তহবিল থাকলে টিনসহ প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
জেলা কৃষি বিভাগের উপপরিচালক সাখওয়াত হোসেন জানান, রাতেই বিভিন্ন এলাকা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছিল। ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র জানতে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও মাঠপর্যায়ের কর্মীদের মাধ্যমে খোঁজ নেওয়া হচ্ছিল।
সীমান্তঘেঁষা দুই উপজেলা, যেখানে ধান ও কলা প্রধান
বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, শেরপুর জেলার উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্য। ঝিনাইগাতী উপজেলার আয়তন ২৪২.০৭ বর্গকিলোমিটার, শ্রীবরদীর ২৭০.৩৪ বর্গকিলোমিটার; দুই উপজেলারই উত্তরে মেঘালয়। ঝিনাইগাতীর প্রধান ফসল ধান, গম, আলু ও সবজি, প্রধান ফল কাঁঠাল, কলা ও পেঁপে, আর প্রধান রপ্তানিপণ্যের মধ্যে আছে ধান, কলা ও সবজি। শ্রীবরদীর প্রধান রপ্তানিপণ্যও চাল, ধান, কলা ও সবজি। তাই এই এলাকায় শিলাবৃষ্টি হলে ধান ও কলাচাষিদের দুশ্চিন্তাই সবচেয়ে বেশি।
বাংলাপিডিয়ার ব্যাখ্যায়, গরম ও আর্দ্র দিনে উষ্ণ ভেজা বাতাস দ্রুত ওপরে উঠে ঠান্ডা হয়ে বজ্রমেঘ তৈরি করে, যা থেকে বজ্রঝড়ের সঙ্গে ভারী বৃষ্টি বা শিলাবৃষ্টি হয়। বাংলাদেশে মার্চ-এপ্রিলে সন্ধ্যার দিকে এমন তীব্র ঝড় হয়, যা কালবৈশাখী নামে পরিচিত।
মার্চের এই সময়ে মাঠে থাকে বোরো ধান। কৃষি তথ্য সার্ভিসে ২০২১ সালে প্রকাশিত বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বিজ্ঞানীদের এক নিবন্ধ অনুযায়ী, বোরো চারা রোপণের উপযুক্ত সময় সাধারণত ১৫ ডিসেম্বর থেকে ১৫ জানুয়ারি, এবং দেশের মোট ধান উৎপাদনের ৫৮ ভাগ আসে বোরো মৌসুম থেকে। ক্ষতির খবর জানাতে ও পরামর্শের জন্য কৃষকেরা উপজেলা কৃষি অফিসে যোগাযোগ করতে পারেন।

ছবি: Ayman Nakib Badhan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাপিডিয়া (শেরপুর জেলা, ঝিনাইগাতী উপজেলা, শ্রীবরদী উপজেলা, বজ্রঝড়), কৃষি তথ্য সার্ভিস (এআইএস) ও বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি)




মন্তব্য
(০)