সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ‘জায়েদ খান’ নামের ষাঁড়

২০২৬ সালের এপ্রিলে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার দৌলজোরে আইনজীবী মজমুল প্রামাণিকের খামারে কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা বার্মা জাতের একটি ষাঁড়ের দাম হাঁকা হয় ১২ লাখ টাকা। খামারের লোকজন শখ করে ষাঁড়টির নাম রেখেছেন ‘জায়েদ খান’।

লালমনিরহাটের আদিতমারীতে কোরবানির জন্য প্রস্তুত ‘জায়েদ খান’ নামের ষাঁড়
লাইভস্টক

২০২৬ সালের ঈদুল আজহা সামনে রেখে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারী উপজেলার দৌলজোর এলাকায় আইনজীবী মজমুল প্রামাণিকের খামারে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করা হয় সাদা-কালো রঙের একটি বড় ষাঁড়। খামারের লোকজন আদর করে এর নাম রেখেছেন ‘জায়েদ খান’। জাগো নিউজ ২৪ ২০২৬ সালের ১৯ এপ্রিল এ খবর প্রকাশ করে। খামার সংশ্লিষ্টদের দাবি, সে সময় পর্যন্ত লালমনিরহাট জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত গরুর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বড়। ষাঁড়টির দাম হাঁকা হয় ১২ লাখ টাকা।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মজমুল প্রামাণিক পেশায় আইনজীবী হলেও শখের বশে পরিত্যক্ত জমিতে একটি কৃষি খামার গড়ে তুলেছেন। সেখানে মাছ, কবুতর ও নানা ধরনের ফসলের পাশাপাশি গরুর খামারও আছে। ২৫ থেকে ৩০ বছর ধরে তিনি কোরবানির জন্য পশু প্রস্তুত করে আসছেন।

ষাঁড়টির আকার ও খাবার


জাগো নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফিতা দিয়ে মেপে দেখা গেছে ষাঁড়টির উচ্চতা প্রায় সাড়ে ৫ ফুট, লম্বায় ৯ ফুট এবং বুকের ঘের প্রায় ৬ ফুটের কাছাকাছি। ষাঁড়টি তখনো ওজন স্কেলে মাপা হয়নি। খামারে আসা গরুর ব্যাপারী ও পাইকারদের ধারণা, জবাই করলে এটি থেকে ২৬ থেকে ২৭ মণ মাংস পাওয়া যাবে। দেখতে সুদর্শন হলেও ষাঁড়টির স্বভাব রাগী বলে জানানো হয়।

খামারের ভাষ্য অনুযায়ী, ষাঁড়টির দৈনিক খাবারের তালিকায় রয়েছে দানাদার খাদ্য, গমের ভুসি, কাঁচা সবুজ ঘাস ও খড়। এক বেলাতেই এর তিন কেজি দানাদার খাবার লাগে। দুজন অভিজ্ঞ লোক সার্বক্ষণিক এর দেখাশোনা করেন। খামারের দাবি, সাড়ে পাঁচ বছর ধরে দেশীয় ও প্রাকৃতিক উপায়ে, ক্ষতিকর কোনো ওষুধ ছাড়াই ষাঁড়টিকে বড় করা হয়েছে।

বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) ডেইরি খামারে প্রজননের কাজে ব্যবহৃত একটি ষাঁড়। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (আরডিএ) ডেইরি খামারে প্রজননের কাজে ব্যবহৃত একটি ষাঁড়। ছবি: Ibrahim Husain Meraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

কৃত্রিম প্রজননে জন্ম, বার্মা জাত


প্রতিবেদন অনুযায়ী, অন্য একটি জাতের গাভিকে উন্নত জাতের বীজ দিয়ে কৃত্রিম প্রজননের মাধ্যমে ষাঁড়টির জন্ম। খামারে একে বার্মা জাতের ষাঁড় হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়। কৃত্রিম প্রজননে বাছাই করা ষাঁড়ের হিমায়িত বীজ দিয়ে গাভির প্রজনন করানো হয়, যা গবাদিপশুর জাত উন্নয়নের একটি প্রচলিত পদ্ধতি।

ষাঁড়টির প্রধান দেখভালকারী নবুর আলী জাগো নিউজকে বলেন, সাড়ে পাঁচ বছরেরও বেশি সময় ধরে তাঁরা ষাঁড়টিকে নিজের সন্তানের মতো লালন-পালন করছেন এবং খামারের সবাই মিলে শখ করে এর নাম রেখেছেন ‘জায়েদ খান’। তাঁর ভাষায়, এই জাতের গরুর আকার যেমন বড়, খাবারের চাহিদাও তেমনি বেশি।

ভারতের গুজরাটের পালানপুরের কাছে একটি গ্রামে সমবায় সমিতির কর্মীরা গাভির কৃত্রিম প্রজনন সেবা দিচ্ছেন। ছবি: Prasoon Panthayi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)
ভারতের গুজরাটের পালানপুরের কাছে একটি গ্রামে সমবায় সমিতির কর্মীরা গাভির কৃত্রিম প্রজনন সেবা দিচ্ছেন। ছবি: Prasoon Panthayi / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 4.0)

হাটে নয়, বিক্রি খামার থেকে


খামারে আরও নানা জাতের গরু থাকলেও সেবারের কোরবানিতে বিক্রির জন্য কেবল এই ষাঁড়টিকেই প্রস্তুত করা হয়। নবুর আলী জানান, এত বড় ও ভারী গরু হাটে নিলে যেকোনো সময় আঘাত পেতে পারে, গরমে ও ভিড়ে ক্লান্ত হয়ে শুকিয়েও যেতে পারে। তাই ক্রেতাদের সরাসরি খামারে আসতে হবে।

মজমুল প্রামাণিক বলেন, তাঁদের খামারে সব সময় অনেক গরু থাকে, তবে এবার ‘জায়েদ খান’ সবার চেয়ে আলাদা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আকার ও ওজনে এটিই জেলার সবচেয়ে বড় গরু।

২০১১ সালে বাংলাদেশের একটি কোরবানির পশুর হাট। ছবি: Faizul Latif Chowdhury / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
২০১১ সালে বাংলাদেশের একটি কোরবানির পশুর হাট। ছবি: Faizul Latif Chowdhury / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)

প্রাকৃতিক মোটাতাজাকরণ ও আইন


কোরবানির আগে স্টেরয়েড দিয়ে গরু দ্রুত মোটা করার বিষয়ে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময় সতর্ক করেছেন। ঢাকা ট্রিবিউনের ২০১৯ সালের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০ অনুযায়ী পশুখাদ্যে অ্যান্টিবায়োটিক, গ্রোথ হরমোন, স্টেরয়েড বা অন্য ক্ষতিকর রাসায়নিক মেশানো নিষিদ্ধ; এর সাজা সর্বোচ্চ এক বছরের কারাদণ্ড, সঙ্গে বা আলাদাভাবে সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের তখনকার এক পরিচালক সেখানে বলেন, স্টেরয়েডে দুই-তিন সপ্তাহে গরু মোটা হয়, আর প্রচলিত পদ্ধতিতে লাগে তিন থেকে চার মাস; এসব ওষুধ মানুষের লিভার বিকল হওয়া, জন্ডিস ও হেপাটাইটিসের মতো গুরুতর সমস্যা ঘটায়।

আগের বছর, ২০২৫ সালের মে মাসে বাসস জানায়, লালমনিরহাট জেলায় কোরবানির জন্য ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি পশু প্রস্তুত ছিল। জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. জাহাঙ্গীর আলম তখন বলেন, বেশির ভাগ খামারি প্রাকৃতিক উপায়ে গরু মোটাতাজা করেছেন এবং হরমোন বা ইনজেকশনের ব্যবহার অনেকটাই বন্ধ হয়েছে। গরু পালন বা মোটাতাজাকরণ নিয়ে পরামর্শের জন্য খামারিরা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে পারেন।

ছবি: Wasiul Bahar / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), ঢাকা ট্রিবিউন, বাংলাদেশ আইন (মৎস্যখাদ্য ও পশুখাদ্য আইন, ২০১০), উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

লাইভস্টক

সম্পর্কিত খবর

লাইভস্টক

সৌরপ্যানেলের নিচে ভেড়া চরালে বাড়ে মৌমাছি, তবে সংখ্যা রাখতে হবে কম

কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দেখা গেছে, সৌরখামারে হেক্টরপ্রতি দুটি ভেড়া চরালে ঘাস কাটার তুলনায় উপকারী পোকা ৩৮ শতাংশ বাড়ে। খামারিদের জন্য ভেড়ার পাল পরিকল্পনার একটি সহায়ক টুলও তৈরি করেছেন গবেষকেরা।

Farms.com১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

প্রোটিনের চাহিদায় বদলে গেল কানাডার দুধের বাজার, মাখনের উদ্বৃত্ত শেষ

দুগ্ধজাত প্রোটিনের চাহিদা বাড়ায় পাঁচ বছরের মধ্যে কানাডার দুধের বাজারে মাখনচর্বির কাঠামোগত উদ্বৃত্ত মিটে গেছে, দুধের দাম নির্ধারণেও এসেছে পরিবর্তন।

Manitoba Co-operator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
লাইভস্টক

সিকি হেক্টরে ওটের বীজ চাষ, ইথিওপিয়ার এক কৃষকের পারিবারিক ব্যবসা

ইথিওপিয়ার এক ক্ষুদ্র কৃষক মাত্র শূন্য দশমিক ২৫ হেক্টর জমিতে বীজের জন্য ওট চাষ করে প্রথম ফসল ৪৫ হাজার বির্রে বিক্রি করেন এবং পরের বছর চাষ বাড়ান। আইএলআরআইয়ের পশুখাদ্যের বীজকে ব্যবসায় রূপ দেওয়ার উদ্যোগের অংশ এটি।

ILRI১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)