সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণে ডিজিটাল নজরদারি: তৈরি হচ্ছে ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’

‘একটি শিশু, একটি বৃক্ষ’ কর্মসূচিসহ সরকারের দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণে লাগানো চারা টিকে আছে কি না, তা জিপিএস ও জিআইএস ব্যবহার করে নজরে রাখতে ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ তৈরি হচ্ছে বলে ২০২৬ সালের জুলাইয়ের শুরুতে জানা যায়।

দেশব্যাপী বৃক্ষরোপণে ডিজিটাল নজরদারি: তৈরি হচ্ছে ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’
এগ্রোটেক

দেশজুড়ে লাগানো গাছের চারা টিকে থাকছে কি না, বাড়ছে কি না এবং কাজের জবাবদিহি হচ্ছে কি না, তা ডিজিটাল উপায়ে নজরে রাখতে সরকার একটি ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ তৈরি করছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও জাগো নিউজ ২৪ ২০২৬ সালের ২ জুলাই এ খবর জানায়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট বক্তৃতা এবং বাংলাদেশ জলবায়ু বাজেট প্রতিবেদন ২০২৬-২৭-এ জাতীয় সবুজ মিশনের অংশ হিসেবে উদ্যোগটির কথা বলা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬ সালের ১১ জুন জাতীয় সংসদে এই বাজেট উপস্থাপন করেন।

অ্যাপটি কীভাবে কাজ করবে


বাজেট ও জলবায়ু নীতিসংক্রান্ত দলিল অনুযায়ী, রোপণ করা গাছের ধারাবাহিক ডিজিটাল নজরদারি ও পরিচর্যার মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করাই অ্যাপটির লক্ষ্য। এতে চারার বর্তমান অবস্থা দেখা যাবে এবং রোপণের পর ঠিকমতো পরিচর্যা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা যাবে।

পর্যবেক্ষণ নির্ভুল করতে অ্যাপটি গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ও জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর ফলে বন অধিদপ্তরের আওতায় বনায়ন করা এলাকার ডিজিটাল মানচিত্র ও তথ্যভান্ডার রাখা যাবে। গ্রাম ও শহরের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা যেসব রোপণস্থলে সরাসরি তদারকি কঠিন, সেখানে চারা বাঁচিয়ে রাখতে অ্যাপটি মূল ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হয়।

বাংলাদেশের একটি গ্রামীণ বসতবাড়ি, চারপাশে গাছপালা। ‘একটি শিশু, একটি বৃক্ষ’ কর্মসূচির চারা লাগানো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের এমন বাড়ি ও বসতভিটায়। ছবি: Ujjal86 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশের একটি গ্রামীণ বসতবাড়ি, চারপাশে গাছপালা। ‘একটি শিশু, একটি বৃক্ষ’ কর্মসূচির চারা লাগানো হচ্ছে শিক্ষার্থীদের এমন বাড়ি ও বসতভিটায়। ছবি: Ujjal86 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

‘একটি শিশু, একটি বৃক্ষ’ কর্মসূচি


সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যুক্ত করে তাদের বাড়ি ও বসতভিটায় ১ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যে ‘একটি শিশু, একটি বৃক্ষ’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বাসসের ২০২৬ সালের ২৮ জুনের প্রতিবেদনে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের বাড়ি ও বসতভিটায় ১ কোটি গাছ লাগাতে সরকার কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। কর্মসূচির উদ্দেশ্য নতুন প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা। বাড়ি বাড়ি ছড়িয়ে থাকা এত গাছের তদারকি কঠিন বলেই অ্যাপটি এখানে বিশেষ কাজে আসবে।

২০২৫ সালের ২৫ জুন ঢাকায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গাছ লাগিয়ে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: Press Information Department / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
২০২৫ সালের ২৫ জুন ঢাকায় বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে গাছ লাগিয়ে জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উদ্বোধন করেন তৎকালীন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ছবি: Press Information Department / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

জাতীয় সবুজ মিশন ও বাজেটের লক্ষ্য


জাতীয় সবুজ মিশনের আওতায় পরবর্তী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। উদ্দেশ্য অবক্ষয়িত বন পুনরুদ্ধার, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও কার্বন শোষণ বাড়ানো। এই বনায়ন থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার সবুজ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যও রয়েছে। বাজেট দলিল অনুযায়ী, উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনের ৫০ শতাংশ কার্বন বাণিজ্যের আওতায় এনে আয় করার পরিকল্পনাও আছে।

ইউএনবির বাজেট প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৫ হাজার ৯৬০ হেক্টর ব্লক বাগানে ৪ কোটি ২৯ লাখ, ৩ হাজার ৭২৭ কিলোমিটার স্ট্রিপ বাগানে ৩৭ লাখ এবং ৪ হাজার হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগানে ১ কোটি ৭৮ লাখ চারা লাগানোর লক্ষ্য ধরা হয়। বসতবাড়ি বনায়ন কর্মসূচিতে লাগানোর কথা ৫৬ লাখ চারা। একই বাজেটে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ২৪০ কোটি টাকা, আগের অর্থবছরে যা ছিল ২ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা।

শীতের সময় গাজীপুরের শালবন। ছবি: A junaid alam khan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
শীতের সময় গাজীপুরের শালবন। ছবি: A junaid alam khan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বনায়নে উপকূলীয় চরাঞ্চলে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ লাগানো, পাহাড়ি ও মধ্যাঞ্চলের শালবন পুনরুদ্ধার এবং বিলুপ্তপ্রায় বনজ প্রজাতি রক্ষায় জোর দেওয়া হয়েছে। শাল (Shorea robusta) ডিপটেরোকার্পেসি গোত্রের গাছ, ৪০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে; বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালসহ হিমালয় অঞ্চল এর আদি আবাস। আর বাংলাদেশের খুলনা বিভাগ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিস্তৃত সুন্দরবন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন, যার বাংলাদেশ অংশ ১৯৯৭ সালে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ওঠে।

এ ছাড়া সড়ক, মহাসড়ক, বাঁধ, নদীতীর ও খালপাড়ের পতিত জমিতে এলাকাভেদে উপযোগী গাছ লাগানো এবং নগর বনায়ন ও কৃষিবনায়ন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বাজেটে গাছ ও সুগন্ধি গাছের নির্যাস আমদানিতে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপের প্রস্তাবও রাখা হয়।

বাংলাদেশের সুন্দরবন, দেশের উপকূলের ম্যানগ্রোভ বন। ছবি: Ferdous / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
বাংলাদেশের সুন্দরবন, দেশের উপকূলের ম্যানগ্রোভ বন। ছবি: Ferdous / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ছবি: Ujjal86 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), ইউএনবি, বাংলাদেশ পোস্ট, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

এগ্রোটেক

সম্পর্কিত খবর

মৎস্য

সৌরশক্তির রিসার্কুলেটিং ট্যাংকে পাহাড়ে ট্রাউট চাষ, পানি লাগবে ৮০ শতাংশ কম

ভারতের উত্তরাখণ্ডের এক খামারে সৌরশক্তিচালিত হাইব্রিড রিসার্কুলেটিং অ্যাকুয়াকালচার সিস্টেম চালু করেছে আইসিএআর-সিআইসিএফআর; প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এতে পানি প্রায় ৮০ শতাংশ কম লাগে এবং একজন ট্রাউটচাষি বছরে ৪ থেকে ৫ লাখ রুপি উদ্বৃত্ত পেতে পারেন।

আইসিএআর১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
এগ্রোটেক

শিকড়ের কাছে তরল সার পৌঁছাবে হালকা যন্ত্র, পরের লক্ষ্য সার দেওয়ার রোবট

নেদারল্যান্ডসের এক প্রদর্শনীতে দেখানো হালকা ডিস্ক যন্ত্রটি তরল সার সরাসরি মাটির ভেতরে দেয়। এর উদ্ভাবকেরা একে বিদ্যুৎচালিত এমন রোবটে রূপ দিতে চান, যা নিজেই ডকিং স্টেশনে গিয়ে ট্যাংক ভরে নেবে।

Future Farming১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফসল

২০ নভেম্বরের আগে গম বুনুন: উত্তর প্রদেশে শূন্য চাষ পদ্ধতির প্রশিক্ষণ দিল ইরি ও সিমিট

খড় পোড়ানোর বিকল্প হিসেবে শূন্য চাষে গম বপন ও ফসলের অবশিষ্টাংশ ব্যবস্থাপনায় পূর্ব উত্তর প্রদেশের ৬৩ জন কৃষক, যন্ত্রসেবাদাতা ও সম্প্রসারণকর্মীকে প্রশিক্ষণ দিয়েছে ইরি ও সিমিট।

IRRI১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)