দেশজুড়ে লাগানো গাছের চারা টিকে থাকছে কি না, বাড়ছে কি না এবং কাজের জবাবদিহি হচ্ছে কি না, তা ডিজিটাল উপায়ে নজরে রাখতে সরকার একটি ‘ট্রি মনিটরিং অ্যাপ’ তৈরি করছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) ও জাগো নিউজ ২৪ ২০২৬ সালের ২ জুলাই এ খবর জানায়। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট বক্তৃতা এবং বাংলাদেশ জলবায়ু বাজেট প্রতিবেদন ২০২৬-২৭-এ জাতীয় সবুজ মিশনের অংশ হিসেবে উদ্যোগটির কথা বলা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬ সালের ১১ জুন জাতীয় সংসদে এই বাজেট উপস্থাপন করেন।
অ্যাপটি কীভাবে কাজ করবে
বাজেট ও জলবায়ু নীতিসংক্রান্ত দলিল অনুযায়ী, রোপণ করা গাছের ধারাবাহিক ডিজিটাল নজরদারি ও পরিচর্যার মাধ্যমে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করাই অ্যাপটির লক্ষ্য। এতে চারার বর্তমান অবস্থা দেখা যাবে এবং রোপণের পর ঠিকমতো পরিচর্যা হচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করা যাবে।
পর্যবেক্ষণ নির্ভুল করতে অ্যাপটি গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ও জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সিস্টেম (জিআইএস) ভিত্তিক তথ্য সংগ্রহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এর ফলে বন অধিদপ্তরের আওতায় বনায়ন করা এলাকার ডিজিটাল মানচিত্র ও তথ্যভান্ডার রাখা যাবে। গ্রাম ও শহরের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা যেসব রোপণস্থলে সরাসরি তদারকি কঠিন, সেখানে চারা বাঁচিয়ে রাখতে অ্যাপটি মূল ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হয়।

‘একটি শিশু, একটি বৃক্ষ’ কর্মসূচি
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের যুক্ত করে তাদের বাড়ি ও বসতভিটায় ১ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্যে ‘একটি শিশু, একটি বৃক্ষ’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বাসসের ২০২৬ সালের ২৮ জুনের প্রতিবেদনে অর্থমন্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, শিক্ষার্থীদের বাড়ি ও বসতভিটায় ১ কোটি গাছ লাগাতে সরকার কর্মপরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে। কর্মসূচির উদ্দেশ্য নতুন প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার দায়িত্ববোধ গড়ে তোলা। বাড়ি বাড়ি ছড়িয়ে থাকা এত গাছের তদারকি কঠিন বলেই অ্যাপটি এখানে বিশেষ কাজে আসবে।

জাতীয় সবুজ মিশন ও বাজেটের লক্ষ্য
জাতীয় সবুজ মিশনের আওতায় পরবর্তী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য ঠিক করা হয়েছে। উদ্দেশ্য অবক্ষয়িত বন পুনরুদ্ধার, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও কার্বন শোষণ বাড়ানো। এই বনায়ন থেকে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার সবুজ কর্মসংস্থান তৈরির লক্ষ্যও রয়েছে। বাজেট দলিল অনুযায়ী, উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বনের ৫০ শতাংশ কার্বন বাণিজ্যের আওতায় এনে আয় করার পরিকল্পনাও আছে।
ইউএনবির বাজেট প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ২৫ হাজার ৯৬০ হেক্টর ব্লক বাগানে ৪ কোটি ২৯ লাখ, ৩ হাজার ৭২৭ কিলোমিটার স্ট্রিপ বাগানে ৩৭ লাখ এবং ৪ হাজার হেক্টর ম্যানগ্রোভ বাগানে ১ কোটি ৭৮ লাখ চারা লাগানোর লক্ষ্য ধরা হয়। বসতবাড়ি বনায়ন কর্মসূচিতে লাগানোর কথা ৫৬ লাখ চারা। একই বাজেটে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দ ছিল ২ হাজার ২৪০ কোটি টাকা, আগের অর্থবছরে যা ছিল ২ হাজার ১৪৪ কোটি টাকা।

বনায়নে উপকূলীয় চরাঞ্চলে ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছ লাগানো, পাহাড়ি ও মধ্যাঞ্চলের শালবন পুনরুদ্ধার এবং বিলুপ্তপ্রায় বনজ প্রজাতি রক্ষায় জোর দেওয়া হয়েছে। শাল (Shorea robusta) ডিপটেরোকার্পেসি গোত্রের গাছ, ৪০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে; বাংলাদেশ, ভারত ও নেপালসহ হিমালয় অঞ্চল এর আদি আবাস। আর বাংলাদেশের খুলনা বিভাগ ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গজুড়ে বিস্তৃত সুন্দরবন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ম্যানগ্রোভ বন, যার বাংলাদেশ অংশ ১৯৯৭ সালে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় ওঠে।
এ ছাড়া সড়ক, মহাসড়ক, বাঁধ, নদীতীর ও খালপাড়ের পতিত জমিতে এলাকাভেদে উপযোগী গাছ লাগানো এবং নগর বনায়ন ও কৃষিবনায়ন বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। বাজেটে গাছ ও সুগন্ধি গাছের নির্যাস আমদানিতে ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) আরোপের প্রস্তাবও রাখা হয়।

ছবি: Ujjal86 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), ইউএনবি, বাংলাদেশ পোস্ট, উইকিপিডিয়া



মন্তব্য
(০)