সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

ডায়াবেটিস থাকলে লিচু খাওয়ার আগে যা জানা জরুরি

লিচুর ভরা মৌসুমে ২০২৬ সালের ১৯ মে জাগো নিউজ ২৪ জানায়, ডায়াবেটিস থাকলেও লিচু নিষিদ্ধ নয়, তবে পরিমাণ ও খাওয়ার সময় মেনে চলতে হবে। স্বাস্থ্য সংস্থাগুলোর নির্দেশনা ও শিশুদের হাইপোগ্লাইসেমিয়া নিয়ে গবেষণা বলছে, ব্যক্তিগত পরামর্শ নিতে হবে চিকিৎসকের কাছে।

ডায়াবেটিস থাকলে লিচু খাওয়ার আগে যা জানা জরুরি
স্বাস্থ্য

২০২৬ সালের মে মাসে দেশের বাজার যখন লিচুতে ভরে উঠেছিল, তখন ১৯ মে জাগো নিউজ ২৪-এর লাইফস্টাইল বিভাগ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের জন্য একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করে: তাঁরা এই ফল খেতে পারবেন কি না। নির্দেশিকার উত্তর ছিল, লিচু নিষিদ্ধ নয়, তবে কতটা এবং কখন খাওয়া হচ্ছে, সেটিই আসল বিষয়; আর যাঁদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন, তাঁদের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এই প্রতিবেদনে নির্দেশিকার কথাগুলো তুলে ধরা হয়েছে এবং স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ, খাদ্য উপাদান তালিকা ও লিচু-সংক্রান্ত প্রকাশিত গবেষণার সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়েছে। এটি সাধারণ তথ্য, চিকিৎসা-পরামর্শ নয়: ডায়াবেটিস থাকলে নিজের খাদ্যতালিকা নিয়ে নিজের চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলুন, আর কখনোই নিজে নিজে কোনো ওষুধ বন্ধ বা বদল করবেন না।

জাগো নিউজ ২৪-এর নির্দেশিকায় যা বলা হয়েছিল


নির্দেশিকার শুরু ফলটির জনপ্রিয়তা দিয়ে। রসালো লিচু ছোট-বড় সবার প্রিয়; এতে আছে ভিটামিন সি, পটাশিয়াম, কপার, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, কিছু খাদ্যআঁশ এবং প্রচুর পানি। লিচুর মিষ্টতার উৎস এর প্রাকৃতিক চিনি। নির্দেশিকা সতর্ক করে যে ডায়াবেটিস রোগীর শরীরে ইনসুলিন কম কার্যকরভাবে কাজ করে, তাই না বুঝে বেশি লিচু খেলে রক্তে শর্করা বেড়ে যেতে পারে।

মূল বার্তা ছিল নিষেধ নয়, পরিমিতি। নির্দেশিকা অনুযায়ী চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদেরা সাধারণত পরামর্শ দেন, ডায়াবেটিস রোগীরা একবারে অনেক লিচু না খেয়ে সীমিত সংখ্যায় খাবেন; আর যেহেতু প্রত্যেকের শারীরিক অবস্থা ভিন্ন, ব্যক্তিগত পরামর্শ আসা উচিত চিকিৎসকের কাছ থেকে। খালি পেটে শুধু অনেকগুলো লিচু খাওয়ার বিষয়েও নির্দেশিকা সতর্ক করে; এর পক্ষে সে এমন গবেষণার কথা বলে, যেখানে এভাবে খাওয়ার সঙ্গে রক্তে শর্করা হঠাৎ কমে যাওয়ার যোগসূত্র পাওয়া গেছে, বিশেষ করে অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের মধ্যে। কারা লিচু খাওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন, সেটিও নির্দেশিকায় বলা হয়: যাঁদের রক্তে শর্করা খুব ওঠানামা করে, যাঁরা ইনসুলিন নেন, যাঁদের ওজন বেশি এবং যাঁদের কিডনি বা হৃদরোগ আছে।

এই প্রতিটি কথা ২০২৬ সালের মে মাসের আগে স্বাস্থ্য সংস্থা ও গবেষকদের প্রকাশিত তথ্যের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়। নিচের অংশগুলোতে সেটিই করা হয়েছে: ফলটি কী, এক পরিবেশনে কী থাকে, ডায়াবেটিসের খাদ্যতালিকায় ফলের চিনি কীভাবে হিসাব করা হয়, কিছু ওষুধের কারণে খাবারের সময় কেন গুরুত্বপূর্ণ, এবং শিশুদের মধ্যে লিচু ও রক্তে শর্করা কমে যাওয়া নিয়ে গবেষণায় আসলে কী পাওয়া গেছে।

লিচু: ফলটি এবং বাংলাদেশে এর অবস্থান


লিচু হলো সাপিন্ডেসি (Sapindaceae) গোত্রের Litchi chinensis গাছের ফল। বাংলাদেশের জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া একে বর্ণনা করেছে পাতলা, ভঙ্গুর খোসার ভেতরে একটি বীজ ঘিরে থাকা মিষ্টি, জেলির মতো শাঁসের ফল হিসেবে। লিচুর আদি নিবাস চীন; বাংলাপিডিয়া বলছে, ১৭শ শতকের শেষ দিকে এটি বার্মা ও ভারতে পৌঁছায়। বিশ্বকোষীয় সূত্রে দক্ষিণ চীনে লিচুর পরিকল্পিত চাষের ইতিহাস ১০৫৯ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত পাওয়া যায়, এবং সবচেয়ে বড় উৎপাদক হিসেবে চীনের পরে ভারত ও ভিয়েতনামের নাম আসে।

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী বাংলাদেশের সব জেলাতেই লিচু ফলানো সম্ভব, তবে চাষ মূলত রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, যশোর, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও নারায়ণগঞ্জে, এবং দেশের বৃক্ষজাত ফলের মধ্যে উৎপাদনে আমের পরেই লিচুর স্থান। গাছটি চিরসবুজ, ওপরের দিক গোল, প্রচুর ডালপালাযুক্ত এবং ১২ থেকে ১৫ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়; কচিপাতা তামাটে রঙের হয়ে থোকায় থোকায় গজায়। লিচুর জন্য উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ু দরকার; শুকনো গরম বাতাস ফলের ক্ষতি করে, আর গভীর দোআঁশ পলিমাটি সবচেয়ে উপযোগী। দেশের স্থানীয় নির্বাচিত লিচুগুলো মোটা দাগে দুই ধরনের: দেশি ও বোম্বাই।

লিচুর যে অংশ খাওয়া হয় তা অ্যারিল: গোলাপি-লাল, খসখসে খোসার নিচের স্বচ্ছ সাদা শাঁস, যা গাঢ় বাদামি একটি বীজকে ঘিরে থাকে। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে ফলের ওজনের ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ খাওয়ার উপযোগী, এবং এতে প্রধানত শর্করা (চিনি) থাকে, সঙ্গে প্রোটিন, চর্বি, ভিটামিন বি ও সি, ক্যালসিয়াম ও লোহা। লিচু সাধারণত তাজা খাওয়া হয়, তবে এ দিয়ে শরবত ও টিনজাত খাবারও তৈরি হয়, আর চীনে শুকনো লিচু বেশ জনপ্রিয়।

দিনাজপুরের লিচু; উত্তরাঞ্চলের এই জেলা দেশের প্রধান লিচু উৎপাদনকারী এলাকাগুলোর একটি। ছবি: Sd Raihan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
দিনাজপুরের লিচু; উত্তরাঞ্চলের এই জেলা দেশের প্রধান লিচু উৎপাদনকারী এলাকাগুলোর একটি। ছবি: Sd Raihan / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

এক পরিবেশন লিচুতে কী থাকে


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট খাদ্য মন্ত্রণালয় ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) সহায়তায় ২০১৩ সালের জুনে 'ফুড কম্পোজিশন টেবিল ফর বাংলাদেশ' প্রকাশ করে। সেখানে দেশের ফলের তালিকায় কাঁচা লিচুও আছে। খাওয়ার উপযোগী অংশের প্রতি ১০০ গ্রামে তালিকাটি দিয়েছে:

  • শক্তি: ৬২ কিলোক্যালরি (২৫৯ কিলোজুল)
  • পানি: ৮১.৮ গ্রাম
  • প্রোটিন: ১.৪ গ্রাম; চর্বি: ০.৫ গ্রাম
  • ব্যবহারযোগ্য শর্করা: ১০.২ গ্রাম
  • পটাশিয়াম: ১৩১ মিলিগ্রাম; ম্যাগনেশিয়াম: ১৫ মিলিগ্রাম; ফসফরাস: ১৭ মিলিগ্রাম; ক্যালসিয়াম: ১১ মিলিগ্রাম
  • লোহা: ০.৫ মিলিগ্রাম; জিংক: ০.২৭ মিলিগ্রাম; কপার: ০.২০ মিলিগ্রাম; সোডিয়াম: ১ মিলিগ্রাম

কাঁচা লিচুর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) যে হিসাব প্রকাশ করে, বিশ্বকোষীয় সূত্রে উদ্ধৃত সেই হিসাবে চিনির পরিমাণ কিছুটা বেশি: প্রতি ১০০ গ্রামে ৬৬ কিলোক্যালরি, ১৬.৫৩ গ্রাম শর্করা, যার মধ্যে ১৫.২৩ গ্রাম চিনি, ১.৩ গ্রাম আঁশ এবং ৭১.৫ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি, যা দৈনিক চাহিদার ৭৯ শতাংশ। দুই তালিকার মান হুবহু এক নয়, তবে দুটিই জাগো নিউজ ২৪-এর নির্দেশিকার কথাটি সমর্থন করে: লিচুর শক্তির বেশির ভাগ আসে প্রাকৃতিক চিনি থেকে, আর সঙ্গে মেলে পটাশিয়াম, কপার ও ভিটামিন সি।

কী আছে তার মতোই গুরুত্বপূর্ণ পরিবেশনের মাপ। ইংল্যান্ডের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস) প্রাপ্তবয়স্কের এক পরিবেশন ফল ধরে ৮০ গ্রাম, এবং ছোট ফলের এক পরিবেশন হিসেবে ছয়টি লিচুর কথা বলে, পাশাপাশি দুটি প্লাম, সাতটি স্ট্রবেরি বা চৌদ্দটি চেরি। যাঁরা শর্করা গুনে খান, তাঁদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি) বলছে, ডায়াবেটিসের খাবার পরিকল্পনায় এক পরিবেশন শর্করা মানে প্রায় ১৫ গ্রাম শর্করা। তাই কারও খাবার পরিকল্পনায় কয়টি লিচু খাপ খায়, তা নির্ভর করে বাকি খাবার এবং চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের ঠিক করে দেওয়া পরিকল্পনার ওপর। এ কারণেই ব্যক্তিগত পরামর্শ নেওয়ার কথাটি যথার্থ।

সিলেটের জৈন্তাপুরে লেবুজাতীয় ফসল গবেষণা কেন্দ্রের গাছে বারি লিচু-৩ জাতের লিচু। ছবি: Abu Sayeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সিলেটের জৈন্তাপুরে লেবুজাতীয় ফসল গবেষণা কেন্দ্রের গাছে বারি লিচু-৩ জাতের লিচু। ছবি: Abu Sayeed / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ডায়াবেটিসের খাদ্যতালিকায় ফলের চিনি যেভাবে হিসাব হয়


বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বরের ডায়াবেটিস ফ্যাক্টশিটে টাইপ ১ ডায়াবেটিসকে বর্ণনা করেছে এমন অবস্থা হিসেবে, যেখানে শরীরে ইনসুলিন তৈরি কম হয় এবং প্রতিদিন ইনসুলিন নিতে হয়; আর টাইপ ২ ডায়াবেটিসে শরীর ইনসুলিন ঠিকমতো ব্যবহার করতে পারে না, ফলে চিকিৎসা না হলে রক্তে শর্করা বেড়ে যায়। ডায়াবেটিসে আক্রান্তদের ৯৫ শতাংশের বেশির টাইপ ২। রোগ প্রতিরোধের অংশ হিসেবে সংস্থাটি স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে এবং চিনি ও সম্পৃক্ত চর্বি এড়িয়ে চলতে বলে।

শর্করা গোনা নিয়ে সিডিসির নির্দেশনা, যা সর্বশেষ ২০২৪ সালের ১৫ মে পর্যালোচিত, বিষয়টি সহজ করে বোঝায়: চিনি ও শ্বেতসার রক্তে শর্করা বাড়ায়, কিন্তু আঁশ বাড়ায় না। সারা দিন রক্তে শর্করা স্থির রাখতে প্রতি বেলায় মোটামুটি একই পরিমাণ শর্করা খাওয়ার পরামর্শ দেয় সংস্থাটি; তবে সঠিক পরিমাণ নির্ভর করে বয়স, ওজন, শারীরিক পরিশ্রম এবং ইনসুলিন নেওয়া মানুষের ক্ষেত্রে তাঁর ইনসুলিনের পরিকল্পনার ওপর। সিডিসি বলছে, সবার জন্য একটিই উত্তর নেই, এবং ডায়াবেটিস শিক্ষকের সঙ্গে মিলে পরিকল্পনা করার পরামর্শ দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজেস (এনআইডিডিকে) ডায়াবেটিস রোগীর স্বাস্থ্যকর খাবার পরিকল্পনায় শ্বেতসারহীন সবজি, গোটা শস্য, প্রোটিন ও দুগ্ধজাত খাবারের সঙ্গে ফলও রেখেছে। তাদের 'প্লেট পদ্ধতিতে' থালার অর্ধেক থাকে শাকপাতার মতো শ্বেতসারহীন সবজি, এক-চতুর্থাংশ মাছ, চর্বিহীন মাংস বা টফুর মতো প্রোটিন, আর এক-চতুর্থাংশ আঁশসমৃদ্ধ শর্করাজাতীয় খাবার, যার মধ্যে বাদামি চাল, গোটা শস্য ও শিমের সঙ্গে ফলের নামও আছে। এনআইডিডিকে আরও বলছে, ডায়াবেটিস থাকলেও প্রিয় খাবার খাওয়া যায়, তবে হয়তো কম পরিমাণে বা কম ঘন ঘন।

এভাবে দেখলে লিচু একটি শর্করাজাতীয় খাবার। পরিকল্পিত খাবার বা নাশতার অংশ হিসেবে এক মুঠো লিচু আর ভরপেট খাওয়ার পরে আরও এক বাটি লিচু এক কথা নয়, কারণ দুই ক্ষেত্রেই লিচুর চিনি একই মোট হিসাবে যোগ হয়। পরিমাণ ও সময় দুটোই খেয়াল রাখার পরামর্শের বাস্তব অর্থ এটিই।

ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ফল নিয়ে স্বাস্থ্যসেবা সংস্থাগুলোর পরামর্শ


এই প্রতিবেদনের জন্য যে স্বাস্থ্যসেবা সংস্থাগুলোর নির্দেশনা দেখা হয়েছে, তাদের কোনোটিই ডায়াবেটিস রোগীর জন্য ফল নিষিদ্ধ করেনি। খাবার ও টাইপ ২ ডায়াবেটিস নিয়ে এনএইচএসের পাতা, যা সর্বশেষ ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যালোচিত, ফল, সবজি, লাল আটার রুটি ও ওটসের মতো গোটা শস্য এবং ছোলা ও মসুর ডালের মতো ডালজাতীয় খাবারসহ স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পরামর্শ দেয়। সতর্ক করে বেশি লবণ ও চিনিযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার বেশি খাওয়ার বিষয়ে, উদাহরণ হিসেবে বেকন, চিপস, পনির, মিষ্টি ও বিস্কুটের কথা বলে।

গোটা ফল আর ফলের রসকে এনএইচএস আলাদাভাবে দেখে। তাদের পরিবেশন-নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ফলের রস, সবজির রস ও স্মুদি মিলিয়ে দিনে ১৫০ মিলিলিটারের বেশি নয়, অর্থাৎ ছোট এক গ্লাস। এনআইডিডিকেও পানি, কম চর্বি বা চর্বিহীন দুধ এবং চিনি ছাড়া চা বা কফির মতো কম বা একেবারে চিনি ছাড়া পানীয় বেছে নিতে বলে। বাংলাপিডিয়া যেহেতু জানায় লিচু দিয়ে শরবত ও টিনজাত খাবারও তৈরি হয়, এই নিয়মগুলো পাঠককে মিষ্টি লিচুর শরবতের বদলে মাপমতো তাজা ফলের দিকেই নির্দেশ করে।

নির্দেশিকার শেষ কথাটির সঙ্গেও স্বাস্থ্যসেবা সংস্থাগুলো একমত: পরামর্শ হতে হবে ব্যক্তির উপযোগী। সিডিসি বলছে বয়স, ওজন ও শারীরিক পরিশ্রমভেদে শর্করার চাহিদা আলাদা, আর এনআইডিডিকের খাবার পরিকল্পনা শুরু হয় ব্যক্তির নিজের ওষুধ ও দৈনন্দিন রুটিন থেকে। তাই যাঁরা ডায়াবেটিসের ওষুধ খান, বিশেষ করে যাঁদের কিডনি বা হৃদরোগ আছে, লিচুর মতো ফল তাঁদের নিজের পরিকল্পনায় কীভাবে খাপ খাবে, তা চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত পুষ্টিবিদের কাছে জেনে নেওয়া উচিত।

গ্লুকোজ মিটারে রক্তে শর্করা পরীক্ষা, ভারতের কলকাতায় তোলা ছবি। ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)
গ্লুকোজ মিটারে রক্তে শর্করা পরীক্ষা, ভারতের কলকাতায় তোলা ছবি। ছবি: Biswarup Ganguly / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY 3.0)

রক্তে শর্করা কমে যাওয়া: ওষুধ ও খাবারের সময় কেন গুরুত্বপূর্ণ


খালি পেটে লিচু খাওয়া নিয়ে নির্দেশিকার সতর্কতা আলাদা একটি ঝুঁকির দিকে ইঙ্গিত করে: রক্তে শর্করা অতিরিক্ত কমে যাওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের ভোক্তা স্বাস্থ্যসেবা মেডলাইনপ্লাস, ২০২৬ সালের ২৫ জানুয়ারি পর্যালোচিত একটি পাতায়, রক্তে শর্করা ৭০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের (৩.৯ মিলিমোল/লিটার) নিচে নামাকে লো ব্লাড সুগার বা হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলে সংজ্ঞায়িত করেছে। ডায়াবেটিস রোগীর ক্ষেত্রে এর কারণ হতে পারে ইনসুলিন বা নির্দিষ্ট কিছু ডায়াবেটিসের ওষুধ, কিংবা ইনসুলিন নেওয়া অবস্থায় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ব্যায়াম।

এনআইডিডিকে সংশ্লিষ্ট ওষুধগুলোর নামও বলেছে: সালফোনাইলইউরিয়া বা ইনসুলিনের মতো কিছু ডায়াবেটিসের ওষুধ ব্যায়ামের সময় কিংবা খাবার বাদ দিলে বা দেরিতে খেলে রক্তে গ্লুকোজ অতিরিক্ত কমিয়ে দিতে পারে। এ কারণেই এসব ওষুধ যাঁরা খান, তাঁদের নিয়মিত সময়ে খেতে বলা হয়; আর এক বেলার খাবারের বদলে শুধু ফল খাওয়ার সিদ্ধান্ত নিজে না নিয়ে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া উচিত।

মেডলাইনপ্লাস রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার লক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছে দুটি করে দেখা, বুক ধড়ফড় করা, অস্থিরতা, মাথাব্যথা, ক্ষুধা, কাঁপুনি, ঘাম, ক্লান্তি ও চিন্তা গুলিয়ে যাওয়া। শর্করা আরও অনেক কমে গেলে, ৫৪ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের নিচে, চিন্তা গুলিয়ে যাওয়া বা খিঁচুনির মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিতে পারে। প্রাথমিক করণীয় হিসেবে সেখানে শর্করা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে: রস বা চিনিযুক্ত অন্য পানীয়, খাবার অথবা গ্লুকোজ ট্যাবলেট; কিছু রোগী গ্লুকাগন ইনজেকশন ব্যবহার করেন। চিনিযুক্ত নাশতা খাওয়ার পরও লক্ষণ না কমলে রোগীকে জরুরি বিভাগে নিয়ে যেতে বলেছে মেডলাইনপ্লাস।

ভারতে লিচু ও হাইপোগ্লাইসেমিয়া নিয়ে গবেষণা


অপুষ্ট শিশুদের মধ্যে লিচু ও রক্তে শর্করা হঠাৎ কমে যাওয়া নিয়ে নির্দেশিকা যে গবেষণার কথা বলেছে, তার ভিত্তি ভারতের বিহারের মুজাফফরপুর জেলায় পরিচালিত কয়েক দফা অনুসন্ধান; গবেষকেরা এই জেলাকে ভারতের সবচেয়ে বড় লিচু চাষের অঞ্চল বলে বর্ণনা করেছেন। সিডিসির সাপ্তাহিক প্রকাশনা মরবিডিটি অ্যান্ড মর্টালিটি উইকলি রিপোর্টে (এমএমডব্লিউআর) ২০১৫ সালের ৩০ জানুয়ারির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৯৯৫ সাল থেকে সেখানে ছোট শিশুদের মধ্যে অজ্ঞাত কারণে তীব্র স্নায়বিক অসুস্থতার প্রাদুর্ভাব দেখা যাচ্ছিল; সাধারণত জুনে তা চূড়ায় ওঠে, বর্ষা শুরু হলে কমে আসে, এবং সময়টি মাসব্যাপী লিচু সংগ্রহের মৌসুমের সঙ্গে মিলে যায়।

এমএমডব্লিউআরের তথ্য অনুযায়ী ২০১৩ সালের ১৭ মে থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে মুজাফফরপুরের প্রধান দুটি রেফারেল হাসপাতালে এই অসুস্থতা নিয়ে ১৩৩টি শিশু ভর্তি হয়, এবং ৪৪ শতাংশ ক্ষেত্রে মৃত্যু ঘটে। ভর্তির সময় ৯৪ জনের মধ্যে ২০ জনের রক্তে গ্লুকোজ ৭০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটারের নিচে ছিল, এবং যারা মারা গেছে তাদের মধ্যে এটি বেশি দেখা গেছে। অসুস্থ শিশুরা তুলনামূলক শিশুদের চেয়ে কৃষিজমি বা বাগানে বেশি সময় কাটিয়েছিল, আর কম বয়সী রোগীদের মধ্যে কৃশতা (ওয়েস্টিং) বেশি ছিল। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল ও সিডিসির অনুসন্ধানকারীরা সিদ্ধান্তে আসেন, অসুস্থতাটি সম্ভবত প্রদাহহীন এনসেফালোপ্যাথি, যার কারণ হতে পারে কোনো বিষাক্ত পদার্থ; তাঁরা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গ্লুকোমিটার রাখা এবং দ্রুত রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার চিকিৎসার সুপারিশ করেন।

২০১৪ সালের পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানের ফল ২০১৭ সালে দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথে প্রকাশিত হয় (শ্রীবাস্তব ও সহকর্মীরা)। ২০১৪ সালের ২৬ মে থেকে ১৭ জুলাইয়ের মধ্যে দুই হাসপাতালে সংজ্ঞা অনুযায়ী ৩৯০টি শিশু ভর্তি হয়, যার মধ্যে ১২২টি (৩১ শতাংশ) মারা যায়; ভর্তির সময় ৩২৭ জনের মধ্যে ২০৪ জনের রক্তে গ্লুকোজ ছিল ৭০ মিলিগ্রাম/ডেসিলিটার বা তার কম। ১০৪টি অসুস্থ শিশুকে সমবয়সী ১০৪টি হাসপাতাল-তুলনা শিশুর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা যায়, অসুস্থ হওয়ার আগের ২৪ ঘণ্টায় লিচু খাওয়া (ম্যাচড অডস রেশিও ৯.৬) এবং রাতের খাবার না খাওয়া (২.২) অসুস্থতার সঙ্গে যুক্ত, আর রাতের খাবার না খেলে লিচু খাওয়ার প্রভাব আরও বেড়ে যায়। সংক্রমণ ও কীটনাশকের পরীক্ষায় কিছু পাওয়া যায়নি।

পরীক্ষাগারের ফল দুটি প্রাকৃতিক বিষাক্ত যৌগের দিকে ইঙ্গিত করে: হাইপোগ্লাইসিন এ এবং মিথিলিনসাইক্লোপ্রোপাইলগ্লাইসিন (এমসিপিজি); লেখকদের বর্ণনায় এগুলো ফলে থাকা যৌগ, যা রক্তে শর্করা কমিয়ে দেয় এবং বিপাকে গোলযোগ ঘটায়। অসুস্থ শিশুদের ৭৩টি প্রস্রাবের নমুনার ৪৮টিতে এদের বিপাকজাত পদার্থ পাওয়া যায়, তুলনা-দলের ১৫টি নমুনার একটিতেও নয়; আর অসুস্থদের ৮০টি নমুনার ৭২টিতে অস্বাভাবিক অ্যাসাইলকার্নিটিন প্রোফাইল পাওয়া যায়, যা চর্বি-বিপাক মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। মুজাফফরপুরের ৩৬টি লিচুর শাঁসে হাইপোগ্লাইসিন এ পাওয়া যায় প্রতি গ্রামে ১২.৪ থেকে ১৫২.০ মাইক্রোগ্রাম এবং এমসিপিজি ৪৪.৯ থেকে ২২০.০ মাইক্রোগ্রাম। গবেষকেরা লিচু খাওয়া যথাসম্ভব কমানো, শিশুরা যেন রাতের খাবার পায় তা নিশ্চিত করা এবং সন্দেহজনক রোগীর রক্তে গ্লুকোজ দ্রুত ঠিক করার সুপারিশ করেন।

২০১৯ সালের প্রাদুর্ভাব নিয়ে পরবর্তী একটি গবেষণা ২০২৩ সালে ট্রানজ্যাকশনস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিনে প্রকাশিত হয় (পোন্নাইয়া ও সহকর্মীরা)। এতে ৬১টি অসুস্থ শিশুকে ২৩৯টি তুলনা-শিশুর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হয়। এলাকার তুলনা-শিশুদের চেয়ে অসুস্থ শিশুদের আগের সাত দিনে লিচু খাওয়ার সম্ভাবনা ছিল প্রায় পাঁচ গুণ (অ্যাডজাস্টেড অডস রেশিও ৫.১), আর আগের রাতের খাবার বাদ দেওয়ার সম্ভাবনাও প্রায় পাঁচ গুণ (৫.২)। লেখকেরা সিদ্ধান্তে আসেন, মুজাফফরপুর ও আশপাশের জেলায় রাতের খাবার বাদ দেওয়া এবং লিচু খাওয়া তখনো এই অসুস্থতার সঙ্গে উল্লেখযোগ্যভাবে যুক্ত। এই সব গবেষণাই প্রাদুর্ভাব-এলাকার ১৫ বছর বা তার কম বয়সী শিশুদের নিয়ে; কোনোটিতেই ডায়াবেটিস আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের নিয়ে গবেষণা হয়নি।

ভিয়েতনাম ও দিনাজপুরে লিচু মৌসুমের প্রাদুর্ভাব


একই ধরনের মৌসুমি প্রাদুর্ভাব নিয়ে অনুসন্ধান হয়েছে উত্তর ভিয়েতনামের বাক জিয়াং প্রদেশে, যা ১৬ লাখ মানুষের একটি গ্রামীণ প্রদেশ। ২০১৮ সালের আগস্টে সিডিসির সাময়িকী ইমার্জিং ইনফেকশাস ডিজিজেসে প্রকাশিত এক গবেষণায় (ফান ও সহকর্মীরা) ২০০৮ সাল থেকে মে থেকে জুলাইয়ের লিচু সংগ্রহের মৌসুমে তীব্র এনসেফালাইটিস-সদৃশ অসুস্থতায় আক্রান্ত শিশুদের পরীক্ষা করা হয়। ৮টি রক্তের নমুনায় লিচুতে থাকা রক্তে শর্করা কমানো বিষাক্ত যৌগ পাওয়া যায়, আর মস্তিষ্ক-মেরুরসের ১৯টি নমুনায় এন্টেরোভাইরাস পাওয়া যায়। লেখকেরা জানান, এই যৌগগুলো লিচুর বীজ ও শাঁস দুটোতেই থাকে, এবং সুপারিশ করেন, লিচু মৌসুমে দ্রুত অবনতি হওয়া অসুস্থ শিশুদের প্রাণঘাতী হাইপোগ্লাইসেমিয়ার জরুরি চিকিৎসা দিতে হবে।

বাংলাদেশেও আলাদা অনুসন্ধান হয়েছে। ২০১২ সালের ১৬ জুন দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের একজন চিকিৎসক রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটকে (আইইডিসিআর) শিশুদের মধ্যে এনসেফালাইটিস প্রাদুর্ভাবের খবর দেন। আইইডিসিআর ও আইসিডিডিআর,বির একটি দল সিডিসির সঙ্গে মিলে অনুসন্ধানের ফল ২০১৭ সালের জুলাইয়ে আমেরিকান জার্নাল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিনে প্রকাশ করে (ইসলাম ও সহকর্মীরা)। ১৪টি শিশু অসুস্থ হয়, ১৩টি মারা যায়; ১৩টি শিশু ছিল দিনাজপুরের চারটি উপজেলার ১৩টি গ্রামের, একটি পাশের ঠাকুরগাঁও জেলার। তাদের বয়সের মধ্যমা ছিল ৪.৬ বছর, আর প্রধান লক্ষণ ছিল অচেতন হয়ে পড়া, খিঁচুনি, অতিরিক্ত ঘাম এবং মুখ দিয়ে ফেনা বের হওয়া।

দিনাজপুরের গবেষণা ভারতের গবেষণা থেকে ভিন্ন সিদ্ধান্তে পৌঁছায়। অসুস্থ হওয়ার আগের ২৪ ঘণ্টায় লিচুবাগানে যাওয়া (বয়স-সমন্বিত অডস রেশিও ১১.৬) এবং পরিবারের সদস্যের লিচুবাগানে কাজ করা (৭.২) অসুস্থতার সঙ্গে যুক্ত ছিল, কিন্তু লিচু খাওয়া যুক্ত ছিল না। দলটি দেখতে পায়, বাগানগুলোতে নিয়মিত একাধিক কীটনাশক ব্যবহার হতো, যার কয়েকটি বাংলাদেশে নিষিদ্ধ; বাগানে এন্ডোসালফানের প্যাকেটও দেখা যায়, যা ৮০টির বেশি দেশে নিষিদ্ধ একটি অর্গানোক্লোরিন কীটনাশক। শিশুরা ফেটে যাওয়া ও ঝরে পড়া লিচু কুড়িয়ে আনত, এবং জানা যায় তারা ফল না ধুয়েই দাঁত দিয়ে খোসা ছাড়িয়ে খেত। লেখকেরা প্রাদুর্ভাবকে কৃষিরাসায়নিক ব্যবহৃত বাগানের সংস্পর্শের সঙ্গে যুক্ত করেন, বলেন শুধু এমসিপিজি দিয়ে এটি হয়তো ব্যাখ্যা করা যায় না, এবং অসুস্থতার তীব্র পর্যায়ে নমুনা না পাওয়াকে বড় সীমাবদ্ধতা হিসেবে উল্লেখ করেন।

একই গবেষণাপত্রে উল্লেখ আছে, ২০০৮ থেকে ২০১৬ সালের মধ্যে আইসিডিডিআর,বি ও আইইডিসিআর বাংলাদেশে শিশুদের মধ্যে তীব্র এনসেফালাইটিস সিনড্রোমের নয়টি প্রাদুর্ভাব অনুসন্ধান করে, যার সাতটি ঘটেছিল লিচু সংগ্রহের মৌসুমে; আর ২০১৫ সালে দিনাজপুরের একই লিচু উৎপাদন এলাকায় শিশুদের মধ্যে আরেকটি প্রাদুর্ভাব ঘটে।

বাংলাদেশে ডায়াবেটিস এবং পরামর্শ কোথায় মিলবে


প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ডায়াবেটিস খুবই সাধারণ রোগ। ডব্লিউএইচওর হিসাবে ডায়াবেটিস নিয়ে বেঁচে থাকা মানুষের সংখ্যা ১৯৯০ সালের ২০ কোটি থেকে ২০২২ সালে ৮৩ কোটিতে দাঁড়ায়; সে বছর ১৮ বছর ও তার বেশি বয়সীদের ১৪ শতাংশের ডায়াবেটিস ছিল, যা ১৯৯০ সালে ছিল ৭ শতাংশ। ৩০ বছর ও তার বেশি বয়সী ডায়াবেটিস রোগীদের অর্ধেকের বেশি (৫৯ শতাংশ) কোনো ওষুধ নিচ্ছিলেন না, এবং ২০২১ সালে ডায়াবেটিস সরাসরি ১৬ লাখ মৃত্যুর কারণ হয়। বাংলাদেশের জন্য ডব্লিউএইচওর ২০১৬ সালের ডায়াবেটিস কান্ট্রি প্রোফাইলে ডায়াবেটিসের হার ধরা হয় ৮.০ শতাংশ: পুরুষদের মধ্যে ৮.৬ শতাংশ এবং নারীদের মধ্যে ৭.৪ শতাংশ।

বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী দেশের সবচেয়ে পুরোনো ডায়াবেটিস সংগঠন ডায়াবেটিক অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, যা ১৯৫৬ সালে জাতীয় অধ্যাপক মোহাম্মদ ইব্রাহিমের উদ্যোগে ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৫৭ সালে সেগুনবাগিচায় একটি বহির্বিভাগ ক্লিনিক দিয়ে এর যাত্রা শুরু; ১৯৮০ সালে সংগঠনটি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব রিসার্চ অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশন ইন ডায়াবেটিস, এন্ডোক্রাইন অ্যান্ড মেটাবলিক ডিজঅর্ডারস (বারডেম) প্রতিষ্ঠা করে, এবং এটি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় ডায়াবেটিস গবেষণায় ডব্লিউএইচওর আঞ্চলিক সহযোগী কেন্দ্র। বাংলাপিডিয়া সংগঠন ও বারডেমের জেলা পর্যায়ের ৪২টি শাখার কথা উল্লেখ করেছে।

ছবি: Mazhar Zarif / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাপিডিয়া, পুষ্টি ও খাদ্য বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ফুড কম্পোজিশন টেবিল ফর বাংলাদেশ, ২০১৩), উইকিপিডিয়ায় উদ্ধৃত যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের তথ্য, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস), যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র (সিডিসি), ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ডায়াবেটিস অ্যান্ড ডাইজেস্টিভ অ্যান্ড কিডনি ডিজিজেস (এনআইডিডিকে), মেডলাইনপ্লাস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), মরবিডিটি অ্যান্ড মর্টালিটি উইকলি রিপোর্ট, দ্য ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ, ট্রানজ্যাকশনস অব দ্য রয়্যাল সোসাইটি অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন, ইমার্জিং ইনফেকশাস ডিজিজেস, আমেরিকান জার্নাল অব ট্রপিক্যাল মেডিসিন অ্যান্ড হাইজিন

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

স্বাস্থ্য

সম্পর্কিত খবর

বিশ্ব

ভালো ফসলের বছরেও আফগানিস্তানে শীতে তীব্র খাদ্যসংকটে পড়বে ১ কোটি ৯২ লাখ মানুষ

অনুকূল বৃষ্টি ও ভালো ফসলের পরও নভেম্বর-এপ্রিলে আফগানিস্তানের ৩৮ শতাংশ মানুষ তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতায় পড়বে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে এফএও ও ডব্লিউএফপি; গত বছর একই সময়ের পূর্বাভাস ছিল ১ কোটি ৭৪ লাখ।

ডব্লিউএফপি১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
পরিবেশ

শব্দদূষণ ভারতের শহরে স্বাস্থ্যঝুঁকি, কিন্তু মাপাই কঠিন

মুম্বাইয়ে বাইরের শব্দের মাত্রা গড়ে ৬৫ থেকে ৮৫ ডেসিবেল, যেখানে সড়কের শব্দে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশিকা ৫৪ ডেসিবেল। গবেষকেরা বলছেন, তথ্যের ঘাটতি ও ব্যয়বহুল শব্দ-মডেলের কারণে ভারতে এর স্বাস্থ্যপ্রভাব নিয়ে গবেষণা কঠিন।

Mongabay India১৬ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
স্বাস্থ্য

ক্যানসার অস্ত্রোপচারের রোগীর পুষ্টিসেবায় বৈশ্বিক নির্দেশিকা তৈরির উদ্যোগ

ওয়ার্ল্ড সোসাইটি অব সার্জিক্যাল অনকোলজি ও নেসলে বিশ্বের ১৫ জন চিকিৎসা বিশেষজ্ঞকে নিয়ে ক্যানসার অস্ত্রোপচারের আগে-পরে রোগীর অপুষ্টি শনাক্ত ও পুষ্টি সহায়তার বাস্তবসম্মত নির্দেশিকা তৈরি করবে।

FoodNavigator১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)