সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

শহরের পরিবেশ রক্ষায় ছাদবাগানের গুরুত্ব

একটা সময় গ্রামের মতো শহরেও দেখা মিলত বিভিন্ন ধরনের গাছপালা। ছায়াঘেরা পথ, পাখির ডাক, আর চারপাশে সবুজের আধিপত্য। তবে বর্তমানে দিন দিন গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, উন্নয়নের নামে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে কাটা হচ্ছে গাছ। এতে আজ শহর ক্লান্ত ধোঁয়ায় ভারী বাতাস, চারদিকে ইট-পাথরের দেয়াল, আর প্রতিদিনের দমবন্ধ করা যান্ত্

একটা সময় গ্রামের মতো শহরেও দেখা মিলত বিভিন্ন ধরনের গাছপালা। ছায়াঘেরা পথ, পাখির ডাক, আর চারপাশে সবুজের আধিপত্য। তবে বর্তমানে দিন দিন গাছের সংখ্যা কমে যাচ্ছে, উন্নয়নের নামে প্রয়োজনে-অপ্রয়োজনে কাটা হচ্ছে গাছ। এতে আজ শহর ক্লান্ত ধোঁয়ায় ভারী বাতাস, চারদিকে ইট-পাথরের দেয়াল, আর প্রতিদিনের দমবন্ধ করা যান্ত্রিকতা। নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হয়।

প্রকৃতি যেন শহর ছেড়ে দূরে কোথাও হারিয়ে গেছে। তবে সেই প্রকৃতিকে ফিরিয়ে আনার আশাটুকু এখনো বেঁচে আছে, আমরা চাইলেই বাড়ির ছাদবাগানের মাধ্যমেই এই শহরকে সবুজ করতে পারি। ছাদবাগান আজ শুধু শখ নয়, এটি শহরকে বাঁচিয়ে রাখার এক নীরব বিপ্লব।

যখন আমরা শহরের একঘেয়েমি, তাপ, দূষণ আর কৃত্রিম জীবনের ক্লান্তিতে হাপিয়ে উঠি, তখন ছাদবাগান হয়ে ওঠে বাঁচার অক্সিজেন। একটি ছোট্ট টবের মাটি থেকে গজিয়ে ওঠা গাছ মানে শুধু পাতা নয়- ওখানে ফুটে ওঠে একটা শ্বাস নেওয়ার অধিকার, একটা জীবন্ত পৃথিবীর আশা।

বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে আজকের এই ফিচারের মাধ্যমে আমরা জানবো শহরের পরিবেশ রক্ষায় ছাদ বাগানের গুরুত্ব এবং কীভাবে এই ছোট উদ্যোগ আমাদের জীবনে বড় পরিবর্তন আনতে পারে-

শহরের ফুসফুস হয়ে ওঠেআমরা এমন এক শহরে চলাফেরা করি, যেখানে গাড়ির ধোঁয়া, কারখানার বিষাক্ত গ্যাস আর ধুলার প্রাচুর্যে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। গাছ এই দূষণ শোষণ করে ও বাতাসকে পরিশুদ্ধ করে। শহরের প্রতিটি ছাদ যদি হয়ে ওঠে একটি সবুজ বাগান, তাহলে এই ছোট ছোট ফুসফুসগুলো মিলে একটা বড় প্রশ্বাস তৈরি করতে পারে। ছাদবাগান মানেই শহরের বুকে নির্মল বাতাসের জন্ম দেওয়া।

গরম কমায়, শান্তি বাড়ায়শহরের কংক্রিট ছাদগুলো রোদের তাপে উত্তপ্ত হয়ে উঠে। এতে ঘরের তাপমাত্রাও অনেক বেড়ে যায়। যার ফলে বাড়ে বিদ্যুৎ বিল, কমে আরাম। ছাদবাগান ছাদকে সোজাসুজি সূর্যের আলো থেকে রক্ষা করে, ফলে ঘর অনেকটাই ঠান্ডা থাকে। এটি পরিবেশবান্ধব এক প্রাকৃতিক এসির মতো কাজ করে-নির্বিঘ্নে, খরচ ছাড়াই।

মানসিক প্রশান্তির ঘরবর্তমানে আমাদের জীবনে সবচেয়ে বড় অভাব হলো মানসিক প্রশান্তি। কাজের চাপ, যান্ত্রিকতা, সামাজিক বিচ্ছিন্নতা- সব মিলিয়ে আমরা ক্লান্ত। ছাদবাগান সেই ক্লান্তির মাঝে স্বস্তির ছায়া দেয়। গাছের সঙ্গে সময় কাটানো, নিজ হাতে মাটি খুঁড়ে বীজ বোনা, কুঁড়ি ফোটা দেখা- এসব যেন এক ধরনের থেরাপি। মন ভালো রাখতে ছাদ বাগানের বিকল্প আর কিছু নেই।

নিরাপদ খাদ্যের উৎসআজকাল বাজার থেকে কেনা শাকসবজিতে ভরসা রাখা কঠিন। কোথায় কী কী কীটনাশক বা কেমিক্যাল ব্যবহৃত হয়েছে, তার কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। বাজারে ওঠা প্রতিটা ফলমূল ফরমালিনের সাহায্যে পাকানো, তাই সেটাও খাইতে ভয় করে। বিশেষ করে শিশুদের জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর। কিন্তু ছাদবাগানে আপনি নিজেই চাষ করছেন, জানেন কী দিচ্ছেন গাছে। ফলে এটি হয় স্বাস্থ্যকর ও বিষমুক্ত। পরিবারের জন্য এটি একটি নিরাপদ খাদ্যসূত্র হয়ে ওঠে।

শহরের সৌন্দর্য বাড়ায়ছাদবাগান শুধু পরিবেশ রক্ষা করে না, সে শহরের রূপকে করে তোলে আরও প্রাণবন্ত। ছাদের উপর সাজানো ফুলের টব, ফলমূল বা লাউয়ের লতা, মৌমাছির গুনগুন, প্রজাপতির ডানা সব মিলে এক অপূর্ব নান্দনিকতা সৃষ্টি করে। বহুতল ভবনের উপরে দাঁড়িয়ে কেউ যখন দেখে, একটির পর একটি ছাদে রঙিন ফুল আর সবজির সারি, তখন সে শহরকে নতুন চোখে দেখে একটু ভালোবাসার চোখে, একটু আশার চোখে।

বৃষ্টির পানি ধরে রাখেবৃষ্টির সময় শহরে জলাবদ্ধতা একটি বড় সমস্যা। ছাদবাগান বৃষ্টির পানি শোষণ করে রাখতে সাহায্য করে এবং তা ধীরে ধীরে নিষ্কাশনে যায়। এতে করে ড্রেনেজে চাপ কমে ও পানি ব্যবস্থাপনা উন্নত হয়। এভাবে ছাদবাগান শুধু সৌন্দর্যই নয়, বরং অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানের একটি ছোট কিন্তু কার্যকর উপায়।

পারিবারিক বন্ধন গড়ে তোলেএকটি গাছের যত্ন নেওয়া মানে একটি সম্পর্ক তৈরি করা। যখন মা-বাবা, সন্তান সবাই মিলে গাছ লাগায়, পানি দেয়, ফল দেখে আনন্দ পায়-তখন পারিবারিক সম্পর্ক আরও গভীর হয়। মোবাইলের স্ক্রিন ছেড়ে বাস্তব জীবনে এসে একসঙ্গে কিছু করার অনুভূতি পরিবারে ভালোবাসা ও সংযোগ বাড়ায়।

শিশুদের শেখার ক্ষেত্রশিশুরা এখন প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন। তারা জানে না গাছ কেমন করে বড় হয়, কোন পাতায় কী গন্ধ, কীভাবে ফুল ফল হয়। ছাদবাগান তাদের শেখার বাস্তব ক্লাসরুম হতে পারে। এখানে তারা শিখবে ধৈর্য, যত্ন, দায়িত্ববোধ। প্রকৃতির প্রতি ভালোবাসা গড়ে উঠবে সেই ছোট্ট বাগান থেকেই।

পরিবেশ সচেতন নাগরিক গড়ে তোলেছাদবাগান করার মধ্য দিয়ে একজন মানুষ পরিবেশ সম্পর্কে সচেতন হয়ে ওঠে। তিনি গাছের প্রতি যত্নবান হন, কম বর্জ্য তৈরি করতে চেষ্টা করেন, প্রাকৃতিক জীবনের গুরুত্ব বুঝতে শেখেন। এই ছোট উদ্যোগ একজনকে রূপ দেয় এক পরিবেশবান্ধব নাগরিকে, যিনি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য দায়িত্ব নিতে প্রস্তুত।

জাগো নিউজ ২৪সূত্র

ছাদকৃষি

সম্পর্কিত খবর

ছাদকৃষি

ইউটিউব দেখে ছাদে আর আঙিনায় ড্রাগন, বছরে লাখ টাকা লাভ মতলবের বিদেশফেরত হানিফের

চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণে বাড়ির ১,৪০০ বর্গফুট ছাদে ও সাড়ে ৬ শতক আঙিনায় ২০২৪ সালে ড্রাগন লাগিয়েছিলেন ৬২ বছরের আবু হানিফ; এখন বছরে লাখ টাকার বেশি লাভ করছেন, এবার ইজারা নিয়েছেন আরও ৬০ শতক জমি।

প্রথম আলো১২ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ছাদকৃষি

ছাদের জলাধারে দুই হাজার ঝিনুকে মুক্তা চাষ, অভয়নগরের কলেজছাত্রের উদ্যোগ

যশোরের অভয়নগরের কলেজছাত্র আব্দুর রহমান ২০২১ সালে ফেসবুক দেখে মুক্তা চাষ শুরু করেন; এখন ছাদের কৃত্রিম জলাধারে দুই হাজার আর বোনের বাড়ির পুকুরে সাড়ে তিন হাজার ঝিনুক আছে তাঁর।

কৃষি সময়১২ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া
ছাদকৃষি

প্রবাস থেকে ফিরে মুন্সিগঞ্জে ছাদকৃষি গড়লেন এক উদ্যোক্তা

প্রবাসজীবন শেষ করে দেশে ফিরে মুন্সিগঞ্জের এক উদ্যোক্তা নিজের ভবনের ছাদে গড়ে তুলেছেন ফল-ফসলের বাগান; তাঁকে নিয়ে শাইখ সিরাজের ভিডিও প্রতিবেদন।

শাইখ সিরাজ৯ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের ভিডিও

মন্তব্য

(০)