সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৪%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

শীতে আঙুর খাওয়ার উপকারিতা: পুষ্টিগুণ নিয়ে গবেষণা ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ যা বলে

২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি জাগো নিউজের একটি লাইফস্টাইল ফিচারে বলা হয়, শীতে আঙুর খেলে রোগ প্রতিরোধ, হজম, হৃদযন্ত্র ও ত্বকের উপকার হয়; খাদ্য উপাদান সারণি ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য বলছে, আঙুর স্বাস্থ্যকর ফল, তবে এতে ভিটামিন সি ও আঁশ সামান্য এবং শুধু আঙুর খেয়ে সর্দি-জ্বর ঠেকানো যায় না।

শীতে আঙুর খাওয়ার উপকারিতা: পুষ্টিগুণ নিয়ে গবেষণা ও স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ যা বলে
ফল

২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি রোববার জাগো নিউজের লাইফস্টাইল ডেস্ক শীতে আঙুর খাওয়ার উপকারিতা নিয়ে একটি ছোট ফিচার প্রকাশ করে। তাতে বলা হয়, ছোট আকারের মিষ্টি ও রসালো এই ফল পুষ্টিগুণে ভরপুর; এতে ভিটামিন সি, ভিটামিন কে, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও আঁশ (ফাইবার) রয়েছে এবং শীতে নিয়মিত আঙুর খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, হজম, হৃদযন্ত্র ও ত্বকের উপকার হয়। ফিচারে তথ্যসূত্র হিসেবে ভারতের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অব নিউট্রিশনের নাম উল্লেখ করা হয়।

এই প্রতিবেদনে প্রথমে ফিচারটির বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে, তারপর ২০২৬ সালের জানুয়ারির আগে প্রকাশিত খাদ্য উপাদান সারণি, স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও পিয়ার-রিভিউড গবেষণার সঙ্গে প্রতিটি দাবি মিলিয়ে দেখা হয়েছে। তাতে যে চিত্র পাওয়া যায় তা হলো, আঙুর একটি স্বাস্থ্যকর ও জলীয় অংশে ভরা ফল, যা বৈচিত্র্যময় খাদ্যতালিকায় ভালোভাবে মানিয়ে যায়; তবে এতে ভিটামিন সি ও আঁশের পরিমাণ সামান্য, এবং কোনো স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষই শুধু আঙুর খেয়ে শীতের অসুখ প্রতিরোধের কথা বলে না। কারও কোনো রোগ থাকলে বা খাদ্যাভ্যাস বদলানোর পরিকল্পনা থাকলে আগে চিকিৎসক বা যোগ্য পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

জাগো নিউজের ফিচারে যা বলা হয়েছিল


ফিচারটিতে চারটি মূল দাবি ছিল। প্রথমত, আঙুরে থাকা ভিটামিন সি শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে এবং সর্দি-কাশি ও ফ্লুর ঝুঁকি কমায়; ফিচারের ভাষায়, শীত মৌসুমে এসব অসুখ প্রায় ঘরে ঘরে দেখা যায়। দ্বিতীয়ত, শীতে মানুষ ভারী খাবার বেশি খায় ও শারীরিক নড়াচড়া কমে যায়, আর আঙুরের আঁশ অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ায় ও নিয়মিত মলত্যাগে সহায়তা করে। তৃতীয়ত, আঙুরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও পলিফেনল হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা ভালো রাখতে এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে; ফিচারে বলা হয়, বর্তমান জীবনযাত্রায় হৃদরোগের ঝুঁকি দিন দিন বাড়ছে। চতুর্থত, শীতে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়, আর আঙুরের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ভিটামিন সি ত্বককে ভেতর থেকে সুরক্ষা দেয় এবং কোলাজেন উৎপাদনে সাহায্য করে।

ফিচারে আঙুরকে "শীতকালীন সুপারফুড" বলা হয়েছিল এবং বলা হয়েছিল, এতে "প্রচুর" ভিটামিন সি রয়েছে। এই প্রতিবেদনের জন্য দেখা খাদ্য উপাদান সারণি বা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের তথ্য এই দুই বর্ণনা সমর্থন করে না, তাই এখানে সেগুলো বাদ দেওয়া হয়েছে। কেন বাদ দেওয়া হলো এবং চারটি দাবির প্রতিটি নিয়ে প্রমাণ আসলে কী বলে, তা নিচের অংশগুলোতে ব্যাখ্যা করা হলো।

একটি আঙুরে কী আছে: পরিসংখ্যান


খাবারের পুষ্টি উপাদান জানার সবচেয়ে বহুল ব্যবহৃত তথ্যভান্ডার যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) ফুডডেটা সেন্ট্রাল। এর এসআর লিগেসি তথ্যসংগ্রহে ২০১৯ সালের এপ্রিলে প্রকাশিত, থম্পসন সিডলেসের মতো ইউরোপীয় ধরনের কাঁচা লাল বা সবুজ আঙুরের আদর্শ তথ্যে প্রতি ১০০ গ্রাম ফলে এই পরিমাণগুলো দেওয়া আছে:

  • পানি: ৮০.৫৪ গ্রাম
  • শক্তি: ৬৯ কিলোক্যালরি
  • শর্করা: ১৮.১ গ্রাম, এর মধ্যে মোট চিনি ১৫.৪৮ গ্রাম (ফ্রুক্টোজ ৮.১৩ গ্রাম ও গ্লুকোজ ৭.২ গ্রাম)
  • খাদ্য আঁশ: ০.৯ গ্রাম
  • আমিষ: ০.৭২ গ্রাম এবং চর্বি: ০.১৬ গ্রাম
  • পটাশিয়াম: ১৯১ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন সি: ৩.২ মিলিগ্রাম
  • ভিটামিন কে: ১৪.৬ মাইক্রোগ্রাম
  • ক্যালসিয়াম: ১০ মিলিগ্রাম এবং আয়রন: ০.৩৬ মিলিগ্রাম
  • বিটা-ক্যারোটিন: ৩৯ মাইক্রোগ্রাম, এবং লুটেইন ও জিয়াজ্যানথিন: ৭২ মাইক্রোগ্রাম

একই তথ্যে প্রচলিত পরিবেশনের ওজনও দেওয়া আছে: এক কাপ আঙুরের ওজন ১৫১ গ্রাম, আর ১০টি আঙুরের ওজন ৪৯ গ্রাম। অর্থাৎ আঙুরের বেশির ভাগই পানি ও প্রাকৃতিক চিনি, সঙ্গে নানা ধরনের ভিটামিন ও খনিজ অল্প পরিমাণে থাকে।

বাংলাদেশের নিজস্ব তথ্যসূত্র হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের ২০১৩ সালের জুনে প্রকাশিত ফুড কম্পোজিশন টেবিল ফর বাংলাদেশ, যা খাদ্য মন্ত্রণালয়, জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), ইউএসএআইডি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় তৈরি। এতে কাঁচা সবুজ আঙুর (আঙুর, হালকা সবুজ; বৈজ্ঞানিক নাম Vitis vinifera) তালিকাভুক্ত, প্রতি ১০০ গ্রাম খাওয়ার উপযোগী অংশে ৯৪ কিলোক্যালরি শক্তি, ৭৫.৩ গ্রাম পানি, ০.৫ গ্রাম আমিষ, ০.৬ গ্রাম চর্বি, ২০.২ গ্রাম প্রাপ্য শর্করা ও ১৯১ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম। এর খাওয়ার উপযোগী অংশের সহগ ০.৯৫, অর্থাৎ কেনা ফলের প্রায় পুরোটাই খাওয়া যায়। সারণিতে এই তথ্যের উৎস হিসেবে ইউএসডিএর সারণিসহ আগের কয়েকটি খাদ্য সারণির উল্লেখ আছে, বাংলাদেশের কোনো পরীক্ষাগার বিশ্লেষণের নয়; জাত, পাকার মাত্রা ও পরীক্ষার পদ্ধতি আলাদা হওয়ায় এক সারণির সঙ্গে আরেক সারণির হিসাব মেলে না।

এক থোকা লাল আঙুর, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের জন্য তোলা। ছবি: স্কট বাউয়ার, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)
এক থোকা লাল আঙুর, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের জন্য তোলা। ছবি: স্কট বাউয়ার, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগ / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

ভিটামিন সি, সর্দি ও ফ্লু: প্রমাণ যা বলে


ভিটামিন সি, যার আরেক নাম অ্যাসকরবিক অ্যাসিড, স্বাস্থ্যের জন্য সত্যিই গুরুত্বপূর্ণ। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস) জানায়, এটি কোষকে সুরক্ষা দিয়ে সুস্থ রাখে, ত্বক, রক্তনালি, হাড় ও তরুণাস্থি সুস্থ রাখে এবং ক্ষত সারাতে সাহায্য করে; এর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। এনএইচএসের তথ্যমতে, ১৯ থেকে ৬৪ বছর বয়সী প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে ৪০ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি দরকার; শরীর এটি জমিয়ে রাখতে পারে না, তাই প্রতিদিনের খাবারে এটি থাকা দরকার, আর বৈচিত্র্যময় সুষম খাবার থেকেই প্রয়োজনীয় সবটুকু পাওয়া সম্ভব। এনএইচএসের ভালো উৎসের তালিকায় আছে কমলা ও কমলার রসের মতো লেবুজাতীয় ফল, ক্যাপসিকাম, স্ট্রবেরি, ব্ল্যাককারেন্ট, ব্রকলি, ব্রাসেলস স্প্রাউট ও আলু। এই তালিকায় আঙুর নেই। ইউএসডিএর সারণিতে প্রতি ১০০ গ্রাম আঙুরে ৩.২ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি; অর্থাৎ আঙুর থেকে কিছু ভিটামিন সি পাওয়া যায়, কিন্তু একে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ বলা সঠিক নয়।

ভিটামিন সি সর্দি ঠেকায় কি না, তা বহুবার পরীক্ষা করা হয়েছে। ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালের ফলাফল একত্র করে বিশ্লেষণ করা কোক্রেন কোলাবোরেশন ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে "সাধারণ সর্দি প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ভিটামিন সি" শিরোনামে পর্যালোচনা প্রকাশ করে। এতে কেবল সেই প্লাসিবো-নিয়ন্ত্রিত ট্রায়ালগুলো ধরা হয়, যেখানে দিনে অন্তত ০.২ গ্রাম ভিটামিন সি দেওয়া হয়েছিল, যা সাধারণত শুধু খাবার থেকে পাওয়া পরিমাণের চেয়ে অনেক বেশি। সাধারণ মানুষের মধ্যে চালানো ট্রায়ালগুলোতে (১০ হাজার ৭০৮ জন অংশগ্রহণকারী) নিয়মিত ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট সর্দিতে আক্রান্ত হওয়ার হার কমায়নি: সম্মিলিত ঝুঁকির অনুপাত ছিল ০.৯৭, যেখানে ১ মানে কোনো পার্থক্য নেই। ম্যারাথন দৌড়বিদ, স্কিয়ার ও সুমেরু অঞ্চলের কাছাকাছি মহড়ায় অংশ নেওয়া সৈনিক, অর্থাৎ প্রচণ্ড শারীরিক চাপে থাকা ৫৯৮ জনকে নিয়ে পাঁচটি ট্রায়ালে সম্মিলিত ঝুঁকির অনুপাত ছিল ০.৪৮, যা স্পষ্ট হ্রাস। নিয়মিত সাপ্লিমেন্টে প্রাপ্তবয়স্কদের সর্দির স্থায়িত্ব ৮ শতাংশ এবং শিশুদের ১৪ শতাংশ কমেছে, কিন্তু উপসর্গ শুরুর পর ভিটামিন সি খাওয়ার কোনো ধারাবাহিক প্রভাব পাওয়া যায়নি। গবেষকেরা উপসংহার টানেন, সাধারণ মানুষের জন্য নিয়মিত ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট খাওয়ার যৌক্তিকতা নেই।

২০২৪ সালের মার্চে সর্বশেষ পর্যালোচিত এনএইচএসের সাধারণ সর্দি বিষয়ক পাতায়ও সহজ ভাষায় একই কথা বলা হয়েছে: ভিটামিন সি, ইকিনেশিয়া বা রসুনের মতো সাপ্লিমেন্ট সর্দি প্রতিরোধ করে বা দ্রুত সেরে উঠতে সাহায্য করে, এমন প্রমাণ সামান্য। সর্দি হয় ভাইরাস থেকে, যা হাঁচি-কাশি ও হাতের মাধ্যমে ছড়ায়। এনএইচএস বলছে, সর্দি এড়ানোর সবচেয়ে ভালো উপায় হলো গরম পানি ও সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, সর্দিতে আক্রান্ত কারও সঙ্গে তোয়ালে বা গৃহস্থালি জিনিস ভাগাভাগি না করা, চোখ বা নাক না ছোঁয়া এবং সুস্থ ও সক্রিয় থাকা। সংস্থাটি আরও জানায়, সর্দিতে অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না; তিন দিনের বেশি উচ্চ তাপমাত্রা থাকলে, উপসর্গ বাড়তে থাকলে বা ১০ দিনের পরও না সারলে, কিংবা শ্বাসকষ্ট বা বুকে ব্যথা হলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত।

বাংলাদেশে শ্বাসতন্ত্রের অসুখের মৌসুম সম্পর্কেও জানা দরকার। ২০০৭ সালের মে থেকে ২০০৮ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ১২টি হাসপাতালে চালানো জাতীয় হাসপাতালভিত্তিক নজরদারির ফল ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে পিএলওএস ওয়ান সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। তাতে দেখা যায়, ইনফ্লুয়েঞ্জা সারা দেশে এবং সব বয়সী মানুষের মধ্যে রয়েছে, আর এর স্পষ্ট শীর্ষ সময় শীতকাল নয়, বর্ষাকাল। সংক্ষেপে, আঙুর শীতের স্বাস্থ্যকর খাদ্যতালিকার একটি উপভোগ্য অংশ, কিন্তু সর্দি বা ফ্লুর বিরুদ্ধে ঢাল নয়।

আঁশ ও হজম


আঁশ সত্যিই হজমে সাহায্য করে। এনএইচএস জানায়, আঁশযুক্ত খাবার হজমে সাহায্য করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে, আর বেশি আঁশ খাওয়ার সঙ্গে হৃদরোগ, স্ট্রোক, টাইপ ২ ডায়াবেটিস ও অন্ত্রের ক্যানসারের কম ঝুঁকির সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাজ্য সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে ৩০ গ্রাম আঁশ খাওয়া উচিত, অথচ এনএইচএসের তথ্যমতে বেশির ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক খান গড়ে প্রায় ২০ গ্রাম। শিশুদের প্রয়োজন কম: ২ থেকে ৫ বছর বয়সে দিনে প্রায় ১৫ গ্রাম, ৫ থেকে ১১ বছরে প্রায় ২০ গ্রাম এবং ১১ থেকে ১৬ বছরে প্রায় ২৫ গ্রাম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ২০২০ সালের এপ্রিলের স্বাস্থ্যকর খাদ্যবিষয়ক তথ্যপত্রে বলা হয়েছে, দিনে অন্তত ৪০০ গ্রাম ফল ও সবজি খেলে প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় খাদ্য আঁশ পাওয়া নিশ্চিত করতে সাহায্য হয়।

এই লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আঙুর আঁশের হালকা উৎস: ইউএসডিএর সারণিতে প্রতি ১০০ গ্রাম আঙুরে আঁশ ০.৯ গ্রাম। আঙুর খাদ্যতালিকায় কিছুটা আঁশ ও বেশ খানিকটা পানি যোগ করে এবং দিনের ফল ও সবজির অংশ হিসেবে উপকারে আসে; তবে বেশি আঁশ পাওয়ার জন্য এনএইচএসের পরামর্শে প্রাধান্য পেয়েছে লাল আটার রুটি, গোটা শস্যের সিরিয়াল ও বাদামি চাল, খোসাসহ আলু, শিম, ডাল ও ছোলার মতো ডালজাতীয় খাবার, প্রচুর সবজি ও ফল, সঙ্গে বাদাম ও বীজ।

পলিফেনল ও হৃদযন্ত্র


হৃদযন্ত্র নিয়ে ফিচারের দাবির ভিত্তি আঙুরের পলিফেনল, যা উদ্ভিদজাত যৌগের একটি বড় পরিবার। যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি স্কুল অব মেডিসিনের মুস্তালি দোহাদওয়ালা ও জোসেফ ভিটার "গ্রেপস অ্যান্ড কার্ডিওভাসকুলার ডিজিজ" শিরোনামের পর্যালোচনা ২০০৯ সালে দ্য জার্নাল অব নিউট্রিশনে প্রকাশিত হয়, যাতে তখন পর্যন্ত পাওয়া প্রমাণ সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়। পরীক্ষাগার ও পরীক্ষামূলক গবেষণায় ইঙ্গিত মেলে, আঙুরের পলিফেনল কয়েকটি পথে ধমনিতে চর্বির স্তর জমা কমাতে পারে: এলডিএল কোলেস্টেরলের জারণ সীমিত করে, রক্তনালির ভেতরের আবরণের কার্যকারিতা বাড়িয়ে, রক্তচাপ কমিয়ে, অণুচক্রিকার জমাট বাঁধা কমিয়ে ও প্রদাহ কমিয়ে। লেখকেরা লেখেন, এসব প্রভাব নিশ্চিত করতে ও খাদ্য নির্দেশিকা তৈরিতে আরও ক্লিনিক্যাল গবেষণা দরকার; তবে বিদ্যমান তথ্য হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে আঙুরসহ ফল ও সবজিসমৃদ্ধ খাদ্যের পরামর্শকে জোরালোভাবে সমর্থন করে। পর্যালোচনাটি ২০০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল গ্রেপ অ্যান্ড ওয়াইন ইনিশিয়েটিভ আয়োজিত আঙুর ও স্বাস্থ্যবিষয়ক এক কর্মশালা থেকে প্রকাশিত সাময়িকীর একটি সম্পূরক সংখ্যায় ছাপা হয়।

আঙুরের একটি পলিফেনল, রেসভেরাট্রল, বিশেষ মনোযোগ পেয়েছে। চীনের সান ইয়াত-সেন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের ২০২১ সালে অক্সিডেটিভ মেডিসিন অ্যান্ড সেলুলার লনজিভিটি সাময়িকীতে প্রকাশিত পর্যালোচনায় বলা হয়, আঙুর, চিনাবাদাম ও ব্লুবেরিসহ বিভিন্ন খাবারে রেসভেরাট্রল পাওয়া যায় এবং অনেক গবেষণায় এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, প্রদাহরোধী ও হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালির ওপর প্রভাবের কথা এসেছে। তবে এসব কাজের বড় অংশ হয়েছে কোষ ও প্রাণীর ওপর, এবং গোটা ফলের বদলে বিশুদ্ধ রেসভেরাট্রল দিয়ে; তাই এক মুঠো আঙুর একজন মানুষের হৃদযন্ত্রের জন্য কী করে, তা এসব গবেষণা দেখায় না।

সবচেয়ে জোরালো প্রমাণ সামগ্রিকভাবে ফল ও সবজি নিয়ে। ২০১৭ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব এপিডেমিওলজিতে প্রকাশিত ৯৫টি দীর্ঘমেয়াদি গবেষণার একটি পদ্ধতিগত পর্যালোচনা ও মেটা-অ্যানালাইসিসে দেখা যায়, দিনে প্রতি ২০০ গ্রাম ফল ও সবজি খাওয়ার সঙ্গে করোনারি হৃদরোগের কম ঝুঁকি (আপেক্ষিক ঝুঁকি ০.৯২) এবং স্ট্রোকের কম ঝুঁকির (আপেক্ষিক ঝুঁকি ০.৮৪) সম্পর্ক রয়েছে, আর দিনে প্রায় ৮০০ গ্রাম পর্যন্ত ঝুঁকি কমতে থাকে। হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালির রোগের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে এতে আলাদা করে উল্লেখ করা হয়েছে আপেল ও নাশপাতি এবং লেবুজাতীয় ফলের কথা; আঙুরের নাম নেই। ডব্লিউএইচও আরও জানায়, তাজা ফল ও সবজি থেকে পাওয়া পটাশিয়াম রক্তচাপের ওপর লবণের কিছু ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে পারে; ইউএসডিএ ও বাংলাদেশের দুই সারণিতেই প্রতি ১০০ গ্রাম আঙুরে পটাশিয়াম ১৯১ মিলিগ্রাম।

পাশাপাশি লাল ও সবুজ আঙুর। ছবি: Lisafern / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
পাশাপাশি লাল ও সবুজ আঙুর। ছবি: Lisafern / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)

শুষ্ক আবহাওয়ায় ভিটামিন সি ও ত্বক


ফিচারে বলা হয়েছিল, শীতে শুষ্ক ও রুক্ষ ত্বকের সমস্যা খুব সাধারণ। নিউজিল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব ওটাগোর জুলিয়েট পুলার, অ্যানিট্রা কার ও মার্গারিট ভিসার্সের "দ্য রোলস অব ভিটামিন সি ইন স্কিন হেলথ" শিরোনামের পর্যালোচনা ২০১৭ সালের আগস্টে নিউট্রিয়েন্টস সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়; ফিচারের দাবির পেছনের যোগসূত্রটি এতে ব্যাখ্যা করা আছে। স্বাভাবিক ত্বকে উচ্চমাত্রায় ভিটামিন সি থাকে, আর কোলাজেন তৈরিতে শরীরের এটি দরকার হয়; কোলাজেন হলো সেই প্রোটিন, যা ত্বকের ভেতরের স্তর ডার্মিসের শুকনো ওজনের প্রায় ৭৫ শতাংশ। ভিটামিন সির অভাবজনিত রোগ স্কার্ভির প্রাথমিক লক্ষণের মধ্যে আছে ভঙ্গুর ত্বক, প্যাঁচানো চুল ও ক্ষত দেরিতে সারা।

সুস্থ মানুষের জন্য এর অর্থ কী, সে বিষয়ে একই পর্যালোচনা সতর্ক। এতে দেখা যায়, বেশ কয়েকটি সুপরিকল্পিত গবেষণায় ভালো ত্বকের সঙ্গে ফল ও সবজি খাওয়ার ইতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে, কিন্তু ফল ও সবজির কোন উপাদান এর জন্য দায়ী তা জানা নেই এবং প্রভাবটির সম্ভবত একাধিক কারণ আছে। পর্যালোচনায় আরও বলা হয়, ভিটামিন সি গ্রহণ ও ত্বকের বয়সজনিত পরিবর্তন সরাসরি মেপে দেখা কোনো গবেষণা নেই। এতে ব্যাখ্যা করা হয়, শুষ্ক ত্বক মূলত সেরামাইড নামের সুরক্ষা-স্তরের চর্বি এবং ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা উপাদানের ঘাটতির সঙ্গে সম্পর্কিত, আর এর চিকিৎসা সাধারণত ত্বকে প্রয়োগের মাধ্যমে হয়। ফল ও সবজিসমৃদ্ধ খাদ্যের অংশ হিসেবে আঙুর খেলে শরীরের সামগ্রিক ভিটামিন সির জোগানে সহায়তা হয়, কিন্তু শীতের শুষ্ক ত্বকের চিকিৎসা আঙুর নয়।

ভিটামিন কে এবং রক্ত পাতলা করার ওষুধ


ফিচারে ভিটামিন কের কথাও ছিল। এনএইচএস জানায়, ভিটামিন কে কয়েকটি ভিটামিনের একটি দল, যা রক্ত জমাট বাঁধার জন্য শরীরের দরকার এবং এতে ক্ষত সারে; হাড় সুস্থ রাখতে এটি সাহায্য করতে পারে, এমন কিছু প্রমাণও আছে। এর প্রধান উৎস ব্রকলি ও পালংশাকের মতো সবুজ শাকসবজি, উদ্ভিজ্জ তেল ও দানাশস্য; মাংস ও দুগ্ধজাত খাবারেও অল্প পরিমাণে থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে শরীরের প্রতি কিলোগ্রাম ওজনের জন্য প্রায় ১ মাইক্রোগ্রাম ভিটামিন কে দরকার; যেমন ৬৫ কিলোগ্রাম ওজনের একজনের দরকার প্রায় ৬৫ মাইক্রোগ্রাম। অব্যবহৃত ভিটামিন কে যকৃতে জমা থাকে, তাই প্রতিদিন খাওয়ার দরকার হয় না। ইউএসডিএর তথ্যমতে প্রতি ১০০ গ্রাম আঙুরে ভিটামিন কে ১৪.৬ মাইক্রোগ্রাম।

রক্ত জমাট বাঁধা রোধের ওষুধ ওয়ারফারিন যাঁরা খান, তাঁদের জন্য ভিটামিন কে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এনএইচএস ব্যাখ্যা করে, রক্ত জমাট বাঁধার উপাদান তৈরিতে যকৃতের পর্যাপ্ত ভিটামিন কে দরকার, আর ওয়ারফারিন যকৃৎকে সেই ভিটামিন কে ব্যবহার করতে বাধা দিয়ে কাজ করে। ওয়ারফারিন সেবনকারীদের খাবারের ব্যাপারে সতর্ক থাকতে বলা হয়, এবং এনএইচএস রোগীদের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনার আগে চিকিৎসকের সঙ্গে কথা বলতে বলে। তাই রক্ত পাতলা করার ওষুধ খাচ্ছেন এমন কেউ স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি ফল ও সবজি খাওয়ার পরিকল্পনা করলে আগে চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করা উচিত।

কতটা ফল খাবেন, নিরাপদে আঙুর খাওয়ার নিয়ম


সাধারণভাবে ফল খাওয়া নিয়ে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা স্পষ্ট। ডব্লিউএইচওর ২০২০ সালের এপ্রিলের স্বাস্থ্যকর খাদ্যবিষয়ক তথ্যপত্রে প্রাপ্তবয়স্কদের দিনে অন্তত ৪০০ গ্রাম, অর্থাৎ পাঁচ ভাগ ফল ও সবজি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে আলু, মিষ্টি আলু, কাসাভা ও অন্যান্য শর্করাপ্রধান কন্দ ধরা হয় না; সংস্থাটি বলছে, এতে অসংক্রামক রোগের ঝুঁকি কমে। এতে প্রতি বেলার খাবারে সবজি রাখা, নাশতা হিসেবে তাজা ফল ও কাঁচা সবজি খাওয়া, মৌসুমি ফল ও সবজি খাওয়া এবং নানা ধরনের ফল ও সবজি খাওয়ার পরামর্শ রয়েছে। এনএইচএসের হিসাবে প্রাপ্তবয়স্কের জন্য এক ভাগ ফল হলো ৮০ গ্রাম।

আঙুর কোন রূপে খাওয়া হচ্ছে, তাতেও পার্থক্য হয়:

  • গোটা ফল: এনএইচএস জানায়, রসের তুলনায় গোটা ফলে দাঁতের ক্ষয়ের আশঙ্কা কম, কারণ চিনি ফলের গঠনের ভেতরে আবদ্ধ থাকে। ডব্লিউএইচও ফলের রসে প্রাকৃতিকভাবে থাকা চিনিকে ফ্রি সুগারের মধ্যে গণ্য করে, এবং বলে, মোট শক্তি গ্রহণের ১০ শতাংশের কম রাখতে হবে ফ্রি সুগার।
  • রস: এনএইচএসের হিসাবে চিনি ছাড়া শতভাগ ফলের রস ও স্মুদি যত বেশিই খাওয়া হোক, দিনে সর্বোচ্চ এক ভাগ হিসেবে গণ্য হয়; রস ও স্মুদি মিলিয়ে দিনে ১৫০ মিলিলিটারের, অর্থাৎ এক ছোট গ্লাসের বেশি নয়, আর তা খাওয়া ভালো খাবারের সময়।
  • কিশমিশ ও অন্যান্য শুকনো আঙুর: এনএইচএসের হিসাবে শুকনো ফলের এক ভাগ প্রায় ৩০ গ্রাম, মোটামুটি এক টেবিল চামচ ভর্তি কিশমিশ; সংস্থাটি সতর্ক করে, শুকনো ফলে চিনি বেশি থাকতে পারে ও তা দাঁতের ক্ষতি করে, তাই দুই বেলার মাঝে নাশতা হিসেবে না খেয়ে খাবারের অংশ হিসেবে খাওয়া ভালো।

ছোট শিশুদের জন্য আঙুরে শ্বাসনালি আটকে যাওয়ার ঝুঁকিও আছে। ২০১৭ সালে আর্কাইভস অব ডিজিজ ইন চাইল্ডহুড সাময়িকীতে প্রকাশিত "দ্য চোকিং হ্যাজার্ড অব গ্রেপস: আ প্লি ফর অ্যাওয়ারনেস" শিরোনামের নিবন্ধে স্কটল্যান্ডের চিকিৎসকেরা আঙুর শ্বাসনালিতে ঢুকে যাওয়ার পর চিকিৎসা নেওয়া তিন শিশুর কথা তুলে ধরেন এবং লেখেন, গোটা আঙুর ছোট শিশুর শ্বাসনালি আটকে দেওয়ার মতো আকারের, অথচ এ তথ্য সবাই জানেন না। শিশুর প্রথম শক্ত খাবার নিয়ে ২০২২ সালের অক্টোবরে পর্যালোচিত এনএইচএসের পরামর্শ হলো, আঙুর ও চেরি টমেটোর মতো ছোট গোল খাবার ছোট ছোট টুকরা করে দেওয়া, ফল ও কাঁচা সবজি ধুয়ে খোসা ছাড়ানো, এবং শিশু খাওয়ার সময় গলায় আটকে যেতে পারে বলে সব সময় তার পাশে থাকা।

আঙুর মিষ্টি; ইউএসডিএর সারণিতে প্রতি ১০০ গ্রামে চিনি ১৫.৪৮ গ্রাম। ডায়াবেটিস, কিডনির রোগ বা খাবারের ওপর প্রভাব ফেলে এমন অন্য কোনো রোগ থাকলে আঙুরসহ কতটা ফল খাওয়া উপযুক্ত, তা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের কাছ থেকে জেনে নেওয়া উচিত।

ভারতের মহারাষ্ট্রের নাশিকের একটি আঙুরবাগানে লতায় ঝুলছে আঙুর, ২০১৭ সালের মে মাসে তোলা। ছবি: Savitr1915 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
ভারতের মহারাষ্ট্রের নাশিকের একটি আঙুরবাগানে লতায় ঝুলছে আঙুর, ২০১৭ সালের মে মাসে তোলা। ছবি: Savitr1915 / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

বাংলাদেশের মাঠে আঙুর


২০২৫-২৬ সালের শীতের আগেই বাংলাদেশের কিছু কৃষক আঙুর চাষ শুরু করেছিলেন। ২০২৫ সালের মে মাসে প্রথম আলো ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার এক কলেজছাত্রের খবর প্রকাশ করে, যিনি সাত শতাংশ জমিতে ১৩ জাতের আঙুর চাষ করেছিলেন। তিনি ২০২২ সালে প্রথমে ভারতীয় জাতের ২৭টি চারা লাগান, কিন্তু ফল যথেষ্ট মিষ্টি না হওয়ায় পরে নাটোর, রাজশাহী, ফরিদপুর, জামালপুরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ১৩ জাতের ৬০টি চারা সংগ্রহ করেন। ২৫টি গাছ নষ্ট হলেও বাকি ৩৫টিতে ভালো ফলন হয়, প্রতিটি গাছে ধরে ১৫ থেকে ২০ কেজি ফল। তিনি জানান, ইউটিউব দেখে চাষপদ্ধতি শিখেছেন, লতানো গাছের জন্য উঁচু মাচা করেছেন এবং শুধু ছত্রাকনাশক ব্যবহার করেছেন। সবুজ আঙুর প্রতি কেজি ৪০০ টাকা এবং লাল ও কালো আঙুর ৪৫০ টাকায় বিক্রি করেছেন তিনি। পত্রিকাটিকে তিনি বলেন, তিনি চান বাংলাদেশে ঘরে ঘরে আঙুরের চাষ হোক, যাতে বিদেশ থেকে আর আঙুর আনতে না হয়।

বাগানটি ঘুরে দেখা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) ময়মনসিংহের উপপরিচালক প্রথম আলোকে বলেন, জেলায় বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের উদাহরণ নেই এবং অনেকের ধারণা, এখানকার মাটিতে আঙুর টক হবে; ওই ছাত্রের বাগানের মিষ্টি আঙুর সেই ধারণা ভুল প্রমাণ করেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ভালুকার মাটি ফল চাষের উপযোগী, আঙুর সামান্য অম্লীয় মাটিতে ভালো ফলন দেয়, এবং সরকারি সহায়তায় পলিনেট হাউস দেওয়া গেলে তিনি চাষ আরও বাড়াতে পারবেন।

২০২৫ সালের জুনে একই পত্রিকা শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলা থেকে খবর দেয়, সেখানে পাহাড়ি মেঘাদল গ্রামে এক তরুণ উদ্যোক্তা ২০ শতাংশ জমিতে ৫০ জাতের বিদেশি আঙুর লাগিয়েছেন। তাঁর বাবা ২০২২ সালে ভারত থেকে দুই জাতের ১০টি চারা এনেছিলেন, যেগুলোতে লাগানোর ১০ মাস পর ফল আসে। ১৫০টি গাছের মধ্যে ৪০টিতে ফল এসেছিল, যার ১৫ থেকে ২০টিতে ১০ থেকে ১২ কেজি করে ফল ধরে; পরিবারটি অল্প পরিমাণ সবুজ আঙুর প্রতি কেজি ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, ওই উদ্যোক্তা দুই বছর ধরে পরীক্ষামূলকভাবে আঙুর চাষ করছেন এবং চাষ বাড়াতে কৃষি কার্যালয় থেকে তাঁকে সার্বিক সহযোগিতা দেওয়া হবে। আঙুর চাষ করতে আগ্রহী কৃষকেরা এলাকার উপযোগী জাত, মাচা তৈরি ও রোগ দমন সম্পর্কে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে পারেন।

ছবি: রেনে কমেট / উইকিমিডিয়া কমন্স (পাবলিক ডোমেইন)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের ফুডডেটা সেন্ট্রাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টি ও খাদ্যবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের ফুড কম্পোজিশন টেবিল ফর বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্যসেবা (এনএইচএস), বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), কোক্রেন ডেটাবেস অব সিস্টেম্যাটিক রিভিউস, পিএলওএস ওয়ান, দ্য জার্নাল অব নিউট্রিশন, অক্সিডেটিভ মেডিসিন অ্যান্ড সেলুলার লনজিভিটি, ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব এপিডেমিওলজি, নিউট্রিয়েন্টস, আর্কাইভস অব ডিজিজ ইন চাইল্ডহুড, প্রথম আলো

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)