ব্রাজিল ও ভারতের গরুর পালে প্রাধান্য পাওয়া কুঁজওয়ালা জেবু ধরনের বস ইন্ডিকাস (Bos indicus) গরুর মাংস উৎপাদন দুই বছর আগে বিশ্বজুড়ে ইউরোপীয় বস টরাস (Bos taurus) জাতের উৎপাদনকে ছাড়িয়ে গেছে। গ্লোবাল এগ্রি-ট্রেন্ডসের বিশ্লেষক সাইমন কুইল্টি (Simon Quilty) ও ব্রেট স্টুয়ার্ট (Brett Stuart) এ হিসাব দিয়েছেন বলে জানিয়েছে বিফ সেন্ট্রাল। অস্ট্রেলিয়ার ক্লনকারিতে উত্তরাঞ্চলের খামারিদের এক সভায় কুইল্টি বলেন, বিশ্বে এখন সাধারণ মানের মাংস আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি।
বিশ্লেষকেরা বিশ্বের গরুর মাংস উৎপাদনকে মোটাদাগে মান অনুযায়ী দুই ভাগ করেছেন: অস্ট্রেলিয়া, আর্জেন্টিনা, যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ, মেক্সিকো ও কানাডার মতো বস টরাসনির্ভর দেশ এবং ব্রাজিল ও ভারতের মতো বস ইন্ডিকাসপ্রধান দেশ। তাঁরা জানিয়েছেন, এটি সরলীকরণ, পূর্ণ শুমারি নয়। ২৫ বছরে ভারতের মহিষপ্রধান পাল বেড়েছে ২১০ শতাংশ, ব্রাজিলের ৯০ শতাংশ, চীনের ৪৮ শতাংশ। অন্যদিকে বেশি বৃষ্টির এলাকায় ফসল চাষ, কার্বন চাষ ও নগরায়ণের চাপে বস টরাসের উৎপাদন দীর্ঘ মেয়াদে বছরে প্রায় ৩ শতাংশ হারে কমছে।
কুইল্টি বলেন, একই সময়ে নয়টি দেশ একসঙ্গে পাল পুনর্গঠন করছে, যা তিনি আগে কখনো দেখেননি। খামারিরা গাভি ও বকনা রেখে দেওয়ায় আগামী তিন বছরে জবাই ১৫ শতাংশ কমবে বলে ধারণা গ্লোবাল এগ্রি-ট্রেন্ডসের; ২০২৮ সালের পর সংখ্যা আবার বাড়তে শুরু করবে। তাঁর মতে, এর অর্থ শুধু অস্ট্রেলিয়ায় নয়, বিশ্বজুড়েই দাম বাড়বে।
পুনর্গঠনের পরও বস টরাসের দীর্ঘমেয়াদি পতন চলবে এবং মানসম্মত ও সাধারণ মাংসের দামের ব্যবধান বাড়বে বলে মনে করেন তিনি। অস্ট্রেলিয়া এর জবাবে ফিডলট খাত বাড়িয়েছে এবং উত্তরাঞ্চলে অ্যাঙ্গাস, ওয়াগিউ, সংকর ও ফ্ল্যাটব্যাক গরুর উৎপাদন বাড়িয়েছে, যাকে তিনি এই শূন্যস্থান পূরণের চমৎকার উদাহরণ বলেছেন। তিনি আরও জানান, মানসম্মত মাংসের পরিমাণ ২৬ বছর ধরে স্থির আছে কেবল এ কারণে যে প্রতিটি পশুর মাংসের ওজন বেড়েছে।
দক্ষিণ এশিয়ার দৃষ্টিতে এ হিসাব দেখায়, বিশ্বের সস্তা গরু ও মহিষের মাংসের কত বড় অংশ এখন ভারত ও ব্রাজিল থেকে আসে। প্রতিবেদনটি লিখেছেন জেমস নেসন (James Nason)।
ছবি: Cgoodwin / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
সূত্র: বিফ সেন্ট্রাল




মন্তব্য
(০)