চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় আম খাওয়ার সময় শ্বাসনালিতে আমের আঁটি আটকে শহিদুল ইসলাম (৫৫) নামের এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। ২০২৬ সালের ৩০ মে, শনিবার সকালে উপজেলার ভাংবাড়িয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তিনি ওই গ্রামের প্রয়াত বদর উদ্দিন মন্ডলের ছেলে। জাগো নিউজ ২৪ সেদিন খবরটি প্রকাশ করে; দৈনিক আমার দেশও একই দিনে আমের আঁটি শ্বাসনালিতে আটকে এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর দেয়।
বাড়িতে বসে আম খাওয়ার সময় দুর্ঘটনা
স্থানীয়দের বরাতে জাগো নিউজ জানায়, সকালে নিজ বাড়িতে বসে পাকা আম খাচ্ছিলেন শহিদুল ইসলাম। এ সময় অসাবধানতাবশত আমের আঁটি তাঁর শ্বাসনালিতে আটকে যায় এবং তাঁর তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা তাঁকে সাহায্য করার চেষ্টা করেন, কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি মারা যান।
আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাইল ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে জানা গেছে যে আম খাওয়ার সময় শ্বাসনালিতে আঁটি আটকেই শহিদুল ইসলামের মৃত্যু হয়েছে।
আলমডাঙ্গা চুয়াডাঙ্গা জেলার চারটি উপজেলার একটি; অন্য তিনটি চুয়াডাঙ্গা সদর, জীবননগর ও দামুড়হুদা। খুলনা বিভাগের এই জেলার পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। আলমডাঙ্গা উপজেলার আয়তন ৩৬৪.৬৬ বর্গকিলোমিটার; এখানে একটি পৌরসভা ও ১৫টি ইউনিয়ন পরিষদ আছে। ২০২২ সালের জনশুমারিতে উপজেলার জনসংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৬৮ হাজার ১৮৯ জন।

খাবার শ্বাসনালিতে আটকে যাওয়া কতটা বিপজ্জনক
আমেরিকান রেড ক্রস জানায়, খাবারের টুকরা বা অন্য কোনো বস্তুতে শ্বাসনালি আংশিক বা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে মানুষ দম আটকে যাওয়ার অবস্থায় পড়ে। এমন অবস্থায় মানুষ দ্রুত অচেতন হয়ে পড়তে পারে এবং মারা যেতে পারে, তাই দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। মুখে খাবার নিয়ে কথা বলা বা হাসা, তাড়াহুড়া করে খাওয়া, চিবাতে বা গিলতে সমস্যা করে এমন স্নায়ু বা মাংসপেশির রোগ এবং দাঁতের সমস্যা বা ঠিকমতো না বসা নকল দাঁত এই ঝুঁকি বাড়ায়।
যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিনের স্বাস্থ্য তথ্যসেবা মেডলাইনপ্লাসের মতে, দম আটকে যাওয়ার সাধারণ লক্ষণ হলো হাত দিয়ে গলা চেপে ধরা। এ ছাড়া কথা বলতে না পারা, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া, শ্বাসের সঙ্গে তীক্ষ্ণ শব্দ, দুর্বল কাশি, ত্বক নীলচে হয়ে যাওয়া এবং জ্ঞান হারানোও এর লক্ষণ।

শ্বাস আটকে গেলে প্রাথমিক চিকিৎসা
মেডলাইনপ্লাস ও আমেরিকান রেড ক্রস প্রাপ্তবয়স্ক ও শিশুর (এক বছরের বেশি বয়সী) ক্ষেত্রে প্রায় একই নিয়ম দেয়। প্রথমে জিজ্ঞেস করতে হবে, তিনি কথা বলতে পারছেন কি না। কথা বলতে বা শ্বাস নিতে না পারলে, অথবা কাশি দুর্বল হলে তবেই নিচের পদক্ষেপ:
- আক্রান্ত ব্যক্তির পাশে ও সামান্য পেছনে দাঁড়ান, তাঁর শরীরের ওপরের অংশ সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে ধরে রাখুন।
- হাতের তালুর গোড়া দিয়ে দুই কাঁধের হাড়ের মাঝখানে জোরে ৫ বার আলাদা আলাদা আঘাত করুন।
- এরপর পেছন থেকে এক হাতের মুঠি নাভির সামান্য ওপরে, বুকের হাড়ের বেশ নিচে রেখে দ্রুত ভেতর ও ওপরের দিকে ৫ বার চাপ দিন (পেটে চাপ বা হাইমলিখ পদ্ধতি)।
- বস্তুটি বের না হওয়া পর্যন্ত, অথবা তিনি কাশতে, কাঁদতে বা কথা বলতে না পারা পর্যন্ত ৫ বার পিঠে আঘাত ও ৫ বার পেটে চাপ পালা করে চালিয়ে যান।
- তিনি অচেতন হয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসাসেবায় খবর দিন এবং সিপিআর শুরু করুন।
মেডলাইনপ্লাস সতর্ক করে, জোর করে মুখ খুলে আটকে থাকা বস্তু আঙুল দিয়ে বের করার চেষ্টা করা উচিত নয়, কারণ এতে তা শ্বাসনালির আরও গভীরে ঢুকে যেতে পারে। প্রতিরোধে ধীরে খাওয়া, ভালো করে চিবানো, মুখে খাবার নিয়ে কথা না বলা এবং ছোট জিনিস শিশুদের নাগালের বাইরে রাখার পরামর্শ দেয় সংস্থাটি।

ছবি: Salim_Khandoker / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, দৈনিক আমার দেশ, মেডলাইনপ্লাস (ইউএস ন্যাশনাল লাইব্রেরি অব মেডিসিন), আমেরিকান রেড ক্রস, উইকিপিডিয়া





মন্তব্য
(০)