সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৬°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৭৩%বাতাস ৩ কিমি/ঘ

ব্যাগিংয়ের মৌসুমে ফ্রুট ব্যাগের সংকটে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষিরা

২০২৬ সালের মে মাসের মাঝামাঝি চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষিরা জানান, আমে ব্যাগ পরানোর সময়েই বাজারে ফ্রুট ব্যাগ মিলছে না, আর যেখানে মিলছে সেখানে দাম প্রায় দ্বিগুণ; কয়েকজন চাষির অভিযোগ, ব্যবসায়ীরা ব্যাগ মজুত করছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বলেছে, সংকটের কারণ খতিয়ে দেখা হবে।

ব্যাগিংয়ের মৌসুমে ফ্রুট ব্যাগের সংকটে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষিরা
ফল

দেশের আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে ২০২৬ সালের মে মাসের মাঝামাঝি, ঠিক যখন আমের গুটিতে ব্যাগ পরানোর সময়, তখনই দেখা দেয় ফ্রুট ব্যাগের তীব্র সংকট। জাগো নিউজ ২৪-এর চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ২০২৬ সালের ১৬ মে জানান, নিরাপদ, বিষমুক্ত ও রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ এই ফ্রুট ব্যাগ না পাওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলার হাজারো আম চাষি ও বাগান মালিক। চাষিরা বিভিন্ন এলাকায় ঘুরেও প্রয়োজনীয় ব্যাগ পাচ্ছিলেন না; কোথাও পাওয়া গেলেও তা বিক্রি হচ্ছিল প্রায় দ্বিগুণ দামে। বাগান মালিকেরা জানান, এতে আম উৎপাদনের খরচও বেড়ে যাচ্ছিল।

চাষিরা প্রতিবেদককে বলেন, গত কয়েক বছরে আমে কীটনাশকের ব্যবহার কমিয়ে নিরাপদ আম উৎপাদনে ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহারের প্রবণতা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে আশ্বিনা, কাটিমন এবং রপ্তানিযোগ্য খিরসাপাত ও ফজলি জাতের আমে ব্যাগিং পদ্ধতি তখন অনেকটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল। কিন্তু সেই মৌসুমে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাজারে সংকট তৈরি হয় এবং বাধ্য হয়ে বেশি দামে ব্যাগ কিনতে হয় চাষিদের। চাষিদের দাবি ছিল, দ্রুত বাজারে ফ্রুট ব্যাগের সরবরাহ স্বাভাবিক করা এবং দাম নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া; তা না হলে সেই মৌসুমে নিরাপদ আম উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে বলে তাঁরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

চাষিদের মুখে সংকটের চিত্র


সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের কৃষক রফিকুল ইসলাম জানান, সে বছর তাঁর প্রায় ৫০ হাজার ফ্রুট ব্যাগ প্রয়োজন ছিল, কিন্তু পেয়েছিলেন মাত্র ১০ হাজার, তাও দ্বিগুণ দামে। তাঁর ভাষায়, আগে যেখানে প্রতি পিস ফ্রুট ব্যাগ ২ টাকা থেকে সাড়ে ৩ টাকায় পাওয়া যেত, সেখানে তখন অনেক জায়গায় ৫ থেকে ৬ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছিল, তাও প্রয়োজন অনুযায়ী পাওয়া যাচ্ছিল না। সময়মতো আমে ব্যাগিং করতে না পারায় পোকার আক্রমণ ও দাগ পড়ার আশঙ্কা বাড়ছিল বলে জানান তিনি।

শ্যামপুর ইউনিয়নের আম চাষি তারেক রহমান বলেন, আমের গুটি বড় হওয়ার নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই ব্যাগ পরাতে হয়; নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে ব্যাগিংয়ের কার্যকারিতা কমে যায়, এতে আমের গুণগত মান নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি রপ্তানির সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। (২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল আইটিভির এক প্রতিবেদন অনুযায়ী শ্যামপুর শিবগঞ্জ উপজেলার একটি ইউনিয়ন।) তিনি বলেন, "আমে ব্যাগ পরানোর সময় প্রায় শেষ, অথচ একটি ব্যাগও কিনে পাচ্ছি না।" তাঁর অভিযোগ, একটি সিন্ডিকেট দাম বাড়ানোর জন্য এই ব্যাগ বাজারে আসতে দিচ্ছে না, ফলে দ্বিগুণ দামে কিনতে হচ্ছে।

আনসারুল ইসলাম নামের আরেক চাষি জানান, স্থানীয় বাজারে হঠাৎ করেই ফ্রুট ব্যাগের সরবরাহ কমে গিয়েছিল। চাষিদের পক্ষ থেকে অভিযোগ ওঠে, অনেক ব্যবসায়ী আগাম মজুত করে বেশি দামে ব্যাগ বিক্রি করছেন। তাঁর মতে, এতে ছোট ও মাঝারি চাষিরাই সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছিলেন। প্রতিবেদনে কোনো ব্যবসায়ীর নাম ছিল না, আর মজুত বা সিন্ডিকেটের অভিযোগ নিয়ে ব্যাগ বিক্রেতাদের কোনো বক্তব্যও তাতে ছিল না।

চাষিদের দুশ্চিন্তার মূলে ছিল সময়। তাঁদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, গুটি সঠিক পর্যায়ে থাকতে থাকতে ব্যাগ না পরাতে পারলে পোকার আক্রমণ, কালো দাগ ও নানা রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়, আমের গুণগত মান কমে যায় এবং রপ্তানির সুযোগও হাতছাড়া হতে পারে।

কৃষি বিভাগের বক্তব্য


চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) উপপরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী জাগো নিউজকে বলেন, নিরাপদ আম উৎপাদনে ফ্রুট ব্যাগের ব্যবহার অত্যন্ত কার্যকর। এতে ক্ষতিকর পোকামাকড়ের আক্রমণ কমে, কীটনাশকের ব্যবহার হ্রাস পায় এবং আমের রং ও গুণগত মান ভালো থাকে। তিনি জানান, চাষিদের সচেতনতা বাড়ায় জেলায় প্রতিবছরই ব্যাগিংয়ের পরিমাণ বাড়ছে; তবে সে বছর কেন সংকট দেখা দিল, তা খোঁজ নিয়ে দেখা হবে।

জেলা কৃষি বিভাগ সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রতিবছর প্রায় ২৫ কোটি ফ্রুট ব্যাগ ব্যবহার হয়। সেই মৌসুমে হঠাৎ সংকট তৈরি হওয়ায় জেলার আম চাষিরা দুশ্চিন্তায় পড়েন।

অথচ ২০২৬ মৌসুমের শুরুতে কৃষি বিভাগ বেশ আশাবাদী ছিল। ফেব্রুয়ারিতে ড. ইয়াছিন আলী নিউ এজকে জানান, জেলার প্রায় ৭০ শতাংশ আমগাছে তখনই মুকুল এসে গেছে এবং অনুকূল আবহাওয়ার কারণে বাকি গাছেও কয়েক দিনের মধ্যে মুকুল আসবে বলে তিনি আশা করছেন। পত্রিকাটি জানায়, মুকুল পর্যায় থেকে ভালো ফলন নিশ্চিত করতে কৃষি বিভাগ চাষিদের বিশেষজ্ঞ নির্দেশনা ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছিল।

ফ্রুট ব্যাগিং কী এবং কীভাবে কাজ করে


২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে আন্তর্জাতিক সাময়িকী প্ল্যান্টসে প্রকাশিত "ইনফ্লুয়েন্স অব ব্যাগিং অন দ্য ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড কোয়ালিটি অব ফ্রুটস" শীর্ষক পর্যালোচনা অনুযায়ী, ফ্রুট ব্যাগিং মানে গাছে থাকা অবস্থায় কচি ফলকে একটি ব্যাগে ঢেকে ফলের বোঁটায় ফিতা বা ক্লিপ দিয়ে ব্যাগের মুখ আটকে দেওয়া। পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, বিংশ শতাব্দীতে জাপানে প্রথম নাশপাতি ও আঙুরে এই পদ্ধতি ব্যবহার শুরু হয়; এখন জাপান, চীন, কোরিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে এটি ব্যাপকভাবে প্রচলিত। চারপাশের পরিবেশ থেকে ফলকে আলাদা রাখায় বেড়ে ওঠার সময় ব্যাগ ফলকে আঘাত থেকে এবং ছত্রাক, ব্যাকটেরিয়া, পোকামাকড়, এমনকি পাখির আক্রমণ থেকেও রক্ষা করে। লক্ষ্য হলো বাইরের দাগমুক্ত, ভোক্তার পছন্দমতো আকার ও রঙের ফল পাওয়া।

পর্যালোচনাটি ব্যাখ্যা করে, ফলের চারপাশের ব্যাগ সূর্যালোক, তাপমাত্রা, আর্দ্রতা, বাষ্পীভবন ও যান্ত্রিক ক্ষতি নিয়ন্ত্রণ করে; বিশেষ করে মাছি পোকার আক্রমণ ঠেকায় এবং কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ কমিয়ে আনে, যা বর্ষাকালে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। নানা উপকরণের ব্যাগ ব্যবহৃত হয়: স্বচ্ছ প্যারাফিন ব্যাগ, নাইলন ব্যাগ, নীল প্লাস্টিক ব্যাগ, বাইরে হলুদ কাগজ ও ভেতরে প্লাস্টিকের দুই স্তরের ব্যাগ, সেলোফেন, অরগাঞ্জা, সাধারণ কাগজের ব্যাগ এবং বাইরে বাদামি ও ভেতরে ধূসর রঙের দুই স্তরের কাগজের ব্যাগ। কোরিয়ায় শুরুতে রোগ ও পোকা থেকে বাঁচাতে খবরের কাগজে ফল মোড়ানো হতো; ১৯৮৫ সালের দিকে কারখানায় তৈরি ব্যাগ আসে।

এই পদ্ধতির খরচ ও সীমাবদ্ধতাও আছে। পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, ব্যাগ তৈরির খরচ বেশি এবং কাজটি শ্রমনির্ভর; প্রচলিত চাষে কখনো ব্যাগে কীটনাশক মিশিয়ে রাখা হয়, কিংবা ব্যাগ পরানোর আগে ফলে কীটনাশক বা ছত্রাকনাশক স্প্রে করা হয়। কিছু গবেষণায় নেতিবাচক প্রভাবও পাওয়া গেছে, যেমন ব্যাগে রাখা আমে প্রয়োজনীয় কিছু খনিজ উপাদানের ঘনত্ব কমে যাওয়া।

বাংলাদেশে ব্যাগিং যেসব শত্রু থেকে আমকে রক্ষা করে, সেগুলোর বিবরণ সুপরিচিত। জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া অনুযায়ী, দেশে নার্সারি থেকে পরিপক্বতা পর্যন্ত প্রায় তিন ডজন প্রজাতির পোকা আমগাছে আক্রমণ করে; প্রধানগুলো হলো আমের হপার বা শোষক পোকা, আমের ফলের উইভিল, কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা, ডগা ছিদ্রকারী পোকা এবং আমের মাছি পোকা। অ্যানথ্রাকনোজ, শুটি মোল্ড, পাতা ঝলসানো, আগামরা ও পাউডারি মিলডিউর মতো ছত্রাকজনিত রোগ এবং ব্যাকটেরিয়াজনিত পাতার দাগ রোগও উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করে। আক্রান্ত ফল আগেভাগে ঝরে পড়ে বা খাওয়ার অযোগ্য হয়ে যায়।

২০১৯ সালে সরকারি কৃষি তথ্য সার্ভিসের (এআইএস) মাসিক কৃষিকথায় বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) বিজ্ঞানী ড. মো. শরফ উদ্দিন লেখেন, আমগাছের প্রধান পোকার মধ্যে আমের ফলছিদ্রকারী পোকা ও মাছি পোকা অন্যতম; অনুমোদিত মাত্রার কীটনাশক প্রয়োগ এবং ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে এগুলো দমন করা যায়। আমের প্রধান রোগ অ্যানথ্রাকনোজ ও বোঁটা পচা অনুমোদিত মাত্রার ছত্রাকনাশক এবং আম সংগ্রহের পর গরম পানিতে শোধনের মাধ্যমে দমন করা যায়। কোন ওষুধ কী মাত্রায় দিতে হবে, সে বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ নিতে হবে; এই প্রতিবেদনে কোনো মাত্রা দেওয়া হলো না।

মাছি পোকার একটি প্রজাতি, ওরিয়েন্টাল ফ্রুট ফ্লাই (Bactrocera dorsalis); ২০১৪ সালে চুলিয়াদে তোলা ছবি, প্রসঙ্গ বোঝাতে ব্যবহৃত। ছবি: Vinayaraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
মাছি পোকার একটি প্রজাতি, ওরিয়েন্টাল ফ্রুট ফ্লাই (Bactrocera dorsalis); ২০১৪ সালে চুলিয়াদে তোলা ছবি, প্রসঙ্গ বোঝাতে ব্যবহৃত। ছবি: Vinayaraj / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

দেশের আম নিয়ে গবেষণা কী বলে


বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা দেশি জাতের আমেই ব্যাগিং পরীক্ষা করেছেন। ২০০৯ সালের মার্চে বাংলাদেশ জার্নাল অব অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চে প্রকাশিত এক গবেষণায় ডি. সরকার, এম. এম. রহমান ও জে. সি. বর্মণ আমের মাছি পোকা দমনে বিভিন্ন ব্যাগিং উপকরণের কার্যকারিতা তুলনা করেন। ২০২১ সালের পর্যালোচনায় এই গবেষণার সারাংশ অনুযায়ী, সংগ্রহের ৩০ দিন আগে কালো পলিব্যাগ, স্বচ্ছ পলিব্যাগ বা বাদামি কাগজের ব্যাগ পরানো ল্যাংড়া ও খিরসাপাত আমে মোট দ্রবণীয় শর্করা বেশি এবং বাহ্যিক মান ভালো পাওয়া যায়।

পরে ২০১৯ সালে ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশনে প্রকাশিত মো. আতিকুর রহমান, মো. শরফ উদ্দিন ও সহকর্মীদের গবেষণায় আমের সরবরাহ শৃঙ্খলে সংগ্রহ-পূর্ব ব্যাগিং ও উন্নত সংগ্রহোত্তর ব্যবস্থাপনার প্রভাব যাচাই করা হয়। পর্যালোচনাটি জানায়, সংগ্রহের ৪২ দিন আগে খিরসাপাত আমে বাদামি কাগজের ব্যাগ পরানোয় সংগ্রহোত্তর ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

অন্য জাতের আমের গবেষণাও একই দিকে ইঙ্গিত করে। পর্যালোচনায় উল্লেখ আছে, নাম দক মাই #৪ জাতে পূর্ণ ফুল ফোটার ৪৮ দিন পর বাইরে বাদামি ও ভেতরে কালো দুই স্তরের কাগজের ব্যাগ পরানোয় ফলের ওজন ও ত্বকের সৌন্দর্য বেড়েছে; হারুমানিস জাতে সংগ্রহের ৫৬ দিন আগে বাদামি ও কালো কাগজের ব্যাগে ত্বকের রং উন্নত হয়েছে; আর অ্যাপল জাতে সংগ্রহের ৪০ থেকে ৫০ দিন আগে সাধারণ ক্রাফট কাগজের ব্যাগে ত্বকের ছোট ছিদ্র বা লেন্টিসেলের কালচে দাগ কমেছে।

আমের অঞ্চলে ব্যাগিং যেভাবে ছড়াল


২০২৩ সালের মধ্যেই ব্যাগিং কয়েকটি পরীক্ষামূলক বাগানের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায়। দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড ২০২৩ সালের জুনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরাতে জানায়, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলার ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ আম তখন ব্যাগে উৎপাদিত হচ্ছিল। কৃষি কর্মকর্তারা পত্রিকাটিকে বলেন, এই পদ্ধতি পোকামাকড়, বিশেষ করে মাছি পোকা ঠেকায়, আঠা বা কষের পোড়া দাগ ও ছত্রাকের দাগ প্রতিরোধ করে, চাষের খরচ কমায় এবং আমের রং অটুট রাখে। তাঁদের ভাষ্যমতে, আগে মূলত ফজলি, আশ্বিনা ও বারি জাতের মতো নাবি আমে পোকা ঠেকাতে ব্যাগিং করা হতো, কিন্তু তখন বেশি দাম পেতে খিরসাপাত, ল্যাংড়া ও আম্রপালির মতো আগাম জাতেও ব্যাগ ব্যবহার হচ্ছিল।

তৎকালীন চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রধান পলাশ সরকার পত্রিকাটিকে বলেন, ব্যাগে বাড়তি খরচ হলেও এই পদ্ধতিতে কৃষকেরা কীটনাশকের খরচ অনেক কমাতে পারেন, আর ভালো মানের ব্যাগ একাধিকবার ব্যবহার করে খরচ আরও কমানো যায়। ব্যাগ পরানোর আগে অন্তত একবার কীটনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেন তিনি। শিবগঞ্জের কৃষক রুবেল আলী জানান, সাধারণত সংগ্রহের আগে আমে ১৭ থেকে ১৮ বার কীটনাশক দিতে হয়, কিন্তু ব্যাগ ব্যবহার করলে ছয় থেকে সাতবারই যথেষ্ট; এতে তাঁর কীটনাশকের খরচ প্রায় এক-তৃতীয়াংশে নেমেছে।

ব্যাগের দাম তখনই বাড়ছিল। রাজশাহীর বাঘার কৃষক ও উদ্যোক্তা শফিকুল ইসলাম সানা ২০২২ সালে প্রায় ৫০ হাজার আমে এবং ২০২৩ সালে প্রায় ২ লাখ আমে ব্যাগ পরান। তিনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, চীন থেকে তিনি তখন প্রতিটি ব্যাগ সাড়ে ৪ টাকায় আনছিলেন, যা আগে ছিল আড়াই টাকা; কৃষকেরা জানান, দুই বছরে ব্যাগের দাম দ্বিগুণ হয়েছে। সানার দাবি, দেশে-বিদেশে ব্যাগে উৎপাদিত আমের চাহিদা বেশি এবং প্রচলিত পদ্ধতির আমের চেয়ে অন্তত এক-তৃতীয়াংশ বেশি দামে তা বিক্রি হয়। ঢাকার সুপারশপে আম সরবরাহকারী একটি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক গোলাম রব্বানী পত্রিকাটিকে বলেন, ব্যাগে বড় হওয়া আমে কোনো দাগ থাকে না, আম পরিষ্কার থাকে ও রং ভালো হয়; তাই সচ্ছল ক্রেতা ও বাংলাদেশে থাকা বিদেশিদের মধ্যে এর চাহিদা বেশি।

২০১৫ সালের জুনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার রহনপুর বাজারে একজন আম বিক্রেতা। ছবি: Ferdous / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
২০১৫ সালের জুনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার রহনপুর বাজারে একজন আম বিক্রেতা। ছবি: Ferdous / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও তার আমবাগান


চাঁপাইনবাবগঞ্জ বাংলাদেশের পশ্চিম প্রান্তে, রাজশাহী বিভাগে অবস্থিত। বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, জেলার আয়তন ১,৭০২.৫৫ বর্গকিলোমিটার; এর উত্তর, দক্ষিণ ও পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ এবং পূর্বে রাজশাহী ও নওগাঁ জেলা। জেলাটি বরেন্দ্রভূমি, দিয়াড় ও চরাঞ্চল নিয়ে গঠিত; প্রধান নদী পদ্মা, মহানন্দা ও পাগলা। ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত নবাবগঞ্জ ছিল মালদহ জেলার একটি থানা; দেশভাগের সময় এটি রাজশাহী জেলার মহকুমা হয় এবং ১৯৮৪ সালে জেলায় উন্নীত হয়। পাঁচ উপজেলার মধ্যে শিবগঞ্জ সবচেয়ে বড়, আয়তন ৫২৫.৪৩ বর্গকিলোমিটার, আর ভোলাহাট সবচেয়ে ছোট; অন্য তিনটি হলো নবাবগঞ্জ সদর, গোমস্তাপুর ও নাচোল। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জেলার জনসংখ্যা ছিল ১৬,৪৭,৫২১ জন, আর আয়ের প্রধান উৎসের ৫৭.১৩ শতাংশ ছিল কৃষি।

এই কৃষি অর্থনীতির মেরুদণ্ড আম; শিবগঞ্জ, ভোলাহাট ও গোমস্তাপুর জেলার প্রধান আম উৎপাদনকারী উপজেলাগুলোর অন্যতম। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঢাকা ট্রিবিউনকে জানায়, জেলায় ৩৭,৫০৪ হেক্টর আমবাগান রয়েছে, যার সবচেয়ে বড় অংশ শিবগঞ্জ উপজেলায় (২০,১০০ হেক্টর), এরপর সদর উপজেলায় (৫,১৮০ হেক্টর)। অধিদপ্তরের হিসাবে ২০২৪ সাল "অফ-ইয়ার" হলেও জেলায় ৩,৪৮,২৭৮ টন আম উৎপাদিত হয়েছিল। চাষি, কর্মকর্তা ও ফল গবেষকেরা পত্রিকাটিকে ব্যাখ্যা করেন, আম উৎপাদনে একটি প্রাকৃতিক চক্র আছে: যে বছর ফলন বেশি হয় তাকে "অন-ইয়ার" বলে, আর তার পরের কম ফলনের বছরকে "অফ-ইয়ার"। এর দুই বছর আগে, ২০২৩ সালে, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড জানায়, জেলায় ৩৭,৫৮৮ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়েছিল এবং উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪,৩৫,৮৪৩ টন।

২০২৬ মৌসুমের জন্য কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যে তথ্য নিউ এজ ২০২৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি প্রকাশ করে, তাতে দেখা যায় জেলার ৩৭,৪৮৭ হেক্টর জমিতে ৯২,৪৪,৭৬৫টি আমগাছ রয়েছে এবং উৎপাদনের সরকারি লক্ষ্যমাত্রা ৪,৫৮,৯১২ টন। পাঁচ উপজেলাতেই তখন বাগানে মুকুল এসেছিল; মুকুল আসা জাতের মধ্যে ছিল গুটি, লক্ষ্মণভোগ, আম্রপালি, গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, খিরসাপাত ও আশ্বিনা। সদর উপজেলার রানীহাটি ইউনিয়নের এক আম চাষি পত্রিকাটিকে বলেন, আগের বছরগুলোর চেয়ে এবার আগে মুকুল এসেছে, ঘন কুয়াশায় নষ্ট না হলে বড় ফলন আশা করছেন তিনি।

২০২৫ সালের জুলাইয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি হর্টিকালচার কেন্দ্রে একটি পুরোনো আমগাছ। ছবি: Shamim Ahammed sumon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
২০২৫ সালের জুলাইয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের একটি হর্টিকালচার কেন্দ্রে একটি পুরোনো আমগাছ। ছবি: Shamim Ahammed sumon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

আগে থেকেই চাপে ছিল মৌসুম


ব্যাগ সংকট এসেছিল আরও কয়েকটি চাপের ওপর। নিউ এজ ২০২৬ সালের ৩ মার্চ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে জানায়, চাঁপাইনবাবগঞ্জে আমবাগানের আয়তন ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ৩৭,৫০৪ হেক্টর থেকে সামান্য কমে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৩৭,৪৮৭ হেক্টরে দাঁড়িয়েছে, আর একই সময়ে পাশের রাজশাহী জেলায় বাগান কমেছে ৫৪১ হেক্টর। কৃষি কর্মকর্তা ও চাষিদের মতে, এর প্রধান কারণ বাগানের জমিতে মাছের পুকুর খনন; অনিয়মিত আবহাওয়া, পোকার আক্রমণ ও দামের ওঠানামার ঝুঁকিতে থাকা আমের চেয়ে মাছ চাষে দ্রুত ও নিশ্চিত আয়ের আশায় কৃষকেরা এ পথে যাচ্ছিলেন। চাষিরা উপকরণের বাড়তি দাম, শ্রমিক সংকট, পর্যাপ্ত হিমাগারের অভাব ও অনিশ্চিত ফলনের কথা বলেন; রাজশাহীর বাঘার এক চাষি জানান, পোকা ও রোগের আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের কীটনাশক স্প্রে দ্বিগুণ করতে হচ্ছে।

আবহাওয়াও ক্ষতি করেছিল। ২০২৬ সালের ৭ এপ্রিল আইটিভি জানায়, সেদিন বিকেল সাড়ে ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত শিলাবৃষ্টিতে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পাঁচটি এবং শিবগঞ্জ উপজেলার আটটি ইউনিয়নে আমের ক্ষতি হয়; সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয় শিবগঞ্জের শ্যামপুর, শাহবাজপুর ও চককীর্তি ইউনিয়নে। সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জানান, বেশ কিছু এলাকা থেকে শিলাবৃষ্টিতে আমের ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে; অন্যদিকে শিবগঞ্জের কৃষি কর্মকর্তা বলেন, বৃষ্টিতে বোরো ধান ও পাটখেতের উপকার হয়েছে।

ব্যাগ সংকটের খবর যখন আসে, তখন আমের বৃহত্তর অঞ্চলে সংগ্রহের তারিখ ঠিক হচ্ছিল। নিউ এজ ২০২৬ সালের ১১ মে জানায়, রাজশাহী জেলা প্রশাসনের আম ক্যালেন্ডার অনুযায়ী স্থানীয় গুটি আম ১৫ মে থেকে, গোপালভোগ ২২ মে থেকে, হিমসাগর বা খিরসাপাত ৩০ মে থেকে, ল্যাংড়া ১০ জুন থেকে এবং আম্রপালি ও ফজলি ১৫ জুন থেকে সংগ্রহ করা যাবে; বারি আম-৪, আশ্বিনা ও গৌড়মতি যথাক্রমে ৫, ১০ ও ১৫ জুলাই থেকে, আর কাটিমন ও বারি আম-১১ সারা বছর সংগ্রহ করা যাবে। নওগাঁয় সংগ্রহ শুরুর তারিখ ঠিক হয় ২২ মে। একই প্রতিবেদনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাবে রাজশাহীতে প্রায় ১৯,০৬২ হেক্টর, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ৩৭,৪৮৭ হেক্টর এবং নওগাঁয় ৩০,৩১০ হেক্টর আমবাগানের কথা বলা হয়।

প্রতিবেদনে উল্লিখিত জাতগুলো


খিরসাপাত চাঁপাইনবাবগঞ্জের পরিচয়বাহী আম। ২০১৯ সালে কৃষিকথায় প্রকাশিত নিবন্ধে ড. শরফ উদ্দিন লেখেন, ২০১৬ সালে জাতটিকে ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্য হিসেবে নিবন্ধনের দায়িত্ব দেওয়া হয় বারির আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র, চাঁপাইনবাবগঞ্জকে; ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে জিআই জার্নালের ৩ নম্বর সংখ্যায় তা প্রকাশিত হয়, এরপর পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর চাঁপাইনবাবগঞ্জের খিরসাপাত আমকে নিবন্ধন সনদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়; নিবন্ধটির শিরোনামেই সনদ পাওয়ার কথা আছে। তাঁর বর্ণনায়, এটি একটি মধ্য মৌসুমি ও খুবই জনপ্রিয় বাণিজ্যিক জাত; ফল মাঝারি আকারের, অনেকটা ডিম্বাকৃতির, গড়ে লম্বায় ৮.৬ সেন্টিমিটার, পাশে ৭.৫ সেন্টিমিটার ও উচ্চতায় ৬.০ সেন্টিমিটার এবং গড় ওজন ২৬৩.৯ গ্রাম। শাঁস আঁশবিহীন, রসাল ও বেশ মিষ্টি; গড় মিষ্টতা ২৩ শতাংশ, আহারোপযোগী অংশ ৬৭.২ শতাংশ। জ্যৈষ্ঠ মাসের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে আম পাকা শুরু হয়, আর ফুল আসা থেকে পরিপক্ব হতে প্রায় চার মাস লাগে। তিনি লেখেন, মোট উৎপাদনের ২০ থেকে ২৫ ভাগ আম এই জাতের এবং প্রতিবছরই এর বাগান বাড়ছে।

জেলাটি কেন এই জাতের উপযোগী, তারও ব্যাখ্যা আছে একই নিবন্ধে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি পরিবেশ অঞ্চল ১১, অর্থাৎ উঁচু গঙ্গা নদী প্লাবনভূমির অন্তর্ভুক্ত; এখানকার মাটির পিএইচ ৬.৫ থেকে ৭.৫, যা ভালো মানের খিরসাপাতের জন্য প্রয়োজন। মুকুল আসার সময় শুষ্ক ও ঠান্ডা আবহাওয়া এবং ফলের বৃদ্ধি ও পরিপক্বতার সময় শুষ্ক ও গরম আবহাওয়া (২৮ থেকে ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) থাকলে ফলন ও মান দুটোই ভালো হয়; আবার মুকুলের সময় বৃষ্টি হলে রোগ ও পোকার আক্রমণ বাড়ে, আর ফলের বৃদ্ধির সময় বেশি বৃষ্টিতে মান খারাপ হয়।

ফজলি বড় আকারের নাবি জাতের আম; একেকটি ফলের ওজন প্রায় এক কেজি পর্যন্ত হতে পারে, আর জ্যাম ও আচারে এর ব্যাপক ব্যবহার; বাংলাদেশে রাজশাহী বিভাগই এর প্রধান উৎপাদনকারী। বাংলাপিডিয়ায় রাজশাহী, নবাবগঞ্জ ও দিনাজপুরে বেশি উৎপাদিত যেসব অভিজাত জাতের তালিকা আছে, আশ্বিনা তার একটি; ২০২৬ সালের রাজশাহীর আম ক্যালেন্ডারে এটি সবচেয়ে দেরিতে সংগ্রহের জাতগুলোর মধ্যে, ১০ জুলাই থেকে। কাটিমন সম্পর্কে ২০২৩ সালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ম্যাঙ্গো ফাউন্ডেশনের সদস্যসচিব আহসান হাবিব দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, এটি বিদেশি নাবি জাত।

জেলায় বারির গবেষণার ইতিহাসও দীর্ঘ। বাংলাপিডিয়া জানায়, বারির উদ্যানতত্ত্ব বিভাগ আমের বংশবিস্তার, উৎপাদন ও সংগ্রহোত্তর প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণার জন্য রাজশাহী, নবাবগঞ্জ ও জয়দেবপুরে একটি করে গবেষণাকেন্দ্র স্থাপন করেছে। বাংলাদেশ প্রতিদিন ২০২২ সালের জানুয়ারিতে জানায়, তখন পর্যন্ত বারি উদ্ভাবিত ১৮টি আমের জাতের মধ্যে ১৪টিই এসেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্র থেকে। এর একটি বারি আম-১৮, গোপালভোগের সঙ্গে বারি আম-১-এর সংকরায়ণে কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. জমির উদ্দীনের উদ্ভাবিত জাত; এর গড় ওজন প্রায় ২৪০ গ্রাম, আহারোপযোগী অংশ ৭৫ ভাগ এবং মিষ্টতা ২৪.৬৭ শতাংশ।

রপ্তানির জন্য নিরাপদ আম কেন জরুরি


ব্যাগে বড় হওয়া, কম কীটনাশকের আমই রপ্তানি বাজারের চাহিদা। ২০২৫ সালের এপ্রিলে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসসের যে প্রতিবেদন নিউ এজ প্রকাশ করে, তাতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জাতীয় হিসাব ছিল: ২০২০-২১ অর্থবছরে ২,০২,৯৬৮ হেক্টর জমিতে ২৩,৫০,৪৯৯ টন, ২০২২-২৩ অর্থবছরে ২৭,০৭,৪৫৯ টন এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ২,০৫,০৩৪ হেক্টরে ২৫,০৮,৯৭৩ টন আম উৎপাদিত হয়; ২০২৫ সালের জন্য লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২৭ লাখ টন উৎপাদন ও প্রায় ৫,০০০ টন রপ্তানি। রপ্তানি ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৩০৯ টন, ২০২১-২২ অর্থবছরে ১,৭৫৭ টন এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১,৩২১ টন ছিল। তখন যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স ও কানাডাসহ প্রায় ৩৮টি দেশে বাংলাদেশের আম রপ্তানি হচ্ছিল, আর সমঝোতা স্মারকের আওতায় চীনকে নতুন বাজার হিসেবে প্রস্তুত করা হচ্ছিল।

শুধু রাজশাহী অঞ্চলের হিসাবও আছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রাজশাহী আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত পরিচালক শামসুল ওয়াদুদ ২০২৩ সালের জুনে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ২০২২ সালে রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোরে ৯০,৮৯৪ হেক্টর জমিতে ৯.৬৯ লাখ টন আম উৎপাদিত হয়েছে; ২০২৩ সালের লক্ষ্যমাত্রা ৯২,৩১৭ হেক্টরে ১১.০৭ লাখ টন। তিনি জানান, ২০২২ সালে প্রায় ২২৩ টন আম রপ্তানি হয়েছিল, আর ২০২৩ সালে ১,০০০ টন রপ্তানির আশা করা হচ্ছিল।

কর্মকর্তারা অনেক দিন ধরেই বলে আসছেন, মানই মূল বাধা। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পের পরিচালক মোহাম্মদ আরিফুর রহমান ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, দেশের আমের স্বল্প সংরক্ষণকাল ও উচ্চ বিমান ভাড়ার কারণে রপ্তানি বাড়ছে না, আর উত্তম কৃষি চর্চা (গ্যাপ) সনদপ্রাপ্ত আমবাগানের ঘাটতিও আছে। পত্রিকাটি জানায়, সরবরাহ শৃঙ্খলের বিভিন্ন ধাপে মোট উৎপাদনের ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ আম নষ্ট হয় এবং দেশে কোয়ারেন্টাইন কেন্দ্র মাত্র একটি। ৪৭ কোটি টাকার রপ্তানিযোগ্য আম উৎপাদন প্রকল্পটি ২০২৭ সালের জুন পর্যন্ত চলার কথা, যার লক্ষ্য মানসম্মত আম উৎপাদন ও সংরক্ষণে কৃষক ও কর্মকর্তাদের দক্ষতা বাড়ানো। চাঁপাইনবাবগঞ্জের চাষিদের কাছে সেই মান অর্জনের অন্যতম ব্যবহারিক হাতিয়ার হয়ে উঠেছিল ফ্রুট ব্যাগ; তাই ২০২৬ সালের মে মাসে ব্যাগ পরানোর সময়ে এর হঠাৎ সংকট তাঁদের দুশ্চিন্তায় ফেলেছিল।

ছবি: Fozli.com / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, আইটিভি, নিউ এজ (বাসসসহ), ঢাকা ট্রিবিউন, দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, কৃষি তথ্য সার্ভিস (কৃষিকথা), বাংলাপিডিয়া, প্ল্যান্টস (এমডিপিআই), বাংলাদেশ জার্নাল অব অ্যাগ্রিকালচারাল রিসার্চ, ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব পোস্টহারভেস্ট টেকনোলজি অ্যান্ড ইনোভেশন, বাংলাদেশ প্রতিদিন, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)