সরাসরিবাজারদর
আটা (প্যাকেটজাত)৫৮—আদা - আমদানিকৃত১৬৭—আদা - দেশী১৫৪—আমন চাল - মাঝারি৫৬—আমন চাল - মোটা৪৮—আমন চাল - সরু৭২—আয়োডিনযুক্ত লবণ (প্যাকেটজাত)৩২—কাঁচা মরিচ২১৮—খামারের মুরগী১৬২—খাসী৯০০—চিনি (দেশী)১৩২—ছোলা - গোটা৮৫—ডিম ফার্ম - লাল৪৭—পেঁয়াজ - দেশী৬০—বোরো চাল - মাঝারি৫৫—বোরো চাল - মোটা৪৭—বোরো চাল - সরু৬৬—মাংসঃ– গরু৭২৯—মুগ ডাল১২২—রসুন - আমদানিকৃত১৯২—রসুন - দেশী১৭৩—সয়াবিন তেল১৬৩—
হালনাগাদ ১৬ অক্টোবর ২০২৬
ঢাকা২৮°পরিষ্কার আকাশআর্দ্রতা ৬২%বাতাস ৫ কিমি/ঘ

মহেশপুরে চাকরির পেছনে না ছুটে ভাগওয়া জাতের আনার চাষে সফল তরুণ আবদুল্লাহ

ঝিনাইদহের মহেশপুরের যোগীহুদা গ্রামের দাওরায়ে হাদিস পড়ুয়া আবদুল্লাহ ২০২২ সালের শেষদিকে এক বিঘা জমিতে ভারতীয় ভাগওয়া জাতের আনারের চারা লাগান। দুই বছর পর সব গাছে ফল এসেছে; তাঁর ভাষ্য, স্থানীয় বাজারে কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

মহেশপুরে চাকরির পেছনে না ছুটে ভাগওয়া জাতের আনার চাষে সফল তরুণ আবদুল্লাহ
ফল

ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার যোগীহুদা গ্রামের দাওরায়ে হাদিস পড়ুয়া তরুণ আবদুল্লাহ (২৫) বছরের পর বছর চাকরির পেছনে না ছুটে বেছে নিয়েছিলেন আনার চাষ। ২০২৫ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর জাগো নিউজ ২৪ জানায়, ২০২২ সালের শেষদিকে নিজের এক বিঘা জমিতে তিনি যে বাগান গড়েছিলেন, গাছ লাগানোর দুই বছর পর তাতে ফল আসে। সেপ্টেম্বরে বাগানের গাছে গাছে ঝুলছিল লাল টকটকে আনার, যা তিনি স্থানীয় বাজারে বিক্রি করছিলেন।

আবদুল্লাহ পত্রিকাটিকে জানান, তিনি ভারতীয় ভাগওয়া জাতের আনার চাষ করেছেন, বাগানের পরিচর্যা করেন নিজেই, আর প্রতি কেজি আনার বিক্রি করছেন ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকায়। বাগান পরিদর্শন করা মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আনারের স্বাদ, গন্ধ ও মান খুবই ভালো বলে উল্লেখ করেন। এর দুই দিন আগে, ১১ সেপ্টেম্বর, রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাসসও একই বাগান নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল।

কপোতাক্ষ পেরিয়ে এক বিঘার বাগান


জাগো নিউজের যে প্রতিনিধি সরেজমিনে বাগানটি দেখেছেন, তাঁর বর্ণনায় মহেশপুরের কপোতাক্ষ নদ পেরিয়ে যোগীহুদা গ্রামে এক বিঘা জমিতে গড়ে উঠেছে আবদুল্লাহর আনার বাগান। বাগানে ছিল ৯১টি গাছ। প্রতিটি গাছেই ফল ধরেছিল, একেকটি গাছে গড়ে ৫০ থেকে ৬৫টি করে, আর কোনো কোনো গাছে তখন নতুন কুঁড়ি আসছিল। ঝিনাইদহের একই প্রতিনিধির পাঠানো বাসসের ১১ সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে হিসাব কিছুটা ভিন্ন: সেখানে গাছের সংখ্যা ৮৭টি, গাছপ্রতি গড়ে ৬০ থেকে ৬৫টি ফল, আর আবদুল্লাহর বয়স ২৪ বছর।

আবদুল্লাহ জানান, বাগানের কাজ তিনি নিজেই করেন। পোকামাকড়ের আক্রমণ ঠেকাতে কীটনাশকের পাশাপাশি আলোর ফাঁদ ও পানির ফাঁদ ব্যবহার করেন। তাঁর ভাষ্য, স্থানীয় বাজারে এই আনারের চাহিদা ব্যাপক; তিনি যে দাম জানিয়েছেন, কেজিপ্রতি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, তা দুই প্রতিবেদনেই এসেছে। আনার ছাড়া অন্য ফসলের আবাদও আছে তাঁর। বাগানের খরচ বা মোট আয়ের কোনো হিসাব কোনো প্রতিবেদনে নেই।

লেখাপড়া আর চাষাবাদ যে একসঙ্গে চলতে পারে, সেটাই দেখাতে চেয়েছেন তিনি। জাগো নিউজকে আবদুল্লাহ বলেন, 'চাকরি করাই কেবল লেখাপড়ার একমাত্র উদ্দেশ্য নয়। আমি লেখাপড়া করছি নিজের জ্ঞান সমৃদ্ধ করতে। মনে করি, চাকরির পেছনে বছরের পর বছর না ছুটে নিজের মতো করে কিছু করা উচিত। সেই ভাবনা থেকেই আনার চাষ শুরু করেছি। আনার ছাড়া অন্যান্য আবাদও আছে।'

কপোতাক্ষ নদে দুই মাঝি; নদের কোন জায়গায় ছবিটি তোলা, তা উল্লেখ নেই। ছবি: Masum Ibn Musa / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)
কপোতাক্ষ নদে দুই মাঝি; নদের কোন জায়গায় ছবিটি তোলা, তা উল্লেখ নেই। ছবি: Masum Ibn Musa / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

ইউটিউবে অনুপ্রেরণা, চুয়াডাঙ্গা থেকে চারা


আবদুল্লাহ জানান, ইউটিউবে আনার চাষের ভিডিও দেখে প্রথম এই ফসলের প্রতি আগ্রহী হন তিনি। পরে চুয়াডাঙ্গার আনার চাষি মোকাররমের কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করে বাড়ির পাশে নিজের এক বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলক চাষ শুরু করেন; ২০২২ সালের শেষদিকে রোপণ করেন ৯১টি চারা। প্রতিবেদন দুটি প্রকাশের সময় প্রতিটি গাছেই ফল ছিল।

চুয়াডাঙ্গা মহেশপুরের উত্তরের প্রতিবেশী জেলা। বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, ১ হাজার ১৭৪ দশমিক ১০ বর্গকিলোমিটার আয়তনের চুয়াডাঙ্গা জেলার দক্ষিণ ও পূর্বে ঝিনাইদহ, পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য; জেলায় উপজেলা চারটি। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের আগে এটি নদিয়া জেলার অংশ ছিল, জেলা হয় ১৯৮৪ সালে। চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা মহেশপুরের সীমানাঘেঁষা।

আগের প্রতিবেদনগুলো বলছে, দেশের অন্য অঞ্চলের চাষিদের কাছেও চুয়াডাঙ্গা তখন আনারের চারার উৎস হয়ে উঠেছিল। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে বাংলা ট্রিবিউন জানায়, কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার এক কলেজছাত্র ইউটিউবে আনার চাষ দেখে বাড়ির পাশের এক বিঘা পতিত জমিতে ভারতীয় জাতের আনারের ১৫০টি চারা লাগিয়েছেন, আর সেই চারা তিনি স্থানীয় কৃষি অফিসের সহায়তায় চুয়াডাঙ্গা থেকে কিনেছেন। পাকুন্দিয়ার এক উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা পত্রিকাটিকে বলেন, দেশে আনার চাষ নতুন, তাই চারা পাওয়া কঠিন ছিল। কিশোরগঞ্জ খামারবাড়ির উপপরিচালক বলেন, এ দেশে আনার চাষ সম্ভব, তা স্থানীয় কৃষকেরা জানতেন না; ফলটি আমদানি করা হয় এবং দামও বেশি।

কেন আনার: যে ফল আমদানি করতে হয়


অন্য ফল রেখে কেন আনার, এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুল্লাহ বলেন, 'আনার অনেক দামি ফল। বিদেশ থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকার আনার আমদানি করা হয়। আমরা যদি দেশেই আনার চাষ বাড়াতে পারি, তাহলে আমদানি নির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি দেশের অর্থনীতিও সমৃদ্ধ হবে।' বাসসকেও তিনি একই কথা বলেন, সঙ্গে যোগ করেন যে দেশে উৎপাদন বাড়লে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।

জাতীয় জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়া আনারকে (ডালিম) দেশে চাষ হওয়া ফলের তালিকায় রেখেছে, আবার একই সঙ্গে কমলা, আপেল, আঙুর, খেজুর ও মান্দারিনের পাশে সাধারণ আমদানি করা ফলের তালিকাতেও রেখেছে। ২০১৭ সালের আগস্টে প্রথম আলো জানায়, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ কেজি আনার আমদানি হয়েছিল; আমদানি করা ফলের মধ্যে আনার ছিল চতুর্থ স্থানে, আর বাংলাদেশ তখন ৪৬টি দেশ থেকে ফল কিনত।

এই আনারের বেশির ভাগ আসে ভারত থেকে। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত ভারতের ২০২০-২১ অর্থবছরের রপ্তানি হিসাবে দেখা যায়, সে বছর ভারত ৬৮ হাজার ৫০২ দশমিক ৯ টন আনার রপ্তানি করেছিল, যার ৩৬ হাজার ৯০৬ দশমিক ৭৭ টন, অর্থাৎ অর্ধেকের বেশি, গেছে বাংলাদেশে। কারণ হিসেবে বলা হয় সহজ পরিবহন, তুলনামূলক শিথিল আমদানি বিধি এবং সারা বছর বাংলাদেশে চালান পাঠাতে পারার সুযোগ। ভারতের ন্যাশনাল হর্টিকালচার বোর্ডের ২০২২ সালের অক্টোবরে প্রকাশিত একটি প্রচারপত্রে দেখা যায়, ভারতের তাজা আনার রপ্তানির ৪১ শতাংশ যায় বাংলাদেশে; এরপর সংযুক্ত আরব আমিরাত ২৮ শতাংশ, নেপাল ৭ শতাংশ আর নেদারল্যান্ডস ৫ শতাংশ।

২০২২ সাল থেকে আমদানি করা ফলের দাম বাড়ে। দ্য ডেইলি স্টার ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে জানায়, ডলার সংকটের মধ্যে ২০২২ সালের ২৪ মে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সব ধরনের ফলের ওপর নিয়ন্ত্রণমূলক শুল্ক ৩ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৩ শতাংশ করে, আর বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারিতে ফল আমদানি ৩৭ দশমিক ৭৯ শতাংশ কমে ১৫ কোটি ৭৩ লাখ ৮০ হাজার ডলারে নামে। দেশে বিক্রি হওয়া আনারের উৎস হিসেবে পত্রিকাটি ভারতের নাম উল্লেখ করে। তাজা ফল আমদানিকারকদের সংগঠনের এক নেতা পত্রিকাটিকে বলেন, দেশের ফলের চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ মেটে স্থানীয় উৎপাদনে, আর সেপ্টেম্বর থেকে জানুয়ারি, যখন দেশি ফলের সরবরাহ কমে, তখন আমদানির চাহিদা বেশি থাকে।

ভাগওয়া জাতটি কী


ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের রাহুরিতে অবস্থিত কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় মহাত্মা ফুলে কৃষি বিদ্যাপীঠ (এমপিকেভি) ২০০৩ সালে ভাগওয়া জাতটি অবমুক্ত করে, বিশ্ববিদ্যালয়টির ফলের জাতের তালিকায় এ তথ্য রয়েছে। এমপিকেভির বর্ণনায় এর ফল বড়, ওজন ৪০৫ থেকে ৪২০ গ্রাম; খোসা চকচকে, আকর্ষণীয় জাফরানি রঙের এবং প্রায় শূন্য দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার পুরু; বীজ নরম; পাকতে সময় লাগে ১৮০ থেকে ১৯০ দিন; উৎপাদনশীলতা হেক্টরপ্রতি ২২ দশমিক ৫ টন। বিশ্ববিদ্যালয়টি জাতটিকে ভেতরের অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার (ইন্টারনাল ব্রেকডাউন) বিরুদ্ধে প্রতিরোধী, ইউরোপের বাজারে রপ্তানি ও দেশের বাজার দুটির জন্যই উপযোগী এবং থ্রিপস, পাতার দাগ ও ফলের দাগ রোগে মাঝারি সংবেদনশীল বলে উল্লেখ করেছে।

একই তালিকায় মহারাষ্ট্রের আনারের পূর্বসূরি জাতগুলোর কথাও আছে। পুনের গণেশখিন্দের ফল গবেষণা কেন্দ্র ১৯৫২ সালে গণেশ জাতটি অবমুক্ত করে; এর ফল লালচে আভাযুক্ত হলুদ, দানা হালকা গোলাপি, আর জাতটি দানা কালো হয়ে যাওয়ার সমস্যায় অত্যন্ত সংবেদনশীল ও ফল ছিদ্রকারী পোকায় আক্রান্তপ্রবণ। ১৯৯৪ সালে এমপিকেভির অবমুক্ত মৃদুলা জাতের দানা গাঢ় রক্তলাল। আরও গাঢ় জাফরানি খোসার পরবর্তী জাত ফুলে ভাগওয়া সুপার আসে ২০১৩ সালে।

কর্ণাটকের চিত্রদুর্গের আনার নিয়ে ভারতের ন্যাশনাল হর্টিকালচার বোর্ডের ২০২২ সালের প্রচারপত্রে বলা হয়, যে তুলনার কথা সেখানে উল্লেখ আছে, তাতে ভাগওয়া জাতের ফলের ওজন ও দানার ওজন ছিল সবচেয়ে বেশি, যথাক্রমে ৩২০ দশমিক ৬০ গ্রাম ও ২২০ দশমিক ৮০ গ্রাম, আর খাওয়ার সামগ্রিক মানে এটি পেয়েছিল সর্বোচ্চ নম্বর, ১০০-র মধ্যে ৯০ দশমিক ৮০। প্রচারপত্রটি বলছে, জাতটি ১৮০ থেকে ১৯০ দিনে পাকে, গাছপ্রতি গড় ফলন ৩০ দশমিক ৩৮ কেজি, পুরু খোসার কারণে ফল দূরের বাজারে পাঠানোর উপযোগী, আর বাজারে ভাগওয়ার দাম গণেশ জাতের দুই থেকে তিন গুণ। তামিলনাড়ু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি পোর্টালেও ভাগওয়াকে ওই রাজ্যের বাজারে পছন্দের জাত হিসেবে দেখানো হয়েছে।

গাছেই ফেটে খোলা একটি আনার, বীজ ঘিরে রসাল দানা দেখা যাচ্ছে; ছবিটি স্পেনের গ্রানাদায় তোলা। ছবি: Jebulon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
গাছেই ফেটে খোলা একটি আনার, বীজ ঘিরে রসাল দানা দেখা যাচ্ছে; ছবিটি স্পেনের গ্রানাদায় তোলা। ছবি: Jebulon / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)

আনার গাছ কীভাবে বাড়ে, কখন ফল দেয়


মার্কিন উদ্ভিদবিজ্ঞানী জুলিয়া এফ. মর্টন ১৯৮৭ সালে প্রকাশিত তাঁর আকরগ্রন্থ 'ফ্রুটস অব ওয়ার্ম ক্লাইমেটস'-এ লিখেছেন, আনার বা ডালিমের (Punica granatum) আদি নিবাস ইরান থেকে উত্তর ভারতের হিমালয় পর্যন্ত অঞ্চল। খ্রিষ্টীয় প্রথম শতকের দিকে এটি ইরান থেকে মধ্য ও দক্ষিণ ভারতে পৌঁছায়। মর্টন এ ফলের গুরুত্বপূর্ণ উৎপাদন অঞ্চলের তালিকায় মিসর, চীন, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, ইরান, ইরাক, ভারত, বার্মা ও সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের নামও রেখেছেন। তিনি উল্লেখ করেছেন, ভারতে এর আঞ্চলিক নামগুলোর বেশির ভাগই সংস্কৃত 'দাড়িম' বা 'দালিম' এবং ফারসি 'দুলিম' শব্দের রূপভেদ।

মর্টনের বর্ণনায় আনার বহু শাখাওয়ালা, কমবেশি কাঁটাযুক্ত গুল্ম বা ছোট গাছ, যা ৬ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত উঁচু হতে পারে; ডালের মাথায় ফোটে উজ্জ্বল লাল ফুল। ৬ দশমিক ২৫ থেকে ১২ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার চওড়া ফলের খোসা শক্ত ও চামড়ার মতো; ভেতরে পাতলা পর্দা দিয়ে ভাগ করা কুঠুরিতে ঠাসা থাকে রসাল দানা, প্রতিটি দানায় একটি বীজ। পুরো ফলের ওজনের প্রায় ৫২ শতাংশই বীজ। আনার নিজের পরাগে যেমন ফল দেয়, তেমনি পোকার মাধ্যমে পরপরাগায়নও হয়: শুধু স্বপরাগায়নের সুযোগ রেখে ব্যাগে ঢাকা ফুলে ফল ধরেছিল ৪৫ শতাংশ, পরপরাগায়নে তা বেড়ে হয় ৬৮ শতাংশ।

মর্টন লিখেছেন, আনার ঠান্ডা শীত ও গরম গ্রীষ্মের সঙ্গে খাপ খাওয়া উদ্ভিদ; আধা-শুষ্ক জলবায়ু এর পছন্দ এবং এটি খরা অত্যন্ত ভালোভাবে সইতে পারে। চুনযুক্ত ক্ষারীয় মাটি থেকে গভীর অম্লীয় দোআঁশ, নানা ধরনের মাটিতেই এটি জন্মায়। তামিলনাড়ু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় যোগ করেছে, আনার লবণাক্ততা ও ক্ষারত্ব সহ্য করতে পারে, তবে ভালো মানের ফলের জন্য ঠান্ডা শীত ও শুষ্ক গ্রীষ্ম দরকার।

বীজ থেকে চারা করলে গাছের গুণ বদলে যেতে পারে, তাই নির্বাচিত জাতের বংশবিস্তার হয় শক্ত ডালের কাটিং, গুটিকলম বা মূল গাছের গোড়া থেকে বের হওয়া চারা দিয়ে। মর্টনের বর্ণনায়, শিকড় গজানো চারা প্রায় ৬০ সেন্টিমিটার গভীর ও চওড়া গর্তে লাগানো হয়, মাটির উর্বরতা অনুযায়ী এক গাছ থেকে আরেক গাছের দূরত্ব রাখা হয় সাড়ে ৩ থেকে সাড়ে ৫ মিটার। তামিলনাড়ু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় ১২ থেকে ১৮ মাস বয়সী শিকড়যুক্ত কাটিং বা কলম ৬০ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও গভীরতার গর্তে, আড়াই থেকে ৩ মিটার দূরত্বে লাগানোর পরামর্শ দেয়। ফল ধরে কেবল নতুন ডালের মাথায়, তাই প্রথম তিন বছর প্রতি বছর ডাল ছেঁটে গাছের মজবুত কাঠামো তৈরি করা হয়; এরপর শুধু গোড়ার চারা আর মরা ডাল কেটে ফেলা হয়। ভালো ফলনের জন্য সেচ দিতেই হয়।

মর্টন লিখেছেন, রোপণের এক বছর পরেই আনার গাছে ফল আসতে পারে, তবে সাধারণত আড়াই থেকে তিন বছর লাগে; আবদুল্লাহর গাছে ফল এসেছে রোপণের প্রায় দুই বছর পর। ফুল ফোটার ছয় থেকে সাত মাস পর ফল পাকে, আর গাছ থেকে নামানোর পর আনার আর পাকে না। টোকা দিলে ধাতব শব্দ হলে চাষিরা সাধারণত ফলটিকে তোলার উপযোগী ধরেন; ফল টেনে না ছিঁড়ে বোঁটার কাছ থেকে কেটে নিতে হয়। পাকা ফল বেশি দিন গাছে থাকলে বৃষ্টি বা অনিয়মিত সেচে ফেটে যেতে পারে, অতিরিক্ত রোদে খোসা পুড়ে দাগ পড়ে, আর পাকার সময় অতিবৃষ্টিতে নরম পচন দেখা দিতে পারে। শূন্য থেকে ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় এবং ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ আপেক্ষিক আর্দ্রতায় আনার সাত মাস পর্যন্ত ভালো থাকে।

মর্টনের বিশ্লেষণ সারণি অনুযায়ী, আনারের প্রতি ১০০ গ্রাম খাওয়ার উপযোগী অংশে থাকে ৬৩ থেকে ৭৮ ক্যালরি, ১৫ দশমিক ৪ থেকে ১৯ দশমিক ৬ গ্রাম শর্করা, ৩ দশমিক ৪ থেকে ৫ দশমিক ০ গ্রাম আঁশ, ২৫৯ মিলিগ্রাম পটাশিয়াম এবং প্রায় ৪ মিলিগ্রাম ভিটামিন সি। তামিলনাড়ু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাবে জাতভেদে আনারের গড় ফলন বছরে হেক্টরপ্রতি ২০ থেকে ২৫ টন।

ফল ছিদ্রকারী পোকা আর আলোর ফাঁদ


বাংলাদেশে আনারের সবচেয়ে মারাত্মক শত্রু ফল ছিদ্রকারী পোকা, অর্থাৎ আনার প্রজাপতি ভিরাকোলা আইসোক্রেটিসের (Virachola isocrates) শূককীট। বাংলাপিডিয়া একে দেশের সব অঞ্চলে আনারের সবচেয়ে ক্ষতিকর পোকা বলেছে। প্রজাপতিটি লাইকেনিডি গোত্রের; বাংলাদেশ থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১২৪ প্রজাতির প্রজাপতির বিবরণ পাওয়া গেছে, এ গোত্র তার একটি। দেশে আনারে আরও যেসব পোকা পাওয়া গেছে, তার মধ্যে আছে পোরথেসিয়া সিন্টিলান্স ও আকিয়া জানাটার শূককীট, যারা পাতা খায়, আর স্কেল পোকা আইসেরিয়া পারচেসি, যা গাছের রস শুষে নেয়।

মর্টন ব্যাখ্যা করেছেন, প্রজাপতিটি ফুলের কুঁড়ি আর বাড়ন্ত ফলের বৃতিতে ডিম পাড়ে; কয়েক দিনের মধ্যে শূককীট বৃতির পথ দিয়ে ফলের ভেতরে ঢুকে যায়। দমন না করলে এই পোকা পুরো ফসল নষ্ট করতে পারে। ভারতে চাষিরা ফল ছিদ্রকারী পোকা, পাখি, বাদুড় ও কাঠবিড়ালি থেকে বাঁচাতে ফলের ওপর কাগজ বা প্লাস্টিকের ব্যাগ বা অন্য আবরণ পরিয়ে দেন। তামিলনাড়ু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শ, ফুল আসার সময়, ফলের ব্যাস ৫ সেন্টিমিটার হওয়া পর্যন্ত, পলিথিনের আবরণে ফল ঢেকে দিলে প্রজাপতি তাতে ডিম পাড়তে পারে না।

আবদুল্লাহ যেমন আলোর ফাঁদ ব্যবহার করেছেন, বাংলাদেশে কৃষি অফিসগুলো পোকার উপস্থিতি নজরে রাখতে তেমন ফাঁদ বসায়। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে ইত্তেফাক ভোলার আমন খেতে সৌরচালিত আলোক ফাঁদের বর্ণনা দেয়: দিনে সৌর প্যানেল ব্যাটারি চার্জ করে, রাতে বাতি নিজে থেকে জ্বলে ওঠে, আর আলোয় আকৃষ্ট পোকা নিচে রাখা ডিটারজেন্ট মেশানো পানির পাত্রে পড়ে যায়। সেখানকার উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, ফাঁদে ধরা পোকা দেখে বোঝা যায় খেতে কোন ক্ষতিকর পোকা আছে; ফলে অপ্রয়োজনীয় ছিটানোর বদলে নির্দিষ্ট কীটনাশকের পরামর্শ দেওয়া যায়, যা সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনার অংশ। আবদুল্লাহর বাগান নিয়ে প্রতিবেদনগুলোতে তাঁর পানির ফাঁদের বর্ণনা বা কোন কীটনাশক তিনি ব্যবহার করেছেন, তা নেই। কোন কীটনাশক কতটা ব্যবহার করতে হবে, সে বিষয়ে উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ নেওয়াই নিয়ম।

আনার প্রজাপতির (Virachola isocrates) একটি পূর্ণবয়স্ক প্রজাপতি; এর শূককীটই আনারের ফল ছিদ্রকারী পোকা। ছবি: Haneesh K M / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)
আনার প্রজাপতির (Virachola isocrates) একটি পূর্ণবয়স্ক প্রজাপতি; এর শূককীটই আনারের ফল ছিদ্রকারী পোকা। ছবি: Haneesh K M / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC0)

দর্শনার্থীদের ভিড়, কৃষি অফিসের মূল্যায়ন


জাগো নিউজের প্রতিনিধি জানান, আবদুল্লাহর বাগান দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে লোকজন আসেন, উদ্যোক্তারাও নিয়মিত এসে নানা পরামর্শ নেন; দেশের মাটিতে আনারের চাষ ও ফলন দেখে খুশি দর্শনার্থীরা। যশোরের গদখালী এলাকার নাজমুল হাসান বলেন, 'ফেসবুকে ভিডিও দেখে আবদুল্লাহর আনার বাগান দেখতে এসেছি। বাগানে ফলের বাহার দেখে আমি অবাক। সমতলে এরকম আনারের ফলন নতুন আশা জাগাচ্ছে। আমারও আনার বাগান করার ইচ্ছা আছে।' বাংলাপিডিয়ার তথ্যমতে, গদখালী যশোর জেলার ঝিকরগাছা উপজেলার একটি ইউনিয়ন, মহেশপুরের দক্ষিণে।

মহেশপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ইয়াসমিন সুলতানা জাগো নিউজকে বলেন, 'আবদুল্লাহ পরিশ্রমী তরুণ। ভার্মি কম্পোস্ট তৈরির বিষয়ে আমাদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। পেয়ারা ও মাল্টার চাষ করেছেন। তবে আনারের বাগান করে সাড়া ফেলেছেন। আমি তার বাগান পরিদর্শন করেছি। আনারের স্বাদ, গন্ধ ও মান খুবই ভালো। তার আনার চাষ দেখে অন্যরা উৎসাহী হবে। আমরা তাকে সার্বিক পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি।' বাসসও জানায়, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা উদ্যোগটির প্রশংসা করে বলেছেন, এতে অন্য তরুণেরাও আনার চাষে আগ্রহী হতে পারেন।

যে প্রশিক্ষণের কথা কর্মকর্তা বলেছেন, সেই ভার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার হলো কেঁচোর মাধ্যমে তৈরি জৈব সার। ২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে বাংলা ট্রিবিউনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউড্রিলাস ইউজেনি ও আইসেনিয়া ফেটিডা প্রজাতির কেঁচো জৈব বস্তু, সাধারণত গোবর, রিং, চৌবাচ্চা বা বড় পাত্রে রেখে সারে পরিণত করে; দেশি কেঁচো দিয়েও তা করা যায়। প্রতিবেদনে বর্ণিত রিং পদ্ধতিতে প্রতিটি রিংয়ে ৬০ থেকে ৭০ কেজি গোবর আর আধা কেজি কেঁচো দিলে ২৫ থেকে ৩০ দিনে ৩০ থেকে ৩৫ কেজি সার তৈরি হয়। প্রতিবেদনটি জানায়, কেঁচো সারে উদ্ভিদের প্রয়োজনীয় ১৬টি পুষ্টি উপাদানের ১০টি থাকে, আর কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি তথ্য সার্ভিস কৃষকদের জন্য এ নিয়ে নিয়মিত চলচ্চিত্র প্রদর্শনী করে।

মহেশপুর: মাটি, মানুষ ও নদ


মহেশপুর খুলনা বিভাগের ঝিনাইদহ জেলার দক্ষিণ-পশ্চিমের একটি সীমান্তবর্তী উপজেলা। বাংলাপিডিয়ার হিসাবে এর আয়তন ৪১৭ দশমিক ৮৫ বর্গকিলোমিটার; উত্তরে জীবননগর ও কোটচাঁদপুর উপজেলা, দক্ষিণে চৌগাছা উপজেলা ও পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বে চৌগাছা আর পশ্চিমে ভারতের পশ্চিমবঙ্গ। উপজেলায় একটি পৌরসভা, ১২টি ইউনিয়ন, ১৪৪টি মৌজা ও ১৯৬টি গ্রাম। ২০১১ সালের আদমশুমারিতে জনসংখ্যা ছিল ৩ লাখ ৩২ হাজার ৫১৪, আর ২০২২ সালের জনশুমারিতে ৩ লাখ ৭১ হাজার ২৯৩। মহেশপুর থানা উপজেলা হয় ১৯৮৩ সালে।

মহেশপুর কৃষিনির্ভর উপজেলা। বাংলাপিডিয়ার তথ্যে ৭৪ দশমিক ৭৯ শতাংশ পরিবারের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি; প্রধান ফসল ধান, পাট, গম, আখ, তুলা, পেঁয়াজ, রসুন, টমেটো, আলু ও সবজি। প্রধান ফলের তালিকায় আছে আম, কাঁঠাল, কলা, জাম, পেঁপে, নারকেল, জামরুল, তরমুজ ও খেজুর; আনার সে তালিকায় নেই। উপজেলার প্রধান রপ্তানি পণ্য কলা, কাঁঠাল, খেজুরের গুড়, আলু ও সবজি।

পুরো ঝিনাইদহ জেলার আয়তন ১ হাজার ৯৬৪ দশমিক ৭৭ বর্গকিলোমিটার, উপজেলা ছয়টি। জেলার উত্তরে কুষ্টিয়া, দক্ষিণে যশোর ও পশ্চিমবঙ্গ, পূর্বে রাজবাড়ী ও মাগুরা, পশ্চিমে চুয়াডাঙ্গা ও পশ্চিমবঙ্গ। ঝিনাইদহ জেলা হয় ১৯৮৪ সালে; বাংলাপিডিয়ার হিসাবে জেলার ৬৭ শতাংশ মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষি।

মহেশপুর থেকে যে কপোতাক্ষ পেরিয়ে আবদুল্লাহর গ্রামে যেতে হয়, মানচিত্রে তার নাম কবাদক। বাংলাপিডিয়া বলছে, প্রাক-দ্রাবিড় শব্দ 'কবাদক' সংস্কৃতে হয়েছে 'কপোতাক্ষ', যার অর্থ কবুতরের চোখ; এক সময় এর পানি ছিল পাখির চোখের মতো স্বচ্ছ। প্রায় ২৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ নদটি জীবননগর, কোটচাঁদপুর, চৌগাছা, ঝিকরগাছা, তালা হয়ে খুলনার পাইকগাছার কাছে শিবসায় মিশেছে। মাথাভাঙ্গা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বর্ষায় এটি স্থানীয় বৃষ্টির পানি আর চুইয়ে আসা পানি ছাড়া তেমন কিছু পায় না, আর গ্রীষ্মে ঝিকরগাছার কাছে প্রায় শুকিয়ে যায়। কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্ম যশোর জেলায় এই নদের তীরে।

ছবি: Kritzolina / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 4.0)

সূত্র: জাগো নিউজ ২৪, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), বাংলাপিডিয়া, বাংলা ট্রিবিউন, প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার, দৃষ্টি আইএএস (ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের রপ্তানি তথ্য), ভারতের ন্যাশনাল হর্টিকালচার বোর্ড, মহাত্মা ফুলে কৃষি বিদ্যাপীঠ, তামিলনাড়ু কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, জুলিয়া এফ. মর্টন, ফ্রুটস অব ওয়ার্ম ক্লাইমেটস (পারডু বিশ্ববিদ্যালয়), ইত্তেফাক, উইকিপিডিয়া

অনলাইন ডেস্কদা এগ্রো নিউজ

ফল

সম্পর্কিত খবর

ফল

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি চারটি তাজা আপেলের একটি যায় বিদেশে, রপ্তানি আয় রেকর্ড

২০২৫/২৬ বিপণন বছরে যুক্তরাষ্ট্র ১৮৭ কোটি পাউন্ড তাজা আপেল রপ্তানি করেছে, যা মোট তাজা উৎপাদনের প্রায় ২৬ শতাংশ। রপ্তানি আয় রেকর্ড ১১৬ কোটি ডলারে পৌঁছেছে; বড় ক্রেতা মেক্সিকো ও কানাডা।

ers_usda১৬ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

রাজবাড়ীর বাজিতপুরে দুই একরে চার হাজার ড্রাগন গাছ, দিনে উঠছে ৫০ মণ ফল

রাজবাড়ী সদরের বসন্তপুর ইউনিয়নের বাজিতপুরে জেলার সবচেয়ে বড় ড্রাগন বাগানে গাছপ্রতি ১০-১২ কেজি ফল ধরেছে; ভরা মৌসুমে দিনে প্রায় দুই হাজার কেজি ফল উঠছে, পাইকারি দর কেজি ১৫০ টাকা।

ঢাকা মেইল১৫ অক্টোবর ২০২৬১ মিনিটের পড়া
ফল

আপেলগাছের গোড়ায় লালচে গুঁড়া? সতর্ক করছে বিরল কাণ্ড ছিদ্রকারী পোকা

কানাডার ম্যানিটোবার কৃষি বিভাগ ফলচাষিদের রাউন্ডহেডেড অ্যাপল ট্রি বোরার নিয়ে সতর্ক থাকতে বলছে। এই লম্বা-শুঙ্গ গুবরে পোকার কীড়া জীবন্ত আপেল ও সাস্কাটুন গাছের ভেতরে তিন বছর পর্যন্ত সুড়ঙ্গ কাটে; কাণ্ডের গোড়ায় লালচে গুঁড়াই সবচেয়ে স্পষ্ট লক্ষণ।

Manitoba Co-operator১৫ অক্টোবর ২০২৬২ মিনিটের পড়া

মন্তব্য

(০)