ইয়ানমার হারভেস্টারের সেন্সর ও জাপানের মহাকাশ সংস্থা জাক্সার স্যাটেলাইট তথ্যের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও ইন্টারনেট অব থিংস (আইওটি) প্রযুক্তি মিলিয়ে দেশের ধান উৎপাদনের বাস্তবতার কাছাকাছি একটি মানচিত্র তৈরি করেছে এসিআই মোটরস। প্রথম আলোকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক সুব্রত রঞ্জন দাস জানান, এ তথ্য সরকারকে ব্যবহারের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং তাঁরা যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহী।
সমস্যাটা জমির। তাঁর হিসাবে, বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় ২ শতাংশ বাংলাদেশে, অথচ বিশ্বের আবাদযোগ্য জমির মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য ৩ শতাংশ এ দেশে। তাই এক ফসল কাটার পর দ্রুত পরের ফসল বুনতে হয়। দুর্যোগ বাড়ছে, চাষ ও কাটার মৌসুমে শ্রমিকসংকট তীব্র, কৃষকের গড় বয়স ৪৫ পেরিয়েছে, আর ফসল কাটার পর ১০ থেকে ৪০ শতাংশ অপচয় হয়। জমির খণ্ডীকরণ ও যন্ত্র কেনার উচ্চ প্রাথমিক খরচও বড় বাধা।
এই মানচিত্র ধান উৎপাদনের পরিকল্পনা ও সম্পদের সঠিক বরাদ্দে কাজে লাগতে পারে বলে মনে করেন তিনি। পাশাপাশি সার ও কীটনাশক ছিটাতে ড্রোন ব্যবহারের জন্য সুস্পষ্ট নীতিমালার দাবি জানান। এসিআই মোটরসের কারখানায় স্মার্ট পাওয়ার টিলার ও থ্রেশার তৈরি হচ্ছে; তবে ভারত-চীনের সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় দেশীয় খুচরা যন্ত্রাংশ উৎপাদন বাড়াতে হবে, আর বগুড়ার যন্ত্রাংশশিল্পে মান নিশ্চিত করতে উন্নত টেস্টিং ল্যাব জরুরি।
ছোট ও খণ্ডিত জমির দেশে অনেক উদ্যোক্তা যন্ত্র কিনে কৃষকদের সেবা দেন। তাই কৃষকের পাশাপাশি এই সেবাদাতাদের জন্যও সহজ অর্থায়ন দরকার। কিস্তিতে যন্ত্র কেনার জন্য দেশে যুগোপযোগী হায়ার পারচেজ আইন না থাকায় অর্থায়নকারীরা চেক ও এনআই অ্যাক্টের ওপর নির্ভর করেন; প্রতিবেশী দেশগুলোর মতো আইন হলে ক্রেতা ও অর্থায়নকারী দুই পক্ষই সুরক্ষা পাবে বলে তাঁর মত।
নীতিসহায়তা হিসেবে তিনি কম্বাইন হারভেস্টার ও ট্রান্সপ্লান্টারে ভর্তুকি অব্যাহত রাখা, প্রতিটি উপজেলায় কৃষি প্রকৌশলী নিয়োগ, মানহীন যন্ত্র ঠেকাতে লাইসেন্সিং এবং যান্ত্রিকীকরণের জন্য আলাদা অধিদপ্তরের প্রস্তাব দেন। ট্রাক্টরে ছয় ঘণ্টার মধ্যে সেবা দেওয়া এবং ডিজিটাল ড্যাশবোর্ড, অ্যাপ ও আইভিআর কলে গ্রাহকসন্তুষ্টি দেখার কথাও জানান তিনি।
তাঁর হিসাবে, কৃষি ও কৃষিসংশ্লিষ্ট পণ্যে দেশের বার্ষিক আমদানি এখন প্রায় ১৫ বিলিয়ন ডলার, কার্যকর উদ্যোগ না নিলে আগামী ১০ বছরে তা দ্বিগুণ হতে পারে। দেশীয় উৎপাদন বাড়ানো, জৈব সার উৎপাদনে সারের আমদানি কমানো এবং প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষিকে তরুণদের কাছে লাভজনক পেশা করে তোলাই পথ বলে মনে করেন তিনি।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক।
ছবি: Balaram Mahalder / উইকিমিডিয়া কমন্স (CC BY-SA 3.0)
সূত্র: প্রথম আলো




মন্তব্য
(০)